ডাকাত চক্র
নওগাঁয় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ আটক ৭
নওগাঁয় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ডাকাতদলের সাত সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র, একটি ট্রাকসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নওগাঁ সদর মডেল থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
এর আগে আজ ভোরে সদর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের সাহাপুর এলাকার শহিদুল ইসলামের মিলের সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন— জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার বাসিন্দা আজাহার আলী (৪৫), জাহাঙ্গীর আলম (৪৪), সৈকত হোসেন (৩০), আবু হোসেন (৩৫) ও হাসান আলী (৩০) এবং বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলার বাসিন্দা রনি (৩২) ও হামিদুল ইসলাম (৩২)।
পুলিশ সুপার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, সদর উপজেলার সান্তাহার-নাটোর সড়কে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র, ট্রাক ও অন্যান্য মালবাহী যানবাহন নিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে সাহাপুর এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করেন তারা। তবে তাদের সাতজনকে আটক করা হয়। তবে তাদের সঙ্গে থাকা কয়েকজন পালিয়ে যান।
অভিযানকালে আসামিদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র, রেজিস্ট্রেশনবিহীন একটি ট্রাক, একটি মোটরসাইকেল, একটি ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান এবং আটটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
তিনি আরও জানান, আটকরা ডাকাত ও ছিনতাইকারী দলের সদস্য। রাস্তায় ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের উদ্দেশে তারা একত্রিত হয়েছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। তারা জয়পুরহাট ও বগুড়ায়সহ বিভিন্ন জায়গায় ডাকাতি ও ছিনতাই করে আসছিলেন। এই আসামিরা আটক হওয়ায় সড়কে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। পলাতক অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম, নওগাঁ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রদীপ ব্যানার্জি, উপপরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমানসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৬ দিন আগে
চালক-সহকারীর হাত-পা বেঁধে ধানবোঝাই ট্রাক ডাকাতি, গ্রেপ্তার ৬
নওগাঁয় ধানবোঝাই একটি ট্রাক ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ডাকাতি হওয়া ট্রাকটি উদ্ধার করার পাশাপাশি ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত সাতটি মোবাইল ফোন উদ্ধার জব্দ করা হয়েছে।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
গ্রেপ্তাররা হলেন— গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শিবপুর গ্রামের রফিকুলের ছেলে আরিফুল ইসলাম আরিফ (৩০), বড় বাতাইল গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে রফিকুল ইসলাম অপু (৩১), একই উপজেলার রাজা মিয়ার ছেলে সাজিদুল ইসলাম সবুজ (২৩), পলুপাড়া গ্রামের হাসেন আলীর ছেলে গোলাপ (২৪), সদুল্যাপুর উপজেলার বলিদহ গ্রামের ওয়াহেদ আলীর ছেলে লাভলু (২৮) এবং বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার চরকাকাটা চানপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেন শরীফের ছেলে রাকিব হোসেন শরীফ (২৭)।
পুলিশ সুপার জানান, গত ২২ জানুয়ারি দিনাজপুর জেলার বদরগঞ্জ থেকে একটি ট্রাক ২৫০ বস্তা (৫০০ মন) ধান নিয়ে নওগাঁয় আসছিল। এরপর রাত দেড়টার দিকে নওগাঁ সদর উপজেলার কীর্ত্তিপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের ফাঁকা রাস্তায় ট্রাকটি পৌছাঁলে সামনে ব্যারিকেড দেয় ডাকাতদল। পরে ট্রাকের চালক মারুফ ও সহকারী শামীমকে মারধর করে রশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে তারা ধানবোঝাই ট্রাকটি নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় সদর থানায় একটি মামলা হলে ডাকাতদের গ্রেপ্তার ও লুন্ঠিত মালামাল উদ্ধারে মাঠে নামে পুলিশ। একপর্যায়ে শিবগঞ্জ থানার মোকামতলা তদন্তকেন্দ্রে একটি ট্রাক ও সন্দেহজনক আরিফুল ইসলাম আরিফকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি তাকে নিয়ে গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গোলাপ ও লাভলুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাদের সঙ্গে নিয়ে দলের সর্দার সামিউল ইসলামকে ধরতে গাজিপুরে অভিযান চালানো হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি পালিয়ে যান।
পরবর্তী সময়ে আশুলিয়া, সাভার, কামরাঙ্গীরচর এলাকায় দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে শরীফ, অপু ও সবুজকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ট্রাক জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় অন্য ডাকাতদলটির অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং ডাকাতির মালামাল উদ্ধারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার তারিকুল।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
১০১ দিন আগে