অন্তর্বর্তী সরকার
অন্তর্বর্তী সরকারের ৯টি অধ্যাদেশ সংসদে পাস
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ৯টি অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করতে জাতীয় সংসদে পৃথক ৯টি বিল পাস হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) এ বিলগুলো পাস হয়।
বিলগুলোতে ধারাওয়ারি কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় সংসদে এ নিয়ে কোনো দীর্ঘ আলোচনা হয়নি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বিলগুলো উত্থাপনের পর সরাসরি কণ্ঠভোটে সেগুলো পাস হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে সংসদীয় বিশেষ কমিটি ৯৮টি মূল হুবহু এবং ১৫টি সংশোধিত আকারে অনুমোদনের সুপারিশ করেছিল। বাকি ২০টির মধ্যে ৪টি বাতিল এবং ১৬টি আরও শক্তিশালী করে নতুন বিল হিসেবে আনার সুপারিশ করা হয়েছে। আজ সকালে পাস হওয়া ৯টি বিলের ক্ষেত্রে বিশেষ কমিটি সেগুলোকে হুবহু পাসের সুপারিশ করেছিল।
পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ‘হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ বিল’ পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এরপর আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান ‘ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) বিল’, ‘দেওয়ানি আদালত (সংশোধন) বিল’, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) (সংশোধন) বিল’ এবং ‘রেজিস্ট্রেশন (সংশোধন) বিল’ পৃথকভাবে পাসের প্রস্তাব করেন এবং সেগুলো পাস হয়।
এর মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সংক্রান্ত বিলটি পাসের প্রস্তাব করতে গিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এটি এমন একটি বিল যার মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞায় গুমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’ যারা বলছে, সরকার গুমের আইন করতে চাচ্ছে না, তাদের তিনি এ আইনটি ভালো করে দেখার পরামর্শ দেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার গুমের বিচারে বদ্ধপরিকর, সেটার বহির্প্রকাশ এই আইনে এসেছে।’
বিলটি পাসের পর বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বলেন, আইনমন্ত্রী বিল পাসের প্রস্তাব করতে গিয়ে যা বলেছেন তা অনাহূত। এটা না বললেই ভালো হতো। নির্দিষ্ট সময় যখন আসবে, তখন এ বিষয়ে তারা কথা বলবেন।
জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বাইরের অনেকে গুমের বিচারে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করেছেন, তাই তিনি বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এ সময় পরিস্থিতি শান্ত করে পরবর্তী বিল পাসের প্রক্রিয়া শুরু করেন।
পাস হওয়া অন্য বিলগুলো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। মূলত নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে আইন সংশোধনের লক্ষ্যে এসব অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ তিনটি বিল সংসদে উত্থাপন করেন। সেগুলো হলো— ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) বিল’, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল’ এবং ‘শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল’।
দ্বিতীয় বিলটি উত্থাপনের সময় সালাহউদ্দিন আহমদ মৃদু হেসে বলেন, ‘খুব দুঃখের ব্যাপার। এতক্ষণ তো যা বললাম, এখন আবার শেখ হাসিনা বলতে হচ্ছে!’
