খাগড়াছড়ি
খাগড়াছড়িতে টানা বৃষ্টিতে তলিয়েছে সড়ক, জনজীবনে দুর্ভোগ
খাগড়াছড়িতে টানা তৃতীয় দিনের মতো বৈরি আবহাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। চেঙ্গী নদীর পানি কিছুটা কমায় আশপাশের কয়েকটি এলাকা থেকে পানি নেমে গেলেও মাইনী নদীর পানি বেড়ে গিয়ে আশপাশের এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় জেলার চেঙ্গী নদী ও আশপাশের ছড়া-খালের পানি কিছুটা কমে এসেছে। তবে মহালছড়ির নিম্নাঞ্চল এবং জেলা সদরের লার্মাপাড়া, পেরাছড়া, দ্রোণাচার্যপাড়া ও ভাইবোনছড়ার কিছু এলাকায় এখনও জলাবদ্ধতা আছে।
অন্যদিকে, দীঘিনালা উপজেলার মাইনী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে সাজেকের কবাখালী ও লংগদু সড়ক এবং বড় মেরুং এলাকার সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে সাজেক ও লংগদু সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
এছাড়া খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কের বাঘাইহাট এলাকা নিচু হওয়ায় সেখানে পানি উঠেছে। ফলে এ রুটে আপাতত যানবাহন চলাচল বন্ধ আছে।
নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় অর্ধশতাধিক পরিবার আশ্রয়কেন্দ্র ও আশপাশের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।
এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত জানান, পাহাড়ধস ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত এলাকার মানুষের কথা বিবেচনায় রেখে ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। পাশাপাশি শুকনো খাবারসহ যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
১৩ দিন আগে
খাগড়াছড়িতে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত ৩
খাগড়াছড়ির সীমান্তবর্তী পানছড়ি উপজেলার চেঙ্গী ইউনিয়নের মধুমঙ্গলপাড়া এলাকায় পাহাড়ি আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোলাগুলিতে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুইজনকে অপহরণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে পানছড়ি-লোগাং সড়কের মধুমঙ্গলপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধুমঙ্গলপাড়ায় একটি অটোরিকশা থামিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে কাছ থেকে গুলি চালানো হলে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে একজন আগে জেএসএস (সন্তু লারমা) গ্রুপের সদস্য ছিলেন। তিনি গত ১৯ মে বিজিবি ক্যাম্পে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আত্মসমর্পণকে কেন্দ্র করে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরেই এ রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
নিহতরা হলেন— পদ্মা চাকমা (১৮), ধনা চাকমা (১৮) এবং রিয়েল চাকমা (১৮)। পদ্মা ও ধনা চাকমার বাড়ি রাঙ্গামাটিতে এবং রিয়েল চাকমার বাড়ি খাগড়াছড়ির পানছড়িতে। পদ্মা চাকমা সাংগঠনিক নামে পরিচিত ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনায় দুইজনকে অপহরণ করা হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে দাবি করা হলেও তাদের পরিচয় বা অপহরণের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইউপিডিএফ (প্রসিত গ্রুপ)-এর পানছড়ি উপজেলা সমন্বয়ক আইচ্যুক ত্রিপুরা বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে তাদের সংগঠনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
আবার, অন্য কোনো পক্ষেরও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাস্থল থেকে দুটি মিসফায়ার গুলি, ১৪টি ব্যবহৃত কার্তুজের খোসা এবং চারটি গুলি উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থল থেকে তিনটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এ ঘটনার পর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
১৫ দিন আগে
ঈদের ছুটিতে খাগড়াছড়ির পর্যটনকেন্দ্রে বাড়ছে দর্শনার্থীর ভিড়
ঈদুল আজহার ছুটিতে ধীরে ধীরে বাড়ছে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে দর্শনার্থীদের ভিড়। জেলার জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র আলুটিলা, জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্ক ও রিছাং ঝর্ণায় ঈদের দিন পর্যটক উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও ঈদের পরের দিন থেকে বাড়তে শুরু করেছে দর্শনার্থীর সংখ্যা।
