যুদ্ধবিরতি
যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েলের হামলা, লেবাননে ২ সেনা কর্মকর্তাসহ নিহত ৯
নতুন যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছানোর কয়েক দিনের মাথায় দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে লেবাননের সেনাবাহিনীর একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, একজন ক্যাপ্টেন এবং অপর এক সেনাসদস্য রয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবানিজ সেনাবাহিনী ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
শনিবার (৬ জুন) নাবাতিয়েহ ও মারজাইউন শহরের মধ্যবর্তী সড়কে একটি গাড়িতে চালানো বিমান হামলায় ওই দেশটির সেনাবাহিনীর ওই তিন সদস্য নিহত হন। সেনাবাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় প্রকাশ করেনি।
এদিকে, দক্ষিণাঞ্চলের সাকসাকিয়াহ গ্রামে পৃথক আরেকটি বিমান হামলায় ছয়জন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি।
দেশটির সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘লেবানন, আমাদের জনগণ ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অব্যাহত, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পুনরাবৃত্ত আগ্রাসন আমাদের সংকল্প, বিশ্বাস ও দৃঢ়তাকে আরও শক্তিশালী করছে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা এবং দখলকৃত লেবানিজ ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের লক্ষ্যে চলমান সব প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করাই এসব হামলার উদ্দেশ্য।
গাড়িতে হামলার বিষয়টি স্বীকার করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। তারা জানিয়েছে, ঘটনাটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
তবে তাদের দাবি, কফার তিবনিত গ্রামের কাছে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের দিকে হামলার জন্য হিজবুল্লাহ ওই এলাকা থেকে গোলাবর্ষণের প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন ‘নির্দিষ্ট তথ্য’ পাওয়ার পর গাড়িটির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় হামলা চালানো হয়।
বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অভিযান হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করেই পরিচালিত হয়, লেবাননের সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এ হামলাকে ‘লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ওয়াশিংটনে চলমান আলোচনার মাধ্যমে ইসরায়েলি হামলা বন্ধে লেবানন চেষ্টা চালিয়ে গেলেও দক্ষিণাঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ানো এই উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবানন সরকারের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে।
তবে হিজবুল্লাহ দেশটিকে যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলেছে বলে অভিযোগ করেছে দেশটির সরকার। সরকারের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সংঘাত শুরুর আগে সংগঠনটিকে নিরস্ত্র করারও চেষ্টা করা হয়েছিল, তবে হিজবুল্লাহ এই যুদ্ধবিরতি মেনে নেয়নি।
শুক্রবার লেবাননের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিরোধিতার জন্য ইরানের সমালোচনা করেন। তারা বলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় তেহরানের ‘দর-কষাকষির হাতিয়ার’ হিসেবে লেবাননকে ব্যবহার করা উচিত নয়।
এর জবাবে আজ শনিবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট আউনের বক্তব্য শুনলে মনে হবে ইরান লেবাননের এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড দখল করেছে, দেশটির এক-চতুর্থাংশ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করেছে এবং প্রতিদিন সেখানে বোমা হামলা।’
লেবাননের প্রেসিডেন্টকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘লেবানন যদি সত্যিই ইরানের দর-কষাকষির হাতিয়ার হতো, তাহলে বহু আগেই একটি চুক্তি হয়ে যেত। লেবাননকে প্রকৃত শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করুন।’
গত ২ মার্চ হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে রকেট হামলা চালানোর মাধ্যমে বর্তমান যুদ্ধের সূচনা হয়। এর দুই দিন আগে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করেছিল। এরপর ইসরায়েল লেবাননে স্থল অভিযান চালায় এবং ব্যাপক হামলা শুরু করে, যার ফলে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
বর্তমানে ইসরায়েলি সেনারা লেবাননের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে, যা ১৯৮২ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত চলা দখলদারত্বের অবসানের পর সবচেয়ে গভীর অনুপ্রবেশ। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে লেবাননে সাড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, সংঘাতে অন্তত ২৯ জন ইসরায়েলি সেনা ও তিনজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
১৪ ঘণ্টা আগে
ইরানের সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, কুয়েতে পাল্টা হামলা তেহরানের
চলতি সপ্তাহের শেষদিকে ইরান মার্কিন এমকিউ১ প্রিডেটর ড্রোন ভূপাতিত করার পর দেশটির রাডার ও ড্রোন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার মাঝেই দুই দেশের মধ্যকার সংঘাত ক্রমেই তীব্রতর হয়ে উঠছে। এর প্রভাব পড়ছে পুরো মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক জ্বালানির বাজারে।
স্থানীয় সময় সোমবার (১ জুন) মার্কিন সামরিক বাহিনী এ হামলার তথ্য জানিয়েছে।
এদিকে, ইরানও তাদের পাল্টা হামলার কথা স্বীকার করেছে। একই সময়ে কুয়েত জানিয়েছে, তারা নিজেদের আকাশসীমায় ঢুকে পড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতহত করেছে।
সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলায় এটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি এখন খুবই নাজুক অবস্থায় রয়েছে।
এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে এখনও নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে ইরান। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। কারণ, বিশ্বে বাণিজ্য হওয়া তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের পাঁচভাগের একভাগ এই জলপথ দিয়েই পরিবহন হয়।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ছে। ইসরায়েল লেবাননে লিতানি নদীর উত্তরের এলাকাগুলোতে নিজেদের দখল বাড়িয়েছে। একই সময়ে হিজবুল্লাহও ইসরায়েল লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শনি ও রবিবার ইরানের গেরুক শহর ও কেশম দ্বীপের আশপাশে তারা হামলা চালিয়েছে।
এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, এর আগে আন্তর্জাতিক জলসীমার উপরে উড়তে থাকা একটি মার্কিন এমকিউ ১ ড্রোন ভূপাতিত করে তেহরান। এর জবাবেই তারা এ হামলা চালিয়েছে।
সেন্টকমের দাবি, মার্কিন যুদ্ধবিমান দ্রুত অভিযান চালিয়ে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, একটি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন এবং দুটি ড্রোন ধ্বংস করেছে। ইরানের এসব সামরিক স্থাপনা উপসাগরীয় অঞ্চলে চলাচলকারী মার্কিন জাহাজগুলোর জন্য হুমকি ছিল বলে দাবি তাদের।
তারা আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী ধীরে ধীরে এমকিউ প্রিডেটর ড্রোনের ব্যবহার কমিয়ে আনছে। বর্তমানে তারা এমকিউ ৯ রিপার ব্যবহার করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে এখনও প্রিডেটর ড্রোন ব্যবহৃত হচ্ছে।
তবে এসব হামলায় কোনো মার্কিন সেনা আহত হননি বলে জানিয়েছে সেন্টকম।
কুয়েতে হামলা প্রতিহত
এদিকে কুয়েত জানিয়েছে, সোমবার ভোরে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠে। এ সময় তাদের আকাশসীমায় ঢুকে পড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্য করে তারা গুলি চালায়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির বিপ্লবী গার্ড দাবি করেছে, মার্কিন বাহিনী দেশটির একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ারে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু কোথায় ছিল, তা বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, তারা কুয়েতের হামলার কথাই উল্লেখ করেছে। কারণ কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি সেন্ট্রালের মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক ফরোয়ার্ড কমান্ড অবস্থিত।
পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ভিডিও প্রচার করা হয়। ভিডিওতে একটি ক্ষেপণাস্ত্রের গায়ে একটি স্টিকার দেখা যায়। স্টিকারে আঘাতপ্রাপ্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি, বন্ধ হরমুজ প্রণালির প্রতীক ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা হটাও লেখা ছিল।
যুদ্ধবিরতি আলোচনা ঘিরে নতুন সংকট
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে। তবে উত্তেজনার মধ্যেও দুই দেশ জানিয়েছে, আলোচনা এখনও চলছে। বিশেষ করে, ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
এরই মধ্যে এ সপ্তাহের শেষের দিকে ইরানের বন্দর অবরোধ অতিক্রমের চেষ্টা করে গাম্বিয়ার পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজ। পরে জাহাজাটির ইঞ্জিন কক্ষে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে কিছু জাহাজ চলাচল শুরু হলেও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর চাপ এখনও রয়েছে। পাশাপাশি রাসায়নিক সার সরবরাহেও প্রভাব পড়েছে। এতে খাদ্যসংকটের আশঙ্কা আরও বেড়েছে। কারণ, বিশ্বে বাণিজ্য হওয়া রাসায়নিক সারের প্রায় ৩০ শতাংশই আসে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে।
এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার বিষয়ে তিনি এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।
অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।
সোমবার ভোরে নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প আলোচনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। পোস্টে চলমান হামলার বিষয়ে সরাসরি কিছু না বললেও সমালোচকদের উদ্দেশে মন্তব্য করেছেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘ইরান একটি চুক্তি করতে চায় যেটি যুক্তরাষ্ট্র ও সব দেশের জন্য ভালো একটি চুক্তি হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা শান্ত থাকুন এবং অপেক্ষা করুন। শেষ পর্যন্ত সব ঠিক হয়ে যাবে।’
৫ দিন আগে
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ৬০ দিন বাড়াতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক সমঝোতার খবর
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিন বাড়ানো এবং স্থায়ীভাবে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আলোচনা শুরুর লক্ষ্যে দুপক্ষ একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
মার্কিন সূত্রের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, প্রস্তাবিত কাঠামোটি এখনও ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এটি চূড়ান্ত হলে কয়েক সপ্তাহের অচল কূটনীতির পর বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে।
তবে সম্ভাব্য চুক্তির বিস্তারিত এখনও স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। ৬০ দিনের এই মেয়াদ আলোচনা শেষ করার সময়সীমা কি না, তাও পরিষ্কার নয়। কারণ বর্তমান যুদ্ধবিরতি ইতোমধ্যে অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্যকর রয়েছে।
উপসাগরে উত্তেজনা, পাল্টাপাল্টি হামলা
গত কয়েক দিন ধরে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ যুদ্ধবিরতি ভেঙে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছিল। বৃহস্পতিবারও সীমিত পরিসরে পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে উভয় পক্ষ।
ওয়াশিংটন হরমুজ প্রণালির কাছে একটি ইরানি ড্রোন অভিযান লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পর তেহরান কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলা চালায়।
এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার প্রথম এ প্রাথমিক সমঝোতার খবর প্রকাশ করে। পরে হোয়াইট হাউস আল জাজিরার কাছে ওই প্রতিবেদনের সত্যতা নিশ্চিত করে।
খসড়া চুক্তিতে কী আছে
অ্যাক্সিওসের তথ্যমতে, ওই প্রস্তাব অনুযায়ী হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়া হবে এবং ইরানকে স্থগিত থাকা প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে।
৮ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে কুয়েতে ‘পাল্টা হামলা’ চালিয়েছে ইরান
যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযানে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার কুয়েত জানায়, দেশটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়েছে। তবে কোথায় হামলা হয়েছে বা কী লক্ষ্যবস্তু ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি দেশটির সামরিক বাহিনী।
পরে ইরান জানায়, সপ্তাহের শুরুতে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার জবাবে তারা পাল্টা অভিযান চালিয়েছে। যদিও নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেনি তেহরান।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানায়, বুধবার গভীর রাতে ইরান কুয়েতের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ওয়াশিংটন এই ঘটনাকে পারস্য উপসাগরে তাদের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্রের বিরুদ্ধে ‘অত্যন্ত গুরুতর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
কুয়েতে হামলার দায় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ স্বীকার করেনি। তবে ইরানে চলমান সংঘাতের সময় এর আগেও কুয়েতে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার জন্য কুয়েত অতীতে ইরান ও ইরান-সমর্থিত ইরাকি শিয়া মিলিশিয়াদের দায়ী করেছিল।
এ ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান আলোচনা নিয়েও অনিশ্চয়তা কাটেনি। এখনো পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়নি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি।
পারস্য উপসাগরের এই সরু জলপথ দিয়ে একসময় বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস বাণিজ্যের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ পরিবাহিত হতো। প্রণালিটি কার্যত বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এই সংকট আরও তীব্র হতে পারে।
এর মধ্যে ইরানকে উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ছেড়ে দিতে চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে তেহরান তাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দ সম্পদ ফেরত দেওয়ার দাবি জানাচ্ছে, যাতে দেশটির ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়।
সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, মাইন স্থাপনকারী নৌকা এবং আক্রমণকারী ড্রোন লক্ষ্য করে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ হামলা চালিয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভোরে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, হরমুজ প্রণালির আশপাশে হুমকি তৈরি করা ইরানের চারটি একমুখী ড্রোন ভূপাতিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বাহিনী। একইসঙ্গে ইরানের বন্দর আব্বাসে একটি স্থল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রেও হামলা চালানো হয়েছে, যেখান থেকে পঞ্চম একটি ড্রোন উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি চলছিল বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন।
অন্যদিকে, ইরানের আধাসামরিক বিপ্লবী গার্ড রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা আইআরএনএর মাধ্যমে বন্দর আব্বাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় হামলার কথা স্বীকার করেছে। হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত এই বিমানবন্দরটি বেসামরিক ও সামরিক উভয় কাজে ব্যবহৃত হয়।
ইরান দাবি করেছে, যে বিমানঘাঁটি থেকে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছিল, সেটিকে লক্ষ্য করেই তারা পাল্টা আঘাত হেনেছে। তবে কোন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। কুয়েতে হওয়া হামলার সঙ্গে এই অভিযানের সরাসরি সম্পর্ক আছে কি না, সেটিও এখনও স্পষ্ট নয়।
৯ দিন আগে
ইরানের জন্য ‘ঘড়ির কাঁটা টিক টিক করছে’ বলে সতর্ক করলেন ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে দিয়েছেন যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে পরিচালিত শান্তি আলোচনা বাতিল করা হয়েছে এবং ‘ঘড়ির কাঁটা টিক টিক করছে’। তিনি তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, ‘ইরানের দ্রুত নড়েচড়ে বসা উচিত, নইলে তাদের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।’ সময়ই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
স্থানীয় সময় রবিবার (১৭ মে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট সঙ্গে ইসরায়েলের আলোচনার পর নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইসরায়েল এসব কথা জানায়।
এদিকে, ইরানি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তেহরানের সর্বশেষ প্রস্তাবের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ছাড় দিতে ব্যর্থ হয়েছে। আধা-সরকারি মেহর নিউজ এজেন্সির মতে, ওয়াশিংটনের এই আপোষহীন মনোভাব আলোচনাকে ‘স্থবির’ করে দেবে।
এই সপ্তাহের শুরুতেও ট্রাম্প বলেছিলেন যে যুদ্ধবিরতি ‘ব্যাপক লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে। সেই সঙ্গে তেহরানের দাবিগুলো প্রত্যাখ্যান করে সেগুলোকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন তিনি।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি জোর দিয়ে বলেছেন, ইরানের ওই দাবিগুলো ছিল যথেষ্ট ‘দায়িত্বশীল’ এবং ‘উদার’।
ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ইরানের দাবিগুলোর মধ্যে ছিল— সব রণাঙ্গনে তাৎক্ষণিক যুদ্ধের সমাপ্তি যা লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের চলমান হামলারও অবসান ঘটাবে, ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের ওপর আর কোনো হামলা না করার নিশ্চয়তা, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি।
ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি গতকাল (রবিবার) জানায়, ওয়াশিংটন তেহরানের প্রস্তাবের জবাবে পাঁচটি শর্ত আরোপ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে— ইরানকে মাত্র একটি পারমাণবিক স্থাপনা চালু রাখাতে হবে এবং অত্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে স্থানান্তর করতে হবে।
