বিএনপি মহাসচিব
সীমিত সম্পদ দিয়ে হলেও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে: মির্জা ফখরুল
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমাদের স্বাস্থ্যসেবার মান আগের চেয়ে উন্নত হচ্ছে। সিভিল সার্জন এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে যারা রয়েছেন তাদের বলব, নিজেদের সীমিত সম্পদ দিয়ে হলেও সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
রবিবার (১ মার্চ) সকালে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
ঠাকুরগাঁওয়ে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, হাসপাতাল পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য এবং স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে যা যা প্রয়োজন, তত্ত্বাবধায়ক সেগুলোর চাহিদা প্রেরণ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়াও রোগী ও স্বজনদের চলাচলের জন্য একটি লিফট জেলা প্রশাসন পক্ষ থেকে ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।
ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতাল ও জেলার সার্বিক স্বাস্থ্য সেবার বিষয়ে তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে, যেন এখানকার সব মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত হতে পারে।
নীতিমালায় রয়েছে একজন ডাক্তার একই কর্মস্থলে ৩ বছরে বেশি কর্মরত থাকতে পারবে না, কিন্তু হাসপাতালগুলোতে ৫-৭ বছর ধরে ডাক্তাররা কর্মরত রয়েছেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিষয়টি আমরা দেখব। দায়িত্ব গ্রহণের কেবল ১০-১২ দিন হলো, আস্তে আস্তে সব ঠিক করা হবে।
এ সময় মির্জা ফখরুলের সঙ্গে আরও ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেনসহ স্বাস্থ্যবিষয়ক কর্মকর্তারা।
৪ দিন আগে
গণতন্ত্রকে তার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার কাজগুলি করা হবে: মির্জা ফখরুল
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন যথাসময়ে হবে এবং গণতন্ত্রকে তার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার কাজগুলো করা হবে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) জুম্মার নামাজের পর নিজ নির্বাচনি এলাকা ঠাকুরগাঁওয়ের পৌর শহরের হাজিপাড়ায় হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের বহুতল ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের জনগণের কাছে আমি এমনিতেই ঋণী। বরাবরই তারা আমাকে সমর্থন দিয়ে গেছেন। নির্বাচনেও তারা আমাকে সমর্থন দিয়েছে এবং তাদের সমর্থনের কারণেই আজ আমি কাজ করার সুযোগ পেয়েছি।
দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, মাত্র ক’দিন হয়েছে, ১৭ তারিখে আমরা ক্ষমতা নিয়েছি। এখন দেশের পরিস্থিতি আগের চেয়ে যথেষ্ট ভালো রয়েছে।
রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা কাজ করছি। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে সচল করার কাজ চলছে।
পুলিশ হত্যার যে ঘটনাগুলি রয়েছে তা তদন্ত হয়েছে। বিএনপি নতুন করে আবারও এগুলো তদন্ত করবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যা বলেছে সেটাই হবে। যেহেতু এ বিষয়ে তদন্ত হয়েছে, দরকার হলে আবারও তদন্ত করা হবে। এ বিষয়টিতো এখনও আদালতে রয়েছে।
এটি একটি মীমাংসিত বিষয়, এটি নিয়ে কেন এত বাড়াবাড়ি এনসিপির এমন মন্তব্যের প্রেক্ষিতে মির্জা ফখরুল বলেন, এটি তারাই ভালো জানে, তাদেরকেই প্রশ্ন করেন।
এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীনসহ দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
৬ দিন আগে
সঠিক সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে: মির্জা ফখরুল
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচন সঠিক সময়েই অনুষ্ঠিত হবে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এসব কথা জানান।
মির্জা ফখরুল বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে সরকারি কতগুলো নিয়মকানুন আছে। সরকারি যেসব প্রথাগুলো আছে সেগুলোর মধ্যে কতগুলোর মেয়াদ আছে, কতগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে… সবগুলোকে এক জায়গায় নিয়ে এসে আমরা সরকারের তরফ থেকে একটা সঠিক সময়ে এই নির্বাচনগুলো দেওয়ার ব্যবস্থা করব। তবে নিঃসন্দেহে এই নির্বাচনকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।
