ইরান-ইসরায়েল সংঘাত
ইরানে সহস্রাধিক বেসামরিক নাগরিক নিহত, ইসরায়েল-হিজবুল্লাহর হামলা-পাল্টা হামলা
ইরানে মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ হামলার পর থেকে গত চারদিনে তেহরানে ১ হাজার ৯৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৮১ জনই দশ বছরের কম বয়সী শিশু।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩ মার্চ) প্রকাশিত মার্কিনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউমেন রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সির (এইচআরএএনএ) প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, বেসামরিক আহতের সংখ্যা ৫ হাজার ৪০২-এ পৌঁছেছে, যার মধ্যে ১০০ জনই শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ১০৪টি হামলা হয়েছে। হামলাগুলো সামরিক ঘাঁটি, চিকিৎসা কেন্দ্র এবং আবাসিক এলাকায় আঘাত হেনেছে।
এইচআরএএনএ বলেছে, বর্তমানে আরও শত শত মৃত্যুর ঘটনা যাচাই প্রক্রিয়াধীন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইসরায়েল ও লেবাননের হিজবুল্লাহ গোলাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে।
হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় গতকাল রাত ৮টায় উত্তর ইসরায়েলের হাইফা নৌ ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে তারা। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী পরে জানিয়েছে, বেশ কয়েকটি আঘাতকারী ক্ষেপনাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ শনাক্ত করা হয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা পর লেবাননের রাজধানী বৈরুতেও একটি বিশাল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
হিজবুল্লাহ পরে দাবি করেছে, তারা উত্তর ইসরায়েলের মেটুলা শহরের ইসরায়েলি বাহিনীর ওপরও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
এদিকে, ইসরায়েলের সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননের ১৬টি গ্রাম ও শহরের বাসিন্দাদের ঐ স্থান ত্যাগ করার নির্দেশ জারি করেছে। ওইসব এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে মাজদাল সেলম, হৌলা এবং শক্রা।
লেবাননের আল মায়াদিন টেলিভিশন জানিয়েছে, মাউন্ট লেবানন অঞ্চলের আরামউন এবং সাদিয়াত এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৬ জন নিহত হয়েছেন। বৈরুতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে তারা বলেছে, এ হামলায় আরও আটজন আহত হয়েছেন।
এর আগে, লেবানন জানিয়েছে, ইসরায়েলের হামলায় নিহতের সংখ্যা ৫০-এ পৌঁছেছে এবং ৩৩৫ জন আহত হয়েছেন।
১ দিন আগে
কুয়েতের বন্দরে ইরানি ড্রোন হামলায় নিহত ৬ মার্কিন সেনা
কুয়েতের একটি বেসামরিক বন্দরের ভেতরে অপারেশন সেন্টারে ইরানি ড্রোন হামলায় ৬ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় রবিবার (১ মার্চ) এ ড্রোন হামলা চালানো হয়। স্যাটেলাইট ছবির বিশ্লেষণ ও এক মার্কিন কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রটি প্রধান সেনাঘাঁটি থেকে কয়েক মাইল দূরে অবস্থিত।
গতকাল (মঙ্গলবার) আইওয়া-ভিত্তিক সরবরাহ ও লজিস্টিকস ইউনিটে কাজ করা নিহত এক সেনার স্বামী জানান, কেন্দ্রটি ছিল শিপিং কনটেইনারের মতো একটি ভবন এবং সেখানে কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল না।
সিএনএন ও সিবিএস নিউজে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পর, ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানে হামলা চালানোর সময় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছিল, সেটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইরান এর জবাবে কুয়েতসহ বিভিন্ন দেশে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শীর্ষ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা বলেছেন, আরও মার্কিনি হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সোমবার বলেন, একটি কৌশলগত অপারেশনস সেন্টারে আকাশ প্রতিরক্ষা ভেদ করে আসা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ছয় সেনা নিহত হন। পরদিন পেন্টাগন নিশ্চিত করে, পোর্ট শুয়াইবায় এটি ছিল ড্রোন হামলা এবং নিহত চার সেনার নাম প্রকাশ করে।
সোমবার তোলা এবং এপি পর্যালোচিত স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যায়, কমপ্লেক্সের প্রধান ভবনটি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং সেখান থেকে কালো ধোঁয়া উঠছে। এটি কুয়েত সিটির দক্ষিণে অবস্থিত সচল সমুদ্রবন্দর ও শিল্পাঞ্চল পোর্ট শুয়াইবার কেন্দ্রে অবস্থিত।
তদন্তাধীন বিষয় হওয়ায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন, ছবিটি রবিবারের হামলার স্থানই দেখাচ্ছে।
প্রধান সেনাঘাঁটি ক্যাম্প আরিফজান সেখান থেকে ১০ মাইলের বেশি দক্ষিণে। অপারেশন সেন্টারটি বাণিজ্যিক জাহাজের কনটেইনার খালাসের ঘাট থেকে প্রায় এক মাইল দূরে এবং চারপাশে তেল সংরক্ষণ ট্যাংক, শোধনাগার ও একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ছিল।
