ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কারামুক্ত আসামির ঠিকানা ব্যবহার করে পালিয়েছে হত্যা মামলার আসামি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগার থেকে জামিনে বের হয়ে যাওয়া এক আসামির নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করে কৌশলে পালিয়ে গেছেন হৃদয় (২৮) নামে হত্যা মামলার আরেক আসামি।
গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে এ ঘটনা ঘটলেও শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বিষয়টি জানাজানি হয়।
হৃদয় জেলার কসবা উপজেলার নিমবাড়ি এলাকার বাসিন্দা।
এ ঘটনায় চট্টগ্রামের কারা উপ-মহাপরিদর্শক মো. ছগির মিয়াকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাকি দুই সদস্য হলেন চাঁদপুরের জেলার এবং ফেনীর জেল সুপার ।
কারাগার সূত্রে জানা যায়, কসবা থানার একটি হত্যা মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন হাজতের পরোয়ানামূলে গত বছরের ৭ ডিসেম্বর জেলা কারাগারে যান হৃদয়। পরবর্তীতে গত ২৯ জানুয়ারি দুপুরে জামিনে কারামুক্ত নবীনগর থানার একটি মামলার আসামি দিদার হোসেনের নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে জামিনপ্রাপ্ত অন্য বন্দিদের মুক্তি দেওয়ার সময় কৌশলে পালিয়ে যান তিনি। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে কারাগারের ৬ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় চট্টগ্রাম বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শক মো.ছগির মিয়া বলেন, অন্য আসামির জামিনের কাগজ দেখিয়ে হৃদয় নামের এক আসামি কারাগার থেকে কৌশলে পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় সদর থানায় মামলা হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ছয়জন কারারক্ষীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
৩ দিন আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাবেন তারেক রহমান, গণজোয়ারের প্রস্তুতি জেলা বিএনপির
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২২ জানুয়ারি সিলেট সফর শেষে সড়কপথে ঢাকায় ফেরার পথে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়ায় আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন। এই জনসভাকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়াজুড়ে দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।
এ উপলক্ষে শনিবার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে জেলা বিএনপির উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে জনসভা ঘিরে সার্বিক প্রস্তুতি, সাংগঠনিক কার্যক্রম ও প্রত্যাশিত জনসমাগম সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় বিএনপির অর্থনীতিবিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।
তিনি বলেন, সিলেটে মাজার জিয়ারত শেষে ঢাকায় ফেরার পথে সরাইলে তারেক রহমানের এই জনসভা গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নতুন গতি সঞ্চার করবে। তারেক রহমানকে বরণ করে নিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।
খালেদ হোসেন বলেন, জনসভা সফল করতে জেলা বিএনপি সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। মঞ্চ নির্মাণ, আধুনিক শব্দব্যবস্থা স্থাপন, শৃঙ্খলা রক্ষা, স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। সরাইলসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ৪ থেকে ৫ লাখ নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি প্রত্যাশা করছি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, সিনিয়র সহ-সভাপতি জহিরুল হক খোকন, সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, সহ-সভাপতি এ বি এম মমিনুল হক, জেষ্ঠ্য যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আলী আজম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাইনুল ইসলাম চপলসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।
জেলা বিএনপি নেতারা আশা প্রকাশ করেন, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে অনুষ্ঠিতব্য এই জনসভা গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন প্রত্যাশা সৃষ্টি করবে।
১৬ দিন আগে
রুমিন ফারহানাকে শোকজ, সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে স্বশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা রিটানিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) রাতে রিটানিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ২২ জানুয়ারি সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ব্যাখা দিতে বলা হয় তাকে।
এর আগে, রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে ‘মব’ সৃষ্টির অভিযোগ করা হয়েছে। সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আবুবকর সরকার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই অভিযোগ আনা হয়।
নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি এবং সিনিয়র সিভিল জজ আশরাফুল ইসলামের কাছে গত শনিবার এ চিঠি পাঠিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
