ট্রাক
কুড়িগ্রামে রেললাইনে উল্টে পড়ল বালুভর্তি ট্রাক, ট্রেন চলাচল বন্ধ
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বালুভর্তি ট্রাক রেললাইনের ওপর উল্টে পড়ায় কুড়িগ্রামের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ও রমনা কমিউটার ট্রেনের চলাচল ব্যাহত হয়। আকস্মিক এ ঘটনায় শত শত যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোর থেকে সকাল সাড়ে ৬টার মধ্যে উপজেলার রাজারহাট-তিস্তা আঞ্চলিক সড়কের পেট্রোল পাম্প-সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বালুভর্তি ট্রাকটি রাজারহাট-তিস্তা আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এ সময় ট্রাকটি সড়ক থেকে ছিটকে পাশের রেললাইনের ওপর উল্টে পড়ে। এতে রেলপথ সম্পূর্ণভাবে অবরুদ্ধ হয়ে যায়। দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে কুড়িগ্রাম-তিস্তা রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
রেললাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস কুড়িগ্রাম স্টেশনে পৌঁছাতে পারেনি। ফলে ঢাকাগামী যাত্রীদের অনেককে বিকল্প উপায়ে তিস্তা রেলওয়ে স্টেশনে যেতে দেখা যায়। যাত্রীদের কেউ অটোরিকশায়, কেউ বাসে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেন।
ঢাকাগামী যাত্রী রুবেল মিয়া বলেন, ‘সকালে যথাসময়ে কুড়িগ্রাম স্টেশনে এসে জানতে পারি কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস আসবে না। পরে বাধ্য হয়ে অটোরিকশায় তিস্তা স্টেশনের উদ্দেশে রওনা দিই। আমার মতো শত শত যাত্রী দুর্ভোগে পড়েছেন।’
রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কুড়িগ্রাম স্টেশন থেকে সকাল সোয়া ৭টার দিকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের। কিন্তু রেললাইন অবরুদ্ধ থাকায় ট্রেনটি কুড়িগ্রাম স্টেশনে পৌঁছাতে পারেনি। একই কারণে রমনা কমিউটার ট্রেনের চলাচলও ব্যাহত হয়েছে।
খবর পেয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ট্রাকটি অপসারণ এবং রেলপথ সচল করার কাজ শুরু করে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ট্রাকটি সরিয়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কুড়িগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের ইনচার্জ কনিকা আক্তার বলেন, ‘বালুভর্তি একটি ট্রাক রেললাইনের ওপর উল্টে পড়ে লাইন ব্লক হয়ে গেছে। ট্রাকটি সরানোর কাজ চলছে। তবে ঠিক কখন ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে, তা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না।’
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, ট্রাকটি অপসারণের পর রেললাইন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নিরাপদ ঘোষণা করা হলে পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু হবে।
১ দিন আগে
রাজশাহীতে ট্রাক ও অটোরিকশার সংঘর্ষে ২ ভাই নিহত
রাজশাহীর পুঠিয়ায় ট্রাক ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে ২ ভাই নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
বুধবার (১৭ জুন ) দুপুরে জেলার পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর এলাকার ইয়ামাহা মোটরসাইকেল শোরুমের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—পুঠিয়ার নকুলবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল খালেক প্রামাণিক (৬৫) ও হাসেন প্রামাণিক (৬০)। তারা উভয়েই মৃত রিয়াজ প্রামাণিকের ছেলে।
আহতরা হলেন—একই এলাকার হাতেমের ছেলে লালন এবং জালালের ছেলে লাল্টু। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান।
স্থানীয়রা জানান, নকুলবাড়িয়া এলাকার একটি মসজিদের জন্য মাইক কেনার উদ্দেশে চার যাত্রী অটোরিকশাযোগে রাজশাহীর দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে একটি ট্রাক নাটোরের দিকে যাচ্ছিল। বানেশ্বর ইয়ামাহা শোরুমের সামনে পৌঁছালে ট্রাক ও অটোরিকশার মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন এবং অপর তিনজন গুরুতর আহত হন। পরে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যু হয়।
পবা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুর রহমান জানান, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত তিনজনকে রামেক হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসেন প্রামাণিক মারা যান।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছেন। তবে ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
২ দিন আগে
ফেনীতে ট্রাকের পেছনে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কা, নিহত ২
