নৌকাডুবি
পদ্মায় নৌকাডুবি, ১০ বাংলাদেশিকে উদ্ধারের পর নিয়ে গেছে বিএসএফ
১২ বাংলাদেশিকে নিয়ে একটি নৌকা পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়ার পর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যরা ১০ জনকে উদ্ধার করে ভারতীয় ভূখণ্ডে নিয়ে গেছে।
অন্য দুজনের মধ্যে একজন সাঁতরে বাংলাদেশে ফিরে আসতে পারলে আরেকজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, নৌকাটি বিকেল ৫টার দিকে বাখেরআলী ঘাট থেকে জোহুরপুরটেকের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। যাত্রা শুরুর প্রায় ২০ মিনিট পর প্রবল বাতাস ও নদীর তীব্র স্রোতের কারণে নৌকাটি উল্টে যায়। পরে খান্দুয়া বিএসএফ ক্যাম্পের টহলরত সদস্যরা নদী থেকে ১০ জনকে উদ্ধার করে ভারতীয় ভূখণ্ডে নিয়ে যান।
অন্যদিকে ওয়াসিম (২৫) নামের এক যাত্রী সাঁতরে বাংলাদেশে তীরে উঠতে পারলেও মোস্তাফা নামের আরেক ব্যক্তি এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। তবে উদ্ধার হওয়া ১০ বাংলাদেশির পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের দল ঘটনাস্থলে যায়। নৌকাডুবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ এন এম ওয়াসিম ফিরোজ।
এদিকে ১০ বাংলাদেশিকে উদ্ধারের বিষয়টি বিএসএফ আনুষ্ঠানিকভাবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) জানিয়েছে।
৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, উদ্ধার হওয়া ১০ বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।
এছাড়া নিখোঁজ মোস্তফার সন্ধানে প্রয়োজনীয় তৎপরতা চালানো হচ্ছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
৭ দিন আগে
হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পিলারে নৌকার ধাক্কা, ছাত্রদল নেতা নিখোঁজ
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে নৌকা ভ্রমণের সময় হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পিলারে বাল্কহেডের ধাক্কা লেগে ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব রাকিবুজ্জামান রকি নিখোঁজ হয়েছেন। এ ঘটনায় নদীতে পড়ে যাওয়া আরও দুজনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টা ১০ মিনিটের দিকে ১২৩ জন যাত্রী বহনকারী বাল্কহেডটি হার্ডিঞ্জ ব্রিজের চার নম্বর পিলারে ধাক্কা দিলে রকি, লিটন ও ওহাব নদীতে পড়ে যান। লিটন ও ওহাবকে উদ্ধার করা হলেও রাত ১টা পর্যন্ত রকির সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নৌকায় থাকা যাত্রীদের কাছ থেকে জানা যায়, ঝিনাইদহের শৈলকুপার কাতলাগাড়ি ঘাট থেকে একটি ব্যবসায়িক গ্রুপের ১২৩ জন ভ্রমণকারী নিয়ে বাল্কহেডটি ভেড়ামারা উপজেলার সোলেমান শাহ মাজারে যায়। নৌকায় মাঝিসহ আরও কয়েকজন ছিলেন।
মাজারে বেড়ানো শেষে রাত ৯টা ১০ মিনিটের দিকে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের কাছে পৌঁছালে নদীর প্রবল স্রোতের ধাক্কায় বাল্কহেডটির পেছনের অংশ ব্রিজের চার নম্বর পিলারে আঘাত করে। এতে রকি, লিটন ও ওহাব নদীতে পড়ে যান।
লিটন ও ওহাবকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও রকির সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাকে উদ্ধারে ঈশ্বরদী ফায়ার সার্ভিস, ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিস ও নৌ পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে।
রকির বন্ধু আনিসুজ্জামান বলেন, ‘সে যখন নৌকা থেকে পড়ে গেল, আমি তাকে ধরতে গিয়েছিলাম কিন্তু পারিনি। সে যথেষ্ট শক্ত-সামর্থ্যবান ছেলে, সাঁতারে যথেষ্ট দক্ষতা আছে। আশা করছি ফিরে আসবে।’
ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, রকিকে উদ্ধারে নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ বেশ কয়েকটি ইউনিট কাজ করছে। বিষয়টি তারা নজরদারিতে রেখেছেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিরুল আরাফাত বলেন, এটি শৈলকুপার কবিরপুর এলাকার একটি ব্যবসায়িক দলের পিকনিকের নৌকা। তারা ভেড়ামারার সোলেমান শাহ মাজারে এসেছিলেন।
তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে নিখোঁজ দুজন লিটন ও ওহাবকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে রকিকে এখনও উদ্ধার করা যায়নি। রাত হওয়ায় উদ্ধারকাজ কঠিন হচ্ছে। রকিকে উদ্ধারের জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বিভিন্ন ইউনিট। আমরা প্রশাসনের সব ইউনিট ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছি।’
কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক ওয়াদুদ হোসেন বলেন, ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোলিং অফিসার ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। পদ্মা নদীতে প্রবল স্রোত থাকায় রাতে নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, নৌকাটিতে প্রায় ১২৩ জন বা তার চেয়ে কয়েকজন বেশি যাত্রী ছিলেন। রাতে উদ্ধার অভিযান সম্ভব না হলে খুলনা থেকে বিভাগীয় ডুবুরি দল এনে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
৭ দিন আগে
পদ্মায় নৌকাডুবিতে নিখোঁজ সেই বাবা-ছেলের মরদেহ উদ্ধার
রাজশাহীর পদ্মা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজের দুই দিন পর বাবা ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) পৃথক স্থান থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
রাজশাহী অঞ্চলের নৌ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন জানান, আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে কুষ্টিয়ার বাংলাবাজার পাকশী সেতু-সংলগ্ন পদ্মা নদী থেকে নৌকার মাঝি কাওসার আলীর (৬০) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে দুপুরে রাজশাহীর পবা উপজেলার সাতবাড়িয়া চর এলাকা থেকে তার ছেলে জিয়ারুল হকের (৪০) মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।
তিনি জানান, দুর্ঘটনার পর গত দুই দিন ধরে নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল যৌথভাবে তল্লাশি চালায়। পদ্মায় প্রবল স্রোতের কারণে মরদেহ দুটি দুর্ঘটনাস্থল থেকে অনেক দূরে ভেসে যায়। উদ্ধার শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাজশাহী নগরের পদ্মা গার্ডেন-সংলগ্ন এলাকায় ঝাউগাছবোঝাই একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবে যায়। চর মাজারদিয়া এলাকা থেকে আটজন যাত্রী নিয়ে লালন শাহ মুক্তমঞ্চের উদ্দেশে রওনা দেওয়া নৌকাটি মাঝনদীতে অতিরিক্ত ঢেউয়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়। এ ঘটনায় ছয়জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও নৌকার মাঝি কাওসার আলী ও তার ছেলে জিয়ারুল হক নিখোঁজ ছিলেন। দীর্ঘ দুই দিনের অনুসন্ধান শেষে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হলো।
৫১ দিন আগে
রাজশাহীতে পদ্মায় নৌকাডুবি, বাবা-ছেলে নিখোঁজ
রাজশাহীর পদ্মা নদীতে ইঞ্জিনচালিত একটি নৌকা ডুবে এক ব্যক্তি ও তার ছেলে নিখোঁজ হয়েছেন। ওই নৌকার আরও ছয় যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুর পৌনে ১টার দিকে নগরীর বড়কুঠি এলাকায় পদ্মায় মাঝনদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ দুজন হলেন—আফছার আলী (৬০) ও তার ছেলে জিয়ারুল হক (৪০)। তাদের বাড়ি রাজশাহীর কাটাখালী থানার শ্যামপুর বালুরঘাট এলাকায়।
ওই নৌকায় জিয়ারুলের মা জাহেরা বেগমও (৫৫) ছিলেন। নৌকা ডুবে গেলে তিনি ভেসে যাচ্ছিলেন। তখন নৌকা নিয়ে স্থানীয় মাঝিরা তাকে উদ্ধার করেন। একইভাবে আরও পাঁচজনকে উদ্ধার করে তীরে আনা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজশাহীর চর মাঝারদিয়াড় এলাকা থেকে ঝাউগাছ কেটে নৌকায় নিয়ে আসছিলেন আটজন যাত্রী। নৌকাটি মাঝনদীতে পৌঁছালে ঢেউয়ে দুলতে দুলতে একপর্যায়ে পানিতে তলিয়ে যায়।
তীরে উঠে জিয়ারুলের মা জাহেরা বেগম আহাজারি করছিলেন। ছেলের উদ্দেশে বারবার বলছিলেন, ‘আমার বাপ নাই, আমার বাপ নাই!’