প্রশাসক নিয়োগে নির্বাচন বিলম্বিত হবে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি হবে না বলে জানান।
আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি নয়াপল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যান। সেখানে দলীয় নেতা-কর্মী, সমর্থক ও কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি ছিল তার প্রথম দলীয় কার্যালয় পরিদর্শন।
সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়নের যোগ্যতা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নারী আসনের নির্বাচন, এটা তো আপনার পার্লামেন্টের সিদ্ধান্ত হবে। আর প্রার্থী মনোনয়নের যোগ্যতা হবে দলের আদর্শ, নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকতে হবে, জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, নিবিড় সম্পৃক্ততা থাকতে হবে; দলের জন্য ত্যাগ থাকতে হবে। আমাদের দলের মধ্যে যারা দলের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত আছেন, যাদের ত্যাগ রয়েছে, তাদের প্রাধান্য দেওয়া হবে।’
একই পরিবারের দুই সদস্যকে নারী আসনে মনোনয়ন দেওয়া হবে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা এখনই কিছু বলা যাবে না। এই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’
কিছু এলাকায় আওয়ামী লীগের কার্যালয় পুনরায় চালু হওয়ার খবর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা আমরা চাইনি। যেহেতু আইনগতভাবে বলা আছে যে তাদের (আওয়ামী লীগের) কার্যক্রম নিষিদ্ধ, সেইভাবে এটাকে দেখা হবে সব জায়গায়।’
১০ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত মাইলামের মৃত্যুতে বিএনপি মহাসচিবের শোক
বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক কূটনীতিক উইলিয়াম বি মাইলাম মারা গেছেন। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সেক্রামান্টো শহরে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। এই কূটনীতিক চলতি বছরের মার্চ মাসেও ঢাকা সফর করেছিলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শোকবার্তায় উইলিয়াম বি মাইলামের মৃত্যুতে গভীর শোক জানান এবং তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
শোকবার্তায় বিএনপি মহাসচিব বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি ও বাংলাদেশের সমসাময়িক বিষয় নিয়ে মাইলামের ছিল গভীর জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা। ১৯৬২ সালে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে যোগ দেওয়া এই পেশাদার কূটনীতিক ১৯৯০ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার নিষ্ঠাবান নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র–বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছিল।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে ১৯৯১ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার পর হাজারো মানুষের জীবনরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ‘অপারেশন সি অ্যাঞ্জেল’ সংগঠনে উইলিয়াম বি মাইলামের অবদান স্মৃতি হয়ে থাকবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষ হওয়ার পরও তিনি যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ক শক্তিশালী করতে কাজ করে গেছেন। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ নিয়ে দীর্ঘদিনের এক অভিজ্ঞ ও পরিচিত কূটনীতিকের জীবনাবসান হলো।
উল্লেখ্য, কর্মজীবন শেষে অবসর গ্রহণের পরেও মাইলাম যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মতামতধর্মী ত্রৈমাসিক সাময়িকী সাউথ এশিয়া পার্সপেকটিভসের সম্পাদক ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘রাইট টু ফ্রিডম’–এর প্রেসিডেন্টও ছিলেন তিনি। এছাড়া তিনি ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক চিন্তনপ্রতিষ্ঠান উইলসন সেন্টারের সিনিয়র স্কলার ছিলেন।