রিটানিং কর্মকর্তা কারণ দর্শানোর নোটিশে লেখেন, আচরণবিধি লঙ্ঘন করে রুমিন চারশো থেকে পাঁচশো লোকের উপস্থিতিতে জনসভায় বৃহৎ স্টেজ নির্মাণ করে রাজনৈতিক বক্তব্য রাখেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনসভা বন্ধ করতে বললে ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করে বিভিন্নরকম হুমকি প্রদান করেন তিনি।
উল্লেখ্য, শনিবার সরাইলের ইসলামাবাদ গ্রামে জনসমাবেশে অংশ নেন রুমিন ফারহানা। তবে তাৎক্ষণিকভাবে সমাবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। সে সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জুয়েল মিয়া নামে একজনকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এরপর ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা নির্বাচনি প্রচারণায় প্রশাসনের বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেন। তাকে বাধা দেওয়া হচ্ছে, অথচ যারা প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না উল্লেখ করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উদ্দেশে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘এইরকম (বৃদ্ধাঙ্গুল উঁচু করে) দেখায় আপনাদের। প্রশাসনে বসে আছেন, আপনারা খোঁজ নিন। সব জায়গায় সভা হচ্ছে। আপনি পারলে থামাতেন। আজকে আমি ভদ্রতা দেখিয়ে থামিয়েছি। নেক্স টাইম (পরবর্তী সময়ে) এই ভদ্রতাটা করব না।’
১৬ দিন আগে
মন্ত্রীত্ব কেন, সমগ্র দুনিয়া দিলেও জনগণকে ছেড়ে যাব না: রুমিন ফারহানা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের একাংশ) স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির সাবেক সহ-আর্ন্তজাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, ‘আমার শরীরে এক বিন্দু রক্ত থাকতে মন্ত্রীত্ব তো দূরের কথা, সারা দুনিয়ার কোনো কিছুর জন্য আমার এই মানুষদের ছাইড়া যামু না।’
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামাবাদ গ্রামের ইসলামাবাদ পাবলিক স্কুল মাঠে আয়োজিত উঠান বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
ধানের শীষের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের এক নেতাকে জোটের প্রার্থী ঘোষণা করেছে, তিনি খেজুর গাছ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। দল থেকে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন রুমিন ফারহানা। এরপর দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য এবং নিষেধ সত্ত্বেও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করায় দল থেকে তাকে বহিষ্কার করে বিএনপি।
এ বিষয়ে উঠান বৈঠকে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আজকে শুধু একটা কষ্টের কথা বলি। আমার প্রাণের দল, যে দলের হাত ধরে আমার রাজনীতিতে আসা, সেই দলটি হচ্ছে বিএনপি। আমার নেতা তিন বারের প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তিনি আমাকে রাজনীতিতে নিয়ে এসেছেন। বেগম খালেদা জিয়ার ভালোবাসার আশ্রয়ে ও সহযোগিতায় আমি এতদূর এসেছি।’
খালেদা জিয়াকে ‘মা’ সম্বোধন করে তিনি বলেন, ‘আমার মা যেদিন মারা গেছেন, সেইদিন আমি বহিষ্কার হয়েছি। আমার মা জীবিত থাকা অবস্থায় আমাকে বহিষ্কার করা যায় নাই। মা, দেশনেত্রী হাসপাতালে যাওয়ার তিন দিন আগে ২০ নভেম্বর বলেছিলেন, রুমিন আর সোহেলের খবরটা কী? কেন রুমিনকে নমিনেশন (মনোনয়ন) দেওয়া হইল না? দল তার কোনো জবাব দিতে পারেনি।’
রুমিন বলেন, ‘আমার দল আমাকে বহিষ্কার করেছে। এখন আমাকে সকাল-বিকাল টেলিফোন করে বলে— মন্ত্রীত্ব দিয়ে দেব, আসনটা ছেড়ে দেন। আমার জান থাকতে, আমার শরীরে এক বিন্দু রক্ত থাকতে মন্ত্রীত্ব তো দূরের কথা, সারা দুনিয়ার কোনোকিছুর জন্য আমার এই মানুষদের ছাইড়া যামু না।’
তিনি বলেন, ‘আজ আপনারা আমাকে মালা দিয়ে বরণ করেছেন। আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করি, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আল্লাহ যেন আমার ভাগ্যে এই মালা লিখে রাখেন।’
এই নেত্রী বলেন, ‘গত ১৭ বছর আমি কী করেছি? কার পক্ষে ছিলাম? কাদের জন্য লড়াই করেছি?—তা আপনারা সবাই জানেন। এখন হলো মিডিয়ার যুগ। সবার হাতে হাতে মোবাইল-টেলিফোন। সবই দেখা যায়— কে রাস্তায় লড়াই করেছে? কে পুলিশের বাধার মুখে গিয়েও রাস্তায় বসে পড়েছে? আওয়ামী লীগ কাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার পরও আবার সেখানে গিয়ে মিটিং করেছে? সংসদে দাঁড়িয়ে কে বলছে, এই সংসদ অবৈধ? এসব সকলেরই জানা।’
এদিন রুমিন ফারহানা আসার খবরে বিকাল ৩টার পর থেকে স্কুল মাঠে মানুষের ঢল নামে। উপস্থিতদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জানিয়ে স্থানীয়দের নানাবিধ সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।
গ্রামবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের কাছে দোয়া ও সমর্থন চাই। আপনাদের সমর্থন পেলে আমি আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনাদের প্রতিনিধি হয়ে কাজ করতে পারব। উপরে আল্লাহ আর নিচে আপনারাই আমার ভরসার জায়গা।’