ফার্স্ট ক্লাস সার্জেন্ট নিকোল আমরের স্বামী জোয়ি আমর বলেন, ইরানি হামলার এক সপ্তাহ আগে তার স্ত্রীকে ঘাঁটির বাইরে শিপিং কনটেইনারের মতো একটি ভবনে স্থানান্তর করা হয়েছিল। মিনেসোটার ৩৯ বছর বয়সী নিকোল ওই হামলায় নিহত হন।
তিনি বলেন, তারা বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েছিল, কারণ তারা আশঙ্কা করছিল যে যে ঘাঁটিতে তারা ছিল সেটি হামলার লক্ষ্য হতে পারে। তারা মনে করেছিল, ছোট ছোট দলে আলাদা স্থানে থাকাই নিরাপদ।
অপারেশন সেন্টার নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, নিরাপদ স্থাপনাটি ছয় ফুট উঁচু দেয়াল দিয়ে সুরক্ষিত ছিল। তিনি দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বের সবচেয়ে বিস্তৃত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে; প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হচ্ছে।
তবে ড্রোন হামলার বিরুদ্ধে ওই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কী ভূমিকা রাখতে পারত বা বন্দরের কমান্ড সেন্টারের আশপাশে কী ধরনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল—এ বিষয়ে পারনেলের দপ্তর কোনো জবাব দেয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন থাকায় এ বিষয়ে মন্তব্য করা অনুচিত হবে।
১ দিন আগে
হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল করলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি তেহরানের
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় তেহরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকি এ প্রণালী দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করলে এতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (২ মার্চ) ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর এক উপদেষ্টা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, এ নৌপথ কার্যত বন্ধ, সেখানে প্রবেশ করলে জাহাজগুলোকে কঠোর জবাব মোকাবিলা করতে হবে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। এর ফলে এটি বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুটে পরিণত হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় আঘাত এখনও বাকি। তবে তিনি অভিযানের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান। শনিবারের মার্কিন পদক্ষেপকে তিনি ‘প্রতিরোধমূলক’ উল্লেখ করে বলেন, ইসরায়েলের হামলার জেরে ইরান মার্কিন বাহিনীর ওপর পাল্টা হামলা চালাতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই ওয়াশিংটন ব্যবস্থা নিয়েছে।
রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা এবং তাদের নৌবাহিনীর মাধ্যমে বৈশ্বিক জাহাজ চলাচলের ওপর সম্ভাব্য হুমকি সীমিত করা।
তিনি আরও বলেন, ইরানের জনগণের নেতৃত্বে পরিবর্তনকে যুক্তরাষ্ট্র স্বাগত জানাবে, তবে সরকার পরিবর্তন (রেজিম চেঞ্জ) এ অভিযানের উদ্দেশ্য নয়।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে হামলার পর প্রথমবারের মতো বক্তব্য দিয়ে সামরিক অভিযান শুরুর সিদ্ধান্তকে শেষ এবং সর্বোত্তম সুযোগ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনও বৃহৎ পরিসরের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
২ দিন আগে
দক্ষিণ ইরানে মেয়েদের স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত অন্তত ১৫৩
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দক্ষিণ ইরানের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে অন্তত ১৫৩ জন নিহত হয়েছে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের একটি স্কুলে এই হামলা চালানো হয়।
ইরান কর্তৃপক্ষ জানায়, বিদ্যালয়টি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) একটি ঘাঁটির কাছাকাছি অবস্থিত। অতীতেও আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর ইউনাইটেড স্টেটস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা ঘটনাটি নিয়ে পর্যালোচনা করছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, ওই এলাকায় কোনো ইসরায়েলি অভিযানের বিষয়ে তারা অবগত নয়।
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, শনিবার থেকে দেশজুড়ে বিমান হামলায় অন্তত ২০১ জন নিহত এবং ৭৪৭ জন আহত হয়েছেন।
জেনেভায় রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্টের কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার পরপরই জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।
এক কর্মকর্তা জানান, মিনাবের ওই স্কুলটিতে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে এবং এটি আইআরজিসি ঘাঁটি থেকে প্রায় ৬০০ মিটার দূরে অবস্থিত।
বিবিসির যাচাই করা ভিডিওতে দেখা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত ভবন থেকে ধোঁয়া উঠছে এবং চারপাশে আতঙ্কিত মানুষ জড়ো হয়ে চিৎকার করছে। তবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রবেশে কঠোর বিধিনিষেধ থাকায় হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ঘটনাটির নিন্দা জানিয়ে একে ‘বর্বরোচিত কাজ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আরেকটি কালো অধ্যায় যোগ করার অভিযোগ তুলেছেন।
মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সেন্টকমের মুখপাত্র টিম হকিন্স বলেন, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতি কমাতে সব ধরনের সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার পর ইরানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ বিদেশি শক্তিকে দোষারোপ করেছেন; আবার কেউ বিমান হামলার সতর্কতা, আশ্রয়কেন্দ্র ও ইন্টারনেট সুবিধার অভাবের জন্য ইরানি কর্তৃপক্ষকেই দায়ী করেছেন।
এ হামলা এমন সময়ে ঘটল, যখন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও কয়েকজন শীর্ষ কমান্ডারের মৃত্যুর পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক বিমান হামলা ইরানের বিভিন্ন শহরে অব্যাহত রয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
৩ দিন আগে
ট্রাম্পের ইরান হামলার নেপথ্যে
ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথ অভিযানে ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যে, তারা একসঙ্গে দেশটির শীর্ষ নেতা এবং আলেমদের লক্ষ্য করতে পারবে।
দুইজন পরিচিত সূত্রের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানায়, ইসরায়েলিরা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির চলাচল পর্যবেক্ষণ করছিল। এরই মধ্যে তারা দেখতে পায়, শীর্ষস্থানীয় আলেম ও কমান্ডারদের একত্রিত অবস্থায় হামলা চালানোর একটি সুযোগের জানালা খোলা রয়েছে।
ইরানি রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) খামেনির প্রতি অত্যন্ত বিশ্বস্ত হলেও তাদের ধারণা ছিল যে, খামেনির মৃত্যুর পর কেউ তার উত্তরসূরীর প্রতি একইভাবে অনুগত থাকবে না।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে একজন মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করে, তেহরানের একটি স্থাপনায় ইসরায়েলি হামলায় খামেনি এবং ৫ থেকে ১০ জন শীর্ষ ইরানি নেতা নিহত হয়েছেন। ট্রাম্প পরে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করেন যে, খামেনি নিহত হয়েছেন। পরবর্তীতে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনাও তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে।
ওইদিন এক ভিডিওবার্তায় কয়েক দিনব্যাপী চলতে পারে—এমন এই অভিযানের ঘোষণা দেওয়ার সময় ট্রাম্প কেন যুক্তরাষ্ট্র এই হামলা শুরু করেছে, তার নির্দিষ্ট কোনো কারণ বলেননি। তবে খামেনিকে লক্ষ্যবস্তু করার সুযোগটি হামলার সময়সীমাকে ত্বরান্বিত করেছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও আলোচনার প্রেক্ষাপট
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। ওমান দুই দেশের আলোচনায় মধ্যস্থতা করতে সহায়তা করছিল। এক্স পোস্টে তিনি বলেন, আমি হতাশ। সক্রিয় ও গুরত্বপূর্ণ আলোচনা পুনরায় ব্যর্থ হয়েছে। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ বা বৈশ্বিক শান্তির জন্য ভালো নয়।
হামলাগুলো ঘটেছে দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে, যখন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জেরাড কুশনার জেনেভায় ওমানের রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন। তারা বুঝতে চেষ্টা করছিলেন যে ইরান আলোচনায় বিলম্ব করছে কি না।
গত বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী চলা আলোচনায় উইটকফ এবং কুশনার ইরানকে তাদের তিনটি প্রধান পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র ফোরডো, ইসফাহান এবং নাতাঞ্জ ধ্বংস করতে চাপ দেন। এ কেন্দ্রগুলো গত বছর ট্রাম্পের হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। এ ছাড়াও অবশিষ্ট মজুদ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানান তারা।
তারা বলেছিলেন, যেকোনো চুক্তি হতে হবে স্থায়ী। ২০১৫ সালে ওবামা প্রশাসনের সময় করা চুক্তির মতো কোনো ‘সানসেট প্রোভিশন’ (যে ধারার মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময় পর বিধিনিষেধ উঠে যায়) রাখা যাবে না। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে সেই চুক্তি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন।
কিন্তু দিনশেষে উইটকফ এবং কুশনার হতাশ হন। পরবর্তীতে ট্রাম্পকে তার সামরিক বিকল্পগুলো সম্পর্কে ব্রিফ করেন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার।
কুপার এই হামলার সাফল্যের ব্যাপারে বেশ আশাবাদী ছিলেন।
হামলার পেছনের যুক্তি
শনিবার ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প অনেক কারণ বিবেচনা করে হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তার মধ্যে প্রধান কারণ ছিল ইরানের প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্রসমূহ।
