নির্যাতন
সিলেটে কিশোরীর কোমরে শিকল বেঁধে নির্যাতন, আটক ৩
সিলেট নগরীতে চুরির অভিযোগে এক কিশোরীর কোমরে শিকল বেঁধে রাস্তায় হাঁটানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি পুলিশের নজরে এসেছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে শাহপরাণ থানা পুলিশ।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিলেট মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম। তিনি জানান, ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে নির্যাতনকারীদের চিহ্নিতে পুলিশ কাজ করছে। ইতোমধ্যে তিনজনকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অন্য সহযোগীদের আটকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আটককৃতরা হলেন সিলেট নগরীর শাহজালাল উপশহরের মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে মো. জাকির হোসেন (৪৩) ও মো. মোজাক্কির হোসেন (৪০) এবং একই এলাকার মো. মজিবুর রহমানের ছেলে মো. বুরহান উদ্দিন (৪৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে একটি দোকানের ক্যাশ বাক্স থেকে টাকা চুরির চেষ্টার অভিযোগে স্থানীয়রা ১৫-১৬ বছর বয়সী ওই মেয়েকে আটক করেন। এ সময় তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তার কোমরে শিকল বেঁধে সড়কে টানাহেঁচড়া করতে দেখা যায়। ঘটনাটি নগরীর উপশহরের ডি ব্লকের মসজিদ মার্কেট এলাকার।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবক কিশোরীর কোমরে শিকল বেঁধে তাকে সড়কে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় কিশোরীকে অঝোরে কাঁদতে দেখা যায়।
এ ঘটনার বিষয়ে শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে মঙ্গলবার তাকে চুরির অভিযোগে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
শিকল বেঁধে নির্যাতন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর বিষয়ে মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, যারা ওই কিশোরীকে এভাবে শিকল পরিয়ে নির্যাতন করেছেন, তাদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে একজন কিশোরীকে শিকল পরানো, মারধর করা কিংবা প্রকাশ্যে অপমান-হয়রানি করার অধিকার কারও নেই জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুদিপ্ত অর্জুন বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এমন ঘটনা কেবল মানবিক মর্যাদাকেই ক্ষুণ্ন করে না, সমাজে ভয়াবহ বার্তাও দেয়।
১০ দিন আগে
রাজবাড়ীতে গ্রাম পুলিশ ও নারীকে গলায় জুতার মালা ও কোমরে রশি বেঁধে নির্যাতন
রাজবাড়ী সদর উপজেলার পাচুরিয়া ইউনিয়নে প্রেমের সম্পর্কের অভিযোগ তুলে এক গ্রাম পুলিশ সদস্য ও এক নারীকে রশি দিয়ে বেঁধে ও গলায় জুতার মালা পরিয়ে ঘুরিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একাধিক ভিডিও গত দুই দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
নির্যাতনের শিকার গ্রাম পুলিশ সদস্য বর্তমানে ফরিদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রয়েছেন। তিনি পাচুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদে কাজ করেন। এ ঘটনার পর নির্যাতনের শিকার নারীও বর্তমানে ওই এলাকা ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ঘরের মধ্যে ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তির সঙ্গে ওই নারী ও গ্রাম পুলিশ সদস্য কথা বলছেন। সেখানে ওই নারী কোনো অনৈতিক কাজ হয়নি দাবি করে ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তির সঙ্গে তর্ক করছেন। গ্রাম পুলিশ সদস্যও কলা বিক্রির টাকা নিতে গিয়ে তাকে ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি করছেন।
অন্য একটি ভিডিওতে ওই দুজনের গলায় জুতার মালা ও কোমরে রশি বেঁধে টেনে নিয়ে যেতে দেখা যায়। এ সময় ঘটনাস্থলে উৎসুক নারী-পুরুষ ও শিশুদের দেখা গেছে।
ভুক্তভোগী ওই গ্রাম পুলিশ সদস্য দাবি করেন, তিনি রাজবাড়ীর শ্রীপুর বাজারে কলা বিক্রি করেন, পাশাপাশি স্থানীয় দোকানগুলোতে পাইকারি কলা সরবরাহও করে থাকেন। গেল রবিবার সকাল ৭টার দিকে তিনি শ্রীপুর বাজারে কলা বিক্রি করছিলেন। সে সময় পাশের আলীপুর ইউনিয়নের কল্যাণপুর এলাকার পূর্বপরিচিত এক নারী তার কাছ থেকে কলা কেনেন। সে সময় এক হাজার টাকার নোটের ভাঙতি না থাকায় ওই নারী পরে টাকা দেবেন বলে চলে যান।