১৭ দিন আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মোটরসাইকেলে ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ২
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত হয়েছেন।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উপজেলার সোনারামপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে সাইমন (২০) এবং একই গ্রামের মাকরুল মোল্লার ছেলে আব্দুর রহমান (২৩)।
আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল আলম চৌধুরী জানান, মোটরসাইকেলটির আরোহী ২ জন রাতে ওই মহাসড়কের সরাইলের বিশ্বরোড থেকে আশুগঞ্জ আসার পথে সোনারামপুর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ঘটনাস্থলে দুইজনই গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। পরে পরিবাররের লোকজন তাদের মৃত্যুর খবর শুনে হাসপাতাল এসে তাদের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান।
এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান ওসি।
২০ দিন আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নদীতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে নদীতে ডুবে তানিশা মনি (৫) ও তাবাসসুম (৪) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (৯ আগস্ট) সন্ধায় উপজলার গোয়লনগর ইউনিয়নের কদমতলী গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
তানিশা মনি কদমতলী গ্রামের জুনায়েদ মিয়ার এবং তাবাসসুম একই গ্রামের দুলাল মিয়ার মেয়ে।
আরও পড়ুন: চাঁদপুরে পুকুরের পানিতে ডুবে দুই শিশু নিহত
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বর্ষা মৌসুম হওয়ায় কদমতলী গ্রামের নদীতে এখন থৈ থৈ পানি। শনিবার বিকেলে দুই শিশু বাড়ির পাশে খেলা করছিল। পরিবারের অজান্তেই তারা বাড়ির পাশে নদীর পানিতে পড়ে যায়। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলেও দুজনকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। পরে বাড়ির পাশে নদীতে তাদের মরদেহ পাওয়া যায়।
নাসিরনগরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনা নাছরীন এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
১৭৮ দিন আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আগুন আতঙ্কে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের একটি বিদ্যালয়ে আগুন লাগার আতঙ্গে সিঁড়ি দিয়ে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।
এতে গুরুতর আহতাবস্থায় ১১ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিমান বিধ্বংসের ঘটনা মনে করে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিপুল সংখ্যক মানুষের ভিড় জমে।
বুধবার (৬ আগস্ট) দুপুরে জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র নিয়াজ মুহম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের পশ্চিম ভবনের তৃতীয় তলায় এ ঘটনা ঘটে।
সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের তৃতীয় তলার বারান্দায় আসন্ন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় অংশগ্রহণের প্রস্তুতি হিসেবে শিক্ষার্থীরা একটি প্রজেক্ট তৈরি করার সময় মাল্টিপ্লাগের মাধ্যমে বিদ্যুতের সংযোগ দিতে গিয়ে হঠ্যাৎ করে বিকট শব্দ হলে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা আগুন লেগে গেছে মনে করে আতঙ্কে সিঁড়ি দিয়ে নামতে শুরু করে। এসময় অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও আতঙ্কে তাদের পেছন পেছন সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়।এর মধ্যে ১১ জনকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আহত শিক্ষার্থীরা হলো, আমেনা জাহানা আরিশা (৮ম),সোহামণি ইতি (৬ষ্ঠ),তাসনোভা ইসরাত (৭ম),মাকিয়া আক্তার লামিয়া (৮ম),ফারিয়া সুলতানা (৮ম),তানজিনা আক্তার(৭ম),নোহা ইসলাম (৮ম), কলি (৮ম),আরিফা (৮ম),রুহান (৭ম),ফাতেমা আক্তার মীম (৭ম)।এর মধ্যে রুহানকে নিবিড় পরিচর্চা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।
আহত শিক্ষার্থী সোহামণি ইতি ও ফাতেমা আক্তার মীম জানায়, আগুন লেগেছে শুনে দৌড়ে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে ধাক্কা লেগে পড়ে গিয়ে ব্যাথা পেয়েছে।
ওই বিদ্যালয়ের গণিত শিক্ষক কেশব দেবনাথা জানান, কিছু হয়নি বলার পরও শিক্ষার্থীরা আমাকে ধাক্কা মেরেই রুম থেকে বের হয়ে যায়। পরে নামতে গিয়ে যারা ব্যথা পেয়েছে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
নিয়াজ মুহম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহিদুল ইসলাম জানান, মাল্টিপ্লাগের শর্ট সার্কিটের শব্দ থেকে আতঙ্কে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে কিছু শিক্ষার্থী ব্যথা পেয়েছে।
১৮২ দিন আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মসজিদে মিলল নিখোঁজ শিশুর রক্তাক্ত লাশ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে নিখোঁজের একদিন পর ময়না আক্তার (৯) নামে এক শিশুর বিবস্ত্র ও রক্তাক্ত লাশ স্থানীয় একটি মসজিদের দ্বিতীয় তলা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রবিবার (৬ জুলাই) সকালে উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের ছন্দুমিয়ার পাড়া থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত ময়না ওই পাড়ার বাহরাইন প্রবাসী আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে এবং লতিফ মোস্তারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় একটি মাদরাসার নূরানী বিভাগে পড়াশোনা করতেন।
পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানান, শনিবার (৫ জুলাই) দুপুরে ময়না বাড়ি থেকে খেলাধুলা করতে বের হয়, তারপর তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করা হলেও কোনো খবর না পেয়ে মাইকিংও করা হয়। পরদিন সকালে, শিশুরা হাবলিপাড়া জামে মসজিদে গিয়ে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় ময়নার রক্তাক্ত লাশ দেখতে পায়। এরপর মসজিদের ঈমাম ময়নার মাকে খবর দেন।
পরে গ্রামবাসী মসজিদে গিয়ে ময়নার বিবস্ত্র ও গলায় কাপড় পেঁচানো লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ, পিবিআই ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লাশ উদ্ধার করেন।
আরও পড়ুন: ব্রহ্মপুত্রে নৌকাডুবি: নিখোঁজের ২২ ঘণ্টা পর দুই শিশুর লাশ উদ্ধার
এদিকে, এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামবাসী এই হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে সরাইল সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসপি) তপন সরকার বলেন, ‘খবর পেয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় প্রাথমিকভাবে দুইজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে, তবে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে কিনা— তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
২১২ দিন আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে ছাত্রদল নেতা নিহত, আহত ১৫
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে সোহরাব মিয়া (২৮) নামে এক ছাত্রদল নেতা নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৫ জন।
শনিবার (৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলার চাতলপাড় ইউনিয়নের চাতলপাড় বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে৷
নিহত সোহরাব কাঠালকান্দি গ্রামের মৃত চান মিয়ার ছেলে ও চাতলপাড় ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসম্পাদক ছিলেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৫ জন। তাদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিয়ের ৮ দিনের মাথায় স্বামীকে খুন, স্ত্রী আটক
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে চাতলপাড় ইউনিয়নের কাঁঠালকান্দি গ্রামের উল্টা গোষ্ঠী ও মোল্লা গোষ্ঠির মধ্যে বিরোধ চলছে। এর জেরে শনিবার সকালে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়৷ পরে দুপুরের দিকে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে মোল্লা গোষ্ঠীর সমর্থক সোহরাব মিয়া গুরুতর আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে সে মারা যায়। এ ঘটনায় আহত হন অন্তত ১৫ জন।
সরাইল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার তপন সরকার জানান, কয়েক মাস ধরেই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছে। এর জেরেই সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
২১৪ দিন আগে
বেহাল সড়কে সিলিন্ডারবাহী ট্রাক উল্টে বিস্ফোরণ, পুড়ল দোকান
সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিরাসার এলাকায় একটি সিলিন্ডারবাহী ট্রাক খাদে পড়ে উল্টে গেলে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে আশপাশের দোকান ও স্থাপনায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে, তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
বুধবার (৪ জুন) ভোর ৪টার দিকে বিরাসার এলাকার বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, আশুগঞ্জ-আখাউড়া চার লেন সড়কের নির্মাণ কাজের জন্য বিরাসার এলাকার সড়কের অবস্থা বেহাল। সকালে সিলিন্ডারবাহী ট্রাকটি খানাখন্দে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে উল্টে যায়। পরে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, তার পরপরই ট্রাকটিতে আগুন ধরে যায়।
তারা আরও জানান, সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে ঘটনাস্থলের পাশের ৩/৪টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিস্ফোরণের প্রচণ্ড শব্দে কয়েকটি ভবনের জানালার কাঁচও ফেটে যায়। এ সময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার খবর পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও সরাইল থেকে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ২ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় মহাসড়কের দুপাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক নিউটন দাস জানান, ট্রাকটিতে বিপুলসংখ্যক গ্যাস সিলিন্ডার থাকায় খাদে পড়ে গেলে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। তবে কেউ হতাহত হননি। কতসংখ্যক সিলিন্ডার বহন করা হচ্ছিল, তা নির্ধারণের চেষ্টা চলছে।
২৪৫ দিন আগে