ব্রাহ্মণবাড়িয়া
কালবৈশাখী ও বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় কালবৈশাখীর তাণ্ডব, ভারী বর্ষণ ও বজ্রপাতের মধ্যেই ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে কেন্দ্রে যেতে হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল থেকে টানা বৃষ্টিতে শহরের বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা, যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
বৃষ্টিতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ জেলা পরিষদ মার্কেট, রেল স্টেশন রোড, কাজীপাড়া ও সরকার পাড়াসহ বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশেও একই চিত্র দেখা যায়। জলাবদ্ধতার কারণে পরীক্ষার্থীদের ভিজে কষ্ট করে কেন্দ্রে পৌঁছাতে দেখা গেছে।
এদিকে, কালবৈশাখীর সঙ্গে দফায় দফায় বজ্রপাত পরিস্থিতিকে আরও আতঙ্কজনক করে তুলছে। অভিভাবকরা সন্তানদের নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে পড়েছেন। অনেক পরীক্ষার্থী জানান, সকালে প্রবল বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছানো নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় ছিলেন। পাশাপাশি রিকশা ও অন্যান্য যানবাহনের সংকট তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেয়।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কাউসজর আহমেদ জানান, পানি নিষ্কাশনের জন্য ইতোমধ্যে কাজ শুরু করা হয়েছে। তিনি বলেন, পৌরসভার শ্রমিকরা বিভিন্ন এলাকায় জমে থাকা পানি দ্রুত সরিয়ে নিতে ড্রেন পরিষ্কারসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
টানা বৃষ্টির কারণে সাময়িকভাবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পৌর কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন সমস্যা কমাতে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নেও পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় এমন জলাবদ্ধতা নতুন নয়। দ্রুত কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও টেকসই অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হলে ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে একই ভোগান্তির মুখে পড়তে হবে।
৮ দিন আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিকাশে টাকা লেনদেন নিয়ে সংঘর্ষ, সাংবাদিকসহ আহত ৩০
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বিকাশে টাকা লেনদেন নিয়ে বিরোধের জের ধরে ত্রিমুখী সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকে উপজেলার নতুন হাবলি গ্রামের পশ্চিম পাড়ার সঙ্গে পূর্ব পাড়া ও দক্ষিণ আরিফাইল এলাকাবাসীর এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকা জুড়ে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয়রা জানান, ২-৩ সপ্তাহ আগে নতুন হাবলি গ্রামের পশ্চিম পাড়া এলাকার বোরহান মিয়া পূর্ব পাড়া এলাকার শিহাবের দোকানে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে যান। কিন্তু বিকাশে টাকা পাঠাতে দেরি হওয়ায় বোরহান মিয়া অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকেন। এ সময় উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে স্থানীয়রা বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। তবে এ নিয়ে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল তাদের মধ্যে।
গতকাল (রবিবার) বিকেলে শিহাব দক্ষিণ আরিফাইল এলাকার রায়হান, ইয়াসিনসহ আরও কিছু বন্ধুদের নিয়ে পশ্চিমপাড়া এলাকায় ঘুরতে যান। এ সময় স্থানীয় একটি মাঠে ফুটবল খেলা নিয়ে তর্কে জড়ান শিহাব ও বোরহান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বোরহান তার লোকজনদের নিয়ে শিহাব ও তার বন্ধুদের ওপর হামলা ও মারধর করেন। খবরটি জানাজানি হওয়ার পর সন্ধ্যায় পশ্চিম পাড়া এলাকাবাসীর সঙ্গে পূর্ব পাড়া ও দক্ষিণ আরিফাইল এলাকার লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
এ সময় রাতের আঁধারে টর্চের আলো জ্বালিয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চলে। সংঘর্ষে ইট পাটকেল নিক্ষেপ আর পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় পুরো এলাকা যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে সাংবাদিকসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। আহতরা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এ বিষয়ে সরাইল সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
৯ দিন আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিদ্যুৎ অভিযোগকেন্দ্রে ভাঙচুর