তিনি বলেন, পরে সকাল ৮টার দিকে কল্যাণপুর বাজারের ইটভাটার কাছে গিয়ে ওই নারীকে ফোন করলে তিনি তাকে তার বাড়িতে যেতে বলেন। তার বাড়ির কাছে যাওয়ামাত্রই স্থানীয় অটোরিকশাচালক লাভলু বেপারী (২৫) নামের এক যুবক তাকে জোর করে একটি ঘরের ভেতরে নিয়ে যান। পরে তার পরণের প্যান্ট খুলতে বলে মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করে ওই নারীর সঙ্গে তার অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে বলে চিৎকার করতে থাকেন।
গ্রাম পুলিশ সদস্যের অভিযোগ, এ সময় তার কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে উপস্থিতরা তাকে মারধর শুরু করেন। পরে আশপাশের লোকজনকে ডেকে এনে তাকে ও ওই নারীকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাদের দুজনের গলায় জুতার মালা ও কোমরে রশি বেঁধে এবং ওই নারীর চুল কেটে এলাকায় ঘোরানো হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তিনি মুক্ত হন।
তিনি বলেন, ‘বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যান দেখছেন। আমাদের সঙ্গে চরম অন্যায় করা হয়েছে। ঘরে বয়স্ক ছেলে থাকা অবস্থায় কোনো নারী অনৈতিক কাজ করতে পারেন না। এছাড়া ঘরের দরজা খোলা ছিল। লাভলুর সঙ্গে ওই নারীর সম্পর্ক ভালো না থাকায় তারা নির্যাতন করে আমার দুটি দাঁত ভেঙে ফেলেছে। এ ঘটনার পর লজ্জায় আমার স্ত্রী ও সন্তান এখন পর্যন্ত আমাকে দেখতে আসেনি।’
পাচুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবর রহমান বলেন, ভিডিওটি ফেসবুকে দেখেছি। মারধরের পর কয়েকজন ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে ওই গ্রাম পুলিশ সদস্যকে ইউনিয়ন পরিষদে দিয়ে যান। এক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের কারণে তাকে মারধরা করা হয়েছে বলে জানান তারা।
তিনি বলেন, আমরা ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছি। গ্রাম পুলিশ সদস্য অপরাধ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধ প্রমাণিত না হলেও বিষয়টি দেখা হবে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীরা ও তাদের পরিবার আইনগত পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেবেন।
এ ধরনের ভিডিও নজরে এসেছে জানিয়ে রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, ‘এখন পর্যন্ত নির্যাতনের শিকার কেউ অভিযোগ দেয়নি। ভিডিওতে যা দেখেছি, তা খুবই দুঃখজনক। এভাবে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
৩৭ দিন আগে
টাকার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ
বিদেশে যাওয়ার জন্য টাকা দাবি করে স্ত্রীকে মারধর এবং পরে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে রাস্তায় ফেলে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যুৎ কুমার দত্ত (৪০) রাজধানীর প্রাইম ইউনিভার্সিটির শিক্ষক। তিনি কুষ্টিয়া শহরের আমলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। ভুক্তভোগী শিউলি রানী রায় (৩২) কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার নিরোধ কুমার রায়ের মেয়ে।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাংবাদিকদের কাছে নিজের ওপর চালানো নির্যাতনের বর্ণনা দেন শিউলি। এ সময় তার শয্যার পাশে পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
শিউলির ভাষ্য, সাত বছর আগে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। এরপর থেকে তারা রাজধানীর মিরপুরের মাজার রোড এলাকায় বসবাস করলেও শুরু থেকেই শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের নানা ধরনের মানসিক নির্যাতনের শিকার হন তিনি। সম্প্রতি স্বামীর বিদেশ যাওয়ার পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে পারিবারিক অশান্তি চরমে পৌঁছায়।
তার অভিযোগ, বিদেশে যাওয়ার জন্য স্বামী বারবার তার পরিবারের কাছে টাকা দাবি করতেন। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে গত ১২ জুলাই রাতে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বিদ্যুৎ কুমার দত্ত রুটি বেলার বেলন দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন।
এতে তার মাথা, মুখমণ্ডল, হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। এছাড়া ডান চোখেও আঘাত লাগে বলে জানান শিউলি।