সর্বশেষ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট (সংশোধন) বিল’ পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
১৪ দিন আগে
অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করবে সরকার
অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা এ কথা জানান।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে বর্তমান সরকার তদন্ত করবে কিনা জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, নিশ্চয়ই করবে। আপনারা জানেন, আমাদের দুদক এখনও পুনর্গঠিত হয়নি। পুনর্গঠিত হলে এই কাজগুলো দুদকের মাধ্যমে শুরু হবে। দুর্নীতি মানেই কে করেছে, শুধু সেই বিষয় নয়; এই সরকারের সময়েও এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটছে কি না, সেটিও দেখা হবে।
তিনি বলেন, দুর্নীতির লাগাম টানতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ কারণে সরকারের ভেতরেও কোনো অনিয়ম হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে খোঁজখবর রাখা হবে।
অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ করতে প্রচুর বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে সরকার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিচ্ছে কি না জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, অটোরিকশা অবশ্যই নিয়মের মধ্যে আনতে হবে। এটি শুধু বিদ্যুতের বিষয় নয়, সড়ক নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত।
তিনি বলেন, অনেক চালক প্রশিক্ষিত নন এবং অনেক যানবাহন প্রযুক্তিগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ। আগে এসব যান মূলত অলিগলিতে চলাচল করলেও ৫ আগস্টের পর প্রধান সড়কেও চলাচল করছে যা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তিগত দিক থেকে এগুলো খুব ফিট নয়। অনিয়মিত ও অনুপযুক্ত চালক এবং ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন এভাবে চলতে পারে না। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে সরকার কাজ করছে।
ব্যাংক খাত নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান জানান, আগের সরকারের সময়ে এ খাত দুর্বল হয়ে পড়েছে; তবে পুনর্গঠনের কাজ এরইমধ্যে শুরু হয়েছে। কেউ কেউ দ্রুত বড় ধরনের পরিবর্তন আশা করলেও সরকার বলছে, ব্যাংকিং খাত অত্যন্ত সংবেদনশীল। হঠাৎ বড় পরিবর্তন আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে যা ঝুঁকিপূর্ণ। তাই ধীরে ও পরিকল্পিতভাবে সংস্কার করা হচ্ছে। অর্থনীতি সচল রাখতে এবং সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যাংক খাত ঠিক করা জরুরি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
একইসঙ্গে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি, যারা শুরু থেকেই ঋণ পরিশোধের ইচ্ছা রাখে না, তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি। অর্থনীতির পুনরুজ্জীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং রাজস্ব আয় বাড়াতে এসব পদক্ষেপ প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।
১৪ দিন আগে
ভোটের আগে বদলি-বাতিল ও পদোন্নতি: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশাসন নিয়ে বিতর্ক থামছে না
দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় দেড় বছর পর মেয়াদের শেষ প্রান্তে এসেও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে অপরিপক্কতার অভিযোগ উঠেছে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে। নির্বাচনের আর মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি। ঠিক এমন সময়ে মাঠ প্রশাসনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বদলি করে আবার তা বাতিল এবং একই সঙ্গে ১১৮ জন কর্মকর্তার পদোন্নতি—সব মিলিয়ে সরকারের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সাবেক আমলাদের মতে, এসব সিদ্ধান্ত প্রশাসনের ভাবমূর্তি ও নির্বাচনি পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সে হিসাবে সরকারের হাতে সময় আছে ১৫ দিনেরও কম। এমন প্রেক্ষাপটে চলতি মাসে ৮ উপজেলার ইউএনও বদলি করে দুদিনের মাথায় সেই আদেশ বাতিলের ঘটনা ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দেয়। ভোটের একেবারে কাছাকাছি সময়ে মাঠ প্রশাসনে এ ধরনের সিদ্ধান্তকে অনেকেই অনভিপ্রেত বলে মনে করছেন।
ইউএনও বদলি ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা
গত ২০ জানুয়ারি ভোলার চরফ্যাশন, চুয়াডাঙ্গার জীবননগর, ফরিদপুরের নগরকান্দা, পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া, বগুড়ার ধুনট, হবিগঞ্জের বাহুবল, নেত্রকোনার কমলাকান্দা ও বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার ইউএনওদের বদলি করে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের সম্মতির ভিত্তিতে এ রদবদল করা হয়েছে। বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের ২২ জানুয়ারির মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এমনকি, যোগদান না করলে ওই দিন বিকেলে বর্তমান কর্মস্থল থেকে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত হিসেবে গণ্য করার কথাও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ ছিল।