১৩ দিন আগে
ধর্মের নামে বিভ্রান্তি ছড়ানো কখনোই সঠিক রাজনীতি হতে পারে না: মির্জা ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, চরমোনাইসহ দেশের আলেম-ওলামারা বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী কোনো ইসলামি দল নয়। তারা ইসলামের কথা বলে প্রতারণা করছে। তারা বলছে, দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে জান্নাতে যাওয়া যাবে, নাউজুবিল্লাহ। কোনো প্রকৃত মুসলমান এমন কথা বিশ্বাস করতে পারেন না। মুসলমান বিশ্বাস করে আমলের ওপর। আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাত দেবেন কি দেবেন না, তা আমলের ওপরই নির্ভর করে।
বুধবার (৪ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচনি এলাকার নারগুণ ইউনিয়নের কিসমত দৌলতপুর দাখিল মাদরাসা মাঠে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, মা-বোনদের ভুল বুঝিয়ে বলা হচ্ছে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে নাকি জান্নাত পাওয়া যাবে। ধর্মের নামে এ ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানো কখনোই সঠিক রাজনীতি হতে পারে না।
তিনি বলেন, বর্তমানে একটি দল রাজনীতিতে সামনে আসছে যাদের আমরা আগে কখনো দেখিনি। আমাদের সঙ্গেই ছিল, একসঙ্গে চলেছে, এখন নির্বাচনে অংশ নিতে আসছে। এতে আপত্তি নেই, তবে রাজনীতিতে দয়া করে মিথ্যা কথা বলবেন না, গিবতকারীদের মতো গিবত গাইবেন না এবং অন্যের কুৎসা রটাবেন না।
তিনি আরও বলেন, টেলিভিশন ও পত্রিকায় এসেছে, জামায়াতের আমির সাহেব নারীদের নিয়ে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেছেন। যে দলের একজন নেতা মা-বোনদের ইজ্জত দিতে ও সম্মান করতে পারেন না, তাদের সম্পর্কে কটু কথা বলে, তারা কখনো বেহেশতে যেতে পারবে? তারা কি ভালো কাজ করতে পারবে?
বিএনপি মহাসচিব বলেন, গত ১৫ বছর ধরে দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। এবার ইনশাআল্লাহ জনগণ ভোট দিতে পারবে এবং একটি ভালো ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি কাজে বিশ্বাস করে, সমালোচনার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। আমরা দেশের উন্নয়ন ও মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার রাজনীতি করি।
তিনি বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছেলে তারেক রহমান একেবারেই জিয়ার মতো হয়ে উঠেছেন। দেশে ফিরেই তারেক রহমান বলেছেন— ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’, অর্থাৎ তার একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী এক বছরের মধ্যে ১ কোটি ছেলেমেয়ের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। মা-বোনদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করা হবে এবং সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হবে। এছাড়া যারা এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে সেই ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব সরকার নেবে।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে সর্বপ্রথম ভুট্টা চাষের সূচনা হয়েছে বিএনপির হাত ধরেই। কাজী ফার্মস আনার মাধ্যমে জেলায় ভুট্টা চাষ বেড়েছে, কৃষকরা উপকৃত হয়েছেন এবং বহু মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁওয়ে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ সময় আগামী ১২ তারিখ সকালে কেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।
২৯ দিন আগে
এবারের নির্বাচনকে কেউ বন্ধ করতে পারবে না: মির্জা ফখরুল
বিএনপির মহাসচিব ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনে দলটির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিগত সময়ে আমরা নির্বাচন নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র হতে দেখেছি। কিছু লোক থাকবেই নির্বাচনকে বানচাল করতে। কিন্তু আমার বিশ্বাস এবারের নির্বাচনকে কেউ বন্ধ করতে পারবে না, বানচাল করতে পারবে না।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মোহম্মদপুর ইউনিয়নের কাজিপাড়া ঈদগাহ ময়দানে এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের মানুষ আজ জেগে গেছে। আগের নির্বাচনগুলিতে তারা ভোট দিতে পারেনি। তাই এবার তারা পণ করেছে সামনের নির্বাচনে তারা ভোট দিয়েই ছাড়বে। আপনারাই ভোট পাহারা দেবেন—হিন্দু-মুসলিম সবাই যেন একজোট হয়ে ভোট দিতে পারেন।
