আবু সাঈদ
আবু সাঈদ হত্যা মামলা: ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, ২৭ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড
জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)। বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন এবং সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।
অন্য দণ্ডিতদের মধ্যে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) সাবেক সহকারী উপকমিশনার আরিফুজ্জামান জীবন, সাবেক পরিদর্শক রবিউল ইসলাম নয়ন এবং সাবেক উপপরিদর্শক বিভূতি ভূষণ রায় মাধবকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বেরোবির সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশীদ, শিক্ষক মশিউর রহমান ও আসাদুজ্জামান মন্ডল, আরএমপির সাবেক কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বেরোবি শাখার সভাপতি পোমেল বড়ুয়াকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া আরএমপির সাবেক উপকমিশনার আবু মারুফ হোসেন ওরফে টিটু, সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী সুমন, বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, হাফিজুর রহমান তুফান, ইমরান চৌধুরী আকাশ, মাসুদুল হাসান মাসুদ, এ কে এম আমির হোসেন আমু এবং ড. সারোয়ার হোসেন চন্দনকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তিন বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন মো. মনিরুজ্জামান পলাশ, মাহফুজুর রহমান শামীম, ফজলে রাব্বি, আখতার হোসেন, সেজান আহমেদ আরিফ, ধনঞ্জয় কুমার টগর, বাবুল হোসেন, মোহাম্মদ নুরুন্নবী মন্ডল, নূর আলম মিয়া এবং মাহবুবুর রহমান বাবু। আসামিদের মধ্যে আনোয়ার পারভেজকে অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় দণ্ডিতদের মধ্যে ৫ জন কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। বাকিরা পলাতক রয়েছেন।
কারা হেফাজতে রয়েছেন— আমির হোসেন, সুজন চন্দ্র, শরিফুল ইসলাম, ইমরান চৌধুরী এবং রাফিউল হাসান রাসেল। এছাড়া আনোয়ার পারভেজও কারাগারে ছিলেন।
এর আগে, গত ৫ মার্চ ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার জন্য ৯ এপ্রিল তারিখ নির্ধারণ করেছিল। গত বছরের ৩০ জুন আইসিটি সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশিদসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয়। আইসিটির তদন্ত সংস্থা একই বছরের ২৪ জুন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে ইংরেজি বিভাগের দ্বাদশ ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডটি আন্দোলনকে আরও তীব্র করে তোলে যা শেষ পর্যন্ত গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। এর ফলশ্রুতিতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে।
১১ দিন আগে
আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় আজ
২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালযয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আজ বৃহস্পতিবার ঘোষণা করবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আইসিটি-২ গত ৫ মার্চ এই মামলার রায়ের তারিখ ৯ এপ্রিল নির্ধারণ করেছিলেন।
২০২৫ সালের ৩০ জুন আইসিটি এই মামলার অভিযোগ আমলে নেয়। মামলায় বেরোবির সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশিদ এবং রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) সাবেক কমিশনার মো. মনিরুজ্জামানসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, সুপিরিয়র কমান্ড রেসপন্সিবিলিটি (ঊর্ধ্বতন পদের দায়িত্ব), প্ররোচনা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে, ২০২৫ সালের ২৪ জুন আইসিটির তদন্ত সংস্থা আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছিল।
মামলার ৩০ জন আসামির মধ্যে ২৪ জন পলাতক এবং ৬ জন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। যারা কারা হেফাজতে রয়েছেন তারা হলেন— সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল এবং আনোয়ার পারভেজ।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডটি ছাত্র আন্দোলনকে তীব্রতর করে তোলে যা শেষ পর্যন্ত গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে।
১১ দিন আগে
আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ৯ এপ্রিল
জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা হবে ৯ এপ্রিল।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারিক প্যানেল বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) এ সিদ্ধান্ত জানায়।
এর আগে ২৭ জানুয়ারি প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছিল ট্রাইব্যুনাল।
রংপুরে আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত বছরের ৩০ জুন ৩০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এ মামলায় বর্তমান সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহসহ মোট ২৫ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) তৎকালীন উপাচার্য হাসিবুর রশীদসহ ৩০ আসামির মধ্যে মামলার গ্রেপ্তার ৬ আসামি হলেন— বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক সাবেক কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী আকাশ।
মামলা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হয়েছে বলে দাবি প্রসিকিউশনের। তাই সর্বোচ্চ সর্বোচ্চ শাস্তির প্রত্যাশা করছে তারা।
৪৬ দিন আগে
আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করলেন তারেক রহমান
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বগুড়া থেকে রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার বাবুনপুরে আবু সাঈদের গ্রামে যান তিনি। কবর জিয়ারতের পর আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন, মা মনোয়ারা বেগম, ভাই আবু হোসেন সহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এজেডএম জাহিদ হোসেন, রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সালেকুজ্জামান সালেকসহ রংপুর জেলা ও পীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এজেডএম জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমান জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহিদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেছেন এবং তার বিদেহী আত্মর মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করেছেন।’
‘আবু সাঈদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো আজ দেশের সব মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্যই শুধু নয়, আবু সাঈদ শিখিয়েছেন, কীভাবে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে বুক উঁচিয়ে দাঁড়াতে হয়। কীভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলির মুখে দাঁড়িয়ে প্রতিরোধ গড়তে হয়, সেই শিক্ষাও আবু সাঈদ শিখিয়ে গেছেন।’
তিনি বলেন, ‘কেবল আবু সাঈদকে মৃত্যু দিবসে স্মরণ এবং তার কবর জিয়ারতের মধ্যে থাকলেই চলবে না, তার আত্মাত্যাগের শিক্ষাটাকে বাস্তবে রূপান্তর করার জন্য আমাদের সবাইকে উজ্জীবিত হতে হবে। তাহলেই আমার মনে হয়, আবু সাঈদের আত্মা শান্তি পাবে।’
আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যসহ গ্রামের মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিলেন তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে।
কবর জিয়ারত শেষে তারেক রহমান রংপুরের ঈদগা মাঠের উদ্দেশে রওনা দেন। দীর্ঘ ২০ বছর পর বিএনপি চেয়ারম্যান রংপুরে গেলেন।
৭৯ দিন আগে
আবু সাঈদদের আমানত জীবন দিয়ে হলেও রক্ষা করব: জামায়াত আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, শহিদ আবু সাঈদেরা জীবন দিয়ে দেশের যে আমানত আমাদের হাতে তুলে দিয়ে গেছেন, সেই আমানত রক্ষায় প্রয়োজনে আমরাও জীবন দিতে প্রস্তুত।
তিনি বলেন, ‘তাদের প্রত্যাশা ছিল একটি দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক স্বাধীন বাংলাদেশ গড়া। আমাদের নিজস্ব কোনো স্বপ্ন নেই, তাদের স্বপ্নই আমাদের স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার জন্যই আমরা ঐক্য গড়ে তুলেছি। সরকারে যেতে পারলে আবু সাঈদের সব স্বপ্নই আমরা পূরণ করব।’
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহিদ রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে এসব কথা বলেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, দেশের এক ইঞ্চি জমির সম্মান কারও কাছে বন্ধক রাখা হবে না। যেভাবে আবু সাঈদেরা বুক পেতে দিয়েছিল, সেভাবেই বুক পেতে দিতে আমরা প্রস্তুত।
কবর জিয়ারত শেষে আবু সাঈদের বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানান ডা. শফিকুর রহমান। তিনি আবু সাঈদের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, শহিদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে জামায়াতে ইসলামী কাজ করে যাবে।
