হাফিজ উদ্দিন আহমদ
ভারতের সঙ্গে সমমর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক চায় বাংলাদেশ: স্পিকার
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক সৎ প্রতিবেশীসুলভ ও সমমর্যাদার ভিত্তিতে হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেছেন, দুই সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যে যে ধরনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও সমমর্যাদার সম্পর্ক থাকা উচিত, বাংলাদেশও সেই সম্পর্কই চায়।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ভোলা সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের দুঃশাসনের কারণে দেশের প্রতিটি স্তর ও বিভাগে ধ্বংস নেমে এসেছে। বিগত সরকারের অবৈধ কর্মকাণ্ড দেশকে প্রায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। এ পরিস্থিতি থেকে দেশকে উন্নয়নের পথে ফিরিয়ে আনতে সময় লাগবে। সাত মাস এ কাজের জন্য খুবই অল্প সময়।
সংস্কার প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংস্কার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। প্রধানত আইনকানুনে অনেক সংস্কার আনতে হবে। জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল বিএনপি ও বিরোধী দলগুলো সমঝোতায় এলে দীর্ঘ ১৬ বছরের বঞ্চনা ও দুঃশাসন থেকে জনগণ মুক্তি পেতে পারে।
তিনি বলেন, সংস্কার কার্যক্রম শুরু ও শেষ হওয়ার পর সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে এর কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে। তবে সংস্কার প্রক্রিয়া এখনও আইনগতভাবে শুরু হয়নি।
স্পিকার বলেন, সংসদের আগামী অধিবেশনে সংস্কার প্রস্তাবগুলো নিয়ে সরকার ও বিরোধী দল একমত হলে দ্রুত আইনগত সংস্কার করা সম্ভব হবে। আইনে যেসব পরিবর্তন আনা প্রয়োজন, সেসব পরিবর্তন করা গেলে গত ১৬ বছরের দুঃশাসন থেকে জনগণ মুক্তি পাবে।
পরে স্পিকারকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। তারপর চার দিনের সফর শেষে তিনি ঢাকার উদ্দেশে ভোলা ত্যাগ করেন।
এ সময় ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর, পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছারসহ স্থানীয় বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
৫ দিন আগে
জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে হবে: স্পিকার
একটি দেশের বড় সম্পদ তার জনসংখ্যা উল্লেখ করে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, দেশের জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে হবে এবং জনমিতিক লভ্যাংশের সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। উন্নয়ন শুধু আর্থিক পরিবর্তন নয়; মানুষের জীবনমানের পরিবর্তনের মাধ্যমে উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে ‘থ্রি ডিভিডেন্ডস, ওয়ান উইন্ডো: আ পার্লামেন্টারি ডায়ালগ অন পপুলেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক পলিসি ডায়ালগে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্পিকার এসব কথা বলেন। ইউএনএফপিএর কারিগরি সহায়তায় এসপিসিপিডি প্রকল্পের আওতায় সংসদ সচিবালয় এই সংলাপের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, জনমিতিক লভ্যাংশ, জেন্ডার লভ্যাংশ ও দীর্ঘায়ু লভ্যাংশ—প্রত্যেকটি একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর জন্য নীতিগত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন দরকার।
তিনি আরও বলেন, পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপান্তর করতে শুধু নীতি প্রণয়ন করলেই হবে না। সেই সঙ্গে আইন প্রণয়ন ও সংস্কার, বাজেটের কার্যকর ব্যবহার এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় পলিসি প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন করতে এবং প্রতিটি নাগরিকের উন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত করতে স্পিকার আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে তিনি নারীদের শিক্ষার সুযোগ, প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ ও তরুণদের কাজের ব্যবস্থা করার ওপর জোর দেন।
