গ্রিনল্যান্ড
গ্রিনল্যান্ড দখলে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন না দিলে শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের
গ্রিনল্যান্ড দখলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে না থাকলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপ করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্বিদলীয় মার্কিন কংগ্রেস প্রতিনিধি দল ডেনমার্কের রাজধানীতে যখন উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছে, তার মধ্যেই এমন মন্তব্য করলেন ট্রাম্প।
গত কয়েক মাস ধরে ট্রাম্প জোর দিয়ে বলে আসছেন, ন্যাটো মিত্র ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা উচিত। চলতি সপ্তাহের শুরুতেও তিনি বলেছেন, আর্কটিক অঞ্চলের এই দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের হাতে না এলে তা ‘অগ্রহণযোগ্য’ হবে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প উদাহরণ দিয়ে স্মরণ করিয়ে দেন, এর আগে তিনি কীভাবে ইউরোপীয় মিত্রদের ওষুধ খাতে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ডের ক্ষেত্রেও আমি তা করতে পারি। যদি দেশগুলো গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে একমত না হয়, তাহলে আমি তাদের ওপর শুল্ক আরোপ করতে পারি। কারণ জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড আমাদের প্রয়োজন। তাই আমি তা করতেই পারি।’
এর আগে অবশ্য গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে চাপ সৃষ্টি করতে শুল্ক আরোপের কথা বলতে শোনা যায়নি তাকে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করেন।
ওই বৈঠকে গভীর মতপার্থক্যের নিরসন না হলেও একটি ‘কার্যকরী দল’ গঠনের বিষয়ে ঐকমত্য হয়, যার উদ্দেশ্য নিয়ে পরে ডেনমার্ক ও হোয়াইট হাউস ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা প্রকাশ করে।
ইউরোপীয় নেতারা জোর দিয়ে বলেছেন, এই ভূখণ্ড নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কেবল ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডেরই। চলতি সপ্তাহে ডেনমার্ক জানিয়েছে, মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করে তারা গ্রিনল্যান্ডে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে।
যে সম্পর্ক ‘লালন করতে হবে’
কোপেনহেগেনে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর ও প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যদের একটি দল শুক্রবার ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের আইনপ্রণেতাদের পাশাপাশি দেশটির প্রধানমন্ত্রী মেট্টে ফ্রেডেরিকসেনসহ শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
প্রতিনিধি দলের নেতা ডেলাওয়ারের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস কুনস স্বাগতিকদের বলেন, ‘২২৫ বছর ধরে একজন ভালো ও বিশ্বস্ত মিত্র এবং অংশীদার থাকার জন্য ধন্যবাদ।’ তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতেও কীভাবে এই সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া যায়, তা নিয়ে আমাদের শক্তিশালী ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।’
আলাস্কার রিপাবলিকান সিনেটর লিসা মারকাউস্কি আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর বলেন, এই সফর বহু দশকের দৃঢ় সম্পর্কের প্রতিফলন এবং ‘এটি এমন একটি সম্পর্ক, যা আমাদের লালন করতে হবে।’
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ডকে কোনো সম্পদ হিসেবে নয়, আমাদের একটি মিত্র হিসেবে দেখা দরকার। আমি মনে করি, এই প্রতিনিধিদলের কাছ থেকেও সেটিই শোনা যাচ্ছে।’
তবে এই সুর হোয়াইট হাউসের বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড দখলের আহ্বানকে ন্যায্যতা দিতে ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, দুর্লভ খনিজ সম্পদে ভরা গ্রিনল্যান্ড নিয়ে চীন ও রাশিয়ার নিজস্ব পরিকল্পনা রয়েছে। আবার হোয়াইট হাউস এই ভূখণ্ড বলপ্রয়োগে দখল করার সম্ভাবনাও নাকচ করেনি।