বিগত ১৭ বছর ধরে দেশের মানুষ ফ্যাসিস্ট শাসনের নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছে। সেই অন্ধকার সময় পেরিয়ে এখন জনগণের হাতে আবার দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সুযোগ এসেছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে তিনি বলেন, এরকম নেতা আমরা চাইনা, যে নেতা অসংখ্য নেতা-কর্মীদের ছেড়ে পালিয়ে যায়। আমরা কোনো চোর-ডাকাতের দল করি না। আমরা শহিদ জিয়ার দল করি। আমাদের একটা আদর্শ আছে।
নিজ নেতা-কর্মীদের হয়ে মাফ চেয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের ছেলেরা নির্বাচনি কাজে যদি আগ বাড়িয়ে কিছু করে তাহলে তাদের ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। কেউ কিছু করে থাকলে তাদের হয়ে আমি ক্ষমা চাচ্ছি আপনাদের কাছে।
সভায় এক সমর্থকের দেওয়া ডিম ও মাটির ব্যাংক পেয়ে আবেগে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন বিএনপি মহাসচিব।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মার্কা ধানের শীষ। ১২ তারিখের নির্বাচনে আপনারা এ মার্কায় আমাকে ভোট দিয়ে শেষবারের মতো জনগণের সেবা করার সুযোগ করে দেবেন।
নির্বাচনি পথসভায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
৩২ দিন আগে
সরকারের ভেতরের একটি মহল গণতন্ত্রের শক্তিকে ক্ষমতায় আসতে দিতে চায় না: ফখরুল
দেশের গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি যাতে ক্ষমতায় আসতে না পারে, সরকারের ভেতর থেকে একটি মহল সচেতনভাবে সেই চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেছেন, ‘আমাদের অনেক বেশি সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। লক্ষ্য অর্জনের জন্য অনেক বেশি কাজ করতে হবে। আমরা যদি মনে করি, আমরা জিতে গেছি, সবকিছু ঠিক হয়ে গেছে, তাহলে বড় ভুল হবে। সরকারের ভেতরের একটি মহল অত্যন্ত সচেতনভাবে চেষ্টা করছে যে যারা গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি, তারা যাতে ক্ষমতায় আসতে না পারে। আজকে যখন দেখি, পত্রিকায় নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কর্মকর্তাকে, উপদেষ্টাকে আওয়ামী লীগের লোকজন হেনস্তা করছে, তখন কোথায় যাব আমরা? এটা আমাদের মধ্যে চরম হতাশা সৃষ্টি করেছে।’
বুধবার (২৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাব জহুর হোসেন চৌধুরী হলে খ্যাতিমান রাজনীতিবিদ কাজী জাফর আহমেদের দশম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘পত্রিকায় দেখলাম বিরাট করে খবর ছাপা হয়েছে, বাংলাদেশের একজন ব্যক্তি যিনি দেশে ব্যাংক লুটের জন্য বিখ্যাত, তিনি দিল্লিতে বসে শেখ হাসিনাকে আড়াই হাজার কোটি টাকা দিয়েছেন এবং পরিকল্পনা করেছেন, তারা কীভাবে ওই টাকা ব্যবহার করে বাংলাদেশের নির্বাচন বন্ধ করবে, হাসিনাকে আবার ফিরিয়ে আনবে।’
‘একটি অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে একটি ভয়াবহ ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত হয়ে গণতন্ত্রের যে ট্রানজিশন (রূপান্তর) সেখানে যেতে হবে, আমরা তার জন্য কাজ করছি। এরইমধ্যে অনেক কাজ হয়েছে। রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য যে বিষয়গুলো এসেছে, তার অনেকগুলোতে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছে, অনেকগুলোতে তারা একমত হতে পারেনি। নির্বাচনের একটি তারিখও ঘোষণা করা হয়েছে।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমরা ৩১ দফা কর্মসূচি প্রণয়ন করেছি যার মধ্যে সংস্কারের সবগুলোই আছে। আমরা প্রথম থেকেই সংস্কারের পক্ষে। আমরা তখন উপলব্ধি করেছিলাম, বিদ্যমান রাষ্ট্র কাঠামোতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। সংস্কারের জন্য যত সহযোগিতা লাগে, আমরা তা অন্তর্বর্তী সরকারকে করেছি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা কোথাও বাধা সৃষ্টি করিনি, কোনো বড় রকমের দাবি তুলে রাজপথে নেমে সরকারের বিরোধিতা করিনি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে কিছু রাজনৈতিক মহল পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনকে বানচাল ও ব্যাহত করার জন্য নিত্যনতুন দাবি তুলে ধরছে। এমনসব দাবি তারা তুলে ধরছেন, যার সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষ আসলে পরিচিতই না। যেখানে সংস্কার শব্দটির সঙ্গেই সাধারণ মানুষ পরিচিত নয়।’
