শরীয়তপুর
শরীয়তপুরে বোমা বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ৩, গ্রেপ্তার ১২
শরীয়তপুরের জাজিরায় ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ল। সর্বশেষ গুরুতর আহত নয়ন মোল্লা (২৫) রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ৯টার দিকে মারা যান। এ নিয়ে মোট ৩ জনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত ৮ জানুয়ারি ভোরে জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই বেপারীকান্দি গ্রামে বোমা তৈরির সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই সোহান বেপারী (৩২) নিহত হন। ওইদিন বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নবীন হোসেন সরদার (২২)।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, ভোরে বোমা তৈরির সময় একটি টিনের ঘরে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে। ঘরের চালা উড়ে গিয়ে পাশের রসুনখেতে প্রায় আধা কিলোমিটার দূর থেকে সোহান বেপারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় নয়ন মোল্লা ও নবীন হোসেনকে প্রথমে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
ঘটনার পরদিন ৯ জানুয়ারি ভোরে জাজিরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একটি মামলা করেন। মামলায় ৫৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামে আরও ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
‘এরপর শনিবার ও সোমবার ঘটনাস্থলে পুলিশ, সেনাবাহিনী, ডগ স্কোয়াড, অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের বোমা ডিসপোজাল টিম ও সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট যৌথ অভিযান চালায়। অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থল থেকে গান পাউডার, স্প্রিন্টার, কাচের টুকরা, তারকাঁটা, স্কচটেপ, জর্দার কৌটা ও মার্বেল পাথরসহ বোমা তৈরির নানা আলামত উদ্ধার করা হয়।
পরে বিলাসপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থান থেকে ৪৫টি বোমাসদৃশ বস্তু, ককটেল, বোমা তৈরির সরঞ্জাম, দেশীয় অস্ত্র, চাপাতি, বড় হ্যামার, কুড়াল, মাছ ধরার কোচ, বিদেশি চাকু এবং একটি ড্রোন উদ্ধার করা হয়।’
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যেখানে বিস্ফোরণ ঘটে সেই টিনশেড ঘরটি দুই মাস আগে আবু সিদ্দিক বেপারীর ছেলে সাগর বেপারী নির্মাণ করেন। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উপজেলা আওয়ামী লীগের এক সহ-সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান কুদ্দুস বেপারী এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য আবদুল জলিল মাদবরের অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে অতীতে সংঘর্ষ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে।
গত বছরের ৫ এপ্রিল ও ২ নভেম্বর একই ইউনিয়নে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পৃথক মামলা হয়। তখন কুদ্দুস বেপারী ও জলিল মাদবর গ্রেপ্তার হলেও পরে কুদ্দুস জামিনে মুক্ত হয়ে আত্মগোপনে চলে যান। জলিল মাদবর এখনও কারাগারে রয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, বোমা তৈরির সময় নিহত সোহান বেপারী কুদ্দুস বেপারীর অনুসারী ছিলেন এবং মামলার প্রধান আসামি নুরুল ইসলাম বেপারীর নির্দেশে কাজ করতেন। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় পুনরায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মদ বলেন, বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
৪ দিন আগে
শরীয়তপুরে শিশু নিবিড় হত্যা মামলায় দুই জনের ফাঁসি
শরীয়তপুরের বহুল আলোচিত শিশু হৃদয় খান নিবিড় হত্যা মামলায় দুই আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড এবং আরেক আসামিকে ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়ে রায় দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের শেখ মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ আড়াই বছর পর এ রায় দেওয়া হলো। বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) মো. কামরুজ্জামান।
২০২৩ সালে সদর উপজেলার পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশু নিবিড়কে অপহরণ করে তার পরিবারের কাছে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন অপহরণকারীরা। পরিবার মুক্তিপণ না দিয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানালে অপহৃত শিশুটিকে হত্যা করে মাটিচাপা দিয়ে রাখেন তারা। পরের দিন নিহত শিশুটির বাড়ির ৫০০ মিটার দূরে পরিত্যক্ত জমিতে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