শুক্রবারের বৈঠকে অংশ নেওয়া গ্রিনল্যান্ডের রাজনীতিক ও ডেনিশ পার্লামেন্ট সদস্য ওহা খিমনিৎস বলেন, ‘সত্যি বলতে, গ্রিনল্যান্ডের ওপর হুমকি নিয়ে আমরা অনেক মিথ্যা ও অতিরঞ্জন শুনেছি। আমার মতে, বর্তমানে যে হুমকিগুলো আমরা দেখছি, তার বেশিরভাগ যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকেই আসছে।’
মারকাউস্কি ব্যয় ও ভোটারদের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে কংগ্রেসের ভূমিকার ওপর জোর দেন।
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, এটা জোর দিয়ে বলা জরুরি—যখন আমেরিকার জনগণকে জিজ্ঞেস করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড দখল করার ধারণাটি ভালো কি না, তখন বিপুল সংখ্যক, প্রায় ৭৫ শতাংশ ভোটার বলেছে, আমরা মনে করি না যে এটি ভালো ধারণা।’
নিউ হ্যাম্পশায়ারের ডেমোক্র্যাট সিনেটর জিন শাহিনের সঙ্গে মারকাউস্কি একটি দ্বিদলীয় বিল উত্থাপন করেছেন, যাতে কোনো ন্যাটো সদস্যরাষ্ট্রের সম্মতি বা নর্থ আটলান্টিক কাউন্সিলের অনুমোদন ছাড়া গ্রিনল্যান্ড কিংবা কোনো সার্বভৌম ন্যাটো ভূখণ্ড সংযুক্ত বা নিয়ন্ত্রণে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বা পররাষ্ট্র দপ্তরের তহবিল ব্যবহার নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব রয়েছে।
হোয়াইট হাউসের বক্তব্যের সমালোচনায় ইনুইট কাউন্সিল
চলমান এই উত্তেজনা গ্রিনল্যান্ডবাসীদের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলছে। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইয়েন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন মঙ্গলবার বলেন, ‘যদি আমাদের এখানে ও এখনই যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে কাউকে বেছে নিতে হয়, সেক্ষেত্রে আমরা ডেনমার্ককে বেছে নিচ্ছি। আমরা ন্যাটোকে বেছে নিচ্ছি। আমরা ডেনমার্ক রাজতন্ত্রকে বেছে নিচ্ছি। আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়নকে বেছে নিচ্ছি।’
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলাস্কা, কানাডা, গ্রিনল্যান্ড ও রাশিয়ার চুকোটকা অঞ্চলের প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার ইনুইটের প্রতিনিধিত্ব করা নুকভিত্তিক সংস্থা ইনুইট সার্কামপোলার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বলেন, গ্রিনল্যান্ড অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের দখলে থাকতে হবে—হোয়াইট হাউসের এমন ধারাবাহিক বক্তব্য ‘গ্রিনল্যান্ডের মানুষের সম্পর্কে মার্কিন প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতি তাদের দৃষ্টি এবং সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে।’
সারা ওলসভিগ নুকে অ্যাসোসিয়েট প্রেসকে বলেন, বিষয়টি হলো ‘বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শক্তি কীভাবে অপেক্ষাকৃত দুর্বল জনগোষ্ঠীগুলোর দিকে তাকায়। আর সেটি সত্যিই উদ্বেগজনক।’ গ্রিনল্যান্ডের আদিবাসী ইনুইটরা আবারও ঔপনিবেশিক শাসন চান না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
২ দিন আগে
ট্রাম্পের হুমকি: গ্রিনল্যান্ডে অবিশ্বাস্য জয় পেল ডেমোক্র্যাটিট পার্টি
গ্রিনল্যান্ডের পার্লামেন্ট নির্বাচনে অবিশ্বাস্য জয় পেয়েছে অঞ্চলটির মধ্য-ডানপন্থি ডেমোক্র্যাটিট পার্টি। এমন এক সময় এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, যখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই দ্বীপটিকে ‘যে করেই হোক’ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নির্বাচনে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে নালেরাখ পার্টি। দুই দলই ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ডের স্বাধীনতা চাইলেও মতভিন্নতা রয়েছে। মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ও ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান এমন খবর দিয়েছে।
পার্লামেন্টে সবচেয়ে বড় দল ইনুইট আতাকাতিগিটের (আইএ) স্থলাভিষিক্ত হবে বিজয়ী ডেমোক্র্যাটিট পার্টি। গ্রিনল্যান্ডের সম্প্রচারমাধ্যম কেএনআর টিভি জানিয়েছে, ডেমোক্র্যাটিট পার্টি এবার ৩০ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অথচ চার বছর আগে তাদের এই ভোটের সংখ্যা ছিল ৯ শতাংশ।
আরও পড়ুন: ট্রাম্পের মোকাবিলায় কানাডা কাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেছে নিচ্ছে?