‘কঠিন সময়, দমন-পীড়ন কিংবা সংকট—কোনো পরিস্থিতিতেই জনগণকে ছেড়ে যায়নি জামায়াতে ইসলামী; ভবিষ্যতেও যাবে না’—এমন অঙ্গীকার ব্যক্ত করে জামায়াত আমির বলেন, জীবন চলে গেলেও অন্যায়ের কাছে মাথা নত করা হবে না।
তিনি আরও বলেন, কঠিন সঙ্কটেও আমরা আপনাদের ছেড়ে যাইনি, পালিয়ে যাইনি। পরিস্থিতি যেমনই হোক, জনগণের পাশেই থাকব।
আবু সাঈদের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে জামায়াত আমির তার সফরের দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি শুরু করেন।
এরপর গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় সকাল ১০টায় আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় অংশ নেন তিনি।দুপুর ১২টায় বগুড়া শহর এবং দুপুর আড়াইটায় বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তার। এরপর সিরাজগঞ্জ শহরে বিকেল সাড়ে ৩টায় এবং উল্লাপাড়া উপজেলায় বিকেল ৪টায় নির্ধারিত জনসভায় অংশ নেবেন শফিকুর রহমান।
সিরাজগঞ্জের কর্মসূচি শেষে পাবনা জেলায় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় একটি সমাবেশে যোগ দিয়ে সফরের দ্বিতীয় দিনের নির্বাচনি প্রচারণা শেষ করবেন তিনি।
৮৬ দিন আগে
ছেলের স্বপ্নের বাংলাদেশ দেখার অপেক্ষায় আবু সাঈদের মা
আজ ৫ আগস্ট, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের বছরপূর্তি। এই দিনে সারা দেশে বিজয় উৎসব হলেও ছেলের স্বপ্নের বাংলাদেশ দেখাই এখন একমাত্র ইচ্ছা বলে জানিয়েছেন জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম।
মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে যে স্বপ্ন নিয়ে জীবন বিসর্জন দিয়েছে, সেই স্বপ্নের বাংলাদেশ দেখার অপেক্ষায় আছি। যেন এ দেশে আর কোনো দিন ফ্যাসিস্টের জন্ম না হয়। এ দেশে আর যেন বৈষম্য, হানাহানি, খুনোখুনি না থাকে।’
পীরগঞ্জের বাবনপুর গ্রামের জাফরপাড়ায় শহীদ আবু সাঈদের পৈতৃক নিবাসে ছেয়ে আছে শূন্যতা। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা রয়েছেন বাড়িতে, রয়েছে তার ব্যবহৃত জামা-কাপড়সহ অন্যান্য জিনিসপত্রও।
তবে প্রকৃতির নিয়মে সব আগের মতো চললেও বাবা-মায়ের কাছে আবু সাঈদের শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়।
রংপুর শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামের জাফরপাড়ার একটি সাধারণ পরিবারের সন্তান ছিলেন আবু সাঈদ। বাড়িতে ঘরের পাশেই আবু সাঈদের কবরের সামনে নিষ্পলক দাঁড়িয়ে ছিলেন মা মনোয়ারা বেগম ও বাবা মকবুল হোসেন।
আরও পড়ুন: অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে: আইন উপদেষ্টা
মা মনোয়ারা বলেন, ‘আমার সন্তানের কারণে বাংলাদেশ নতুন করে স্বাধীন হয়েছে। আমার ছেলের মতো যেন আর কোনো মায়ের বুক খালি না হয়—এটাই সবার কাছে আমার দাবি। সে যে চেতনা নিয়ে বুকের রক্ত দিয়েছে, সেই চেতনার বাংলাদেশ দেখে মরলে শান্তি পাব।’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বাড়িতে এখন সবাই আসেন, জানতে চান আমার ছেলের আত্মদানের কথা। সকাল হচ্ছে, সন্ধ্যা হচ্ছে, মানুষজন আগের মতোই বাড়িতে আসেন। কিন্তু হাজার মানুষের ভিড়েও আমার বুকে এক শূন্যতা বিরাজ করে। এক বুক হাহাকার নিয়ে প্রতিটি মুহূর্ত কাটে আমার। সেই শূন্যতা কে পূরণ করবে? আমি একজন মা হিসেবে আমার ছেলের স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ দেখার অপেক্ষায় আছি।’
বাবা মকবুল হোসেন বলেন, ‘আমার ছেলের আত্মদানের মাধ্যমে বাংলাদেশ জালিম সরকারের হাত থেকে মুক্ত হয়েছে। দেশের মানুষ স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি পেয়েছে।’
আন্দোলনে তার ছেলের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ছেলেরা পড়াশোনা করে চাকরি না পাওয়ায় আন্দোলন করেছে। এটা ছিল ন্যায্য দাবি।’
আবু সাঈদের হত্যাকারীদের ব্যাপারে মকবুল হোসেন বলেন, ‘যে পুলিশ সদস্য আমার ছেলের বুকে গুলি চালিয়েছে, সেই পুলিশসহ অন্যান্য হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।’
২৫৮ দিন আগে
আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ২৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি-প্রক্টরসহ ২৬ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ (আইসিটি-২)।
সোমবার (৩০ জুন) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নাজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ এই আদেশ দেন। এর আগে, ৩০ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করে প্রসিকিউশন।
