অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে আন্দামান সাগরে একটি নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ২৫০ জন নিখোঁজ হয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের শরণার্থী ও অভিবাসন বিষয়ক সংস্থাগুলো।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বুধবার (১৫ এপ্রিল) অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানান, ৯ এপ্রিল বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এম টি মেঘনা প্রাইড নৌকাটি ডুবে যাওয়ার পর সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় ৩ জন রোহিঙ্গা ও ৬ জন বাংলাদেশিসহ মোট ৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছিল। তবে নৌকাটি কখন ডুবেছে এবং বুধবার পর্যন্ত কোনো অনুসন্ধান অভিযান চলছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) এক যৌথ বিবৃতিতে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা জানায়, ট্রলারটি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থেকে বিপুল সংখ্যক যাত্রী নিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। অতিরিক্ত যাত্রী, প্রবল বাতাস এবং উত্তাল সাগরের কারণে নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবে যায়।
কক্সবাজারে ইউএনএইচসিআরের যোগাযোগ কর্মকর্তা শারি নাইজমান আজ (বুধবার) বলেন, এ বিষয়ে সংস্থাটির কাছে আর কোনো নতুন তথ্য নেই।
কোস্ট গার্ডের আরেকজন গণমাধ্যম কর্মকর্তা জানান, উদ্ধার হওয়া আটজন পুরুষ ও একজন নারী সবাই নিরাপদে আছেন। কোস্ট গার্ড তাদের উদ্ধার করে টেকনাফে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, এই উদ্ধার অভিযান কোনো আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান কার্যক্রমের অংশ ছিল না, কারণ ঘটনাস্থলটি বাংলাদেশের সীমানার বাইরে।
সরকারি নীতিমালার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি ফোনে এসব কথা বলেন।
ইউএনএইচসিআর এবং আইওএম জানায়, এই নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি এবং স্থায়ী সমাধানের অভাবকে প্রতিফলিত করে।
তারা জানায়, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতার কারণে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, সীমিত মানবিক সহায়তা এবং শরণার্থী শিবিরে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা অনেক ঝুঁকিপূর্ণ রোহিঙ্গাকে সমুদ্রপথে বিপজ্জনক যাত্রা বেছে নিতে বাধ্য করছে, যেখানে প্রায়ই উচ্চ আয় ও ভালো জীবনের মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া হয়।
ইউএনএইচসিআর এবং আইওএম আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছে, বাংলাদেশে অবস্থানরত ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য জীবনরক্ষাকারী সহায়তা নিশ্চিত করতে অর্থায়ন ও সংহতি জোরদার করার জন্য।