তিনি আরও জানান, মারধরের পর বাপের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তাকে জোর করে মোটরসাইকেলে তুলে কুষ্টিয়ার উদ্দেশে রওনা হন তার স্বামী। তবে আশুলিয়ার নবীনগর গলফ ক্লাব এলাকায় পৌঁছালে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে তাকে সড়কের ওপর ফেলে রেখে চলে যান বিদ্যুৎ কুমার দত্ত। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ভুক্তভোগীর ভাই শুভ রায় বলেন, ‘আমার বোনকে নির্মমভাবে নির্যাতনের পর পরিকল্পিতভাবে রাস্তায় ফেলে রেখে গেছেন তার স্বামী। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি আদালতে মামলার প্রস্তুতিও চলছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যুৎ কুমার দত্তের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
৬৩ দিন আগে
প্রয়োজনে মন্ত্রিত্ব ছাড়ব, সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন সহ্য করব না: ধর্মমন্ত্রী
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ বলেছেন, প্রয়োজনবোধে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেবেন, কিন্তু কোনো সংখ্যালঘু বা অন্য ধর্মের মানুষের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করা হবে না।
সোমবার (১১ মে) সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
ভারতে সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের বিষয়ে ভারত সরকারের সঙ্গে কথা বলবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ভারত তো বিশাল দেশ। তাদের আমি শ্রদ্ধা করি। তাদের দেশে গণতন্ত্রকে খুব লালন করা হয়, এজন্য আমি শ্রদ্ধা করি। তবে মন থেকে আরও বেশি শ্রদ্ধা করব, যদি তারা তাদের দেশের সংখ্যালঘুদের আপন করে নেয়, নিরাপত্তা দেয় এবং তাদের জনগণের একটি অংশ হিসেবে মনে করে সমস্ত ব্যবস্থা নেয়।
তিনি বলেন, ‘তবে আমি একটা কথা বলি, ভারতে কী ঘটছে, সেটা বড় বিষয় নয়। ভারতে ঘটছে বলে বাংলাদেশেও ঘটবে, এমনটা হতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনবোধে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেব, কিন্তু এখানে কোনো সংখ্যালঘুদের ওপর, কোনো অন্য ধর্মাবলম্বীর ওপর অত্যাচার, অবিচার, জুলুম, নির্যাতন সহ্য করব না ইনশাআল্লাহ।’
এ বিষয়ে সরকার কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না জানতে চাইলে ধর্মমন্ত্রী বলেন, অবশ্যই আমরা চেষ্টা করব। আমাদের সরকারপ্রধান আছেন, তিনি অবশ্যই বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করছেন। এ ব্যাপারে তিনি অবশ্যই তার পক্ষ থেকে কথা বলবেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএসআরএফ সভাপতি মাসউদুল হক। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।
১৩১ দিন আগে
যশোরে স্কুলছাত্রকে অপহরণ করে ‘দোকানে আটকে নির্যাতন’
যশোরের শার্শায় স্কুল থেকে ফেরার পথে সজিব হোসেন (১৭) নামে এক স্কুলছাত্রকে জোর করে তুলে নিয়ে দোকানঘরে আটকে রেখে হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করার পর ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) উপজেলার বাসাবাড়ি বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শুধু নির্যাতনই নয়, ওই স্কুলছাত্রের প্যান্ট খুলে গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়েছে বলে অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে।
সজিব হোসেন বসন্তপুর গ্রামের ফরিদা খাতুনের ছেলে। সে কেরালখালী পাড়িয়া ঘোপ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র।
এ ঘটনায় রবিবার (১২ এপ্রিল) রাতে ভুক্তভোগীর মা ফরিদা খাতুন সাকিব, রিপন, রাজু, সিয়ামসহ ৫-৭ জনের বিরুদ্ধে শার্শা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযুক্তরা সবাই স্থানীয় বাসাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৯ এপ্রিল সজিব হোসেন স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিল। দুপুর ১টার দিকে বাসাবাড়ি বাজার এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা একদল যুবক তাকে জোর করে টেনে-হিঁচড়ে তুলে নিয়ে যায় অভিযুক্ত সাকিবের দোকানের ভেতরে। সেখানে দোকানের শাটার বন্ধ করে কাঠের বাটাম ও কুড়ালের আঘাতে তাকে বেধড়ক মারধর ও নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে সজিবের পরিহিত প্যান্ট খুলে তার গায়ে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
পরে সজিবের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা এগিয়ে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। মারধর ও নির্যাতনের ফলে সজিবের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। ঘটনার সময় অভিযুক্তরা মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ফরিদা খাতুন জানান, থানায় অভিযোগের পর বিভিন্ন ফোন নম্বর থেকে তাকে ও তার ছেলেকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে অভিযুক্তরা।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে আমি ও আমার ছেলে সজিব চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি এই বর্বরোচিত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৫৯ দিন আগে