বিপরীতে নালেরাখ পেয়েছে ২৫ শতাংশ ভোট। ২০২১ সালের নির্বাচনে তাদের ভোট ছিল ১২ শতাংশ। অর্থাৎ নালেরাখ দলের ভোট বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। মার্কিন সহযোগিতার ক্ষেত্রে এই দলটির মনোভাব উদার।
ডেনমার্ক থেকে স্বাধীনতার জন্য আকস্মিক ভোটেও সমর্থন জানিয়েছে তারা। স্বাধীনতার প্রশ্নে নালেরাখের মনোভাব আগ্রাসী হলেও ডেমোক্র্যাটিটরা আরও মাঝারি গতিতে এগোতে চাচ্ছে।
ডেমোক্র্যাটিট এমন সব দলের ওপর বিজয় অর্জন করেছে, যারা বহু বছর ধরে অঞ্চলটি শাসন করে আসছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, সেখানকার স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সামাজিক নীতির ওপরই বেশি জোর দিচ্ছেন বাসিন্দাদের অনেকে।
ডেমোক্র্যাটিট দলের নেতা জেনস-ফ্রেডেরিক নেইলসেন (৩৩) বলেন, ‘আমি মনে করি, গ্রিনল্যান্ডের রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি একটি ঐতিহাসিক বিজয়।’
নিজেদের ‘সোশ্যাল লিবারেল’ বলে পরিচয় দেন তিনি। স্বাধীনতার দাবি করলেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে চাচ্ছেন সাবেক এই ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়ন।
দেশের রাজনীতির ভবিষ্যৎ গতি নির্ধারণে এখন তিনি অন্য দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে দ্য ডেনিশ ব্রোডকাস্টিং কর্পোরেশন ডিআর জানিয়েছে। নেইলসেন বলেন, ‘নির্বাচনে এতো ভালো ফল করবো, তা আমাদের কল্পনারও বাইরে ছিল। আমি খুবই খুশি।’
বাইরের দেশ যখন গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে চাচ্ছে, তখন আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। গেল ফেব্রুয়ারিতে আগাম ভোটের ডাক দিয়েছেন গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মুৎসি বোওরব এয়েদে। তিনিও এই কঠিন সময়ে সবার ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর জোর দেন।
আরও পড়ুন: গবেষণায় ট্রাম্পের তহবিল বন্ধের প্রতিবাদে বিজ্ঞানীদের বিক্ষোভ
তার দল ইনুইট আতাকাতিগিট ২১ শতাংশ ভোট পেয়েছে এবারের নির্বাচনে। গতবারের চেয়ে তাদের ভোট এবার উল্লেখযোগ্যহারে কমেছে। ২০২১ সালের নির্বাচনে দলটির ভোট ছিল ৩৬ শতাংশ।
এবার বড় ধরনের বিজয় প্রত্যাশা করেছিল ইনুইট আতাকাতিগিট, তারপরেই থাকার কথা ছিল সুইমুটের। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্রিনল্যান্ডের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে আসছে এই দুই দল। সুইমুট ভোট পেয়েছে ১৪ শতাংশ।
বিজয়ী ডেমোক্র্যাটিট পার্টিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ট্রোয়েলস লুন্ড পৌলসেন। তিনি বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে আসা বড় ধরনের চাপে থাকতে হবে অঞ্চলটির ভবিষ্যৎ সরকারকে।
৩১৩ দিন আগে
কালাল্লিত নুনাত আমাদের: ট্রাম্পকে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী
‘গ্রিনল্যান্ড আমাদের, আমরা বিক্রির জন্য না, আমেরিকানও হতে চাই না’—এমন বার্তাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দিয়েছেন দ্বীপটির প্রধানমন্ত্রী মুৎসি বোওরব এয়েদে। বুধবার (৫ মার্চ) সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে কংগ্রেসের এক যৌথ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ‘যে করেই হোক; গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার’ অভিলাষের কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প।
‘কালাল্লিত নুনাত আমাদের,’ বলেন মুৎসি বোওরব। নিজেদের গ্রিনল্যান্ডিক ভাষায় এই নামেই ডাকেন তারা। যার অর্থ, গ্রিনল্যান্ডবাসীদের দেশ।
‘আমরা আমেরিকান হতে চাই না, ডেনিসও না; আমরা কালাল্লিত। আমেরিকান ও তাদের নেতাদের এই বিষয়টি বুঝতে হবে। আমরা বিক্রির জন্য না এবং তারা আমাদের নিয়ে নিতেও পারবে না।’
তিনি বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ডবাসীরাই আমাদের ভাগ্য নির্ধারণ করবেন।’ মুষ্টিবদ্ধ হাতের ইমোজি ও জাতীয় পতাকা দিয়ে ফেসবুক পোস্টটি শেষ করেন গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: প্রায় চল্লিশ বছরের যাত্রা শেষে আটকে পড়ল সেই হিমদানব
দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের মসনদে বসেই নানা সময়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখল করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। কংগ্রেসের ভাষণেই সেই অভিব্যক্তিরই পুনরাবৃত্তি করেছেন তিনি।গ্রিনল্যান্ডের জনগণের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই নির্ধারণ করবেন, এতে আমাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। তবে আপনারা যদি চান, আমেরিকা আপনাদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত রয়েছে।’
‘আমরা আপনাদের নিরাপদে রাখবো, আপনাদের ধনী বানাবো। একসঙ্গে কাজ করে গ্রিনল্যান্ডকে এমন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া হবে; যা কেউ কখনো ভাবেননি। তার প্রশাসন গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টায় সংশ্লিষ্ট সবার সাথে কাজ করছে।’
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড আমেরিকার প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ‘আমি মনে করি, এটা (গ্রিনল্যান্ড) আমরা পেতে যাচ্ছি। যেভাবেই হোক, আমরা এটা (গ্রিনল্যান্ড) পেতে যাচ্ছি।’
গ্রিনল্যান্ডের দিকে নজর ট্রাম্পের এবারই প্রথম নয়। এর আগেও ২০১৯ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম মেয়াদের সময় গ্রিনল্যান্ডকে মার্কিন নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। ওই সময়ও ডেনমার্ক তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল।
সম্পতি জনমত জরিপে দেখা গেছে, বেশিরভাগ গ্রিনল্যান্ডবাসী যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে চান না, তারা বরং ডেনমার্ক থেকে স্বাধীনতা চায়।
গ্রিনল্যান্ড সরকার বর্তমানে একটি তত্ত্বাবধায়ক প্রশাসনের অধীনে রয়েছে। ১১ মার্চ সেখানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনে গ্রিনল্যান্ডের পূর্ণ স্বাধীনতার প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বরফের চাদরে ঢাকা গ্রিনল্যান্ড কানাডার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। বিশ্বের বৃহত্তম এই দ্বীপে মাত্র ৬০ হাজার মানুষের বসবাস। গ্রিনল্যান্ড ১৯৭৯ সাল থেকে ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল।
আরও পড়ুন: কানাডা-মেক্সিকোর পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর, ঘোষণা ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউরোপের মধ্যবর্তী কৌশলগত অবস্থানে এই দ্বীপটি অবস্থিত। দেশটিতে প্রচুর খনিজ সম্পদ রয়েছে। ২০২৩ সালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রিনল্যান্ডে লিথিয়াম ও গ্রাফাইটসহ ৩১ ধরনের খনিজের বিশাল মজুদ থাকতে পারে, যা বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যাটারি উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য। এসব কারণে এই ভূমিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর করতে নারাজ ডেনমার্ক প্রশাসন। ট্রাম্পের বক্তব্যের বিষয়ে ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লুকে রাসমুসেন বলেন, ‘আমি মনে করি না গ্রিনল্যান্ডের মানুষ ডেনমার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আমেরিকার অঙ্গরাজ্য হতে চায়।’
তিনি বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ডের মানুষ যেটা চাইবে; সেটাই হবে। তারা যদি ডেনমার্কের সঙ্গে সম্পর্ক শিথিল করতে চায়, সেক্ষেত্রেও ডেনিস সরকার কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে।
কোনো ধরনের আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই গ্রিনল্যান্ডের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক বলে চান লার্স লুকে।
৩১৯ দিন আগে
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পকে কড়া জবাব ফ্রান্স-জার্মানির