ওই কর্মকর্তা বলেন, তারা প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছে। তারা এমনকি আমাদের সঙ্গে বা আমাদের আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গেও এ নিয়ে কথা বলতে চায়নি।
অন্য একজন কর্মকর্তা বলেন, পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ ‘শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে’—ইরানের এমন দাবি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সন্দেহ ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে চিরস্থায়ীভাবে বিনামূল্যে পারমাণবিক জ্বালানি দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু ইরান তা প্রত্যাখ্যান করে।
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গোয়েন্দা তথ্য ছিল যে ইরান তাদের সেই পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো পুনর্নির্মাণ করছে যা গত বছর ট্রাম্পের ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এ ধ্বংস হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করত, ইরান আংশিক সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ করছে এবং শেষ পর্যন্ত তারা কোনো চুক্তি চায় না।
ওই কর্মকর্তা বলেন, সত্যি বলতে প্রেসিডেন্টের কাছে কোনো বিকল্প ছিল না। আমরা এমন এক পৃথিবীতে বাস করতে পারি না, যেখানে এই লোকগুলোর কাছে কেবল ক্ষেপণাস্ত্রই নেই, বরং প্রতি মাসে ১০০টি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতাও রয়েছে। আমরা তাদের কাছে জিম্মি হয়ে থাকব না এবং আমাদের আগে তারা আমাদের আঘাত করুক, সেটি হতে দেব না।
৪ দিন আগে
ইরানে ‘বৃহৎ সামরিক অভিযান’ শুরুর ঘোষণা ট্রাম্পের
ইরানে নতুন করে হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে দেশটির রাজধানীসহ আশপাশের এলাকায় হামলা চালায় তারা।
প্রথম দৃশ্যমান হামলাটি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কার্যালয়ের কাছাকাছি এলাকায় হয়েছে বলে জানা গেছে। দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থানে হামলার খবর দিয়েছে ইরানি গণমাধ্যম। প্রকাশিত ভিডিওতে রাজধানী তেহরান থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে।
এদিকে, ফ্লোরিডার পাম বিচে নিজের বাসভবন মার-আ-লাগো থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, ইরানে ‘বৃহৎ সামরিক অভিযান’ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেছেন, এই অভিযানের লক্ষ্য হচ্ছে ‘ইরানি শাসনের আসন্ন হুমকি নির্মূল করে যুক্তরাষ্ট্রকে সুরক্ষা দেওয়া।’
ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, এই অভিযানে মার্কিনিদের হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে। সাহসী মার্কিন সেনানায়কদের প্রাণ হারাতে হতে পারে, হতাহতও হতে পারে। যুদ্ধে এমনই ঘটে।
একইসঙ্গে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, এসব ক্ষেপণাস্ত্র ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র, বিদেশে অবস্থানরত মার্কিন সেনা এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডকেও হুমকিতে ফেলতে পারে।
শনিবারের হামলাকে তিনি ‘বৃহৎ ও চলমান অভিযান’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এর উদ্দেশ্য ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ও শিল্পভিত্তি ধ্বংস করা, নৌবাহিনীকে অকার্যকর করা এবং আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পথ রুদ্ধ করা।
ইরানি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, ‘অস্ত্র সমর্পণ করুন, নয়তো নিশ্চিত মৃত্যুর মুখোমুখি হবেন।’ সেই সঙ্গে ইরানের জনগণকে সরকার পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
নতুন হামলার পটভূমি
হামলার আগের দিন শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনায় অগ্রগতির অভাব নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
হোয়াইট হাউস ত্যাগের সময় তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের যা দরকার তা দিতে রাজি নয়। এতে আমি সন্তুষ্ট নই। তারা পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে পারে না।’
সে সময় সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেছিলেন তিনি, যদিও সম্ভাব্য হামলা নিয়ে সরাসরি কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান।
গত জুন মাসে ১২ দিনের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কিছু পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। ইরান দাবি করেছে, এরপর থেকে তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বন্ধ রেখেছে। কিন্তু ওই সময় বোমাবর্ষণের শিকার স্থাপনাগুলোতে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়।
ইরান বর্তমানে স্ব-আরোপিত সীমাবদ্ধতায় তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ২ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত সীমিত রেখেছে। এরপরও মধ্যপ্রাচ্যের পুরো অঞ্চল এবং পূর্ব ইউরোপের কিছু অংশ ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় পড়ে।