আরও পড়ুন: রাতারাতি বৈষম্যের অবসান হবে না: মির্জা ফখরুল
জ্যেষ্ঠ এই রাজনীতিক বলেন, ‘সংখ্যানুপাতিক ভোট বোঝাতে সময় লাগবে; এটা বোঝানো খুবই কঠিন। এরপর কাকে ভোট দিলেন, আপনি তা জানেন না। ভাবলেন, এলাকায় একজন জনপ্রিয় মানুষ আছেন, তাকে লক্ষ্য করে ভোটটা দিলেন, কিন্তু দেখা গেল হয়ে গেলেন অন্যজন। এ বিষয়গুলো এখন আমাদের কাছেও পরিষ্কার নয়, সাধারণ মানুষের কাছেও নয়। অথচ এগুলো নিয়ে তারা জোরেশোরে হুমকি দিচ্ছে।
কেন তারা এমন করছে— প্রশ্ন রেখে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তো ঘরপোড়া গরু। আমরা দেখেছি, যখনই কোনো পরিবর্তন হয়, তখনই সেই সুযোগ অন্যরা নিয়ে নেয়। নির্বাচন আয়োজনে যত দেরি হয়, তত তারা সুবিধা পেয়ে যায়। এক-এগারোর সরকার দুই বছর থাকল এবং ফ্যাসিস্টের হাতে ক্ষমতা তুলে দিল। গত ১৫ বছর ধরে সেই ভোগান্তি আমাদের পোহাতে হয়েছে। তারা বাংলাদেশের অর্থনীতি শেষ করে দিয়েছে। রাজনৈতিক কাঠামো শেষ করেছে। মানুষের মন-মানসিকতা সবকিছু পরিবর্তন হয়ে গেছে।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমি রাজনীতিতে কোনোদিন হতাশ হইনি। সবাইকে সাহস দিয়েছি, অনুপ্রেরণা দিয়েছি। কিন্তু ইদানীং একটা হতাশার ছায়া ঘোরাঘুরি করছে। কেন? যেদিকে তাকাই, দেখি বেশিরভাগ মানুষ নষ্ট হয়ে গেছে। দুর্নীতি… আপনি কোনো অফিস-আদালতে যেতে পারবেন না। একজন ব্যবসায়ী বলেছেন, আগে এক লাখ টাকা দিতে হতো, এখন দিতে হয় পাঁচ লাখ টাকা।’
তিনি বলেন, ‘মনমানসিকতার মধ্যে যে পরিবর্তন নিয়ে আসার কথা ছিল, সেই পরিবর্তনটা আনতে পারেননি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে রাজনৈতিক নেতারাও তাতে জড়িত হয়ে পড়েছেন। যেটা বাংলাদেশের আরও বেশি ক্ষতি করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশকে বাঁচানোর জন্য আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসা দরকার। এ দেশটা আমাদের। ১৯৭১ সালে আমরা যুদ্ধ করেছি। আমাদের অনেককে গুলি খেতে হয়েছে। অনেকের ভাই-বোন-মা শহীদ হয়েছেন। বাড়িঘর পুড়ে গেছে। গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছে। সেই একাত্তরকে ভুলিয়ে দেওয়ার অনেক চেষ্টা চলছে। কিন্তু সেটা ভোলা সম্ভব নয়। যারা সেদিন সহযোগিতা করেছেন, তারাই আজ অনেক বড় বড় কথা বলছেন।’
১৯০ দিন আগে
নির্বাচনের ঘোষণা গণতন্ত্র উত্তরণের পথকে সুগম করবে: বিএনপি মহাসচিব
আগামী বছরের ফ্রেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা বাংলাদেশের গণতন্ত্র উত্তরণের পথকে সুগম করবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জুলাই ঘোষণাপত্রকে স্বাগত জানায় বিএনপি। প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচনের ঘোষণা গণতন্ত্র উত্তরণের পথকে সুগম করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বৈঠকের পর নির্বাচনের সময় ২০২৬ এর ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারণের ঘোষণাকে স্বাগত জানাচ্ছে বিএনপি। এই ঐতিহাসিক ঘোষণা গণতন্ত্র উত্তরণের পথকে সুগম করবে। এই ঘোষণাপত্রে রাজনৈতিক দলগুলো যে অঙ্গীকার করেছে, তা পালনের মধ্যদিয়ে এক নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে রূপান্তরের কাজ শুরু হবে।’
সরকার ও নির্বাচন কমিশন একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সর্বজনগ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে জুলাই ঘোষণাপত্র অনুষ্ঠানে অংশ নেবে বিএনপি
একটি কার্যকর জাতীয় সংসদ গঠনের মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দিতে সবাইকে এই নির্বাচন সফল করতে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।