তবে ২২ জানুয়ারি আরেকটি প্রজ্ঞাপনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানায়, ২০ জানুয়ারির বদলির আদেশ বাতিল করা হয়েছে।
জানা যায়, একটি রাজনৈতিক দলের আপত্তির পর নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় প্রথমে বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও ভোট সামনে রেখে মাঠ প্রশাসনে অসন্তোষ তৈরি হয়। একই সঙ্গে আরেকটি রাজনৈতিক দলও এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলে সরকার শেষ পর্যন্ত আদেশ বাতিল করতে বাধ্য হয়।
ইউএনও বদলি করে আবার তা বাতিলের ঘটনায় প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মনে করছেন সাবেক আমলারা।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক আমলা মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া ইউএনবিকে বলেন, ‘এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরও গভীরভাবে ভাবা উচিত ছিল। বদলি করে আবার বাতিল করা কোনো ভালো দৃষ্টান্ত নয়। এতে মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ তৈরি হয়—কেন বদলি করা হলো, আবার কেনই-বা বাতিল করা হলো।’
তিনি বলেন, এর প্রভাব কিছুটা হলেও নির্বাচনি পরিবেশে পড়তে পারে। ‘এক পক্ষ বলবে অভিযোগের ভিত্তিতে বদলি হয়েছিল, পরে আপস করে বাতিল করা হয়েছে—এমন ধারণা জনমনে জন্ম নেওয়াটাই স্বাভাবিক।’
একই মত সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদারের। তিনি বলেন, ভুল সিদ্ধান্ত সংশোধন ভালো হলেও এ সময়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে আবার তা বাতিল হওয়া উচিত ছিল না। এতে প্রশাসনে একটি গ্যাপ তৈরি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তবে তিনি এও বলেন, বদলির আদেশ বাতিল করার মধ্য দিয়ে সরকার হয়তো নিজের ভুল বুঝতে পেরেছে, যা ইতিবাচক হিসেবেও দেখা যেতে পারে।
বিতর্কের মধ্যেই ১১৮ কর্মকর্তার পদোন্নতি
ইউএনও বদলি–বাতিলের বিতর্কের মধ্যেই নির্বাচন সামনে রেখে মঙ্গলবার ১১৮ জন যুগ্ম সচিবকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি দেয় সরকার।
পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে স্বস্তি থাকলেও সাবেক আমলাদের একটি অংশ এটিকে ভালো চোখে দেখছেন না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাবেক সচিব বলেন, ‘ভোট যখন একেবারে সামনে, তখন সরকারের এ ধরনের বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়। অতীত অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। এ পদোন্নতি ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হলে সরকার অস্বস্তিতে পড়তে পারে।’
এ বিষয়ে সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া বলেন, নিরপেক্ষভাবে যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতি হলে সেটি দোষের কিছু নয়। তবে কোনো উদ্দেশ্য বা চাপের কারণে পদোন্নতি দেওয়া হলে তা সব সময়ই প্রশাসনের জন্য ক্ষতিকর।
শুরু থেকেই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই নতুন সরকার গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আগের সরকারের আস্থাভাজন অনেক কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেয়। কাউকে চাকরি থেকে বিদায়, কাউকে ওএসডি, আবার কাউকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে ফেরানো হয়। এসব সিদ্ধান্ত ঘিরেও তখন ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়।
সাবেক আমলারা বলছেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণে ত্রুটি ও বিলম্বের কারণে প্রশাসনে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে যোগ্য কর্মকর্তারা বঞ্চিত হয়েছেন, আবার বিতর্কিত কর্মকর্তারা ভালো পদায়ন পেয়েছেন—এমন অভিযোগও উঠেছে। এর জেরে সচিবালয়ে নজিরবিহীন বিক্ষোভ পর্যন্ত হয়েছে। ডিসি পদে বড় আকারের রদবদল যতবারই করা হয়েছে, ততবারই বিতর্ক তৈরি হয়েছে; যদিও পরে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকার সিদ্ধান্ত সংশোধনের চেষ্টা করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান প্রশাসন পুরো সময়জুড়েই দুর্বলতার পরিচয় দিয়েছে। তবে এসব সিদ্ধান্তের পেছনে খারাপ উদ্দেশ্য ছিল না বলেই তারা মনে করেন। রাজনৈতিক চাপ, কর্মকর্তাদের অনৈতিক আন্দোলন এবং বাস্তবতা সামাল দেওয়ার অক্ষমতার কারণে সরকারকে অনেক সিদ্ধান্ত নিয়ে আবার সরে আসতে হয়েছে বলে দাবি তাদের।
সরকারের ব্যাখ্যা
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. এহছানুল হক বলেন, চাপের মুখে নয়, যোগ্যতার ভিত্তিতেই যুগ্ম সচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
ইউএনও বদলির পর আদেশ বাতিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চলতি মাসে কিছু ইউএনও বদলি করার পর আবার সেই আদেশ বাতিলের ঘটনায় তিনি ‘খারাপ কিছু’ দেখছেন না।
৮৩ দিন আগে
ডেইলি স্টার-প্রথম আলোয় অগ্নিসংযোগ জাতির জন্য লজ্জার: সালাহউদ্দিন
দেশের দুটি শীর্ষ গণমাধ্যমে সাম্প্রতিক হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে জাতির জন্য ‘লজ্জার’ বলে অভিহিত করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। এসব ঘটনায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
রবিবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বনানীতে গণমাধ্যম সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
সাংবাদিকদের সমাজের দর্পণ উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা ছোটবেলা থেকে শুনে এসেছি, পত্রিকা হচ্ছে সমাজের দর্পণ। পত্রিকা একটি বিমূর্ত শব্দ, সেটাকে মূর্ত করেন আপনারা (সাংবাদিকরা)। জাতির বিবেক, জাতির মতামত—যা কিছু প্রতিফলিত হয়, তা সংবাদপত্র, গণমাধ্যমের মাধ্যমে হয়।
তিনি বলেন, সমাজের সেই দর্পণ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে, কিন্তু সাংবাদিকদের দর্প যেন চূর্ণ না হয়। আপনারা যদি যদি রাষ্ট্রকাঠামোয় সংস্কার চান, সংস্কারকৃত সামজ ও রাষ্ট্র চান, গণতান্ত্রিক সংস্কার চান, সর্ব পর্যায়ে বৈষম্যহীন সমাজ নির্মাণ করতে চান, আপনারাই পারবেন। আপনারাই সমাজের দিকনির্দেশক। রাজনীতিবিদরা সরকার পরিচালনার সময় ড্রাইভিং সিটে থাকেন, কিন্তু তাদের আপনারা পথনির্দেশ না করলে সমাজ বিচ্যুত হবে।
সালাহউদ্দিন বলেন, কয়েক দিন আগে বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যমেও ওপর যে দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটে গেছে। দেশের খ্যাতনামা পত্রিকা—প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার যেভাবে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে, পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, সারা বিশ্ব সেটা দেখেছে। জাতি হিসেবে সেটা আমাদের জন্য লজ্জার। এটা শুধু দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চেয়ে সমাপ্ত করতে পারব না।
১২২ দিন আগে
সহিংসতায় জড়িতদের ন্যায়বিচারের আওতায় আনার আহ্বান অ্যামনেস্টির
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় দ্রুত, পূর্ণাঙ্গ, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে এ আহ্বান জানায় সংস্থাটির দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক আঞ্চলিক অফিস।
পোস্টে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, হাদি হত্যাকাণ্ডের পরবর্তী সময়টিতে সহিংসতায় প্রথম আলো, ডেইলি স্টার ও ছায়ানট-এর কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে এবং নিউ এজ-এর সম্পাদক নুরুল কবির হয়রানির শিকার হয়েছেন।
এছাড়া, ওই একই দিন ময়মনসিংহে ভিন্ন এক ঘটনায় সনাতন সম্প্রদায়ের পোশাকশ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যা করে একদল ব্যক্তি। পরে তার মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে তাতে আগুন জ্বালিয়ে উল্লাস করতে দেখা যায় তাদের। ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ওই ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের পক্ষ থেকে বলা হয়, এসব কর্মকাণ্ডে মানুষ আহত হয়েছেন, সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। অন্তর্বর্তী সরকারকে অবিলম্বে এমন সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ন্যায্য বিচারের আওতায় আনতে হবে। এ ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের আশ্রয় না নিয়ে আইনসম্মত ও ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
১২৩ দিন আগে
নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোকে নিরাপত্তা প্রটোকল দেবে সরকার
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে পুলিশের পক্ষ থেকে সকল রাজনৈতিক দলের জন্য নিরাপত্তা প্রটোকল দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।
রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) প্রেস উইং থেকে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই প্রটোকলে রাজনৈতিক নেতা এবং আসন্ন নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা, তাদের বাসস্থান, কার্যালয়, চলাচল, জনসভা ও সাইবার স্পেসে কীভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন—সে বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হবে। এ ছাড়া, গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির নেতৃত্ব ও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতাদের বাড়তি নিরাপত্তা দেওয়ারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় হামলাকারী ও তার সহযোগীদের পুলিশ ইতোমধ্যে শনাক্ত করেছে। তাদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিবিড় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ইতোমধ্যে জব্দ করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজনদের হাতের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) পরীক্ষা করা হচ্ছে।
প্রেস উইং জানায়, প্রধান সন্দেহভাজন ব্যক্তি যাতে কোনোভাবেই সীমান্ত অতিক্রম করতে না পারে, সে জন্য শুক্রবার রাতেই সবগুলো ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে সন্দেহভাজনদের ছবি ও অন্যান্য তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং র্যাবের টহল জোরদার করা হয়েছে।