শুক্রবার (১৫ মে) ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, দুই দেশের মধ্যে বড় বিরোধের বিষয়, ইরানের এই পারমাণবিক কর্মসূচি ২০ বছরের জন্য স্থগিত রাখার বিষয়টি তিনি মেনে নেবেন। এটি সম্পূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি বাতিলের দাবি থেকে কিছুটা সরে আসার ইঙ্গিত হিসেবে ধরা হচ্ছিল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি ও মার্কিন বাহিনী ইরানে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করে। তবে পরবর্তীতে আলোচনা সহজ করার জন্য ঘোষিত যুদ্ধবিরতি মাঝে মাঝে গুলি বিনিময় সত্ত্বেও মোটামুটিভাবে মেনে চলা হচ্ছে।
১৯ দিন আগে
ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি আরও ৪৫ দিন বাড়ছে: মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর
ইসরায়েল ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে গত মাসে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৪৫ দিন বাড়ছে। এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে দুপক্ষই সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র।
শুক্রবার (১৫ মে) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এসব কথা জানান। এক্স পোস্টের মাধ্যমে তিনি জানান, যুদ্ধের বিষয়ে আরও অগ্রগতি আনতে ১৬ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি ৪৫ দিনের জন্য বাড়ানো হবে।
পিগট জানান, আগামী ২-৩ জুন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে পুনরায় রাজনৈতিক আলোচনা শুরু করবে ইসরায়েল ও লেবানন। এর আগে তাদের সামরিক প্রতিনিধিরা ২৯ মে পেন্টাগনে নিরাপত্তা আলোচনা শুরু করবেন।
দুই দেশ বৃহস্পতি (১৪ মে) ও শুক্রবার (১৫ মে) এখানে তৃতীয় দফা সরাসরি আলোচনা করেছে, যাকে পিগট ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ বলে বর্ণনা করেছেন।
অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।
লেবাননের জাতীয় বার্তা সংস্থার খবরে জানা গেছে, শুক্রবার ইসরায়েলি হামলায় দক্ষিণ লেবাননে কমপক্ষে ৯ জন নিহত এবং কয়েকশ মানুষ আহত হয়েছেন।
হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননের বেশ কয়েকটি এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন, সৈন্য, সামরিক বুলডোজার এবং একটি মেরকাভা ট্যাংক লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
লেবাননের পাবলিক হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন্স সেন্টার জানিয়েছে, ২ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ২ হাজার ৯৫১ জন নিহত এবং ৮ হাজার ৯৮৮ জন আহত হয়েছেন।
২১ দিন আগে
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াল যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্থানীয় সময় মঙ্গলবার জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বৃদ্ধি করছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন দফার শান্তি আলোচনা স্থগিত থাকা অবস্থায় এবং পূর্বনির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র একদিন আগে তিনি এই ঘোষণা দেন। এ পদক্ষেপের ফলে যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত প্রশমিত হয়েছে।
দ্বিতীয় দফার এই আলোচনার আয়োজন করার পরিকল্পনা করেছিল পাকিস্তান। কিন্তু তেহরান আলোচনা পুনরায় শুরু করার প্রচেষ্টায় সাড়া না দেওয়ায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পরিকল্পিত ইসলামাবাদ সফর স্থগিত করে হোয়াইট হাউজ।
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে ট্রাম্পের এই ঘোষণায় ইরান এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে উভয় দেশই এর আগে সতর্ক করেছিল যে, কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারলে তারা পুনরায় লড়াই শুরু করতে প্রস্তুত।
উভয় দেশকে আলোচনায় বসাতে মরিয়া পাকিস্তান
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পাকিস্তান সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ উভয় পক্ষকে দ্বিতীয় দফার যুদ্ধবিরতি আলোচনায় রাজি করাতে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
পরবর্তীতে শাহবাজ শরিফ পাকিস্তানের অনুরোধ সদয়ভাবে গ্রহণ করার জন্য ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির ফলে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাগুলো এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানিয়েছেন যে, আরও আলোচনায় বসবেন কি না সে বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি এর কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অগ্রহণযোগ্য কর্মকাণ্ডের’ কথা উল্লেখ করেন, যা মূলত ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধকেই ইঙ্গিত করে।
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধ অব্যাহত থাকবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জেডি ভ্যান্স পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ সফর আপাতত স্থগিত করায় ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জারেড কুশনার মঙ্গলবার বিকেলে ওয়াশিংটনে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনার জন্য পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে ট্রাম্প যেকোনো সময় তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারেন। তবে ভবিষ্যতে কী ঘটবে সে বিষয়ে কোনো পূর্বাভাস দিতে তিনি অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, পুনরায় বিমান হামলা শুরু করা ছাড়াও ট্রাম্পের হাতে আরও বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে।
এখনও অনড় উভয় পক্ষ
এদিকে, যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণার আগে ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন যে, বুধবারের মধ্যে কোনো সমঝোতা না হলে প্রচুর বোমা বর্ষণ শুরু হবে। অন্যদিকে, ইরানের প্রধান আলোচক বলেছিলেন যে, তেহরানের কাছে রণক্ষেত্রের নতুন কিছু তুরুপের তাস রয়েছে যা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) একজন ঊর্ধ্বতন কমান্ডার হুমকি দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হলে তিনি এই অঞ্চলের তেল শিল্প ধ্বংস করে দেবেন। জেনারেল মজিদ মৌসাভি একটি ইরানি নিউজ সাইটকে বলেন, যদি দক্ষিণের প্রতিবেশীরা শত্রুকে ইরানের ওপর হামলা চালাতে তাদের স্থাপনা ব্যবহারের অনুমতি দেয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে তেল উৎপাদনকে তাদের বিদায় জানাতে হবে।