দুর্ঘটনা ঘটতে দেখে স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। তাদের তাৎক্ষণিক সহায়তায় পানিতে হাবুডুবু খেতে থাকা আট যাত্রীর মধ্যে ছয়জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে মুহূর্তের মধ্যেই নদীর স্রোতে তলিয়ে যান আফছার আলী ও তার ছেলে জিয়ারুল।
নিখোঁজ দুজনকে উদ্ধারে চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রাজশাহী সদর স্টেশনের উপপরিচালক মনজিল হক।
তিনি বলেন, ‘আমাদের ছয়জন ডুবুরি আছেন। তারা পানির নিচে গিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছেন। পাশাপাশি নৌকা নিয়েও নদীতে চোখ রাখা হচ্ছে। দুজনকে উদ্ধার করতে অন্ধকার না হওয়া পর্যন্ত তাদের অভিযান চলবে বলেও তিনি জানান।
৫৩ দিন আগে
মেঘনায় নৌকাডুবিতে নিখোঁজ ৩ জেলের মরদেহ উদ্ধার
বরিশালের হিজলা উপজেলায় মেঘনা নদীতে কালবৈশাখীর কবলে পড়ে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ বাবা-ছেলেসহ তিন জেলের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৭ মে) ভোরে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার ভাসানচর এলাকা থেকে নৌ পুলিশ স্থানীয় জেলেদের সহায়তায় নিখোঁজ জেলেদের মরদেহগুলো উদ্ধার করে।
নিহতরা হলেন—নুর ইসলাম জমাদ্দার (৫২) ও তার ছেলে ইব্রাহিম জমাদ্দার (৩১) এবং হারুন বিশ্বাস (৩৫)। গতকাল (মঙ্গলবার) সকালে পুরাতন হিজলা এলাকা থেকে নিখোঁজ হন তারা।
সোমবার (২৬ মে) বিকেলে হিজলা ফেরিঘাট এলাকায় মেঘনা নদীতে কালবৈশাখীর কবলে পড়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবে যায়। এ সময় নৌকায় থাকা ওই তিনজন নিখোঁজ হন।
হিজলা থানা নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোবিন্দ চন্দ্র দাস জানান, ওই নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার মরদেহগুলো পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
১১৫ দিন আগে
আন্দামান সাগরে নৌকাডুবি, রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশিসহ অন্তত ২৫০ জন নিখোঁজ
অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে আন্দামান সাগরে একটি নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ২৫০ জন নিখোঁজ হয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের শরণার্থী ও অভিবাসন বিষয়ক সংস্থাগুলো।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বুধবার (১৫ এপ্রিল) অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানান, ৯ এপ্রিল বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এম টি মেঘনা প্রাইড নৌকাটি ডুবে যাওয়ার পর সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় ৩ জন রোহিঙ্গা ও ৬ জন বাংলাদেশিসহ মোট ৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছিল। তবে নৌকাটি কখন ডুবেছে এবং বুধবার পর্যন্ত কোনো অনুসন্ধান অভিযান চলছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) এক যৌথ বিবৃতিতে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা জানায়, ট্রলারটি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থেকে বিপুল সংখ্যক যাত্রী নিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। অতিরিক্ত যাত্রী, প্রবল বাতাস এবং উত্তাল সাগরের কারণে নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবে যায়।
কক্সবাজারে ইউএনএইচসিআরের যোগাযোগ কর্মকর্তা শারি নাইজমান আজ (বুধবার) বলেন, এ বিষয়ে সংস্থাটির কাছে আর কোনো নতুন তথ্য নেই।
কোস্ট গার্ডের আরেকজন গণমাধ্যম কর্মকর্তা জানান, উদ্ধার হওয়া আটজন পুরুষ ও একজন নারী সবাই নিরাপদে আছেন। কোস্ট গার্ড তাদের উদ্ধার করে টেকনাফে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, এই উদ্ধার অভিযান কোনো আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান কার্যক্রমের অংশ ছিল না, কারণ ঘটনাস্থলটি বাংলাদেশের সীমানার বাইরে।
সরকারি নীতিমালার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি ফোনে এসব কথা বলেন।
ইউএনএইচসিআর এবং আইওএম জানায়, এই নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি এবং স্থায়ী সমাধানের অভাবকে প্রতিফলিত করে।