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিদ্যুতের অভিযোগকেন্দ্রে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে অজ্ঞাত কয়েকজন বিদ্যুৎ গ্রাহকের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দিবাগত রাতে শহরের দাতিয়ারায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিতরণ বিভাগ-১-এর অভিযোগকেন্দ্রে কয়েকজন এসে হামলা চালিয়ে কাঁচের দরজা ভাঙচুর করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অভিযোগকেন্দ্রে কর্তব্যরত কর্মচারী খলিলুর রহমান। তিনি জানান, রাত সাড়ে ১২টার পরপর এ ঘটনা ঘটে। সে সময় তিনি ছাড়া অভিযোগকেন্দ্রে আর কেউ ছিলেন না। কর্মচারীরা ৩ জায়গায় ট্রান্সফরমারের ফিউজ ঠিক করার কাজে গিয়েছিলেন। তখনই ৩/৪ জন লোক এসে দরজাটি ভেঙে চলে যান। খবর পেয়ে আজ (বুধবার) দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
বিতরণ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী লতিফুর রহমান জানান, তারা ঘটনাটি মৌখিকভাবে থানার উপপরিদর্শককে (এসপি) জানিয়েছেন। থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা করছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে চাহিদার এক ভাগ বিদ্যুৎও সরবরাহ নেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। আজ দুপুর ২টার দিকে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিতরণ বিভাগের-১ এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৩০ মেগাওয়াট। তবে এর বিপরীতে ওই এলাকায় সরবরাহ ছিল ১১ মেগাওয়াট। অর্থাৎ চাহিদার ৩ ভাগের এক ভাগ বিদ্যুৎত মিলছে না ওই এলাকায়।
এই বিতরণ বিভাগের অধীন এলাকায় ৮টি ১১ কেভি লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়। এর মধ্যে গড়ে ৫টি লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা।
তীব্র গরমের মধ্যে ব্যাপক লোডশেডিং হওয়ার কারণেই ক্ষুব্ধ হয়ে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের কেউ কেউ এ কাজ করে থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
১৪ দিন আগে
অবৈধ বালু উত্তোলনে বাধা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৪ গ্রামবাসী গুলিবিদ্ধ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে বাধা দিতে গিয়ে বালু ব্যবসায়ীদের ছোড়া ছররা গুলিতে চারজন গ্রামবাসী আহত হয়েছেন।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের চরলাপাং গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— ওই গ্রামের আলিম মিয়া, নূরু মিয়া, সফর মিয়া ও নুরুল মিয়া।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, নবীনগরের মেঘনা নদীতে সামিউল ট্রেডার্স ইজারা নিয়ে বালু উত্তোলন করছে। কিন্তু বালু উত্তোলনকারীরা অবৈধভাবে নির্দিষ্ট সীমা ছেড়ে চরলাপাং গ্রামে এসে বালু উত্তোলন করে থাকে। এতে ওই গ্রামের কৃষি জমিসহ আশপাশের এলাকা ভাঙনঝুঁকিতে রয়েছে।
আজ (রবিবার) সকালে চরলাপাং গ্রামে বালু উত্তোলন করার সময় স্থানীয়রা বাধা দেন। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় পার্শ্ববর্তী রায়পুরা উপজেলার মির্জাচর এলাকা থেকে স্পিডবোট ও নৌকায় করে আসা একদল ‘বালু সন্ত্রাসী’ এলোপাতাড়ি ছররা গুলি ছোড়ে। এতে চারজন গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়া গ্রামবাসীর ওপর গুলির ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
৭৩ দিন আগে
বাধার মুখে শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে পারলেন না রুমিন ফারহানা, মহাসড়ক অবরোধ
বিএনপি নেতা-কর্মীদের বাধার মুখে শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে পারেননি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। উত্তেজিত নেতা-কর্মীরা ছিঁড়ে ফেলেছেন রুমিন ফারহানার পুষ্পস্তবক। এ ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন তার কর্মী-সমর্থকরা।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে সরাইল উপজেলার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে কর্মী-সমর্থকদের প্রহরায় শহিদ মিনার এলাকা ত্যাগ করেন রুমিন ফারহানা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহিদ দিবস উপলক্ষে শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে রাত পৌনে ১২টার দিকে শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে পৌঁছান রুমিন ফারহানা। এ সময় পুষ্পস্তবক নিয়ে শহিদ বেদির সামনে কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। তখন সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপির নেতা-কর্মীরা রুমিনের উদ্দেশে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে রুমিনের আনা পুষ্পস্তবকটি ছিঁড়ে ফেলেন বিএনপি নেতা-কর্মীরা। পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে না পেরে কর্মী-সমর্থকদের প্রহরায় শহিদ মিনার এলাকা ত্যাগ করেন তিনি।