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীতে সড়কের পাশে থেমে থাকা একটি গ্যাস সিলিন্ডারবাহী ট্রাকের পেছনে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় দুইজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন ৮ জন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দিবাগত রাত ২টার দিকে ফেনীর খাইয়ারা ভোজনবাড়ি রেস্টুরেন্টের সামনে ঢাকামুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে জাহাঙ্গীর (৪০) নামে একজনের পরিচয় জানা গেলেও অপরজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা যায়নি। সকাল ৬টা পর্যন্ত নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম থেকে আসা সিলিন্ডারবোঝাই ট্রাকের চাকা নষ্ট হলে সেটি মহাসড়কের পাশে থামিয়ে চালক ও সহকারী চাকা পরিবর্তনের কাজ করছিলেন। এ সময় ঘটনাস্থলে স্থানীয় কয়েকজন উৎসুক মানুষ জড়ো হন। হঠাৎ ঢাকামুখী একটি কাভার্ডভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাক ও সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজনকে চাপা দেয়।
খবর পেয়ে মহিপাল হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়।
ফেনী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মোশাররফ হোসেন তালুকদার বলেন, রাত ২টার পরপরই অন্তত ১০ জন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে একজন হাসপাতালে আনার আগেই মারা যান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরে আরও একজনের মৃত্যু হয়। আহতদের অনেকের হাত-পা ও মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে। জরুরি চিকিৎসা শেষে পাঁচজনকে চমেক হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে এবং একজন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানান ডা. মোশাররফ হোসেন তালুকদার।
ফাজিলপুর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদ খাঁন চৌধুরী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
৮ দিন আগে
রাজশাহীতে মাহিন্দ্রা-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ২
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কে মাহিন্দ্রা ও ট্রাকের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও ৩ জন।
বুধবার (১০ জুন) সকাল পৌনে ১০টার দিকে খাড়ইল মিলঘর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— কেশরহাট ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. মারুফ হোসেন (৩৭)। তিনি নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার চক শ্যামরাই গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে ছিলেন। তাৎক্ষণিক নিহত অপর ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খাড়ইল মিলঘর এলাকায় একটি যাত্রীবাহী মাহিন্দ্রার সঙ্গে একটি ট্রাকের সংঘর্ষ হলে মাহিন্দ্রাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে মাহিন্দ্রায় থাকা যাত্রীরা গুরুতর আহত হন। এ সময় ঘটনাস্থলেই নিহত হন মারুফ হোসেন (৩৭)।
এদিকে, গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। তাৎক্ষণিক নিহত ওই ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া যায়নি। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং আরও তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মোহনপুর থানার পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। নিহত মারুফ হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করে মোহনপুর থানায় নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মোহনপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইয়ামিন আলী জানান, দুর্ঘটনাকবলিত স্থান পরিদর্শন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
১০ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় দুই ট্রাকের সংঘর্ষে চালক নিহত, আহত ৩
কুষ্টিয়ার মিরপুরে দুই ট্রাকের সংঘর্ষে সজীব (২৫) নামে এক ট্রাকচালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় হেলপার জিহাদসহ (১৫) আরও দুজন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৯ জুন) ভোর ৪টার দিকে কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী মহাসড়কের উপজেলার ৯ মাইল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বরিশালের বাবুগঞ্জ থেকে আম সংগ্রহের উদ্দেশ্যে একটি ট্রাক নিয়ে রাজশাহীর দিকে যাচ্ছিলেন চালক সজীব ও হেলপার জিহাদ। তারা রাজশাহী যাওয়ার পথে ৯ মাইল এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পাথরবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে তাদের ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই চালক সজীব নিহত হন। এ সময় হেলপার জিহাদসহ তাদের আরও ২ জন সহযোগী আহত হন।
পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। নিহত সজীবের মরদেহ বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
দুর্ঘটনায় ট্রাক দুটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এ ঘটনায় মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ থাকলেও প্রায় এক ঘণ্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