তারা জানায়, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতার কারণে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, সীমিত মানবিক সহায়তা এবং শরণার্থী শিবিরে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা অনেক ঝুঁকিপূর্ণ রোহিঙ্গাকে সমুদ্রপথে বিপজ্জনক যাত্রা বেছে নিতে বাধ্য করছে, যেখানে প্রায়ই উচ্চ আয় ও ভালো জীবনের মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া হয়।
ইউএনএইচসিআর এবং আইওএম আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছে, বাংলাদেশে অবস্থানরত ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য জীবনরক্ষাকারী সহায়তা নিশ্চিত করতে অর্থায়ন ও সংহতি জোরদার করার জন্য।
১৫৭ দিন আগে
চাঁদপুরে বাল্কহেডের ধাক্কায় নৌকাডুবি, আহত ৪
চাঁদপুরের মতলবে মেঘনা নদীর শাখা ধনাগোদা নদীতে বালুবাহী বাল্কহেডের ধাক্কায় যাত্রীবাহী নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এক দম্পতিসহ চারজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ধনাগোদা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান। পরে অবস্থার অবনতি হলে আহত দম্পতি সৌরভ (২২) ও রাহেলা আক্তারকে (২০) চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারা চাঁদপুর সদর উপজলার পূর্ব শ্রীরামদী এলাকার বাসিন্দা।
চাঁদপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রানা সাহা জানান, স্বামী-স্ত্রী দুজনের অবস্থাই এখন আশঙ্কমুক্ত। তবে তাদের হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের পরিবার জানান, তারা নৌকা চড়ে মতলব উত্তর থেকে মতলব দক্ষিণে আসার পথে নৌকাটি খেয়াঘাট এলাকায় বাল্কহেডের ধাক্কায় পানিতে ডুবে যায়। এ ঘটনায় নৌকার মাঝিসহ ৪ জন আহত হন। এ ঘটনায় সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
২০৭ দিন আগে
গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছে নৌকাডুবি, অন্তত ১৮ অভিবাসী নিহত
গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের উপকূলে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে একটি ফোলানো নৌকা উল্টে গিয়ে কমপক্ষে ১৮ জন অভিবাসী নিহত হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (৬ ডিসেম্বর) তুরস্কের একটি বাণিজ্যিক জাহাজ ডুবতে থাকা নৌকাটিকে দেখতে পায়। এরপর তারা গ্রিস কর্তৃপক্ষ জানায়।
নৌকাটিতে আরও কেউ ছিল কিনা, তা জানতে উদ্ধার অভিযান চলছে। নৌকাটি কোথা থেকে ছেড়ে এসেছিল, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থা ফ্রন্টেক্সের একটি জাহাজ ও একটি উড়োজাহাজ, গ্রিক কোস্টগার্ডের একটি হেলিকপ্টার এবং তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ অংশ নিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও এশিয়ার দারিদ্র্য ও সংঘাতপীড়িত অঞ্চল থেকে পালিয়ে আসা মানুষের জন্য ইউরোপের দেশগুলোতে প্রবেশের অন্যতম প্রধান পথ গ্রিস উপকূল। তবে এ যাত্রাপথে প্রায়ই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে থাকে।
ঝুঁকিপূর্ণ হলেও অল্প দূরত্ব হওয়ায় ফোলানো ডিঙ্গি বা ছোট নৌকায় করে তুরস্কের উপকূল থেকে গ্রিসের নিকটবর্তী দ্বীপগুলোতে যাতায়াতের এই নৌপথ ছিল অভিবাসনপ্রত্যাশীদের প্রধান রুট। তবে স্থানীয় নৌ-পুলিশের টহল বৃদ্ধি এবং ক্রমাগত পুশব্যাকের কারণে সম্প্রতি এই পথে অবৈধ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের চাপ কমে গেলেও বিকল্প পথ হিসেবে গত কয়েক মাসে লিবিয়া থেকে ক্রিট দ্বীপে তাদের আনাগোনা বেড়েছে।
২৮৬ দিন আগে
ভিয়েতনামে পর্যটকবাহী নৌকাডুবে নিহত ৩৭, নিখোঁজ ৫
ভিয়েতনামে আকস্মিক বজ্রঝড়ের কবলে পরে একটি পর্যটকবাহী নৌকা ডুবে অন্তত ৩৭ জন নিহত হয়েছেন। ওই নৌকার আরও ৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৯ জুলাই) বিকালে উত্তর ভিয়েতনামের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র হা লং বে এলাকায় ভ্রমণের সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে, ‘ওয়ান্ডার সি’ নামের ওই নৌকাটিতে ৪৮ জন যাত্রী ও ৫ জন নাবিক ছিলেন। তাঁরা সবাই ভিয়েতনামের নাগরিক।