এ সময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার বিশাল অংশ তরুণ জনগোষ্ঠী। তারুণ্যের দক্ষতা উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারলে আমাদের ফিরে তাকাতে হবে না। তরুণদের দক্ষতা ও প্রবীণদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক দেশে জনপ্রতিনিধিরা পলিসি লেভেলে কাজ করে থাকেন। রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে দক্ষ জনসংখ্যা ও মানবসম্পদ বিদেশে প্রেরণে প্রাধান্য দিতে হবে।
সংলাপে বক্তারা বাংলাদেশের জনসংখ্যার কাঠামোর পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সুযোগের তিনটি পৃথক জানালা কাজে লাগাতে পৃথক নীতিগত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া বাংলাদেশের জনমিতিক সুযোগের সম্ভাবনা, সময় ও সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি নিয়েও তারা আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্যরা, ইউএনএফপিএ ও এসপিসিপিডি প্রকল্পের প্রতিনিধিরা, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৯ দিন আগে
স্পিকার-ডেপুটি স্পিকারকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ ত্রিবেদীর
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
জাতীয় সংসদ ভবনে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে এ আমন্ত্রণ জানান দীনেশ ত্রিবেদী।
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার ও মাননীয় ডেপুটি স্পিকারকে ভারত সফর এবং গণতন্ত্রের মন্দির ভারতের সংসদ ভবন পরিদর্শনের জন্য আমরা আন্তরিক আমন্ত্রণ জানিয়েছি।’
এছাড়া ভারতের সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার পক্ষ থেকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতীয় হাইকমিশনার।
ত্রিবেদী বলেন, ‘আমি মাননীয় স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাকে বলেছেন, বাংলাদেশের স্পিকার আমার বন্ধু। তাকে আমার শুভেচ্ছা জানাবেন।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
তিনি আরও বলেন, ‘এটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত বুদ্ধিমান ব্যক্তি। তিনি জনবান্ধব। বিষয়টি আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ওপরই ছেড়ে দেওয়া উচিত।’
বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করা প্রয়োজন, সেগুলোর এজেন্ডা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দুই পক্ষের উদ্দেশ্যই যে জনকল্যাণমুখী, তা নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই। যখন উদ্দেশ্য জনকল্যাণমুখী থাকে, তখন কাজ এগিয়ে যায়।’
এদিকে সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠকে সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার উপায়, রোহিঙ্গা সংকট ও তাদের পুনর্বাসন এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিনিময় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক বিভিন্ন উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে সব সময় এগিয়েছে এবং সময় ও পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কও বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে পরিবর্তিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের তথাকথিত ‘সাজানো’ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন করেছে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করেছে।
শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক মূলত সরকারকেন্দ্রিক ছিল উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, ‘দুই দেশের জনগণের মধ্যকার সম্পর্কই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত।’
পারস্পরিক সম্মান এবং একে অপরের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতির ভিত্তিতে এই সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া উচিত বলেও তিনি জোর দেন।
অন্যদিকে ত্রিবেদী বলেন, ভারত সরকার দুই দেশের মধ্যে জনকেন্দ্রিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ আরও জোরদার করার গুরুত্বের কথাও তিনি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বর্তমান ভারত সরকার জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে তাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করছে।
এছাড়া ভারত ও বাংলাদেশের সংসদীয় প্রতিনিধিদলের পারস্পরিক সফরের গুরুত্বের ওপর জোর দেন হাইকমিশনার।
১৭ দিন আগে
বঙ্গভবন ছাড়লেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ
রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমকে বিদায় জানিয়েছে বঙ্গভবন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে শেষ দিনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে গার্ড অব অনার গ্রহণ করে বঙ্গভবন ত্যাগ করেন তিনি।
বিদায়ের আগে আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সেনাবাহিনীর প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) সুসজ্জিত একটি দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত ব্যান্ড দল বিদায়ের সুর পরিবেশন করে।
বিদায় অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশের অশ্বারোহী দলের আরেকটি দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
পরে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনের দর্শনার্থী বইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
বঙ্গভবনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে তিন বাহিনীর প্রধান, রাষ্ট্রপতির সামরিক ও বেসামরিক সচিবসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিদায়বেলায় হাফিজ উদ্দিন আহমদ দেশের শান্তি, অগ্রগতি ও সরকারের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন। আনুষ্ঠানিকতা শেষে বঙ্গভবন ত্যাগ করেন তিনি।
৩০ দিন আগে
স্পিকারের সরকারি বাসভবনে থেকেই বঙ্গভবনে অফিস করবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকালে বঙ্গভবনে অফিস করবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তবে, এই সংসদ ভবন এলাকায় স্পিকারের সরকারি বাসভবনেই তিনি অবস্থান করবেন।
শনিবার (২৫ জুলাই) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।
গতকাল শুক্রবার বিকেল থেকেই সংসদ প্রাঙ্গণে স্পিকারের সরকারি বাসভবন এবং এর আশপাশে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তার জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে।
গতকাল রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলে সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
এদিকে, বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামীকাল রবিবার বেলা ১১টায় হাফিজ উদ্দিন আহমদ সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।
এরপর দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও জিয়ারত করবেন তিনি।
সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ৯০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়।
এ বিষয়ে আজ আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় সংসদ অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।
তিনি বলেন, ‘গতকাল ছিল ২৪ জুলাই। সে হিসেবে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সময় আছে। সুতরাং বিশেষ অধিবেশন ডাকার মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। যেহেতু ১৫ জুলাই থেকে ৬০ দিনের মধ্যে পরবর্তী অধিবেশন হওয়ার কথা সাংবিধানিকভাবে। আশা করি, সেই অধিবেশনে এটা নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।’
৫৬ দিন আগে
থাইল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরলেন স্পিকার
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগের গুঞ্জনের মধ্যে থাইল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে আজ শুক্রবার দেশে ফিরেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তিনি দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে নামেন।
এর আগে, গত ১৯ জুলাই স্পিকার থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছিলেন।
পূর্বনির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী ২৬ জুলাই তার দেশে ফেরার কথা থাকলেও, রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে তৈরি হওয়া গুঞ্জনের প্রেক্ষাপটে সফর সংক্ষিপ্ত করে তিনি আগেই দেশে ফেরেন।
৫৭ দিন আগে
খামেনি হত্যায় শোক ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মর্মান্তিক প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