আন্তর্মহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের প্রকাশ্য প্রমাণ না থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের মহাকাশ কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা করে আসছে।
ইরানের পাল্টা জবাব ও আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া
হামলার পর ইরানের আধা-সামরিক রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) জানায়, তারা ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে প্রথম দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
এরই মধ্যে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। তবে তারপরও ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত ইসরায়েল থেকে ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইরানের হামলার পর শুধু ইসরায়েল নয়, জর্ডানেও সাইরেন বেজে ওঠে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের পক্ষ থেকে সৃষ্ট ‘অস্তিত্বগত হুমকি’ দূর করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে হামলা চালানো হয়েছে। তার ভাষ্যে, ‘এই যৌথ অভিযান সাহসী ইরানি জনগণের নিজেদের ভাগ্য নিজেদের হাতে নেওয়ার পরিবেশ তৈরি করবে।’
ইসরায়েলের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশটির আকাশসীমা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হয়েছে। অবতরণের পথে থাকা উড়োজাহাজগুলোকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং অপেক্ষমাণ যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে পাঠানো হচ্ছে।
অন্যদিকে, ইরানের প্রতিবেশী ইরাকও তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় জানায়, আকাশসীমা বন্ধের আগে সব বিমান চলাচল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা জানিয়েছে, তারা আবারও ইসরায়েল ও সমুদ্রপথ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করবে।
এ বিষয়ে হুথির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, প্রথম হামলা আজ রাতেই হতে পারে।
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে এক সমঝোতার অংশ হিসেবে লোহিত সাগরে হামলা স্থগিত করেছিলেন হুথি যোদ্ধারা।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি
হামলার আগে ট্রাম্প প্রশাসন কয়েক দশকের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক সমাবেশ ঘটায়। জানুয়ারির শেষে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও তিনটি গাইডেড-মিসাইল ধ্বংসকারী রণতরী (ডেস্ট্রয়ার) ওই অঞ্চলে পৌঁছায়। পরে বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড ও চারটি ডেস্ট্রয়ার ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হয়ে বর্তমানে ভূমধ্যসাগরে অবস্থান করছে।
এসব সমরযানে যুক্ত হয়ে ওই অঞ্চলে অতিরিক্ত ১০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন হয়েছে।
কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটিতে হাজারো মার্কিন সেনাসদস্য অবস্থান করছেন। বড় আকারের হামলার উপযোগী শত শত যুদ্ধবিমান ও সহায়ক উড়োজাহাজও সেখানে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, সব কর্মীকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে নির্দেশ দিয়েছে কাতারে মার্কিন দূতাবাস। পাশাপাশি মার্কিন নাগরিকদেরও একই পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তেহরানের বিভিন্ন এলাকা থেকেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মেহরাবাদ বিমানবন্দর এলাকায় দুটি ভারী বিস্ফোরণে জানালা কেঁপে ওঠার কথা জানান এক বাসিন্দা। ভানাক এলাকায় আরেকজন প্রায় একই সময়ে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা বলেন।
পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হতে থাকায় হতাহতের পূর্ণাঙ্গ চিত্র তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে সামরিক, কূটনৈতিক ও আঞ্চলিক পর্যায়ে উত্তেজনা দ্রুত বেড়ে চলেছে।
৫ দিন আগে
তেহরানে ফের হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল
ইরানে নতুন করে হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে দেশটির রাজধানীসহ আশপাশের এলাকায় হামলা চালায় তারা।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এই হামলাকে ‘হুমকি অপসারণের’ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজধানী তেহরানে তারা বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দপ্তরের কাছাকাছি এলাকায় লক্ষ্য করে হামলাগুলো চালানো হয়েছে বলে ধারণা করছেন তারা।
খামেনি সেই সময় তার কার্যালয়ে ছিলেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় গত কয়েক দিন ধরে তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি।
তবে হামলার ফলে কোনও হতাহতের তথ্য এখনও জানা যায়নি।
পরবর্তীতে ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিস্ফোরণের খবর প্রচার করলেও এর কোনো কারণ উল্লেখ করেনি।