শিশুটি উপজেলার ডোমসার ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খিলগাঁও এলাকার মনির খান ও নিপা আক্তার দম্পতির ছেলে ছিল। স্থানীয় শিশুকানন নামের একটি বিদ্যালয়ের দি্বতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল নিবিড়। ওই দিন স্কুল থেকে ফিরে খেলার জন্য বাড়ি থেকে বের হয় সে। এরপর তাকে আর খুঁজে পায়নি তার পরিবার। সন্ধ্যায় নিবিড়ের মায়ের মোবাইলে অপহরণকারীরা ফোন করেন। তবে পুলিশকে জানানোয় পরের দিন সকাল ৬টার দিকে ওই বাগান থেকে মাটি খুঁড়ে তার মরদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ।
শিশুটির বাবা মনির খান বলেন, ‘আমার অবুঝ আদরের সন্তান নিবিড়কে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। আমি এই দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং একজনের ২১ বছরের সাজার রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করছি। এখন আমার এবং পরিবারের একটাই দাবি, আসামিদের দ্রুত ফাঁসি কার্যকর করা হোক।’
৬ দিন আগে
শরীয়তপুরে ডগ স্কোয়াডের তল্লাশি: বাঁশঝাড়ে মিলল ৪৫ ককটেল
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নে যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ হাতবোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৪ জনকে আটক করেছে যৌথবাহিনী।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) ভোর থেকে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে ‘ডগ স্কোয়াড’-এর সহায়তায় বিলাসপুর ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়।
শরীয়তপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মো. তানভীর হোসেন জানান, অভিযানে ওই এলাকার বিভিন্ন বাড়ির আশপাশ ও বাঁশঝাড় থেকে ৪৫টি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া বিপুল পরিমাণ ককটেল তৈরির সরঞ্জাম ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। অভিযানে তিন নারী ও একজন পুরুষকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) একই ইউনিয়নের মুলাই বেপারি কান্দি গ্রামে হাতবোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে সোহান বেপারী নামের এক যুবক ঘটনাস্থলে নিহত হন। একই ঘটনায় আহত নবিন সর্দার ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
ওই ঘটনায় জাজিরা থানায় পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে ৫৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১৫০ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। মামলার পর ২ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
৭ দিন আগে
জাজিরায় ‘হাতবোমা বানাতে গিয়ে’ বিস্ফোরণ, যুবক নিহত
শরীয়তপুরের জাজিরায় বোমা বিস্ফোরণে সোহান বেপারী (২০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও দুই জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের কান্দি গ্রামে কুদ্দুস বেপারীর বাড়ির পাশে একটি ঘরে বোমা তৈরি করার সময় বিস্ফোরণ হয়। ঘটনাস্থল থেকে কিছু দূরে একটি জমি থেকে সোহান বেপারীর মরদেহ উদ্ধার করে জাজিরা থানা পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, রাতে বিলাসপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কুদ্দুস বেপারীর বাড়ির পাশে তার ভাই নুরুল ইসলাম বেপারীর একটি পরিত্যক্ত ঘরে হাত বোমা (ককটেল) বানাতে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তিনজন গুরুতর আহত হন। যার মধ্যে চেরাগ আলী বেপারী কান্দির সোহান বেপারী নামের একজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠান।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালেহ আহমেদ জানান, ঘটনাস্থল থেকে কিছু দূরে একটি জমি থেকে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আমরা ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত করছি।
১১ দিন আগে
শরীয়তপুরে খোকন দাস হত্যার ঘটনায় তিন অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
শরীয়তপুরের ফার্মেসির মালিক ও বিকাশের এজেন্ট খোকন দাস (৫০) হত্যার ঘটনায় প্রধান তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১টার দিকে আসামি সোহাগ, রাব্বি ও পলাশকে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ।
র্যাব-৮ ও ইন্ট উইং, জানায়, র্যাব-১৪, সিপিসি-২ ও কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের একটি অভিযানিক দল কোম্পানি কমান্ডার এএসপি শাহজাহানের নেতৃত্বে আসামি সোহাগ, রাব্বি ও পলাশকে কিশোরগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে।
শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার রওনক জাহান জানান, পরেশ দাসের ছেলে খোকন দাস একজন ওষুধ ও বিকাশ ব্যবসায়ী। তিনি গত বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টায় কেহরভাঙ্গা বাজারস্থ নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন। বাড়ির নিকটবর্তী তিলই এলাকায় পৌঁছানোমাত্র ৩–৪ জন ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে জখম করে এবং সঙ্গে থাকা নগদ টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয়।