কুষ্টিয়া চৌড়হাস হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ওবায়েদ জানান, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১১ দিন আগে
ট্রাকসহ সেতু ভেঙে নদীতে, ময়মনসিংহ-ধোবাউড়া সড়ক যোগাযোগ বন্ধ
ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার কংস নদীর ওপর নির্মিত স্টিলের বেইলি সেতু পারাপারের সময় বালুবাহী একটি ট্রাকসহ ভেঙে নিচে পড়ে যায়। ফলে ধোবাউড়ার সঙ্গে জেলা সদরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
রবিবার (৭ জুন) ভোরে গোয়াতলা এলাকায় সেতুটি ধসে ট্রাকসহ নদীতে পড়ে যায়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ধোবাউড়া ও গোয়াতলা এলাকার বাসিন্দারা।
স্থানীয়রা বলেন, ধোবাউড়া-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়কের গোয়াতলা বাজার-সংলগ্ন কংস নদীর ওপর নির্মিত বেইলি সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। বাঁশ ও কাঠ দিয়ে বারবার জোড়াতালি দিয়ে যান চলাচল সচল রাখা হচ্ছিল। অবশেষে আজ (রবিবার) ভোর ৪টার দিকে বালুভর্তি একটি ট্রাক সেতুটি পার হওয়ার সময় সেটি ভেঙে নদীতে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনায় ট্রাকের চালক ও সহকারী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি।
সেতুটি ভেঙে পড়ার ফলে ময়মনসিংহ-ধোবাউড়া সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিকল্প পথে যাতায়াত করতে অতিরিক্ত সময় ও খরচ গুনতে হচ্ছে তাদের।
ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোশাররফ হোসাইন বলেন, আজ ভোর ৪টার দিকে ধোবাউড়া থেকে ময়মনসিংহগামী একটি বালুভর্তি ট্রাকের চাপে গোয়াতলা কংস নদীর ওপর নির্মিত বেইলি সেতুটি ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। এতে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। উপজেলা প্রকৌশলীকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, গত তিন দিন ধরে সেতুটির মেরামত কাজ চলছিল। তবে ভারী যানবাহনের চাপের কারণে শেষ পর্যন্ত সেতুটি ধসে পড়ে।
১২ দিন আগে
ফেনীতে ডাম্প ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের ২ আরোহী নিহত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী ছাগলনাইয়ায় ডাম্প ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত হয়েছেন। বন্ধুদের সঙ্গে গুলিয়াখালী বিচে ঘুরতে গিয়ে বাড়িতে ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে ছাগলনাইয়া থানার ঘোপাল ইউনিয়নের মুহুরীগঞ্জের চৌধুরী পাড়া রাস্তার মুখে মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ইকবাল হোসেন জিসান (২৩) ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের সমপুর গ্রামের ডাক্তার বাড়ীর বাসিন্দা আবু তৈয়বের ছেলে ছিলেন। জিহানুল ইসলাম শাওন (২০) ফেনী সদর উপজেলার কালিদহ ইউনিয়নের গোবিন্দপুর পাটোয়ারী বাড়ীর কামরুল ইসলাম রসুলের একমাত্র ছেলে। তিনি ফেনী হোমপ্লাস সুপার সপের হিসাব বিভাগে কর্মরত ছিলেন।
শাওনের আত্মীয় সাংবাদিক এম এমরান পাটোয়ারী জানান, শাওনসহ তাদের কয়েকজন বন্ধু গতকাল (বুধবার) রাতে গুলিয়াখালী সৈকতে ঘুরতে গিয়েছিলেন। সেখানে রাত্রিযাপন শেষে আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে তার বন্ধুরা মিলে ফেনীর উদ্দেশে রওনা দেন।
তিনি বলেন, ‘শাওন ও জিসান একই মোটরসাইকেল ছিলেন। মোটরসাইকেলটিকে একটি ড্রাম্প ট্রাক চাপা দিলে জিসান ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। আর আমার মামাতো ভাই শাওন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে।’
ফাজিলপুর হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম জানান, একটি মোটরসাইকেলে করে দুই বন্ধু চট্টগ্রাম থেকে ফেনীর দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় রেজিস্ট্রেশনবিহীন একটি দ্রুতগতির ডাম্প ট্রাক মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই জিসান নিহত হন। গুরুতর আহত আবস্থায় শাওনকে উদ্ধার করে ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।
তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনার পর মোটরসাইকেল ও ডাম্প ট্রাকটি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
১৫ দিন আগে
আফগানিস্তানে শরণার্থী বহনকারী ট্রাক উল্টে নিহত ১৮
পাকিস্তান থেকে দেশে ফেরা আফগান শরণার্থীদের বহনকারী একটি ট্রাক পূর্ব আফগানিস্তানে মহাসড়কে উল্টে অন্তত ১৮ জন নিহত এবং ৩৫ জন আহত হয়েছেন। নিহত ও আহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
শনিবার (৩০ মে) রাজধানী কাবুলের সঙ্গে নানগারহার প্রদেশকে সংযুক্তকারী প্রধান মহাসড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে লাগমান প্রদেশের গভর্নরের মুখপাত্র আবদুল মালিক নিয়াজাই বলেছেন, নিহতদের মধ্যে ১০টি শিশু ও পাঁচজন নারী রয়েছেন। আহতদের চিকিৎসার জন্য নানগারহারের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