প্রধান প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম আদালতে অভিযোগগুলো পাঠ করে শোনান। অভিযোগগুলোর গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনায় নিয়ে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারি পরোয়ানার তালিকায় বেরোবির সাবেক উপাচার্য (ভিসি) হাসিবুর রশীদ ও রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) সাবেক কমিশনার মনিরুজ্জামানের নামও রয়েছে।
এ ছাড়াও আসামির তালিকায় রয়েছেন— বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন, পুলিশ কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী। তারা ইতোমধ্যে কারাগারে রয়েছেন।
আরও পড়ুন: আবু সাঈদ হত্যা মামলার অভিযোগপত্র প্রত্যাখ্যান করে বেরোবি শিক্ষার্থীদের সংবাদ সম্মেলন
এর আগে, ২৪ জুন হত্যা মামলার আলামতসহ তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে জমা দেয় তদন্ত সংস্থা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাবেক আরএমপি কমিশনারসহ মোট ৩০ জন ব্যক্তি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আবু সায়েদের হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
গত বছর ১৬ জুলাই রংপুরের পার্কমোড় এলাকায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
২৯৪ দিন আগে
আবু সাঈদ হত্যা মামলায় বেরোবির সাবেক প্রক্টর গ্রেপ্তার
আবু সাঈদ হত্যা মামলার আসামি বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
সোমবার (১৮ নভেম্বর) রাতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
রংপুরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন আবু সাঈদ। তিনি রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী ছিলেন।
শরিফুল ইসলাম বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর।
আরও পড়ুন: প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সাক্ষাৎ
বিষয়টি নিশ্চিত করে রংপুর পিবিআই পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন বলেন, গত ১৬ জুলাই বেরোবির গেটে পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদ নিহতের ঘটনায় হত্যা মামলার অন্যতম আসামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তার বিরুদ্ধে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পুলিশকে গুলি করতে নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগ আছে।
এর আগে একই মামলায় মহানগর পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমীর আলী ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে গ্রেপ্তার করা হয়।
গত ১৮ আগস্ট আবু সাঈদের বড় ভাই রমজান আলী পুলিশের সাবেক আইজিপিসহ ১৭ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলামসহ সাতজনের নাম মামলায় নথিভুক্ত করার জন্য সম্পূরক এজাহার দেন তিনি। আদালতের আদেশে তাদেরও ওই মামলায় এজহারভুক্ত আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
আরও পড়ুন: শহীদ আবু সাঈদকে 'বীরশ্রেষ্ঠ' বললেন এনবিআর চেয়ারম্যান
আবু সাঈদ হত্যা: অভিযুক্ত ২ পুলিশ সদস্যের ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
৫১৬ দিন আগে
আবু সাঈদ হত্যা মামলা পিবিআইতে
রংপুরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) স্থানান্তর করা হয়েছে।
পুলিশ হেডকোয়ার্টারের নির্দেশে সোমবার মামলাটি পিবিআইয়ে স্থানান্তর করা হয়।
আরও পড়ুন: ক্রিকেটারদের রাজনীতিতে আসতে নিরুৎসাহিত করলেন গাজী আশরাফ
রংপুর জেলা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন বলেন, ‘পুলিশ হেডকোয়ার্টারের নির্দেশে মামলাটি তাজহাট থানা থেকে পিবিআইয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে। এখন মামলার তদন্ত করবে পিবিআই।’
রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গত ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড় এলাকায় পুলিশ ও ছাত্রলীগ-যুবলীগের সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এদিন পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ১৭ জুলাই তাজহাট থানায় মামলা করা হয়। মামলার বাদী ওই থানার উপপরিদর্শক ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বিভূতি ভূষণ রায়।
আরও পড়ুন: আবু সাঈদ সবার হৃদয়ে রয়েছেন: অধ্যাপক ইউনূস
আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ১৬ বছরের কিশোরের জামিন
৬১৫ দিন আগে