রওনক জাহান জানান, হামলাকারীদের মধ্যে কয়েকজনকে চিনে ফেলায় দুর্বৃত্তরা ভুক্তভোগীর শরীর ও মুখে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যাচেষ্টা করে। ভুক্তভোগীর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।
তিনি জানান, পরবর্তীতে স্থানীয়রা ভুক্তভোগীকে গুরুতর আহত ও দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান শেষে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরবর্তী সময়ে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, গ্রেপ্তাররা স্থানীয়ভাবে বখাটে হিসেবে পরিচিত। তারা নানা ধরনের মাদক সেবন করে বলেও জানা যায়। মৃত্যুর আগে খোকন দাস উল্লিখিত আসামিদের নাম বলে গেছেন বলে জানান তিনি।
১৫ দিন আগে
শরীয়তপুরে পুকুরে ডুবে দুই শিশু নিহত
শরীয়তপুরের সখিপুরে পুকুরের পানিতে ডুবে ইমন হোসেন (৫) ও তাউহিদ (৫) নামের দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জান্নাত নামে ৩ বছরের এক শিশুকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার উত্তর তারাবুনিয়া ইউনিয়নের মাদবর কান্দি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত ইমন হোসেন বাদল সরকারের ছেলে এবং তাউহিদ ইসলাম শাহ-আলম বেপারীর ছেলে। তারা দু’জনেই মাদবর কান্দি সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা।
স্থানীয়রা জানান, আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে তিন শিশু বাড়ির পাশেই খেলাধুলা করছিল। একপর্যায়ে তারা আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাশের একটি পুকুরে গোসল করতে নামে। কিছুক্ষণ পর তারা নিখোঁজ হলে পরিবার ও স্থানীয়রা খোঁজাখুঁজি শুরু করে। খোঁজা শুরু করলে কিছু সময় পর পুকুরের পানিতে ভেসে উঠতে দেখা যায় এক শিশুর দেহ। পরে গ্রামবাসী পুকুরে নেমে দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করে। এ সময় জান্নাত নামে আরও এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আবুল হোসেন নামে স্থানীয় একজন বলেন, ‘শিশু দুটি নিখোঁজ হওয়ার পর হঠাৎ গ্রামবাসীরা পানিতে কিছু একটা ভাসতে দেখে। এরপর পানিতে নেমে এক শিশুকে উদ্ধার করা হয়। পরে আরেকজনকেও পানিতেই পাওয়া যায়। কিন্তু ততক্ষণে তারা আর বেঁচে ছিল না। তবে জান্নাতকে পুকুরের পাড়ে পেয়েছি জীবিত অবস্থায়। পরে তাকে হাসপাতালে পাঠিয়েছি।’
এ বিষয়ে সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওবায়দুল হক বলেন, ‘পরিবারের অসচেতনতায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’
১৩৯ দিন আগে
শরীয়তপুরে বিএনপি নেতা হত্যা: প্রধান আসামির বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় বিএনপি নেতা খবির উদ্দিন সরদার হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি আলমাস সরদারের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করেছে জাজিরা থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে জাজিরা উপজেলার বড়কান্দি ইউনিয়নের ওমরদি কান্দি এলাকার জব্বার মাষ্টারের পরিত্যক্ত ভিটা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এর আগে, গত মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) রাতে উপজেলার বড়কান্দি ইউনিয়নের উমরদি মাদবরকান্দি এলাকায় মসজিদের মাইকের আজানে ঘুমের ব্যাঘাত হচ্ছে অভিযোগ তুলে ইমামকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠে আলমাসের বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদ করায় বড়কান্দি ইউনিয়ন বিএনপি নেতা খবির সরদারকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠে। ওই ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত ছিল নিহত আলমাস।
নিহত খবির সরদার বড়কান্দি ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই দানেশ সরদার বাদী হয়ে আলমাসসহ ২০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করে জাজিরা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
আরও পড়ুন: মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় নিখোঁজ সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকারের লাশ উদ্ধার
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন অভিযুক্ত আলমাস সরদার। তাকেও হত্যা করে গুম করে কোথাও রাখা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হয়েছিল। সে অনুযায়ী সারা দিন খোঁজাখুঁজির পর বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার মরদেহটি ওই পরিত্যাক্ত ভিটার মাটির নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে নিহত আলমাসের পরিবারের সদস্যরা এসে লাশটি তার বলে শনাক্ত করেন।