আলোচনার কেন্দ্রে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ
জাতিসংঘে নিযুক্ত তেহরানের দূত মঙ্গলবার বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিতে প্রস্তুত বলে তেহরান কিছু সংকেত পেয়েছে।
রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি জানান, অবরোধের অবসানই ইরানের শান্তি আলোচনায় ফেরার প্রধান শর্ত। তিনি বলেন, যখন এটি ঘটবে, আমি মনে করি তখনই পরবর্তী আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
যুদ্ধের পূর্বে বিশ্বের ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ প্রণালিটির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ শিথিল করতে তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র এই অবরোধ আরোপ করেছিল।
এই প্রণালিতে ইরানের কঠোর অবস্থানের কারণে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী অপরিশোধিত তেলের দাম মঙ্গলবার ব্যারেল প্রতি প্রায় ৯৫ ডলারে লেনদেন হয়েছে, যা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি (ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরান আক্রমণের দিন) থেকে ৩০ শতাংশেরও বেশি।
যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ছিল। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, জাহাজগুলোকে আবারও কোনো বাধা ছাড়াই চলাচলের অনুমতি দিতে হবে।
গত সপ্তাহের শেষের দিকে ইরান জানিয়েছিল যে তারা ওয়াশিংটনের কাছ থেকে নতুন প্রস্তাব পেয়েছে, তবে তারা এটিও জানিয়েছিল যে দুই পক্ষের মধ্যে এখনও বড় ধরনের দূরত্ব রয়েছে গেছে।
ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি, তাদের আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীসমূহ এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের মতো ইস্যুগুলো নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় গত দফার আলোচনা ব্যর্থ হয়েছিল।
নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত তেলবাহী ট্যাঙ্কারে মার্কিন বাহিনীর আরোহণ
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে যে, এশিয়ায় ইরানি অপরিশোধিত তেল পাচারের অভিযোগে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে তল্লাশি চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে পেন্টাগন জানিয়েছে যে, মার্কিন বাহিনী কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ‘এম/টি টিফানি’ নামক জাহাজে আরোহণ করেছে।
দেশটির সামরিক বাহিনী জাহাজটিতে ঠিক কোথায় তল্লাশি চালানো হয়েছে তা জানায়নি, তবে জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী মঙ্গলবার টিফানি শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যবর্তী ভারত মহাসাগরে অবস্থান করছিল। পেন্টাগনের বিবৃতিতে আরও বলা হয় যে, আন্তর্জাতিক জলসীমা নিষেধাজ্ঞাভুক্ত জাহাজের জন্য কোনো নিরাপদ আশ্রয় নয়।
এর আগে, গত রবিবার মার্কিন সামরিক বাহিনী একটি ইরানি কন্টেইনার জাহাজ জব্দ করেছিল, যা ছিল অবরোধ চলাকালীন প্রথম কোনো জাহাজ আটকের ঘটনা। তেহরানের যৌথ সামরিক কমান্ড এই সশস্ত্র অভিযানকে জলদস্যুতা এবং যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে।
আলোচনা নিয়ে আশাবাদী পাকিস্তান
পাকিস্তানি কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, ইরানও আলোচনার জন্য একটি প্রতিনিধি দল পাঠাবে। এর আগে, ১১ ও ১২ এপ্রিল প্রথম দফার আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছিল।
পাকিস্তান জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার মঙ্গলবার ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীর্ষ কূটনীতিকদের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করেছেন। উল্লেখ্য, চীন ইরানের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার।
এদিকে, পুরো ইসলামাবাদজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে হাজার হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করেছে এবং টহল বৃদ্ধি করেছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক জানিয়েছেন, মহাসচিব এই যুদ্ধবিরতি বৃদ্ধিকে উত্তেজনা প্রশমনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, যা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনীতি এবং আস্থা তৈরির একটি প্রয়োজনীয় সুযোগ সৃষ্টি করবে।
ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু হবে
লেবাননে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, গত শুক্রবার থেকে কার্যকর হওয়া ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির পর তারা প্রথমবারের মতো ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তারা একে ইসরায়েল কর্তৃক প্রকাশ্য ও নথিবদ্ধ যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করেছে।
তাদের দাবি অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা এবং তাদের ঘরবাড়ি ও গ্রাম ধ্বংস করেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে যে, তারা হিজবুল্লাহর রকেট লঞ্চারে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা দক্ষিণ লেবাননে একটি ‘বাফার জোন’ বা নিরাপদ অঞ্চল বজায় রাখতে চান—যেখানে অনেকগুলো গ্রামের বাসিন্দাদের এখনও ফিরে আসার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
ইসরায়েলি, লেবাননি এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে যে, আগামী বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ঐতিহাসিক কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরু হতে যাচ্ছে। পর্দার আড়ালের এই আলোচনার গুরুত্ব বিবেচনায় তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্য দিয়েছেন।
গত সপ্তাহে কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো ইসরায়েল ও লেবাননের রাষ্ট্রদূতরা সরাসরি কূটনৈতিক বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। ইসরায়েল বলছে, এই আলোচনার লক্ষ্য হলো হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণ এবং লেবাননের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানো।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক ইরানে যৌথ হামলা চালানোর দুই দিন পর ইসরায়েল ও ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে লড়াই শুরু হয়। লেবাননে এই লড়াইয়ে এ পর্যন্ত ২ হাজার ২৯০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানে অন্তত ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া ইসরায়েলে ২৩ জন এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে এক ১০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই অঞ্চলে দায়িত্ব পালনকালে ১৫ জন ইসরায়েলি সৈন্য এবং ১৩ জন মার্কিন সেনা সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।
