হাফিজ উদ্দিন আহমদ
সংসদ হবে সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনের কেন্দ্রবিন্দু: স্পিকার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনিযুক্ত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের লক্ষ্যসমূহ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনে সংসদ হবে কেন্দ্রবিন্দু।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করবে এবং সংসদ হবে তার কেন্দ্রবিন্দু।
নবনিযুক্ত ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালও স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় তারা কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন। এরপর স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার উভয়েই পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেন, সংসদ পরিচালনায় তার ভূমিকা হবে ক্রিকেট খেলার আম্পায়ারের মতো নিরপেক্ষ।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় সংসদে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য আমি দল থেকে পদত্যাগ করেছি। বিরোধী দল সংসদে পর্যাপ্ত সুযোগ পাবে। স্বৈরাচার হঠানোর আন্দোলনে আমরা একসঙ্গে ছিলাম। তাদের প্রতি আমাদের যথেষ্ট সহনশীলতা রয়েছে।
স্পিকার বলেন, জাতীয় স্মৃতিসৌধ একটি পবিত্র স্থান, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ধারক ও বাহক। এখানে শ্রদ্ধা জানাতে পেরে আমি নিজেকে ভাগ্যবান এবং অনুপ্রাণিত বোধ করছি।
তিনি বলেন, আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে। আমি মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, তিনি নিজেও মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন এবং সেই যুদ্ধে তিনি আহতও হন।
গত ১৭ বছর বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক কর্মী, ছাত্র, অভিভাবকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহিদ হয়েছেন, তাদের প্রতিও তিনি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
৯ দিন আগে
শেখ হাসিনার দ্রুত পলায়নই তার পদত্যাগের প্রমাণ: বিএনপি
বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, শেখ হাসিনার পদত্যাগ নিয়ে আলোচনা ষড়যন্ত্রের নতুন মাত্রার আভাস দিচ্ছে। জনগণের ক্ষোভের মুখে তার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের সুস্পষ্ট প্রমাণ।
তিনি আরও বলেন, ‘দিনের পর দিন অসংখ্য মিথ্যা প্রচারণা চালানো হয়েছে, এখন আবার শুরু হয়েছে। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেননি বলে বিরক্তিকর ও উদ্বেগজনক সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে।’
সোমবার এক আলোচনা সভায় বিএনপির এই নেতা বলেন, রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন বলেছেন যে তিনি শেখ হাসিনার কাছ থেকে কোনো পদত্যাগপত্র পাননি এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিবও বলেছেন যে তার কাছে পদত্যাগপত্র নেই।
হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘এটা তাদের ষড়যন্ত্রের নতুন মাত্রা। তিনি (শেখ হাসিনা) অবশ্যই পদত্যাগ করেছেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই। আমরা ইউটিউবে শেখ হাসিনার সই করা পদত্যাগপত্র দেখেছি। তাছাড়া মাত্র ৪৫ মিনিটের নোটিশে তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন, তাই আনুষ্ঠানিক পদত্যাগের প্রয়োজন নেই। এটাই তার পদত্যাগের শামিল।’
আরও পড়ুন: শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র নিয়ে মিথ্যাচার করেছেন রাষ্ট্রপতি: আইন উপদেষ্টা
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনার এখন কোনো পাসপোর্ট নেই। বাংলাদেশ সরকার তার পাসপোর্ট বাতিল করে দিয়েছে। তিনি একটি প্রতিবেশী দেশে আশ্রয় নিয়েছেন যারা তাকে অন্য দেশে পাঠিয়ে দিতে চায়। তারপরও তার পদত্যাগপত্রের প্রয়োজনীয়তা কী?’
বিএনপির এই নেতা বলেন, শেখ হাসিনা এখনও বৈধ প্রধানমন্ত্রী এটা বিশ্বাস করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল জনগণকে বিভ্রান্ত করতে এ ধরনের সংবাদ প্রচার করছে। এর চেয়ে বড় মিথ্যা আর কী হতে পারে?
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবিতে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। তারা খুনি শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা এবং আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করারও আহ্বান জানান।
আলোচনা সভায় হাফিজ বলেন, ‘শেখ হাসিনা সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর জাতি একটি নতুন সরকার প্রতিষ্ঠার আশা করেছিল, যা জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেবে। আড়াই মাস পেরিয়ে গেছে। আমরা এখন ক্রমবর্ধমান উদ্বিগ্ন কেন না আমরা এই সরকারের লক্ষ্য সম্পর্কে অনিশ্চিত রয়েছি। তারা কীভাবে সংস্কার বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে এবং তারা কী অর্জন করতে পারে। তারা তাদের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন কি না তা নিয়েও আমরা বিভ্রান্ত।’
আরও পড়ুন: আওয়ামী ফ্যাসিবাদ পুনরুত্থানের বিরুদ্ধে ঐক্যের ডাক বিএনপির
তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘গত ১৬ বছরে যারা ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন তাদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহারের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তারেক রহমান, খালেদা জিয়াসহ যাদের বারবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে যে মিথ্যা মামলাগুলো এখনও কেন প্রত্যাহার করা হয়নি তা আমাদের বোধগম্য নয়।’
তারেক রহমানসহ যারা আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান বিএনপি মহাসচিব।
তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট করা এবং স্বাধীনতা বিপন্ন করার চেষ্টায় ষড়যন্ত্রের সম্মুখীন হচ্ছে যাতে ভারত সহায়তা করছে।
হাফিজ উদ্দিন বলেন, 'প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টির জন্য নানা ষড়যন্ত্র করছে। জনগণ যাদের বিতাড়িত করেছিল তারাই এখন ভারত থেকে বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। এসব চক্রান্ত থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।
আরও পড়ুন: হাসিনার বিচার করতে দেশে ফেরানোর দাবি বিএনপির
৫১৭ দিন আগে