এ বিষয়ে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল ইসলাম বলেন, বিএনপি নেতা খবির সরদার হত্যা মামলার প্রধান আসামি আলমাস সরদারের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৪৩ দিন আগে
শরীয়তপুরে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে কাঠমিস্ত্রির মৃত্যু
শরীয়তপুরে বসত বাড়িতে কাঠের কাজ করার সময় বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে রবিন নলি (২৩) নামে এক কাঠমিস্ত্রির মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট ) সকাল ১১টার দিকে নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ড দুলুখন্ড এলাকার মৃত কাশেম নলির বড় ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পেশাগতভাবে কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন।
সদর হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে ১১টায় নড়িয়া উপজেলার বিঝারী ইউনিয়নের ইমরান বেপারীর বাড়িতে টিনের চাল পরিবর্তনের কাজ করার সময় হঠাৎ শর্ট সার্কিট হয়ে তিনি বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পড়ুন: চাঁদপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিক্ষার্থীর মৃত্যু
এ বিষয়ে সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার সাবিরুল নাহার জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট এক কাঠমিস্ত্রিকে স্বজনরা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। রোগীকে পরীক্ষা করে তিনি রক্তচাপ ও নাড়ির স্পন্দন পাননি। হাসপাতাল পৌঁছানোর আগেই রোগীর মৃত্যু হয়েছিল।
এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।
১৫৩ দিন আগে
শরীয়তপুরে এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারীর পদত্যাগের ঘোষণা
শরীয়তপুর জেলা নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মো. তারিকুল ইসলাম পদত্যাগ করেছেন।
শুক্রবার (১ আগস্ট) তিনি তার নিজস্ব ফেসবুক পেজে এই পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
তারিকুল ইসলাম তার ফেসবুকে লেখেন, ব্যক্তিগত কারণে এনসিপির সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি নিলাম।
আরও পড়ুন: ছাত্র উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে, পদত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে: নাহিদ
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শরীয়তপুর জেলা প্রধান সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন বলেন, ‘তারিকুল ইসলাম ফেসবুকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছে। আমাদের একটি গ্রুপে একজন কিছু আপত্তিকর কথা লিখেছেন। তাই রাগ করে তিনি পদত্যাগ করেছেন। তবে আমাদের কাছে এখনো কোনো পদত্যাগ পত্র জমা দেওয়া হয়নি।’
১৭১ দিন আগে
শরীয়তপুরে বসতবাড়িতে হামলা, এক নারী নিহত
শরীয়তপুরের জাজিরা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জামাল মাদবর কান্দি এলাকায় বসতবাড়িতে রাতের আধাঁরে হামলা ও আঘাতে এক নারীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১১ জুন) রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত তাসলিমা বেগম (৫৫) জাজিরা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জামাল মাদবর কান্দি এলাকার বাসিন্দা।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার জের ধরে স্থানীয় নাইম ঢালী ও সজিব বেপারী নামে দুই যুবকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা এবং হাতাহাতি হয়। পরে নাইম ঢালীর মা চম্পা বেগম বাদী হয়ে ২৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১০/১৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার আসামিদের আতঙ্কিত করতে স্থানীয় আকবর ঢালী, খালিদ ঢালী এবং শাহজাহান বেপারী লোকজন নিয়ে বুধবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ মজিবর মৃধার বসতবাড়িতে ঢুকে দরজায় লাথি দিতে থাকে। ওই সময় আতঙ্কিত হয়ে নিহত তাসলিমা বেগম বসতঘরের দরজা আটকে ঘরে ভিতরে বসে থাকেন। পরে শাহজাহান বেপারী ওই বসতঘরের দরজায় লাথি দিয়ে ভেঙে ফেলেন। ভাঙা দরজায় আঘাত পেয়ে তাসলিমা বেগম মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন: রাস্তা পারাপারের সময় সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু নিহত
ঘটনার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আকবর ঢালীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি মুঠোফোনে বলেন, ‘আমি এই বিষয়ে কিছু জানি না। এলাকায় ঝামেলা থাকায় আমি সেখানে বেশি থাকি না।’
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাইনুল ইসলাম বলেন, ‘বুধবার রাতে জামাল মাদবর কান্দি এলাকায় এক নারী মারা গেছেন। তার পরিবারের দাবির প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে।’
২২১ দিন আগে