শুক্রবার (৩ জুলাই) জাতীয় শোকের সময়ে ইরানের সরকার ও ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে সংহতি প্রকাশ করেন তিনি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তেহরানে ইরানের ইসলামিক কনসালটেটিভ অ্যাসেম্বলির স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের সঙ্গে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার জানাজায় যোগ দিতে যাওয়া স্পিকার ও বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলকে তেহরানে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান ইরানের স্পিকার। বৈঠকে তিনি ইরান ও বাংলাদেশের মধ্যকার শতবর্ষের পুরনো বন্ধুত্ব এবং গভীর সাংস্কৃতিক ও পারস্পরিক সুদৃঢ় সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন।
এদিকে, ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক শান্তি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরে গালিবাফের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন স্পিকার হাফিজ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই চুক্তি ইরানের জনগণসহ সমগ্র অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে।
চলমান শান্তি প্রক্রিয়ার প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে স্পিকার আশা প্রকাশ করেন, সব পক্ষ সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে অমীমাংসিত বিষয়গুলোর একটি স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে এই ধারা বজায় রাখবে।
বৈঠক শেষে হাফিজ উদ্দিন আহমদ ইরানের স্পিকার গালিবাফকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরে আসার আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।
এর আগে, খামেনির জানাজায় অংশ নিতে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে বৃহস্পতিবার তেহরান পৌঁছান হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান ইরানের ডেপুটি স্পিকার হামিদ রেজা হাজি বাবাই।
৭৮ দিন আগে
সমাজকল্যাণমন্ত্রীকে নানাবাড়ির দিকে নজর দিতে বললেন স্পিকার
সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনকে তার নানাবাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার অনুরোধ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের উপর ময়মনসিংহ ১০ (গফরগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামানের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এ কথা বলেন।
সংসদে ময়মনসিংহ ১০ (গফরগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘আমার এলাকাটা অত্যন্ত অবহেলিত। এই এলাকাটিতে বিশেষ নজর দেওয়ার জন্য স্থানীয় সরকারমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সমাজকল্যাণমন্ত্রীসহ এখানে যারা রয়েছেন, তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। সমাজকল্যাণমন্ত্রীর জন্মও কিন্তু আমার গফরগাঁওয়ে! উনার নানার বাড়ি আমার গফরগাঁওয়ে, আমার এই মন্ত্রী মহোদয়রা যদি একটু দৃষ্টি দেন এই অবহেলিত জনপদের প্রতি, তাহলে এই গফরগাঁওয়ের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। পিছিয়ে পড়া এই জনপদটি এগিয়ে যাবে। আমি আশা করব, প্রধানমন্ত্রী যেভাবে গফরগাঁওকে গুরুত্ব দিয়েছেন, মন্ত্রী মহোদয়রাও যেন সেভাবে গুরুত্ব দেন।’
এ সময় সংসদে উপস্থিত সমাজকল্যাণমন্ত্রীর উদ্দেশে স্পিকার বলেন, ‘সমাজকল্যাণমন্ত্রী, নানার বাড়ির দিকে খেয়াল রাখবেন।’
গফরগাঁওকে অবহেলিত শুনে স্পিকার প্রশ্ন করেন, ‘গফরগাঁওয়ের বেগুন তো আছে!’ জবাবে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘লাফা বেগুন সেটিও বিলুপ্ত হয়ে গেছে।’
আক্তারুজ্জামান আরও বলেন, ‘আমার এলাকার কিছু সমস্যার কথা আমাকে বলতেই হবে এখানে। আমি যে এলাকা থেকে নির্বাচিত হয়েছি, ৪৭ বছর পর ওই এলাকা থেকে এই সংসদে আসার সৌভাগ্য হয়েছে। আমি ছিলাম গোলন্দাজের জুলুমের রাজ্যে।
‘আমার এখানে জিয়া হত্যার সাজাপ্রাপ্ত আসামি ক্যাপ্টেন অবসরপ্রাপ্ত গিয়াস এই মহান সংসদে এসে এই সংসদকে কলঙ্কিত করেছিলেন। তারা জুলুমের রাজ্য কায়েম করেছিলেন, আমি ইনসাফের রাজ্য কায়েম করতে চাই। সেই ইনসাফের রাজ্য কায়েম করতে অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করব, সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন বিভাগে অবকাঠামো উন্নয়নে বিভাগভিত্তিক বরাদ্দ রয়েছে, কিন্তু ময়মনসিংহ বিভাগ সেখানে অন্তর্ভুক্ত নেই। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী এখানে রয়েছেন, উনি অত্যন্ত আন্তরিক। আমি উনার প্রতি অনুরোধ জানাব, উনি সারা বাংলাদেশের মতোই ময়মনসিংহ বিভাগকে, ময়মনসিংহ জেলাকে ও আমার পিছিয়ে পড়া গফরগাঁও-পাগলার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেবেন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা জুলাইয়ে যুদ্ধ করেছি। এখানে উপস্থিত অনেকেই জুলাইয়ে যুদ্ধ করেছেন, আমাদের সন্তানেরাও করেছেন। কিন্তু অনেকেই জুলাইয়ের চেতনা বিক্রি করেন। আমরা জুলাইয়ের চেতনা বিক্রি করি না, আমরা জুলাইকে ধারণ করি। জুলাই তো বিক্রি করার বিষয় নয়।’