এদিকে, স্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ভিএনএক্সপ্রেস জানিয়েছে, উদ্ধারকর্মীরা ১১ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছেন। বাকি ৩৭ জনের লাশ ঘটনাস্থলের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রবল ঝড়ো হাওয়ার কারণে নৌকাটি উল্টে যায়। নৌকার উল্টে যাওয়া অংশের ভেতর আটকে পড়া ১৪ বছরের এক কিশোরকে চার ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার হয়। উল্টে গেলে নৌকার মধ্যে যেটুকু বাতাস আটকে গিয়েছিল, তা গ্রহণ করেই জীবিত ছিল সে।
অধিকাংশ যাত্রীই রাজধানী হ্যানয়ের বাসিন্দা এবং যাত্রীদের অন্তত ২০ জন শিশু ছিল বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেস।
এক প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা অনুযায়ী, শনিবার দুপুর ২টার দিকে আকাশ হঠাৎ অন্ধকার হয়ে যায়। এরপর পায়ের আঙুলের সমান আকারের শিলাবৃষ্টি শুরু হয়, সঙ্গে প্রবল বর্ষণ, বজ্রঝড় আর বিদ্যুৎ চমকাচ্ছিল।
ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী ফাম মিন চিন নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন বলে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে।
সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চালানো হবে এবং যেকোনো গাফিলতির ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুয়াং নিং প্রদেশের হা লং বে এলাকায় শত শত ছোট ছোট দ্বীপ-উপদ্বীপ ছড়িয়ে আছে। ২০১৯ সালে এখানকার দর্শনার্থীর সংখ্যা ছিল ৪০ লাখ। এটি একটি ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান।
এদিকে, ওই অঞ্চলের দিকে এগিয়ে আসছে একটি ক্রমবর্ধমান ঘূর্ণিঝড়। আবহাওয়া পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, ‘উইফা’ নামের ঘূর্ণিঝড়টি আগামী সপ্তাহে ভিয়েতনামের উত্তরাঞ্চল, বিশেষ করে হা লং বে উপকূলে আঘাত হানতে পারে।
৪২৬ দিন আগে
ব্রহ্মপুত্রে নৌকাডুবি: নিখোঁজের ২২ ঘণ্টা পর দুই শিশুর লাশ উদ্ধার
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চরফরাদি ইউনিয়নের চর আলগী গ্রামের তিন শিক্ষার্থী মাদরাসায় যাওয়ার পথে ব্রহ্মপুত্র নদে নৌকা ডুবে নিখোঁজ হওয়ার ২২ ঘণ্টা পর দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করেছেন নিহতের স্বজনরা।
বুধবার (২ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে ময়মনসিংহ জেলার পাগলা থানার ১৫ নম্বর টাংগাব ইউনিয়নের বাঁশিয়া এলাকায় ব্রহ্মপুত্রের পাড়ের দিকে দুই শিশু লাশ ভাসতে দেখে স্বজনরা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চরফরাদি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান।
তিনি জানান, ভোরে নিহতের স্বজনরা নৌকা নিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে নিখোঁজ আবির (৭) ও জুবায়েদকে (৬) খুঁজতে বের হয়। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে এলাকায় দুজনের লাশ নদে ভাসতে দেখেন। পরে তাদের উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। তিন শিশুর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন: কিশোরগঞ্জে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু
এর আগে, মঙ্গলবার (১ জুলাই) সকালে ৯ শিক্ষার্থী একটি ছোট নৌকায় করে ব্রহ্মপুত্র নদ পাড়ি দিয়ে মাদরাসায় যাচ্ছিল। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দত্তের বাজার-সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ করে নৌকাটি ডুবে যায়। এর মধ্যে ৬ জন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও তিনজন নিখোঁজ হয়। নিখোঁজদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার তৎপরতা চালালেও তাদের খোঁজ মেলেনি।
এ সময় নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী চর আলগী গ্রামের মাইনুদ্দিনের মেয়ে শাপলা আক্তারকে (১৪) ঘন্টাখানেক পর মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও নিখোঁজ ছিল একই গ্রামের হাবিব মিয়ার ছেলে আবির ও মুমতাজ উদ্দিনের ছেলে জুবায়েদ। তারা তিনজন বিরুই নদীরপাড় দাখিল মাদরাসার শিক্ষার্থী।
ঘটনার প্রায় ২২ ঘণ্টা পর তাদের দুজনের লাশ উদ্ধার করেছে স্বজনরা।
৪৪৪ দিন আগে