তিনি বলেন, বিগত এক বছরে অনেক প্রতিকূলতা সত্তেও গণতন্ত্রের পথকে সুগম করার উদ্যোগের ও প্রয়োজনী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ড. ইউনূস, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট সব সদস্য যারা এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাদের আন্তকিরক ধন্যবাদ জানাচ্ছে বিএনপি এবং প্রত্যাশা করছে অতি দ্রুত রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কারের বাকি কাজগুলো সম্পন্ন হবে।
অধ্যাপক ইউনূস মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ ঘোষণা দিয়েছেন উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিএনপি এই ঘোষণাপত্রকে স্বাগত জানায়। বিএনপি বিশ্বাস করে ঘোষণাপত্রে রাজনৈতিক দলগুলো যে অঙ্গীকার করেছে, তা পালনের মধ্য দিয়ে এক নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে রূপান্তরের কাজ শুরু হবে। এর মাধ্যমে একটি সাম্য, মানবিক মূল্যবোধ ও ন্যায় বিচারের ভিত্তিতে সত্যিকারের প্রগতিশীল সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’
এ সময় নিহত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও আহতদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি সরকাররে প্রতি আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল তারেক রহমানকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, তিনি দীর্ঘ আট বছর গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে এই সাফল্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
তিনি বলেন, সব রাজনৈতিক দল, ছাত্র, কৃষক, শ্রমিকসহ সব স্তরের মানুষ এই সংগ্রামে অংশ নিয়েছে। তাদের অনেকে শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছে, পঙ্গু হয়েছেন। বিএনপি তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছে।
২১১ দিন আগে
জনগণের জীবনমান উন্নয়নে রাষ্ট্র সংস্কারের আহ্বান ফখরুলের
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রাষ্ট্রে সংস্কার ও কাঠামোগত পরিবর্তনের লক্ষ্য হওয়া উচিত জনজীবনে প্রকৃত উন্নয়ন, বিশেষ করে শিশুদের জন্য।
তিনি বলেন, ‘আমরা রাষ্ট্র কাঠামোর পরিবর্তন চাই, আমরা সংস্কার চাই। কিন্তু এই সংস্কার ও পরিবর্তন যদি আমাদের মানুষের সার্বিক উন্নয়নে সহায়তা না করে, যদি আমাদের শিশুদের জন্য একটি উন্নত ভবিষ্যৎ বা নিরাপদ জীবন নিশ্চিত না করে—তাহলে আমি মনে করি, এই সংস্কারের কোনো মূল্য থাকবে না।’
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) বনানীর কামাল আতাতুর্ক মাঠে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ এবং ‘মায়ের ডাক’-এর যৌথ আয়োজনে ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় শিশু’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এই অনুষ্ঠানে গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবার এবং জুলাই গণ-আন্দোলনে নিহত শিশুদের স্মরণ করা হয়।
তিনি গভীর হতাশা প্রকাশ করে বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে প্রিয়জন হারানো পরিবারগুলোকে সহায়তায় রাষ্ট্র খুব কম কিংবা কোনো পদক্ষেপই নেয়নি।
বিএনপি মহাসচিব আশা প্রকাশ করে বলেন, গুমের শিকার ও গণআন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত শিশু ও পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে সরকার জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি, আমাদের এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার—যদিও বিলম্বিতভাবে—তাদের পুনর্বাসনকে অগ্রাধিকার দেবে, যেসব পরিবার, তাদের পিতা, আত্মীয় বা ভাইদের খুঁজে বেড়িয়ে কষ্ট ও যন্ত্রণার ভেতর দিয়ে গেছে।’
আরও পড়ুন: ভাড়াটে লোক দিয়ে দেশ চালানো যাবে না: ফখরুল
গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের কার্যকারিতা নিয়েও সমালোচনা করেন ফখরুল। তিনি বলেন, ‘একটি তদন্ত কমিশন গঠিত হলেও তারা কেবল একটি প্রতিবেদন দিয়েছে। আমি মনে করি না তারা খুব বেশি অগ্রগতি করেছে—না নিখোঁজদের খোঁজে, না ঘটনার সত্য উদঘাটনে।’