নড়াইলে প্রধান শিক্ষকের ‘নিষেধ সত্ত্বেও’ শিক্ষার্থীকে মারধর
শিক্ষক-শিক্ষিকার হাতে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে নড়াইলের লোহাগড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র কৃষ্ণ হালদার (১১)। নিষেধ করার পরও ওই দুই শিক্ষক ছেলেটিকে মারধর করেছেন বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
সোমবার (৬ এপ্রিল) বিদ্যালয়ের ক্লাস চলাকালীন এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, কৃষ্ণ হালদারকে শিক্ষক রানী চক্রবর্তী ব্ল্যাকবোর্ডের কালি মোছার ডাস্টার দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেদম মারধর করেন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ও ক্ষত সৃষ্টি হয়। পরে অসুস্থ অবস্থায় তাকে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এর আগে, গত ১ এপ্রিল বিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষক দীপক কুমারের বিরুদ্ধেও কৃষ্ণকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
ভুক্তভোগীর পরিবার আরও জানায়, বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুমানা আক্তারকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং অভিযোগ করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষিপ্ত হয়ে পুনরায় তাকে মারধর করা হয়।
কৃষ্ণের বাবা উত্তম হালদার বলেন, ‘পড়া না পারার অজুহাতে আমার ছেলেকে বারবার মারধর করা হচ্ছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
মা পল্লবী হালদার বলেন, ‘আমার ছেলে এখন আতঙ্কে রয়েছে। সে স্কুলে যেতে ভয় পাচ্ছে। মারধরের কারণে তার শরীরে অনেক ক্ষত হয়েছে।’
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুমানা আক্তার বলেন, শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনাটি দুঃখজনক। দুই শিক্ষককে সতর্ক করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নিষেধ করা সত্ত্বেও ওই শিক্ষকরা ছেলেটিকে মারধর করেছেন।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
১৬৫ দিন আগে
জাবির নারী শিক্ষার্থীকে বাসায় আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে হলের সামনে থেকে কৌশলে ডেকে নিয়ে ভীতিপ্রদর্শন করে বাসায় আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির (আইআইটি) ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের (৪৪তম ব্যাচ) এক সাবেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী ইসলামনগর এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
অভিযুক্ত তারিকুল ইসলাম (৩২) জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি উপজেলার বাসিন্দা।
বিশাববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছাত্রী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। ঘটনার পর তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হলে তিনি তার বিভাগের এক নারী শিক্ষকের কাছে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন।
ভুক্তভোগীর বরাত দিয়ে ওই শিক্ষক জানান, অভিযুক্তের সঙ্গে ছাত্রীর পূর্বে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল যা পরবর্তীতে ভেঙে যায়। গতকাল (মঙ্গলবার) তারিকুল ইসলাম ভুক্তভোগীর হলের সামনে গিয়ে ‘শেষবারের মতো কথা বলার’ কথা বলে তাকে বাসায় যাওয়ার জন্য চাপ দেন। ছাত্রী রাজি না হলে তাকে বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেইল করেন।
তিনি আরও বলেন, একপর্যায়ে ইফতার সামগ্রী কেনার কথা বলে ভুক্তভোগী তার বাসায় যান। সেখানে পৌঁছানোর পর তরিকুল ইসলাম তার মুখে টেপ লাগিয়ে বেঁধে মারধর করেন এবং হাতের ওপর গরম পানি ঢেলে দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ জানা যায়, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী পুড়ে যাওয়ার ক্ষতের ওষুধ কিনতে যাওয়ার সময় তরিকুল কক্ষের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেন। ওই সুযোগে ভুক্তভোগী জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