দেশের ভেতরে একাধিকবার সন্দেহভাজনদের অবস্থান শনাক্ত করা হলেও বারবার স্থান পরিবর্তনের কারণে এখনো তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এতে আরও জানানো হয়েছে, পুলিশ ইতোমধ্যে প্রধান সন্দেহভাজনের চলাচলের খতিয়ান বা ট্রাভেল হিস্ট্রি সংগ্রহ করেছে। এতে দেখা যায়, আইটি ব্যবসায়ী পরিচয়ে তিনি গত কয়েক বছরে একাধিক দেশ ভ্রমণ করেছেন। সর্বশেষ গত ২১ জুলাই সিঙ্গাপুর ভ্রমণের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া, এই হামলার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে—এমন আরও কয়েকজন সন্দেহভাজনকে ইতোমধ্যে নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।
প্রেস উইং বলেছে, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ ভারতীয় হাইকমিশনারকে ডেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালকে বাংলাদেশের কাছে প্রত্যর্পণের অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করেছে।
‘হাইকমিশনারকে জানানো হয়েছে, ভারতে অবস্থানকারী পলাতক অপরাধী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের শান্তি স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বিঘ্ন করা ও আসন্ন নির্বাচন বানচাল করার অসাধু উদ্দেশ্যে ক্রমাগত ভাবে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন ও তার দলের সমর্থকদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালানোর জন্য নির্দেশনা দিচ্ছেন।
‘ভারত সরকারকে অনুরোধ করা হয়েছে যেন তারা অনতিবিলম্বে তার এবং ভারতে পলাতক তার সাঙ্গ-পাঙ্গদের এ সকল ফ্যাসিস্ট টেররিস্ট কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দেয়।
‘ভারতীয় হাইকমিশনারকে অনুরোধ জানানো হয়েছে, শরিফ ওসমান হাদির হত্যাচেষ্টাকারীরা বাংলাদেশ থেকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা রোধে ভারত সরকার যেন বাংলাদেশকে সহযোগিতা করে এবং তারা ভারতে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলে তাদের যেন ভারতীয় কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে পাকড়াও করার উদ্যোগ নেয় এবং বাংলাদেশের কাছে তাদের প্রত্যর্পণ করে।’
১২৮ দিন আগে
খালেদা জিয়ার জন্য সারা দেশে দোয়া ও প্রার্থনার আহ্বান সরকারের
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি কামনা করে আগামী শুক্রবার বাদ জুমা দেশের সব মসজিদে দোয়ার আহ্বান জানিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ আহ্বান জানানো হয়।
পাশাপাশি মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডাসহ অন্যান্য ধর্মের উপাসনালয়েও সংশ্লিষ্ট ধর্মের রীতি ও আচার অনুযায়ী প্রার্থনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বার্তায় আরও বলা হয়েছে, দেশের সর্বস্তরের মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে খালেদা জিয়ার রোগমুক্তির জন্য দোয়া ও প্রার্থনার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।
১২ দিন ধরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তার শারীরিক অবস্থা এখনো উদ্বেগজনক। তাকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন।
২৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর ১১ দিন ধরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এখনো উদ্বেগজনক। তাকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে।
১৩৯ দিন আগে
অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ ও গঠন প্রক্রিয়া বৈধ: আপিল বিভাগ
সুপ্রিম কোর্টের রেফারেন্সের আলোকে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ গ্রহণ ও এই সরকার গঠনের প্রক্রিয়া বৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।
হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে রিটকারীর লিভ টু আপিল খারিজ করে বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সকালে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৭ বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
এর আগে গতকাল (বুধবার) অন্তর্বর্তী সরকার গঠন ও শপথ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের কাছে পাঠানো রেফারেন্স এবং মতামত প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ করে করা রিট খারিজের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল সংক্রান্ত বিষয়ে আদেশের জন্য আজ বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন আপিল বিভাগ।
এদিন লিভ টু আপিলের পক্ষে শুনানি করেন রিটকারী জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ মহসিন রশিদ। ইন্টারভেনার (পক্ষ) হিসেবে যুক্ত হওয়া লেখক ফিরোজ আহমেদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া। সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের কাছে মতামত চান। এরপর আপিল বিভাগের মতামতের ভিত্তিতে ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয় এবং উপদেষ্টারা শপথ নেন।
পরবর্তী সময়ে সরকার গঠনের এ প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ করে গত বছরের ডিসেম্বরে আইনজীবী মোহাম্মদ মহসিন রশিদ হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।
রিট আবেদনে বলা হয়, যে বিষয়টি (অন্তর্বর্তী সরকার বা তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা) সংবিধানে নেই, সে বিষয়ে রেফারেন্স চাওয়া যায় না। সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রেফারেন্সের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের রুলস অনুসরণ করতে হয়, কিন্তু এক্ষেত্রে তা করা হয়নি।