এদিকে এ ঘটনার পর ঢাকা সিলেট মহাসড়কের শাহবাজপুর প্রথম গেট এলাকা প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তার কর্মী-সমর্থকরা। এ সময় তারা সড়কে আগুন জ্বালিয়ে এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা অভিযোগ করে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী আমি প্রথমে শহিদ মিনারে ফুল দিতে যাই। সে সময় বিএনপির কিছু নেতা-কর্মী পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসে স্থানীয় পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের যদি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তাহলে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে। তাই যারা দলের পদ ব্যবহার করে এমন হিংস্রতা করে তাদের বিষয়ে দলের উচ্চ পর্যায় থেকে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তা না হলে দলের জন্য যেমন ক্ষতিকর হবে তেমনি সরকারেরও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে।
এ বিষয়ে জেলার পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ বলেন, শহিদ মিনারে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি এবং স্লোগান দেওয়ার বিষয়ে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। ভিডিও ফুটেজ অ্যানালাইসিস করে পুরো বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৭৪ দিন আগে
নবীনগরে পূর্বশত্রুতার জেরে যুবক গুলিবিদ্ধ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নবীনগরে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জেরে ইমন (২২) নামে এক যুবককে গুলি করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে নবীনগর উপজেলার বরিকান্দি ইউনিয়নের থোল্লাকান্দি গ্রামের বাদ্যকর পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ ইমন একই এলাকার জসিম মিয়ার ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা যায়, বরিকান্দি ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল। সোমবার সন্ধ্যায় ইমন ব্যক্তিগত কাজে বাড়ির পাশের সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা হঠাৎ তাকে ঘিরে ফেলেন এবং খুব কাছ থেকে লক্ষ্য করে তার শরীরে পরপর ৩ রাউন্ড গুলি করে। এতে ইমন মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। গুলির বিকট শব্দে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
এ সময় বাজার ও আশপাশের এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দোকানপাট দ্রুত বন্ধ হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যান। হামলার পর অভিযুক্তরা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে।
গুরুতর আহত অবস্থায় ইমনকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা জানান, তার শরীরে তিনটি গুলি করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
তার পরিবার জানায়, উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
৭৮ দিন আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দায়িত্ব পালনকালে পোলিং কর্মকর্তার মৃত্যু
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে দায়িত্ব পালনকালে মো. মুজাহিদুল ইসলাম (৫০) নামে এক পোলিং কর্মকর্তা মৃত্যুবরণ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে সরাইল সদরের জেলা পরিষদের অডিটোরিয়ামে দায়িত্ব পালনের সময় তার মৃত্যু হয়।
মুজাহিদুল সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের ইসলামি ফাউন্ডেশনের একজন শিক্ষক ছিলেন।
সরাইল উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহবুবুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভোট গ্রহণ শুরুর কিছুক্ষণ পরই মুজাহিদুল অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে দ্রুত সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
৮৩ দিন আগে
আচরণবিধি লঙ্ঘন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীকে জরিমানা
নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম এ হান্নান ও জামায়াতের ইসলামীর প্রার্থী আমিনুল ইসলামকে জরিমানা করা হয়েছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এন এম কায়সার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাদের জরিমানা করেন। দুই প্রার্থীর বিরুদ্ধেই নির্বাচনি প্রচারণাকালে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে এ জরিমানা করা হয়েছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কায়সার জানান, বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থী নির্বাচনি জনসভাকে কেন্দ্র করে আচরণবিধি ভঙ্গ করে তোরণ নির্মাণ করেছেন। জামায়াতের প্রার্থী রঙিন ব্যানার এবং বিএনপি প্রার্থী রঙিন ফেস্টুন ব্যবহার করেছেন। জামায়াতের প্রার্থী তার প্রতীক নির্দিষ্ট আকারের চেয়ে বড় প্রদর্শন করেছেন।