পুলিশ প্রথমে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. তানভীর হোসেন জানান, ‘ভুক্তভোগী ছাত্রীর হাতে প্রায় ৩ থেকে ৪ সেন্টিমিটার জায়গা পুড়ে গেছে। আমাদের কেন্দ্রে এ ধরনের বার্ন ইনজুরির পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় তাকে সাভারে স্থানান্তর করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, ‘ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ হিসেবে জেনেছি। তবে এ বিষয়ে এখনও আমার কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি।’
তিনি বলেন, বিষয়টি ব্যক্তিগত বলে জেনেছি। সংশ্লিষ্টরা প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেন। এক্ষেত্রে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।
সার্বিক বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার বলেন, গতকাল রাতে ঘটনাটি জানতে পেরে আমাদের ফোর্স গিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে জাবি মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। আমরা তদন্ত করছি। পরে বিস্তারিত জানাতে পারব।
২০৬ দিন আগে
খাবার আনতে দেরি হওয়ায় শিক্ষার্থীকে ‘গরম খুন্তির ছ্যাঁকা’ দিলেন মাদরাসা সুপার
মাগুরা জেলার শ্রীপুরে খাবার আনতে দেরি হওয়ায় এক শিক্ষার্থীকে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে মাদারাসা সুপার মাওলানা আবু সাইদের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) রাতে উপজেলার নাকোল-কমলাপুর দারুল উলুম ইসলামি মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম জুনায়েদ হোসেন (১২)। সে মাগুরা শহরের আদর্শপাড়ার ভাড়া বাড়ির বাসিন্দা সুজন মিয়ার ছেলে।
নাকোল থানা পুলিশ জানিয়েছে, নির্যাতনের পর শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লেও তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়নি, বরং কাউকে কিছু না জানানোর জন্য ভয় দেখিয়ে মাদরাসায় আটকে রাখা হয়। আজ (বৃহস্পতিবার) জুনায়েদ পালিয়ে বাড়ি ফিরে গেলে তার বাবা সুজন মিয়া নাকোল পুলিশ ফাঁড়িতে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন।
সুজন মিয়া জানান, চার বছর আগে ছেলেকে হাফেজ বানানোর উদ্দেশ্যে ওই মাদরাসায় ভর্তি করেন। কিন্তু সেখানে তুচ্ছ ঘটনায়ও মাদরাসার সুপার মাওলানা আবু সাইদের নির্যাতনের শিকার হতে হতো তার ছেলেকে।
আরও পড়ুন: ভারত থেকে বাংলাদেশি যুবকের নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে মুক্তিপণ দাবি
তিনি বলেন, গত রাতে সুপারের খাবার আনতে জুনায়েদকে মাদরাসার পাশে একটি বাড়িতে পাঠানো হয়। সেখানে গৃহস্থের খাবার প্রস্তুতে দেরি হওয়ায় জুনায়েদের ফিরতেও দেরি হয়। কিন্তু এ জন্য জুনায়েদকে অপরাধী করে নির্যাতন করা হয়।
শিশু জুনায়েদ জানায়, রাত ৯টার দিকে খাবার নিয়ে মাদরাসায় ফিরলেও সুপারের ঘনিষ্ট দুই ছাত্র ওয়ালিদ ও সিজান তার হাত বেঁধে মুখে বালিশ চাপা দিয়ে পরনের কাপড় খুলে ফেলে। এরপর মোমবাতির আগুনে স্টিলের খুন্তি গরম করে শরীরে ছ্যাঁকা দেয়। নির্যাতনের বিষয়টি প্রকাশ করলে আরও মারধরের হুমকিও দেওয়া হয় তাকে।
এ বিষয়ে এ ঘটনার সঙ্গে নিজের জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে মাদরাসার সুপার মাওলানা আবু সাইদ বলেন, রাতে তাদের মাদরাসায় তালা দিয়ে নিজ ঘরে যাই। কিন্তু কখন এটি ঘটেছে জানা নেই।
নাকোল পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মুকুল হোসেন জানান, শিশুটির বাবার অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
৩৮৬ দিন আগে
সংখ্যালঘু নির্যাতনের অধিকাংশ ঘটনায় সাম্প্রদায়িকতার প্রমাণ মেলেনি: পুলিশ সদর দপ্তর
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও সংখ্যালঘু ঐক্য মোর্চার ব্যানারে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা ও হত্যার তথ্য উপস্থাপন করা হয়। এ বিষয়ে মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, এসব ঘটনার অধিকাংশই সাম্প্রদায়িক নয়, বরং ব্যক্তিগত, পারিবারিক, আর্থিক বিরোধ ও অন্যান্য সাধারণ অপরাধসংক্রান্ত।
ঐক্য পরিষদের সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে ২৭ জন নিহত হয়েছেন এবং গত ১১ মাসে ২ হাজার ৪৪২টি সাম্প্রদায়িক হামলা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।
এ প্রসঙ্গে পুলিশ জানায়, নিহত ২৭ জনের ঘটনায় ২২টি হত্যা মামলা এবং ৫টি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। খুনের পেছনে জমি সংক্রান্ত বিরোধ, আর্থিক লেনদেন, ডাকাতি, সন্ত্রাসী আক্রমণ এবং পারিবারিক কলহের মতো কারণ ছিল।