বিএনপি নেতা বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গুম বা হত্যার শিকার পরিবারগুলো—এমনকি শিশুদেরও—মানুষের হারানো অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দীর্ঘ লড়াইয়ে বিপুল ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘গত বছর ৫ আগস্ট দেশে যে পরিবর্তন ঘটেছিল, তাতে অনেকে ক্ষমতার চূড়ায় পৌঁছেছেন—কেউ হয়েছেন মন্ত্রী, কেউ শীর্ষ কর্মকর্তা, কেউ গড়ে তুলেছেন বিশাল ব্যবসা। কিন্তু আমাদের শিশুদের জন্য আমরা সেইভাবে এগোতে পারিনি।’
ফখরুল বলেন, তারা আশা করেছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন হলেও বর্তমান সরকার গুমের শিকার শিশু ও পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের জন্য একটি বিশেষ সেল গঠন করবে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, তা হয়নি।’
তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এলে গুম ও সহিংসতার শিকার শিশু ও পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তার বক্তব্যের শেষদিকে ফখরুল এক আবেগঘন আহ্বান জানান, ‘চলুন আমরা সবাই মিলে এগিয়ে আসি এবং এই শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তুলি—সেই শিশুটি যে এখনও একটি প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে আছে, তার বাবার ফিরে আসার অপেক্ষায়। আমরা জানি না, সেই বাবা বেঁচে আছেন কি না, তাকে ফিরিয়ে আনতে পারব কি না—কিন্তু অন্তত আমরা তার একটি সুন্দর জীবন ও আশাব্যঞ্জক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারি। এই ঋণ কখনোই শোধ করা সম্ভব নয়।’
২১৯ দিন আগে
ভাড়াটে লোক দিয়ে দেশ চালানো যাবে না: ফখরুল
জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত একটি গণতান্ত্রিক পদ্ধতিই সংস্কারের পূর্বশর্ত উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশ ও বিদেশ থেকে ভাড়াটে লোক এনে দেশ পরিচালনা করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, ‘দেশ-বিদেশ থেকে কিছু লোক ভাড়া করে কি একটা দেশ চালানো যায়? না, যায় না। এটিই সহজ সত্য, আমাদের তা বুঝতে হবে।’
শনিবার (২৬ জুলাই) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘জুলাই অভ্যুত্থান: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। জিয়া পরিষদের আয়োজনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। গত বছরের অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কর্মসূচিটি পালন করা হয়, যা শেখ হাসিনার ‘ফ্যাসিবাদী শাসনের’ পতনের সূচনা বলে মন্তব্য করেন ফখরুল।
তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ ভাবছেন, কয়েকটি বৈঠক করলেই সংস্কার হয়ে যাবে। এটা ঠিক নয়। সংস্কার একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, তা একদিনে হয় না।’
সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘সরকার যদি মনে করে আগামীকাল থেকে পুলিশ ঘুষ খাওয়া বন্ধ করে দেবে, তাহলে তা হবে না। তাকে এমন একটি কাঠামো তৈরি করতে হবে, যেখানে ঘুষ খাওয়ার প্রবণতা নিরুৎসাহিত করা হবে।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বর্তমান আমলাতন্ত্র দেশের উন্নয়নের পথে প্রধান প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি নেতিবাচক একটি আমলাতন্ত্রে পরিণত হয়েছে। এটি পরিবর্তন করে ইতিবাচক আমলাতন্ত্রে রূপান্তর করতে হবে। আর তা করতে হলে জনগণকে এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত জনগণের কাছে ফেরা, তাদের চাহিদা জানা এবং সেই চাহিদার ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করা।’
পড়ুন: নির্বাচিত প্রতিনিধি ছাড়া প্রকৃত সংস্কার সম্ভব নয়: ফখরুল
নির্বাচন নিয়ে বিএনপির দাবিকে কেন্দ্র করে সমালোচনার জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা নির্বাচন নিয়ে কথা বলা শুরু করলেই বলা হচ্ছে বিএনপি শুধু ভোট চায়। কিন্তু কেউ কি ভেবে দেখেছে, আমরা কেন নির্বাচন চাই?’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের মাধ্যমেই প্রকৃত জন-প্রতিনিধি নির্বাচিত করা সম্ভব। আর যদি প্রতিনিধি না থাকে, তাহলে তারা সংসদে যাবে কীভাবে? আর যদি নির্বাচিত সংসদ না থাকে, তাহলে জনগণের শাসন কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে?’