আফগানিস্তানে সড়কের দুরবস্থা এবং চালকদের ট্রাফিক আইন অমান্যের কারণে প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।
ট্রাকটির যাত্রীরা ছিলেন পাকিস্তান থেকে সম্প্রতি ফিরে আসা হাজারো আফগান শরণার্থীর অংশ। ২০২৩ সালে পাকিস্তান অনিবন্ধিত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করার পর থেকে বহু আফগানকে দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে বা ফেরত পাঠানো হয়েছে।
একই সময়ে ইরানও আফগান অভিবাসীদের বহিষ্কার কার্যক্রম জোরদার করে। এরপর থেকে পাকিস্তান ও ইরান থেকে লাখ লাখ আফগান নিজ দেশে ফিরে গেছেন। তাদের মধ্যে অনেকে পাকিস্তানেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং সেখানে কয়েক দশক ধরে বসবাস ও কাজ করেছেন।
২১ দিন আগে
টাঙ্গাইলে ট্রাক উল্টে ১৫ যাত্রী নিহত, আহত ৬
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে রডবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে উল্টে পড়ে অন্তত ১৫ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৬ যাত্রী।
সোমবার (২৫ মে) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার সরাতৈল এলাকায় উত্তরবঙ্গগামী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রডবোঝাই ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের খাদে উল্টে পড়ে যায়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রাকটিতে চেপে কিছু মানুষ ঈদযাত্রায় ঘরে ফিরছিলেন। ভোরে ট্রাকটি খাদে পড়ে দুমড়ে-মুচড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই অনেকে প্রাণ হারান। দুর্ঘটনার সময় অধিকাংশ যাত্রী ঘুমিয়ে থাকায় হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে এলেঙ্গা ফায়ার সার্ভিস, যমুনা সেতু পূর্ব থানা পুলিশ এবং যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং আহত ৬ জনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
উদ্ধার কাজের কারণে ভোর প্রায় সাড়ে ৫টা পর্যন্ত মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে যান চলাচল সাময়িক বন্ধ ছিল। পরে যমুনা সেতু পূর্ব ভূঞাপুর লিংক রোড দিয়ে ঢাকাগামী এবং পুরাতন সড়ক ব্যবহার করে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়।
এরপর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে এবং বড় ধরনের যানজট সৃষ্টি হয়নি বলে জানা গেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে গোপালপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফৌজিয়া হাবিব খান বলেছেন, তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তাদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।
২৬ দিন আগে
সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনা: নিহত ৮ জনের পরিচয় শনাক্ত, চালক ছিলেন ‘ঘুমাচ্ছন্ন’
সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় ট্রাক ও পিকআপের সংঘর্ষে নিহত ৮ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে কী কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, সে বিষয়ে প্রাথমিক ধারণার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
রবিবার (৩ মে) সকাল ৬টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের তেলিবাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, অন্যান্য দিনের মতো আজ (রবিবার) ভোরে নগরীর আম্বরখানা এলাকা থেকে ২০ থেকে ২২ জন নির্মাণ শ্রমিক একটি পিকআপে করে লালাবাজারের উদ্দেশে রওনা দেন। সেখানে একটি নির্মাণাধীন ভবনে ঢালাই কাজ করার কথা ছিল তাদের। পিকআপে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ধাতব মিক্সার মেশিনও ছিল তাদের সঙ্গে।
পিকআপটি দক্ষিণ সুরমার তেলিবাজার এলাকায় পৌঁছালে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী কাঁঠালবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে সেটির সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ৪ জন শ্রমিক নিহত হন। নিহতদের মধ্যে দুজন নারীও ছিলেন।
আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে আরও ৩ জনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। এতে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৮ জনে।
নিহতরা হলেন— সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামের মৃত ফখরুল আলীর ছেলে মো. সুরুজ আলী (৬০), একই উপজেলার সেঁততি গ্রামের বসির মিয়ার মেয়ে মোছা. মুন্নি (২৬), ভাটিপাড়া নুরনগর এলাকার মৃত নূর সালামের ছেলে ফরিদুল (৩৫), ধর্মপাশা উপজেলার সরিবা গ্রামের ইদ্রিস মিয়ার স্ত্রী নার্গিস (৪৫), বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার আজির উদ্দিন (৪০) ও আমিরউদ্দিন (৩৫), সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পুটামারা এলাকার সুরত আলীর ছেলে মো. বদরুল জামান (৪০) এবং একই উপজেলার শিবপুর গ্রামের কুটির বিশ্বাসের ছেলে পাণ্ডব বিশ্বাস (২০)।
৪৭ দিন আগে