তিনি আরও জানান, নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে ৩০ হাজার এবং বিএনপির প্রার্থীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রার্থীদের রঙিন ব্যানার-ফেস্টুন এবং তোরণ অপসারণ করা হয়েছে।
৮৭ দিন আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কারামুক্ত আসামির ঠিকানা ব্যবহার করে পালিয়েছে হত্যা মামলার আসামি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগার থেকে জামিনে বের হয়ে যাওয়া এক আসামির নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করে কৌশলে পালিয়ে গেছেন হৃদয় (২৮) নামে হত্যা মামলার আরেক আসামি।
গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে এ ঘটনা ঘটলেও শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বিষয়টি জানাজানি হয়।
হৃদয় জেলার কসবা উপজেলার নিমবাড়ি এলাকার বাসিন্দা।
এ ঘটনায় চট্টগ্রামের কারা উপ-মহাপরিদর্শক মো. ছগির মিয়াকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাকি দুই সদস্য হলেন চাঁদপুরের জেলার এবং ফেনীর জেল সুপার ।
কারাগার সূত্রে জানা যায়, কসবা থানার একটি হত্যা মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন হাজতের পরোয়ানামূলে গত বছরের ৭ ডিসেম্বর জেলা কারাগারে যান হৃদয়। পরবর্তীতে গত ২৯ জানুয়ারি দুপুরে জামিনে কারামুক্ত নবীনগর থানার একটি মামলার আসামি দিদার হোসেনের নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে জামিনপ্রাপ্ত অন্য বন্দিদের মুক্তি দেওয়ার সময় কৌশলে পালিয়ে যান তিনি। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে কারাগারের ৬ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় চট্টগ্রাম বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শক মো.ছগির মিয়া বলেন, অন্য আসামির জামিনের কাগজ দেখিয়ে হৃদয় নামের এক আসামি কারাগার থেকে কৌশলে পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় সদর থানায় মামলা হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ছয়জন কারারক্ষীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
৯৪ দিন আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাবেন তারেক রহমান, গণজোয়ারের প্রস্তুতি জেলা বিএনপির
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২২ জানুয়ারি সিলেট সফর শেষে সড়কপথে ঢাকায় ফেরার পথে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়ায় আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন। এই জনসভাকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়াজুড়ে দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।
এ উপলক্ষে শনিবার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে জেলা বিএনপির উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে জনসভা ঘিরে সার্বিক প্রস্তুতি, সাংগঠনিক কার্যক্রম ও প্রত্যাশিত জনসমাগম সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় বিএনপির অর্থনীতিবিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।
তিনি বলেন, সিলেটে মাজার জিয়ারত শেষে ঢাকায় ফেরার পথে সরাইলে তারেক রহমানের এই জনসভা গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নতুন গতি সঞ্চার করবে। তারেক রহমানকে বরণ করে নিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।
খালেদ হোসেন বলেন, জনসভা সফল করতে জেলা বিএনপি সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। মঞ্চ নির্মাণ, আধুনিক শব্দব্যবস্থা স্থাপন, শৃঙ্খলা রক্ষা, স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। সরাইলসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ৪ থেকে ৫ লাখ নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি প্রত্যাশা করছি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, সিনিয়র সহ-সভাপতি জহিরুল হক খোকন, সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, সহ-সভাপতি এ বি এম মমিনুল হক, জেষ্ঠ্য যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আলী আজম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাইনুল ইসলাম চপলসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।
জেলা বিএনপি নেতারা আশা প্রকাশ করেন, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে অনুষ্ঠিতব্য এই জনসভা গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন প্রত্যাশা সৃষ্টি করবে।
১০৭ দিন আগে