ডিগ্রেডেড এয়ারশেড
‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ সাভারে ইট পোড়ানো থামাবে কে?
বায়ুদূষণ চরম মাত্রায় পৌঁছানোয় রাজধানী ঢাকায় প্রবেশের প্রধান পথগুলোর অন্যতম সাভার উপজেলাকে ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা করেছিল সরকার। ওই ঘোষণার ফলে উপজেলাটিতে সব ধরনের ইটভাটায় ইট পোড়ানো ও প্রস্তুতের কার্যক্রম পরিচালনা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে সেই আদেশ গ্রাহ্য করার কোনো লক্ষণ নেই উপজেলার ইটভাটাগুলোর।
সরকারি আদেশকে কেবল ‘কাগুজে ঘোষণা’ হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে ইটভাটার মালিকরা তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। অনেকে আবার সরকারি অভিযান ঠেকাতে আদালতের অনুমতি নিয়েছেন বলে ভাটার সামনে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছেন। গেল বছরের শেষ দিকে বেশ কয়েকটি ইট ভাটার চিমনি ভেঙে দেওয়া হলেও আবার তা গড়ে নিয়ে চলছে ইট তৈরির কর্মযজ্ঞ।
সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত সাভার উপজেলায় মোট ৮৬টি ইটভাটা ছিল। এর মধ্যে বৈধ ইটভাটা ছিল ৫৯টি আর অবৈধ ইটভাটা ২৭টি। শুষ্ক মৌসুমে এসব ইটভাটার দূষিত বায়ু ঢাকা শহরে ঢুকে শহরের বায়ুদূষণের তীব্রতা অনেক বাড়িয়ে দেয়। দূষিত বায়ু ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যের ওপর অত্যন্ত ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। এ কারণে বায়ুদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২২-এর ক্ষমতাবলে ২০২৫ সালের ১৭ আগস্ট সরকার সমগ্র সাভার উপজেলাকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা করে পরিপত্র জারি করে। পরিপত্র অনুযায়ী, ঘোষিত এলাকায় সব ধরনের ইটভাটায় ইট পোড়ানো ও ইট প্রস্তুতের কার্যক্রম বন্ধ থাকার কথা।
তবে সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সরকারের নির্দেশনা মানার কোনো বালাই নেই ইটভাটাগুলোর। সাভারের আশুলিয়া বাজারের অদূরে তুরাগতীরে আশুলিয়া ব্রিকস ও এমসিবি ব্রিকসে ইট পোড়াতে দেখা যায়। ভাটাদুটিতে এবারের মৌসুমের শুরু থেকে ইট পোড়ানো হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।
৪ দিন আগে
ঢাকার বায়ুদূষণ রোধে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ চিহ্নিত করা হবে: পরিবেশ উপদেষ্টা
ঢাকা মহানগরীর বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে শিগগিরই ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিজ্ঞানসম্মতভাবে সুপারিশ দেওয়ার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হবে।
রাজধানীর বায়ুদূষণ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে মঙ্গলবার (১ জুলাই) আগারগাঁওস্থ পরিবেশ অধিদপ্তরে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে পরিবেশ উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। তিনি ঢাকার বায়ুদূষণ রোধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন।
একই বায়ু প্রবাহের অন্তর্গত একটি এলাকার বায়ুর গুণগতমান দূষণের কারণে পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ১৯৯৭ এর অধীন নির্ধারিত মানমাত্রা অতিক্রম করলে সেটিকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ার শেড’ বলে।
সভায় পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, ঢাকার পার্শ্ববর্তী এলাকায় বায়ুদূষণের উৎস শনাক্ত করতে কমিটি গঠন করা হবে এবং ইটভাটা নিয়ন্ত্রণে পার্বত্য চট্টগ্রাম, লক্ষ্মীপুরের রামগতিসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকার ইটভাটা পরিচালনা নিষিদ্ধ করা হবে।
এ সময়ে মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহনের বিরুদ্ধে বিআরটিএ’র সহযোগিতায় লাগাতার অভিযান চালানো হবে। নির্মাণসামগ্রী যত্রতত্র ফেলে রাখা, পার্ক বা উন্মুক্ত স্থানে আগুন দিয়ে পোড়ানো ও পাতা পোড়ানোর ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা শহরের ‘জিরো সয়েল’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে জনগণ ও কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করতে হবে। ঢাকা শহরের কোনও স্থানই পতিত রাখা যাবে না, সব জায়গায়ই গাছ লাগাতে হবে। পাতা পোড়ানোর হটস্পট চিহ্নিত করে সচেতনতামূলক পদক্ষেপ নিতে হবে। এ বিষয়ে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পত্র দেওয়া ও গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচার করতে হবে।
আমিন বাজার এলাকায় বালু রাখার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন এবং গাছ লাগানোর ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান পরিবেশ উপদেষ্টা।
সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ; মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম; পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড কামরুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
২০২ দিন আগে