৪৫ দিন আগে
ইরান আলোচনায় বসলে মার্কিনিদের নেতৃত্ব দেবেন জেডি ভ্যান্স
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ঘনিয়ে আসছে। এ প্রেক্ষাপটে ইসলামাবাদে তেহরান পুনরায় আলোচনায় বসতে রাজি হলে মঙ্গলবার একটি মার্কিন কূটনৈতিক প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে যাওয়ার কথা রয়েছে। এ দলের প্রধান হিসেবে থাকবেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্টের জামাতা জারেড কুশনারও পাকিস্তান যাবেন।
এদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি এখনও একটি গভীর অবিশ্বাস রয়ে গেছে। তেহরান মার্কিন কর্মকর্তাদের অগঠনমূলক এবং পরস্পরবিরোধী সংকেত নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং তারা মনে করছে, এটি তাদের আত্মসমর্পণে বাধ্য করার একটি প্রচেষ্টা। তিনি বলেন, ইরানিরা শক্তির কাছে নতি স্বীকার করে না।
তবে একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, তেহরান আলোচনায় অংশগ্রহণের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে পর্যালোচনা করছে। খবর পাওয়া গেছে যে, ভ্যান্স উপস্থিত থাকলে ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে আবারও সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ থাকতে পারেন।
গালিবাফ পরে বলেন, হুমকির মুখে থাকা অবস্থায় ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা অংশ নেবে না। মঙ্গলবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমরা রণক্ষেত্রে নতুন কার্ড (তুরুপের তাস) উন্মোচনের প্রস্তুতি নিয়েছি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে তার অভিযোগ, ট্রাম্প তার নিজস্ব কল্পনায় এই আলোচনার টেবিলকে আত্মসমর্পণের টেবিলে পরিণত করতে চাইছেন অথবা নতুন করে যুদ্ধংদেহী মনোভাবকে সঠিক প্রমাণ করতে চাইছেন।
এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ-অবরোধ অবসানের আহ্বান জানিয়েছে তেহরান। অন্যদিকে, ট্রাম্প তার সেই পুরনো দাবির পুনরাবৃত্তি করেছেন যে ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না এবং এমনকি ইরানি নেতাদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন তিনি।
এর আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স এবং তার দল এখনই রওনা হচ্ছে এবং সেদিন সন্ধ্যায় তারা ইসলামাবাদ পৌঁছাবে—এমন কথা বলে পরিস্থিতি কিছুটা বিভ্রান্তিকর করে তুলেছিলেন। অবশ্য পরে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, যদিও সোমবার ভ্যান্সের রওনা হওয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, তবে আলোচনা শুরু হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট আসলে মঙ্গলবার সকালে রওনা হবেন।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মার্কিন ও ইসরায়েলি বোমা হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে উচ্চ পর্যায়ের এই দ্বিতীয় দফা আলোচনা আগামীকাল (বুধবার) অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে এই আলোচনার প্রেক্ষাপটে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর হুমকিও রয়েছে।
ট্রাম্প বলেছেন, তিনি এখন মনে করেন, ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ওয়াশিংটন সময় বুধবার সন্ধ্যায় শেষ হবে। ইসলামাবাদে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি করার সুযোগ দিতে তিনি বিরতির সময় আরও ২৪ ঘণ্টা বাড়িয়েছেন।
ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এটি আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা খুবই কম। তিনি ইঙ্গিত দেন যে এর পরেই পুনরায় বোমা হামলা শুরু হতে পারে। তবে তিনি এও বলেছেন, আমি তাড়াহুড়ো করে কোনো খারাপ চুক্তি করব না। আমাদের হাতে যথেষ্ট সময় আছে।
চলতি মাসের শুরুর দিকে ইরানের সঙ্গে ২১ ঘণ্টা ধরে চলা ব্যর্থ আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন ভ্যান্স। তবে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে এবং তাদের ৪৪০ কেজি উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করার দাবিতে রাজি হয়নি বলে আলোচনা ভেস্তে যায়।
ইরানিরা জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বিশ্বাসের ঘাটতি রয়ে গেছে এবং তারা এই নিশ্চয়তা চেয়েছিল যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছালে তাদের ওপর আর হামলা করা হবে না। যদিও পাঁচ সপ্তাহের যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি অভিযানে ইরানে ব্যাপক বোমা হামলা চালানো হয়েছে, তবে তেহরানের নেতৃত্ব বিশ্বাস করে না যে তারা পরাজিত হয়েছে।
এদিকে, পাকিস্তান রবিবার থেকেই সম্ভাব্য আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে; দেশটির রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গণপরিবহন চলাচল স্থগিত করেছে। ইসলামাবাদের বিদ্যুৎ বোর্ডও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে আলোচনা চলাকালীন শহরে লোডশেডিং বন্ধ রাখা হবে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক হরমুজ প্রণালি দ্বিমুখীভাবে বন্ধ রাখার ফলে সৃষ্ট তেল ও গ্যাস সংকটের কারণে পাকিস্তানের শহরগুলোতে দিনে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিভ্রাট এখন সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
কৌশলগত এই জলপথ অতিক্রমকারী বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর টোল আদায়ের ইরানের সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করেছিলেন। গত রবিবার মার্কিন সামরিক বাহিনী একটি ইরানি পতাকাবাহী কন্টেইনার জাহাজ জব্দ করে, যা শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার পথে উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তুসকা নামক জাহাজটির ক্রুরা ছয় ঘণ্টা ধরে দেওয়া সতর্কবার্তা উপেক্ষা করার পর সেটিকে জব্দ করা হয়। একটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার থেকে গোলাবর্ষণ করে জাহাজের ইঞ্জিন বিকল করে দেওয়া হয় এবং এরপর হেলিকপ্টার থেকে দড়ি বেয়ে ইউএসএস ত্রিপোলির মেরিন সেনারা জাহাজটি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