তবে এখন পর্যন্ত স্থানীয় পর্যটকদের উপস্থিতিই বেশি দেখা গেছে।
পর্যটনসংশ্লিষ্টদের আশা, টানা ছুটির বাকি দিনগুলোতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আরও বেশি পর্যটকের আগমন ঘটবে।
ঘুরতে আসা অনেক পর্যটক খাগড়াছড়ির পাহাড়ি সৌন্দর্য, আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র ও রহস্যময় গুহা দেখে মুগ্ধতার কথা জানান।
বিশেষ করে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্টি হওয়া গুহার ভেতর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার অভিজ্ঞতা তাদের কাছে ছিল ভিন্নরকম রোমাঞ্চকর। অনেক পর্যটকের ভাষ্য, বিদেশে না গিয়ে দেশের ভেতরেই এমন মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা সম্ভব।
এদিকে, প্রত্যাশিত সংখ্যক পর্যটক না আসায় কিছুটা হতাশ হোটেল ও রিসোর্ট ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, দীর্ঘ ছুটি হলেও এখনো আশানুরূপ বুকিং হয়নি। তবে সামনে পরিস্থিতি বদলাবে বলে আশাবাদী তারা।
হোটেল অরণ্য বিলাসের সহকারী ম্যানেজার রাজিব দে বলেন, ছুটির বাকি দিনগুলোতে পর্যটক বাড়লে ব্যবসাও চাঙা হবে বলে তারা আশা করছেন।
ঈদে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পর্যটনকেন্দ্রে পুলিশি নিরাপত্তার পাশাপাশি মোবাইল টিমও কাজ করছে।
কোনো পর্যটক সমস্যায় পড়লে দ্রুত সহায়তার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে টুরিস্ট পুলিশ।
টুরিস্ট পুলিশের সহকারী পুলিশ পরিদর্শক নয়ন বড়ুয়া বলেন, পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে।
খাগড়াছড়ির উল্লেখযোগ্য পর্যটনকেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র, রহস্যময় গুহা, জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্ক, ঝুলন্ত সেতু, নয়নাভিরাম লেক, মায়াবিনী লেক, হাতিমাথা পাহাড়, দেবতা পুকুর ও তৈদু ছড়া ঝর্ণা।
৫৩ দিন আগে
খাগড়াছড়িতে পৃথক ঘটনায় ২ জনের মরদেহ উদ্ধার
খাগড়াছড়ির রামগড়ে পৃথক ঘটনায় দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে একজন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। অপরজনের মৃত্যুর কারণ এবং পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি।
সোমবার (১৮ মে) সকালে জালিয়াপাড়া-রামগড় সড়কের নাকাপা বাজার এলাকার একটি যাত্রীছাউনির সামনে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত ও মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে কাজ চলছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এদিকে, গতকাল (রবিবার) রাতে নাকাপার চাষিনগর এলাকায় ঢাকাগামী শান্তি পরিবহনের একটি বাসের চাকা বিকট শব্দে ফেটে যায়। পরে বাসটি সড়কের এক পাশে থামিয়ে চাকা পরিবর্তনের কাজ চলছিল। এ সময় কয়েকজন যাত্রী বাস থেকে নেমে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। বাসের চাকা মেরামতের সময় একইমুখী দ্রুতগতির শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই শাহ আলম নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। এ দুর্ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন বলে জানায় পুলিশ।
নিহত শাহ আলম খাগড়াছড়ি পৌরসভার শান্তিনগর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি চিকিৎসা নিতে ঢাকায় যাচ্ছিলেন বলে জানা গেছে। আহত ব্যক্তিকে রামগড় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
নাকাপা পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কাউছার পৃথক ঘটনায় দুটি মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
৬৫ দিন আগে
খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় বেইলি সেতু ভেঙে যান চলাচল বন্ধ
খাগড়াছড়িতে দীঘিনালা–রাঙামাটির লংগদু সড়কের একটি বেইলি সেতুর পাটাতন ভেঙে পড়ায় সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও দুরপাল্লার যাত্রীরা।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাতে সড়কের দীঘিনালার বোয়ালখালী চৌমুহনী এলাকারে এই বেইলি সেতুটি ভেঙে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল (বুধবার) রাতে পাথরবোঝাই একটি ট্রাক সেতু পার হওয়ার সময় হঠাৎ পাটাতনের একটি অংশ ধসে পড়ে। এতে ট্রাকটি সেতুর মাঝখানে আটকে যায়।