ময়মনসিংহ-১০ আসনের সংসদ সদস্য আরও বলেন, যারা জুলাইয়ের চেতনা বিক্রি করেন তাদের জীবনযাত্রার পরিবর্তন জনগণের সামনে তুলে ধরা উচিত। অনেকেই আগে রিকশায় চড়তেন, এখন প্রাডো গাড়িতে চড়েন, আর জুলাইয়ের চেতনা বিক্রি করেন। আমি এখনও যে গাড়িতে আগে চড়তাম, সেই গাড়িতেই চলাফেরা করি। নির্বাচনের সময় গাড়িটির অবস্থা আরও খারাপ হয়ে গেছে, তারপরও সেটিই ব্যবহার করছি।
৮৬ দিন আগে
মুসলমানদের বিরুদ্ধে আর্ন্তজাতিক ষড়যন্ত্র চলছে: স্পিকার
দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম বলেছেন, মুসলিম বিশ্বের রাষ্ট্রসমূহ পরাশক্তির নির্যাতনের কারণে পিষ্ট। মুসলমানদের বিরুদ্ধে আর্ন্তজাতিক ষড়যন্ত্র চলছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকালে ভোলার লালমোহন ঈদগাহে ঈদুল আযহার নামাজ আদায় শেষে গণমাধ্যমে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, এই মহান ঈদুল আজহা আমাদের জন্য ত্যাগের বাণী নিয়ে উপস্থিত হয়েছে। অনেক ত্যাগ-তীতিক্ষার পর আজকে গণতান্ত্রিক অবস্থা ফিরে পেয়েছি। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী দিনগুলোতে অর্থনৈতিক মুক্তি আমাদের কাছাকাছি আসবে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার এদেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করবে এটাই কামনা করি।
বিগত দিনের কথা উল্লেখ করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, দীর্ঘ দিনের দুঃশাসনের অবসান ঘটিয়েছে ছাত্র-জনতা, রাজনৈতিক কর্মীরা। যার ফলে দেশে ভয়ের আবহ কেটে গেছে। একটি গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম হবে।
তিনি আরও বলেন, মুসলিম বিশ্বের রাষ্ট্র সমূহ পরাশক্তির নির্যাতনের কারণে পিষ্ট। মুসলমানদের বিরুদ্ধে আর্ন্তজাতিক ষড়যন্ত্র চলছে।
ঈদের নামাজ শেষে স্পিকার তার নির্বাচনি এলাকার রাজনৈতিক দলের নেতারা, সাধারণ জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এ সময় লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাফর ইকবাল সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুলসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
১১৪ দিন আগে
সমাজের সব স্তরের অসমতা দূর করতে কাজ করতে পারে অল পার্টি ককাস: স্পিকার
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, সমাজের প্রতিটি স্তরের অসমতা দূর করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। দেশ ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের বৈষম্য দূর করতে অল পার্টি ককাস কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সংসদ ভবনে নিজের কার্যালয়ে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশের আহ্বায়ক ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, অল পার্টি ককাসের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে পিছিয়ে পড়া ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অবদানের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সাক্ষাতকালে সমাজের পিছিয়ে পড়া, অনগ্রসর ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিতে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) শান্তি, ন্যায়বিচার ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান-সংক্রান্ত অভীষ্ট বাস্তবায়নে প্রাতিষ্ঠানিক ও কারিগরি সহায়তা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপদ খাদ্যের অধিকার নিশ্চিত করতে ককাসের ভূমিকা নিয়েও মতবিনিময় করেন তারা।
সাক্ষাতে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল স্পিকার পদে নির্বাচিত হওয়ায় হাফিজ উদ্দিন আহমদকে অভিনন্দন জানায়। একইসঙ্গে সম্প্রতি তার সহধর্মিণী, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ দিলারা হাফিজের মৃত্যুতে সমবেদনাও জানান তারা।
সাক্ষাতকালে প্রতিনিধিদলের সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১২৩ দিন আগে