ওই রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্টের বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রিটটি সরাসরি খারিজ করে দেন। পরে হাইকোর্টের ওই খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন এ আইনজীবী।
রিট খারিজের আদেশে হাইকোর্ট তখন বলেছিলেন, এক ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে সুপ্রিম কোর্টের উপদেশমূলক মতামত গ্রহণ করেছেন এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছেন। তাই এটি আইনি দলিল ও জনগণের ইচ্ছার সমর্থনপুষ্ট।
আদালত আরও উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসের অংশ এবং আগামী বহু বছর জনগণ তা স্মরণে রাখবে। দেশের জনগণ বৈধতা দেওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারবে না।
সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদে ‘সুপ্রিম কোর্টের উপদেষ্টামূলক এখতিয়ার’-এর কথা বলা আছে। এতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতির কাছে যদি মনে হয় জনগুরুত্বপূর্ণ কোনো আইনি প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে বা হতে পারে এবং এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের মতামত নেওয়া প্রয়োজন, তাহলে তিনি প্রশ্নটি আপিল বিভাগের কাছে পাঠাতে পারবেন। আপিল বিভাগ উপযুক্ত শুনানির পর রাষ্ট্রপতিকে মতামত জানাতে পারবেন।
গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙে দেন। ৮ আগস্ট ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। এ সরকার গঠন ও উপদেষ্টাদের শপথের আগে রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের কাছে মতামত চেয়ে রেফারেন্স পাঠান।
রাষ্ট্রপতির বিশেষ রেফারেন্স (১/২৪) অনুযায়ী তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বিভাগ ওই বছরের ৮ আগস্ট মতামত দেন।
সর্বোচ্চ আদালতের মতামতে বলা হয়, রাষ্ট্রের সাংবিধানিক শূন্যতা পূরণে জরুরি প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের নির্বাহী কার্য পরিচালনার জন্য অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা ও অন্য উপদেষ্টাদের নিয়োগ দিতে পারবেন এবং তাদের শপথ পাঠ করাতে পারবেন।
১৩৯ দিন আগে
খালেদা জিয়াকে ভিভিআইপি ঘোষণা করল সরকার
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (ভিভিআইপি) ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকের পর এ বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করার সময় পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ এ কথা জানান।
লিখিত বক্তব্যে উপদেষ্টা বলেন, বৈঠকে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, সাবেক রাষ্ট্রপতির স্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি কামনা করে দোয়া ও প্রার্থনা করা হয় এবং জাতির কাছে তার জন্য দোয়া ও প্রার্থনার আহ্বান জানানো হয়।
১৪১ দিন আগে
রাজবাড়ীতে মরদেহে অগ্নিসংযোগ: অন্তর্বর্তী সরকারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরুল হক মোল্লা ওরফে নুরাল পাগলার মরদেহ কবর থেকে তুলে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের বিবৃতি গণমাধ্যমে পাঠিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।
বিবৃতিতে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার গোয়ালন্দে নুরুল হক মোল্লা, যিনি নুরাল পাগলা নামেও পরিচিত, তার কবর অবমাননা ও মরদেহে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানায়। এই অমানবিক ও ঘৃণ্য কাজটি আমাদের মূল্যবোধ, আমাদের আইন এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক ও সভ্য সমাজের মৌলিক ভিত্তির ওপর সরাসরি আঘাত।
এতে বলা হয়, এই ধরনের বর্বরতা কোনো অবস্থাতেই সহ্য করা হবে না। অন্তর্বর্তী সরকার আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে এবং প্রতিটি মানুষের জীবনের পবিত্রতা, জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পরেও রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
পড়ুন: ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে দেশবাসীকে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার শুভেচ্ছা
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা জনগণকে আশ্বস্ত করছি যে এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করা হবে এবং আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগের মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনা হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে নয়। যারা এই ঘৃণ্য কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে দ্রুত ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
বিবৃতি উল্লেখ করা হয়, ‘আমরা দেশের প্রতিটি নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, ঘৃণা ও সহিংসতাকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করুন, সহিংসতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হোন এবং ন্যায়বিচার ও মানবতার আদর্শকে সমুন্নত রাখতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা গড়ে তুলুন।’
২২৮ দিন আগে