ইরান শুক্রবার সাময়িকভাবে তাদের অবরোধ তুলে নিয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা অবরোধ প্রত্যাহার না করায় শনিবার তারা পুনরায় তা কার্যকর করে। শনিবার ওই অঞ্চলে একটি ট্যাঙ্কারে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী হামলা চালায় এবং দ্বিতীয় একটি কন্টেইনার জাহাজে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে।
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আবারও প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। শনিবারে ১৮টি জাহাজ চলাচল করলেও সোমবারে মাত্র তিনটি ট্যাঙ্কার প্রণালি পার হয়েছে। সোমবার অপরিশোধিত তেলের দাম ৫ ডলার বেড়ে ৯৫ ডলার ছাড়িয়েছে, যা ওই অঞ্চলে নতুন করে তৈরি হওয়া বিপদেরই প্রতিফলন।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েল ও লেবানন বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূত পর্যায়ে দ্বিতীয় দফা আলোচনায় বসার কথা রয়েছে। গত সপ্তাহে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর এটিই দেশ দুটির মধ্যে প্রথম আলোচনা হবে।
এদিকে, ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের বাসিন্দাদের সীমান্ত-সংলগ্ন একটি অঞ্চল থেকে দূরে থাকতে বলেছে এবং লিটানি নদী এলাকার কাছাকাছি না যেতে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। যুদ্ধবিরতি চলাকালীন ওই এলাকায় নিজেদের সামরিক নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত করার চেষ্টা করছে দেশটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশটির সামরিক বাহিনীর পোস্ট করা একটি মানচিত্রে সীমান্তের ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার এলাকার ভেতরে থাকা ২১টি গ্রামের ওপর দিয়ে একটি লাল রেখা টেনে দেওয়া হয়েছে।
৪৬ দিন আগে
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানাল বাংলাদেশ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বন্ধে ঘোষিত সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ। একে ওই অঞ্চলের উত্তেজনা হ্রাসের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক ও উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতি হিসেবে দেখছে ঢাকা।
বুধবার (৮ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সমর্থন জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ আশা করে যে সংঘাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ এই যুদ্ধবিরতির প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করবে। একইসঙ্গে একটি স্থায়ী ও টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে এই সুযোগটিকে গঠনমূলকভাবে কাজে লাগিয়ে পুরো অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সচেষ্ট হবে।
এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার ক্ষেত্রে যেসব পক্ষ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও মধ্যস্থতা করেছে, তাদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছে বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে যেকোনো ধরনের বিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করা সম্ভব এবং বর্তমানে বিশ্ব পরিস্থিতিতে সেটিই কাম্য।
৫৯ দিন আগে
ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন করার হুমকি’ থেকে যেভাবে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হলেন ট্রাম্প
মাত্র এক দিনের ব্যবধানে নাটকীয়ভাবে সুর পাল্টেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার হুমকি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি জানালেন, দেশটির নেতৃত্ব একটি ‘কার্যকর’ পরিকল্পনা পেশ করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছেন ট্রাম্প, যা প্রায় ছয় সপ্তাহ ধরে চলা এই যুদ্ধ অবসানের পথ প্রশস্ত করবে বলে তিনি আশা করছেন।
পাকিস্তানের নেতৃত্বে মধ্যস্থতাকারীদের ব্যাপক তৎপরতার ফলে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়া রোধ করা সম্ভব হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অবগত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়া সত্ত্বেও পর্দার আড়ালে থেকে এই যুদ্ধবিরতির পথ খুঁজতে ভূমিকা রেখেছে ইরানের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার চীন।
তেহরানের জন্য ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার দেড় ঘণ্টা আগে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। এর আগে তিনি হুমকি দিয়েছিলেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প বলেন, ‘যুদ্ধবিরতির কারণ হলো আমরা ইতিমধ্যে আমাদের সব সামরিক লক্ষ্য অর্জন করেছি; এমনকি তা ছাড়িয়ে গেছি। ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি স্থাপনের জন্য একটি চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়ে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি।’
বুধবার হোয়াইট হাউসে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক করার কথা রয়েছে। সেখানে এই যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি আলোচনার মূল কেন্দ্রে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হুমকের সময়সীমা শেষ হয়ে আসার আগে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা ট্রাম্পের ‘একটি পুরো সভ্যতাকে নিশ্চিহ্ন করার’ হুমকিকে ‘নৈতিক পরাজয়’ বলে সমালোচনা করেন। অন্যদিকে, পোপ চতুর্দশ লিও সতর্ক করে বলেছেন, বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্য ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই পিছু হটার পেছনে একটি সহজ সত্য কাজ করে থাকতে পারে। সংঘাত বাড়লে যুক্তরাষ্ট্র এমন এক ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধে’ জড়িয়ে পড়তে পারত যা আগের প্রেসিডেন্টদের জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়েছিল। অথচ নির্বাচনি প্রচারণার সময় ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তিনি এমন সব যুদ্ধ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে দূরে রাখবেন।
হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ ছিল দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া
গত ছয় সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সাফল্য নিয়ে আত্মবিশ্বাসী থাকলেও ট্রাম্প মনে করেছিলেন, বোমা হামলার মাধ্যমে ইরানকে নত করা সম্ভব। যুদ্ধের শুরুতেই সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পরও ইরান দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারে—এই সম্ভাবনাকে তিনি অবমূল্যায়ন করেছিলেন বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।
তবে গত ৪৭ বছরে ইসলামিক রিপাবলিক ইরান বারবার দেখিয়েছে যে তারা প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও অনড় থাকতে পারে। ১৯৭৯ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত ৪৪৪ দিন মার্কিন নাগরিকদের জিম্মি করে রাখা কিংবা বছরের পর বছর ধ্বংসাত্মক ইরান-ইরাক যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া এর প্রমাণ। এমনকি গাজা ও লেবাননে মিত্রশক্তির ক্ষয়ক্ষতি এবং সিরিয়ায় আসাদ সরকারের পতনের পরও তেহরান তাদের অবস্থানে অনড় ছিল।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন সামরিক বাহিনী দ্রুত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলেও দীর্ঘমেয়াদে এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল।
অলাভজনক সংস্থা ‘ব্যাটল রিসার্চ গ্রুপ’-এর নির্বাহী পরিচালক বেন কনেবল বলেন, ইরান যাতে জাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে না পারে, সেজন্য প্রায় ৬০০ কিলোমিটার ইরানি ভূখণ্ড দখলে রাখতে হতো। এর জন্য কমপক্ষে ৩০ থেকে ৪৫ হাজার মার্কিন সৈন্যের প্রয়োজন পড়ত যা মোটামুটি ২০ বছর মেয়াদি একটি অভিযানে পরিণত হতে পারত।
মার্কিন নৌবাহিনীর এই অবসরপ্রাপ্ত গোয়েন্দা কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘এটি একটি অনির্দিষ্টকালের অভিযানে পরিণত হতে পারতো। সহজ কথায় বলতে গেলে, ২০ বছরের জন্য প্রস্তুত থাকা। আমরা কখনোই ভাবিনি যে আমাদের আফগানিস্তানে ২০ বছর থাকতে হবে। এমনকি ভিয়েতনাম বা ইরাকে আমাদের যতটা সময় থাকতে হয়েছে, সেটাও ছিল ধারণার বাইরে।’
আঞ্চলিক এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার আওতায় ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজ থেকে টোল আদায় করতে পারবে। ইরান এই অর্থ দেশ পুনর্গঠনের কাজে ব্যয় করবে। তবে আন্তর্জাতিক জলপথ হিসেবে পরিচিত এই পথে এর আগে কখনও মাশুল দিতে হয়নি বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, ট্রাম্প কার্যত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ তেহরানের হাতে তুলে দিচ্ছেন যা ইরানের জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক বিজয়’।
চরম অবস্থান থেকে ট্রাম্পের পিছু হটার পুরনো প্রবণতা
ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমা আরও দুই সপ্তাহ বাড়াতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ অনুরোধ জানানোর পর যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে। একইসঙ্গে তিনি ইরানকেও দুই সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান।
বড় কোনো সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ‘দুই সপ্তাহ’ সময় নেওয়া ট্রাম্পের একটি সুপরিচিত কৌশলে পরিণত হয়েছে। গত গ্রীষ্মে হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল যে ইরানের ওপর প্রাথমিক বোমা হামলা চালানোর বিষয়ে দুই সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেবেন ট্রাম্প। কিন্তু সেই সময় শেষ হওয়ার আগেই তিনি বিমান হামলার নির্দেশ দেন এবং দাবি করেন, এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ‘বিধ্বস্ত’ হয়েছে।
এর আগে, ইউক্রেন যুদ্ধ বা নিজ দেশের ভেতরে স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত সংকটের সময়ও তিনি একই ধরনের সময়সীমা ব্যবহার করেছিলেন, যদিও শেষ পর্যন্ত তা থেকে প্রাপ্তি ছিল সামান্যই।
হোয়াইট হাউসে নিজের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম ১৫ মাসে ট্রাম্প বারবার বিভিন্ন বিষয়ে একরোখা দাবি তুলেছেন এবং পরবর্তীতে আবার তা থেকে পিছুও হটেছেন।
২০২৫ সালের এপ্রিলে ঘোষিত ‘লিবারেশন ডে’ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত শেয়ার বাজারে অস্থিরতা তৈরি করলে তা থেকে সরে আসেন ট্রাম্প। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ দেখা যায় গত জানুয়ারিতে দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বৈঠকে। সেখানে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের ‘মালিকানা ও স্বত্বসহ’ পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি তোলেন। কিন্তু পরবর্তীতে ইউরোপের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপের হুমকি প্রত্যাহার করে তিনি সেই অবস্থান থেকেও সরে আসেন।
সে সময় পিছু হটার ব্যাখ্যায় ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, আর্কটিক নিরাপত্তা নিয়ে তিনি ন্যাটোর প্রধানের সঙ্গে একটি ‘ভবিষ্যৎ চুক্তির রূপরেখা’য় সম্মত হয়েছেন। যদিও গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অংশ হলেও যুক্তরাষ্ট্রের আগে থেকেই সেখানে ব্যাপক সামরিক সুবিধা ছিল।
এদিকে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউসে এই যুদ্ধবিরতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। কর্মকর্তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা ও ট্রাম্পের কৌশলগত পদক্ষেপই এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমাদের সামরিক সাফল্য সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টি করেছে, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার দলকে কঠিন আলোচনায় অংশ নিতে সক্ষম করেছে এবং কূটনৈতিক সমাধান ও দীর্ঘমেয়াদি শান্তির পথ উন্মুক্ত করেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমেরিকার স্বার্থ এগিয়ে নেওয়া ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সক্ষমতাকে কখনোই খাটো করে দেখা উচিত নয়।’
৫৯ দিন আগে