উল্লেখ্য, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে দেশটিকে চাপে রাখার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে এই অঞ্চলে যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজের এক বিশাল বহর মোতায়েন করেছে।
একই সময়ে পুরো ইসরায়েলজুড়ে সাইরেন বেজে ওঠে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ‘ইসরায়েল রাষ্ট্রের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার সম্ভাবনার বিষয়ে জনগণকে প্রস্তুত রাখতে একটি আগাম সতর্কতা জারি করেছে।
অপরদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনী এ হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
৫ দিন আগে
সংঘাতের পর প্রথমবার প্রকাশ্যে খামেনি
ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে এসেছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। পবিত্র আশুরার শুভেচ্ছা জানাতে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত একটি ফুটেজে তাকে দেখা গেছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (৫ জুলাই) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে আশুরার আগের দিন একটি অনুষ্ঠানে মসজিদে উপাসনাকারীদের শুভেচ্ছা জানাতে দেখা যায় খামেনিকে। ব্রিটিশ গণমাধ্যমে বিবিসির খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে, গত ১৩ জুন ইসরায়েলের হামলায় ইরানের শীর্ষ সামরিক ব্যক্তিত্ব ও পরমাণু বিজ্ঞানীদের নিহতের খবর ঘোষণার একটি রেকর্ড করা ভিডিওতে তাকে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল।
গত ১২ জুন ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর আকস্মিক হামলা চালায় ইসরায়েল। এরপর ইসরায়েলে পাল্টা বিমান হামলা চালায় ইরান। শুরু হয়ে যায় মধ্যপ্রাচ্যের এই দুই পরাশক্তির যুদ্ধ।
ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের ওই ১২ দিনের যুদ্ধ চলাকালে খামেনি টেলিভিশনে তিনটি ভিডিও বার্তায় উপস্থিত হয়েছিলেন। এরপর ছড়ায় তার বাঙ্কারে লুকিয়ে থাকার গুঞ্জন।
শনিবার ইরানি গণমাধ্যমে খামেনির এই উপস্থিতি ছিল প্রধান খবর। এমনকি টেলিভিশনে তার সমর্থকদের তাকে দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশের দৃশ্যও প্রচার করা হয়।
ফুটেজে খামেনিকে আরেক ধর্মীয় নেতা মাহমুদ কারিমির দিকে ঘুরে তার সঙ্গে ‘ও ইরান’ নামক দেশপ্রেমমূলক সঙ্গীতটি গাইতে দেখা যায়। এই গানটি ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় বিশেষভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, এই ভিডিওটি তেহরানের ইমাম খোমেনি মসজিদে ধারণ করা হয়েছে। মসজিদটি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম খোমেনির নামে নামকরণ করা।
তার এই প্রকাশ্য উপস্থিতির পর নিজেদের প্রতিক্রিয়ার ভিডিও পাঠাতে ইরানের জনগণকে আহ্বান জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।
শিয়া মুসলিম-প্রধান দেশটির জন্য শোকের মাস মুহাররম চলাকালে খামেনির এই উপস্থিতি প্রকাশ্যে এলো। এই উৎসবটি সাধারণত সর্বোচ্চ নেতার উপস্থিতিতে পালন করা হয়।
আশুরা মুহাররম মাসের ১০ম দিনে পালিত হয়। এদিন শিয়া মুসলমানরা মহানবী হজরত মুহাম্মদের (সা.) দৌহিত্র ইমাম হুসাইনের শাহাদাত স্মরণ করেন।
এর আগে, গত ২৬ জুন রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত আগের রেকর্ড করা বক্তব্যে খামেনি বলেছিলেন, ইরান ইসরায়েলের কাছে আত্মসমর্পণ করবে না। তার আগে ইরানকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পনের আহ্বান জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তার আগে গত ২২ জুন ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর মাধ্যমে ইসরায়েল-ইরান সংঘাতে সরাসরি যুক্ত হয় যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে যুদ্ধে যুক্ত হয়। এ অভিযানে ১২৫টি মার্কিন সামরিক বিমান অংশ নেয় এবং ইরানের ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়।
ইরানের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ১২ দিনের এই যুদ্ধকালে নয় শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: আদর্শ নাকি নমনীয়তা, কোন পথে যাবেন খামেনি
২৪২ দিন আগে
এক সপ্তাহের মধ্যেই গাজা যুদ্ধবিরতি হতে পারে: ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তার বিশ্বাস এক সপ্তাহের মধ্যেই ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে গাজা যুদ্ধবিরতি হতে পারে।
শুক্রবার (২৮ জুন) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই কথা জানান ট্রাম্প। তার দাবি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলাপের পর যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে তিনি আশাবাদী।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা মনে করি, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই যুদ্ধবিরতি হতে পারে।’ তবে তিনি কার সঙ্গে কথা বলেছেন, এ সময় তা প্রকাশ করেননি।
ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য-বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের দপ্তর অবশ্য গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য দিতে পারছে না।
বাইডেন সরকারের সময় গাজায় যে যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় চুক্তি হয়েছিল, সেটির অন্যতম মধ্যস্থতাকারী ছিলেন উইটকফ। তবে, মার্চে ইসরায়েল চুক্তি লঙ্ঘন করে আকস্মিক বিমান হামলা শুরু করলে সেই চুক্তি ভেঙে যায়।
এদিকে, কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদক নুর ওদ শুনিয়েছেন ভিন্ন কথা। তিনি জানান, ট্রাম্পের এই মন্তব্য গাজার ক্ষুধার্ত ও নিপীড়িত জনগণের জন্য আশার বাণী হতে পারে। তবে, বাস্তবে এই মুহূর্তে কোথাও কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হচ্ছে না।
তিনি বলেন, ‘ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির পর এই আলোচনা কিছুটা বেড়েছে। তবে ইসরায়েল এখনই গাজায় যুদ্ধ থামানোর কথা আলোচনা করতে চায় না।’
এই বিশ্লেষকের মতে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এই মুহূর্তে গাজায় যুদ্ধবিরতির কথা বললে উল্টো তিনিই রাজনৈতিকভাবে বড়সড় ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
বিভিন্ন সূত্রের বরাতে ওদ আরও বলেন, ‘আরব দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চাইলে নেতানিয়াহুকে কোনো না কোনোভাবে যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি দিতে হতে পারে। এই সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ প্রচেষ্টা মূলত ট্রাম্প প্রশাসনই এগিয়ে নিচ্ছে।’
অন্যদিকে হামাস বলছে, ইসরায়েলকে গাজায় সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে এবং তারা মার্চ থেকে যেসব অঞ্চল দখল করেছে, তা ছেড়ে দিতে হবে। এরপরই তারা যুদ্ধবিরতিতে যাবে।
হামাসের দাবি, যুদ্ধবিরতির পরবর্তী আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই নিশ্চয়তা দিতে হবে। পাশাপাশি ইসরায়েল যেন পুনরায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করতে না পারে, তারও নিশ্চয়তা চেয়েছে এই সংগঠনটি।
ইসরায়েলের কৌশল-বিষয়ক মন্ত্রী রন ডারমার আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে যাওয়ার কথা রয়েছে। এই সফরে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে গাজা, ইরান ও নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে আলোচনা করবেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।
২৫০ দিন আগে
গাজায় আগ্রাসন: যুদ্ধবিরতির ‘খুব কাছাকাছি’ হামাস-ইসরায়েল
ইরান-ইসরায়েলের ‘১২ দিনের যুদ্ধ’ থেমেছে, কিন্তু ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার মানুষের ভাগ্য এখনো পরিবর্তন হয়নি। তবে সেই সম্ভাবনা নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। গাজায় নতুন যুদ্ধবিরতির জন্য মধ্যস্থতাকারীরা জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের এক কর্মকর্তা। এদিকে, ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য-বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের দাবি, চুক্তির ‘খুব কাছাকাছি’ রয়েছে হামাস ও ইসরায়েল।
এদিকে, বুধবার (২৫ জুন) সকালে ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ৪৫ ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহতের খবর পাওয়া গেছে। তাদের অনেকেই ত্রাণ সংগ্রহের অপেক্ষায় ছিলেন বলে হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার হামাসের দাবি করা বোমা হামলায় সাত ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলছে
হামাস জানিয়েছে, গাজায় নতুন যুদ্ধবিরতি ও বন্দী ফেরতের বিষয়ে আলোচনা করতে তোড়জোড় করছেন মধ্যস্থতাকারীরা। তবে, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের পক্ষ থেকে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
ইসরায়েল ও ইরানের ১২ দিনের যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘গাজা নিয়ে বড় অগ্রগতি হয়েছে’।
ব্রাসেলসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের এই (ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায়) আক্রমণের কারণেই গাজায় বড় অগ্রগতি হচ্ছে। আমি মনে করি আমরা শিগগিরই ভালো কিছু শুনতে পাব।’
তিনি জানান, তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে কথা হয়েছে এবং তিনি বলেছেন, ‘গাজায় সমঝোতা খুবই কাছাকাছি।’
এর কিছুক্ষণ পরই হামাসের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বিবিসিকে জানান, মধ্যস্থতাকারীরা যুদ্ধবিরতি নিয়ে জোরালো প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে এখনও নতুন কোনো প্রস্তাব আসেনি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ইসরায়েলের এক কর্মকর্তা দেশটির সংবাদমাধ্যম হারেৎজকে জানিয়েছেন, আলোচনায় এখনো কোনো অগ্রগতি নেই এবং বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
আরও পড়ুন: সংঘাত থেকে কী পেল ইরান-ইসরায়েল?