ডেনমার্কের কাছ থেকে গায়ের জোরে গ্রিনল্যান্ড কেড়ে নেওয়ার হুমকি দেওয়ার পর এবার নির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি করে দিয়েছে ইউরোপের দুই পরাশক্তি ফ্রান্স ও জার্মানি। ইউরোপীয় মাটিতে কোনো আঘাত এলে তা বরদাশত করা হবে না বলে জানিয়েছেন তারা। জার্মানি ও ফ্রান্সকে বলা হয় ইউরোপের চালিকাশক্তি।
গ্রিনল্যান্ড হস্তান্তর করা না হলে ডেনমার্কের ওপর অতিরিক্ত রাজস্ব চাপিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম এই প্রেসিডেন্ট। এবার গায়ের জোরে স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটি কেড়ে নিতে সামরিক শক্তি ব্যবহার করার বিষয়টিও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তিনি।
গ্রিনল্যান্ড দখল করতে কোনো সামরিক কিংবা অর্থনৈতিক শক্তি ব্যবহার করা হবে না; এমন নিশ্চয়তা দেবেন কিনা, প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, আমি সেই নিশ্চয়তা দিতে পারছি না।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড। ৬০০ বছর ধরে এটি ডেনমার্কের অংশ হয়ে আছে। ৫৭ হাজার জনসংখ্যার দেশ গ্রিনল্যান্ডে আছে স্বায়ত্তশাসন। ডেনমার্ক থেকে স্বাধীনতা চেয়ে আসছেন দ্বীপদেশটির প্রধানমন্ত্রী।
জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ সোলজ বলেন, ছোট কিংবা বড়—প্রতিটি দেশের সীমান্তের ক্ষেত্রে অলঙ্ঘনীয় নীতি রয়েছে। সেটা মেনে চলতে হবে।
এদিকে ট্রাম্পের হুমকির ঘটনায় কড়া জবাব দিয়েছেন ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ নয়েল ব্যারট। বুধবার এক সাক্ষাৎকারে ব্যারট বলেন, ইউরোপের সীমান্তে কেউ আক্রমণ করলে তা বরদাশত করা হবে না। মহাদেশ হিসেবে ইউরোপ শক্তিশালী ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিটি সদস্য একে অন্যের প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ।
বিশ্বের যে দেশই হোক, তার শক্তিমত্তা যতই হোক; ইউরোপের দিকে আঙুল তুললে ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ব্যারট।
ট্রাম্পের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ড ড্যানিশদের সম্পত্তি। স্বায়ত্তশাসিত এ ভূমি দূরবর্তী সীমানা আইনে ইউরোপেরই অন্তর্ভুক্ত। কেউ গ্রিনল্যান্ড আক্রমণ করলে সেটি হবে ইউরোপ আক্রমণের নামান্তর।
যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপ আক্রমণের মতো সিদ্ধান্ত নিবে না বলে মনে করেন এ পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে টিকে থাকতে এখন থেকেই নিজেদের শক্তিমত্তা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।
আরও পড়ুন: গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পকে কড়া জবাব ফ্রান্সের
ট্রাম্পের উচ্চাকাঙ্ক্ষা তাকে গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক অভিযান চালানোর দিকে ঠেলে দেবে সেটা তিনি ভাবতেও পারেন না বলে জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।
গ্রিনল্যান্ডে অনেকেই ডেনমার্ক থেকে স্বাধীন হয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখলেও ডেনিশ রাজা এখনও দ্বীপটিতে জনপ্রিয়। এক স্থানীয় অধিবাসী বলেন, ‘তিনি (রাজা) জনপ্রিয়। সুতরাং, তিনি স্পষ্টতই ডেনিশ-গ্রিনল্যান্ড সম্পর্ক রক্ষায় সহায়ক হতে পারবেন।’
ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাসমুসেন বলেন, আমরা পুরোপুরি স্বীকার করি যে, গ্রিনল্যান্ডের নিজস্ব উচ্চাকাঙ্ক্ষা আছে, সেগুলো বাস্তবায়ন হলে গ্রিনল্যান্ড স্বাধীন হবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা আদৌ নেই।
রাসমুসেন অবশ্য সাংবাদিকদেরকে এও বলেছেন যে, চীন ও রাশিয়ার তৎপরতার কারণে আর্কটিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়ে যাওয়াটা বাস্তব। আমি মনে করি না যে আমরা পররাষ্ট্রনীতির সংকটে আছি। যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণ নিশ্চিত করতে আমরা কীভাবে আরও সহযোগিতা করতে পারি তা নিয়ে তাদের সঙ্গে সংলাপের জন্য আমরা প্রস্তুত।
৩৭৫ দিন আগে