এ ঘটনার পর থেকেই দীঘিনালা থেকে মাইনি ও লংগদুগামী বাস, ট্রাকসহ সব ধরনের দূরপাল্লার যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা জানান, আটকে পড়া ট্রাকটি সরিয়ে মেরামত করে পুনরায় যানবাহন চালু করতে আজকের দিনটা সময় লাগতে পারে। তবে বিকল্প সড়কে আপাতত ছোট যান চলাচল করছে বলে জানান তিনি।
৮২ দিন আগে
পাহাড়ে বর্ষবরণ উৎসবের বর্ণিল সূচনা
পাহাড়ে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণ উৎসব। খাগড়াছড়িতে চাকমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ফুল বিজুর মধ্য দিয়ে এ উৎসবের সূচনা হয়েছে।
চেঙ্গী ও মাইনী নদী এবং আশপাশের ছড়া ও খালে ফুল উৎসর্গের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে চাকমাদের ফুল বিজু।
খাগড়াছড়ির খবংপুড়িয়া ও রিভারভিউ পয়েন্ট দিয়ে রবিবার (১২ এপ্রিল) ভোর থেকেই শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ দলবদ্ধভাবে নদীতে গিয়ে গঙ্গাদেবীর উদ্দেশ্যে ফুল নিবেদনের মাধ্যমে এই উৎসবের সূচন করেন।
এ সময় রঙিন ফুলে সাজানো চেঙ্গী নদীর দুই তীর যেন উৎসবের বর্ণিল রূপ ধারণ করে। পুরনো বছরের দুঃখ-গ্লানি ভুলে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর প্রতীক হিসেবেই ছিল এই আয়োজন।
ফুল পূজা দেখতে ও অংশ নিতে নদীর পাড়ে ভিড় করেন শত শত মানুষ। এ সময় ফুল পূজা পরিদর্শন করেন খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভুইয়ার সহধর্মিনী জেলা বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা জাকিয়া জিনাত বিথী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমএন আবছারসহ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।
আগামীকাল বাংলা বছরের শেষ দিন চাকমাদের মূল বিজু। মূল বিজুর দিন পাহাড়ি পল্লীর ঘরে ঘরে নানা ধরনের সবজি মিশিয়ে রান্না করা হবে একধরনের সুস্বাদু নিরামিষ জাতীয় সবজি, যা ‘পাজন’ নামে পরিচিত।
পাজনের স্বাদই অন্যরকম। একেবারেই আলাদা। এই পাজনের সবজি দিয়ে অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়। সঙ্গে থাকে নানা ফল, ঐতিহ্যবাহী ঘরে তৈরি পিঠা। সেদিন সবার দুয়ার খোলা থাকে। এ যেন পারস্পরিক সম্পর্কের সম্মিলন।
বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন পালিত হবে চাকমাদের ‘গইজ্জা পইজ্জা’ উৎসব। সেদিন হবে পাড়া পাড়া ঘুরে বেড়ানো। আর আনন্দ স্নাত উল্লাস।
১০০ দিন আগে
খাগড়াছড়িতে আগুনে পুড়ে ছাই ৯ দোকান
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার কবাখালী ইউনিয়নের পাবলাখালী শান্তিপুর এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। এরপর মুহূর্তের মধ্যেই তা আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, আগুন লাগার পরপরই আশপাশের লোকজন এগিয়ে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান, তবে ততক্ষণে আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে। পরে খবর পেয়ে দীঘিনালা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার আগেই ৯টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
দীঘিনালা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার পঙ্কজ কুমার বড়ুয়া জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। এতে প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী উৎপল দেওয়ান বলেন, ‘বৈসাবি, বিজু ও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আমার কাপড়ের দোকানে প্রায় দেড় লাখ টাকার নতুন মালামাল তুলেছিলাম। রাতে দোকান বন্ধ করে বাসায় যাওয়ার পর আগুনের খবর পেয়ে এসে দেখি আমার দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এতে আমার প্রায় দুই থেকে তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।’
চা ও ফটোকপি দোকানদার সুরেশ চাকমা জানান, ‘আমি সকালে খবর পেয়ে এসে দেখি, আমার দোকানের কিছুই অবশিষ্ট নেই, সবকিছু পুড়ে গেছে।’
স্থানীয়দের মতে, অগ্নিকাণ্ডে ৯টি দোকানে মোট ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে।
দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ আজ সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনা হঠাৎ করেই ঘটে এবং এতে ব্যাপক ক্ষতি হয়। বর্তমানে শুকনো মৌসুম চলায় সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।’
১০১ দিন আগে
বৈসাবিকে স্বাগত জানিয়ে খাগড়াছড়িতে বর্ণিল আয়োজন
পাহাড়জুড়ে উৎসবের আমেজ। পুরোনো বছরকে বিদায় আর নতুন বছরকে বরণ করে নিতে রঙ, সুর আর ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে খাগড়াছড়িতে শুরু হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান সামাজিক উৎসব ‘বৈসাবি’র আয়োজন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনের সূচনা হয়।
জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে শান্তির প্রতীক পায়রা ও রঙিন বেলুন উড়িয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা। এ সময় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
শোভাযাত্রাটি জেলা পরিষদ চত্বর থেকে শুরু হয়ে টাউন হল প্রাঙ্গণে গিয়ে এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় মিলিত হয়। পাহাড়ি ও বাঙালি—সব সম্প্রদায়ের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এটি পরিণত হয় উৎসবের এক অনন্য বহির্প্রকাশে। ঐতিহ্যবাহী পোশাক, রঙিন অলংকার আর বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে হাজারো নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণী ও শিশু-কিশোর অংশ নেয় এই আনন্দযাত্রায়।
১০৬ দিন আগে
অকটেন না পেয়ে ট্যাগ কর্মকর্তাকে পিটিয়ে হাত ভেঙ্গে দেওয়ার অভিযোগ
খাগড়াছড়িতে অকটেন না পাওয়ায় ফিলিং স্টেশনের দায়িত্বে থাকা ট্যাগ কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় তাকে পিটিয়ে হাত ভেঙ্গে দিয়েছে কয়েকজন যুবক।
সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুর পৌনে ৩টার দিকে জেলা সদরের মহাজন পাড়া এলাকায় মেহেরুন্নেছা ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।
আহত ট্যাগ কর্মকর্তা হেমন্ত চাকমা খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মচারী।
স্থানীয়রা জানান, খাগড়াছড়ি পৌর শহরের মেহেরুন্নেছা ফিলিং স্টেশনে সকাল ৯টা থেকে জ্বালানি তেল বিতরণ শুরু হয়। এ সময় ৫০০ টাকার অকটেন বিতরণ করা হলেও কয়েকজন যুবক প্লাস্টিকের বোতলে অতিরিক্ত অকটেন দাবি করেন। তবে হেমন্ত চাকমা সরকারি নির্দেশনা মেনে অতিরিক্ত তেল দিতে অস্বীকৃতি জানান।
এ ঘটনার পর যুবকেরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পরে দুপুরে মহাজন পাড়া এলাকায় দুপুরের খাবার খেতে এটি হোটেলে গেলে ওই যুবকরা হেমন্ত চাকমাকে সেখান থেকে বের করে লাঠিসোঠা দিয়ে হামলা চালিয়ে হাত ভেঙ্গে দেয়। আহত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয়রা তাকে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারিয়া সুলতানা জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
১০৬ দিন আগে
খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ নেতাকে গুলি করে হত্যা
খাগড়াছড়ির পানছড়িতে আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফের (গণতান্ত্রিক) এক নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার সুতাকর্মপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নীতি দত্ত চাকমা (৪৫) ইউপিডিএফের পানছড়ি উপজেলা সংগঠক ছিলেন। তিনি উপজেলার উত্তর শান্তিপুর এলাকার বাসিন্দা বর্ণনাতীত চাকমার ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনার সময় নীতি দত্ত চাকমা সুতাকর্মপাড়ার একটি দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় এক দল লোক সেখানে এসে তাকে লক্ষ্য করে কাছ থেকে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. জয়া ত্রিপুরা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই নীতি দত্ত চাকমার মৃত্যু হয়েছে।
পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।
ইউপিডিএফের কেন্দ্রীয় সংগঠক অমর চাকমা এই হত্যাকাণ্ডের জন্য প্রসিত খীসাপন্থি ইউপিডিএফকে দায়ী করেছেন। তবে এ বিষয়ে প্রতিপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
১১৬ দিন আগে