এর আগে, মে মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিসরের সমর্থনে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তাতে হামাস গ্রহণযোগ্য নয়—এমন কিছু সংশোধনী দাবি করলে আলোচনা স্থবির হয়ে যায়।
ইসরায়েল ১৮ মার্চ গাজায় আবারও সামরিক অভিযান শুরু করে। বর্তমানে সেখানে অন্তত ৫০ জন ইসরায়েলি জিম্মি রয়েছে, যাদের মধ্যে কমপক্ষে ২০ জন জীবিত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সেই সঙ্গে মার্চের শুরু থেকে ইসরায়েল গাজায় সব ধরনের মানবিক সহায়তা প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়। তবে, আন্তর্জাতিক চাপের মুখে তিন মাস পর এটি আংশিক শিথিল করা হয়। এরপর ইসরায়েলের সমর্থনে যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচটি) নামে নতুন ত্রাণ বিতরণ কাঠামো চালু হয়েছে।
জিএইচটি দাবি করেছে, ২৬ মে থেকে এখন পর্যন্ত তারা ৪ কোটি ৪০ লাখের বেশি খাবারের প্যাকেজ বিতরণ করেছে। এমনকি, বুধবার ৩টি কেন্দ্রে ২৪ লাখের বেশি খাবারের প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে।
নতুন এই ত্রাণ ব্যবস্থার সঙ্গে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে জাতিসংঘসহ বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংস্থা। হামাসকে সহায়তা না দিয়ে ত্রাণ কার্যক্রম চালানোর এই বিষয়টিকে তারা মানবিক নীতিমালার পরিপন্থী বলে অভিহিত করেছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জিএইচটি কার্যক্রম শুরুর পর থেকে ত্রাণ সংগ্রহের সময় ৫৪৯ জন নিহত এবং ৪ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন।
বুধবারও কেন্দ্রীয় গাজায় জিএইচটির একটি ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রে ইসরায়েলি গুলিতে ছয়জন এবং দক্ষিণের রাফায় আরও তিনজন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে হামাসের সিভিল ডিফেন্স।
তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, এসব ঘটনায় তারা কোনো হতাহতের খবর পায়নি।
ইউনিসেফের মুখপাত্র জেমস এল্ডার গাজা সফর শেষে বলেন, ‘যতদিন মানুষকে খাবার থেকে বঞ্চিত করা হবে, তারা এই মৃত্যুফাঁদে যেতে বাধ্য হবে।’
৭ ইসরায়েলি সেনা নিহত
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, মঙ্গলবার দক্ষিণ গাজায় খানের ইউনিসে বিস্ফোরণে তাদের সাত সেনা নিহত হয়েছে। এটি যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘ইসরায়েলের জন্য এটি কঠিন দিন।’
ঘটনার পর নেতানিয়াহুর ওপর যুদ্ধবিরতির জন্য চাপ বাড়ছে। ইসরায়েলি পার্লামেন্টে তার জোটের শরিক দল ইউনাইটেড টোরাহ জুডাইয়াজমের নেতা মোশে গাফনি বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি না, আমরা কী নিয়ে লড়াই করছি যখন আমাদের সেনারা প্রতিনিয়ত মারা যাচ্ছে!’
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরায়েলে ১২০০ জন নিহত এবং ২৫১ জন জিম্মি হয়। এরপরই গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েল।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত সেখানে অন্তত ৫৬ হাজার ১৫৭ জন নিহত হয়েছেন।
২৫২ দিন আগে