এছাড়া ৩ জন আত্মহত্যা করেছেন এবং ১১ জনের লাশ উদ্ধার করা হলেও এখনো তদন্ত চলছে। ইতোমধ্যে এসব ঘটনায় ৪৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, ১৫ জন আদালতে আত্মসমর্পণ করেছে এবং ১৮ জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হত্যাকাণ্ডের পেছনে সাম্প্রদায়িক কোনো উদ্দেশ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, সংবাদ সম্মেলনে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের ২০টি ঘটনার কথা বলা হলেও পুলিশ জানায়, এর মধ্যে ১৬টি ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং ২৫ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনটি ঘটনায় কোনো অভিযোগ হয়নি। রাজশাহীর তানোর ও মাগুরার দুটি ঘটনায় অভিযোগের সত্যতা মেলেনি বলেও জানায় পুলিশ।
গত বছরের ৪ থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত ২০১০টি সহিংসতার কথা বলা হলেও পুলিশ ৫৬টি জেলায় যাচাই করে ১৪৫৭টি ঘটনার সত্যতা পেয়েছে। এসব ঘটনায় ৬২টি মামলা এবং ৯৫১টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: প্রাথমিকে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার
পুলিশ জানায়, ১৭৬৯টি সহিংসতার মধ্যে ১৪৫২টি ঘটনার সময়কাল ছিল ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। এদের ১২৩৪টি ছিল রাজনৈতিক বিরোধজনিত। এছাড়া পূজা মণ্ডপ ও উপাসনালয় সংক্রান্ত ১২৭টি সহিংসতার মধ্যে ৬৬টি মামলায় ৬৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মন্দির ও পারিবারিক মন্দিরে চুরি, প্রতিমা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও জমি দখলসংক্রান্ত ৬০টি অভিযোগ নিয়ে পুলিশ জানায়, ২০টি চুরির ঘটনায় ১৪টি মামলা ও ৫টি জিডি হয়েছে। ২৪টি প্রতিমা ও মন্দির ভাঙচুরের ঘটনায় ১৮টি মামলা হয়েছে এবং ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অগ্নিসংযোগের ৪টি ঘটনায় কোনো নাশকতার প্রমাণ মেলেনি। জমি সংক্রান্ত ছয়টি অভিযোগের কোনোটিই দখলের ঘটনা হিসেবে প্রমাণিত হয়নি। খিলক্ষেতে রেলওয়ের জায়গায় উচ্ছেদ, বগুড়ায় শ্মশানঘাটে ভাঙচুরসহ অন্যান্য ঘটনাগুলো প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মীমাংসা করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
৪৩১ দিন আগে
পড়া না পারায় পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি
পড়া না পারায় পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে নাসির উদ্দিন নামে একজন প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। বুধবার (৩০ এপ্রিল) ঝিকরগাছা উপজেলার নওয়ালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘটনাটি ঘটে। ওই ছাত্রীকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ মে) যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলম নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রীকে দেখতে জেনারেল হাসপাতালে যান। এ সময় ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
ওই ছাত্রীর মা আমেনা বেগম বলেন, ‘প্রতিদিনের ন্যায় তার মেয়ে বিদ্যালয়ে যায়। পরে তিনি খবর পান পড়া না পারার কারণে প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দিন তার মেয়েকে তলপেটে তিনটি লাথি মেরে গুরুতর আহত করেছেন। এ খবর পাওয়ার পর তিনি দ্রুত স্কুলে ছুটে যান ও অচেতন অবস্থায় তার মেয়েকে নিয়ে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
আরও পড়ুন: ২ কিশোরীকে কক্সবাজারে হোটেলে আটকে নির্যাতন, স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার
এদিকে হাসপতালে কর্তব্যরত একজন চিকিৎসক জানান, মেয়েটি তলপেটে আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার কারণে গোপনাঙ্গ সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মেয়েটির চিকিৎসা চলছে দ্রুত সুস্থ হয়ে যাবে।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দিনের ব্যবহৃত মোবাইলে ফোন করলে তার বড় মেয়ে নাসরিন ফোন রিসিভ করে বলেন, বাবা অসুস্থ, তাই কারও সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না। এ সময় তিনি অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমার বাবা এ ধরনের কোন অপরাধ করেননি।
শিক্ষার্থীর মা আমেনা বেগম প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করার কথা জানিয়েছেন।
৫০৫ দিন আগে