আংশিক প্রতিনিধিত্বমূলক (পিআর) নির্বাচনী পদ্ধতি নিয়ে কিছু রাজনৈতিক দলের বক্তব্যের প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, ‘এই পদ্ধতির সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা এই পদ্ধতির পক্ষে জোরালো সুরে কথা বলছে। কিন্তু পিআর নির্বাচন কী—সাধারণ মানুষ তা বোঝে না।’
তিনি বলেন, ‘দেশে এই পদ্ধতি নিয়ে একধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষ যে পদ্ধতিতে অভ্যস্ত, সেটি হলো—রাজনৈতিক দল প্রার্থী মনোনয়ন দেবে, প্রতীক হবে ধানের শীষ, পাল্লা, হাতপাখা ইত্যাদি; আর ভোটাররা গিয়ে ভোট দেবে। এখন হঠাৎ করে বলা হচ্ছে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে।’
পিআর পদ্ধতির ব্যাখ্যায় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই পদ্ধতিতে জনগণ ব্যক্তিকে নয়, দলকে ভোট দেয়। এরপর দল যাকে ইচ্ছা তাকে সংসদ সদস্য মনোনয়ন দেয়। ফলে জনগণের পছন্দের, নিজেদের এলাকার কোনো নেতাকে তারা আর সংসদে পাঠাতে পারবে না।’
পড়ুন: পুরোনো আইনে বাংলাদেশকে আর চলতে দেবো না: নাহিদ ইসলাম
এই কারণেই বিএনপি জাতীয় সংসদের নিম্নকক্ষে পিআর পদ্ধতির নির্বাচনকে সমর্থন করে না বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন এক গভীর সংকটে রয়েছে। আমরা অপেক্ষা করছি, কখন গণতন্ত্রের পথে ফিরব। দেশ বর্তমানে রাজনৈতিক শূন্যতা এবং ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। আমাদের এখান থেকে বেরিয়ে একটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যা জনগণের কল্যাণে কাজ করবে।’
আওয়ামী লীগকে ‘ফ্যাসিবাদী শক্তি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, ‘তারা যে ক্ষতি করেছে তা পূরণ করা সহজ হবে না। তারা বিচার বিভাগ, প্রশাসন, স্বাস্থ্য খাত, বিশ্ববিদ্যালয় এমনকি রাজনৈতিক দলগুলোকেও ধ্বংস করেছে।’
বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কিছু পত্রিকায় যেসব অপকর্মের খবর প্রকাশিত হচ্ছে, তা নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি জিয়াউর রহমানের গড়া দল। এই দলের নেতৃত্ব ও কর্মীদের সততাই প্রধান ভিত্তি। সততা ছাড়া বিএনপি জনগণের সামনে দাঁড়াতে পারবে না।’
তিনি বলেন, ‘আজকাল পত্রপত্রিকায় যেসব খবর ছাপা হচ্ছে, সেগুলো বিএনপির আদর্শ বা জিয়াউর রহমানের মূল্যবোধের সঙ্গে মেলে না। তাই যারা বিএনপির রাজনীতি করছেন, তাদের জিয়াউর রহমানের আদর্শ অনুসরণ করতে হবে এবং অবশ্যই সৎ হতে হবে।’
২২২ দিন আগে