প্রত্যাহার
তিন প্রতিষ্ঠানের খাদ্যপণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ
মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ ব্যবহারের কারণে তিনটি প্রতিষ্ঠানের খাদ্যপণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)।
খাদ্যপণ্যগুলো হলো—ইষ্ট কেক ইন্টারন্যাশনাল ফুড লিমিটেডের ‘ইষ্ট কেক পুর পিঠা জ্যাম ফিল্ড (ইনট্যাক্ট)’, ইষ্ট জিবাই ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ‘ইষ্ট বেকার স্লাইস ব্রেড মিল্ক জ্যাম ফিল্ড (ইনট্যাক্ট)’ এবং আরবোটিং ফুড কোং লিমিটেডের ‘আরবোটিং ফুড স্লাইস ব্রেড মিক্স জ্যাম ফিল্ড (ইনট্যাক্ট)’।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) প্রতিষ্ঠান তিনটিকে বাজার থেকে সংশ্লিষ্ট খাদ্যপণ্য প্রত্যাহার করে বিপণন বন্ধ করার নির্দেশনা দিয়েছে।
এ অবস্থায় সর্বসাধারণকে উল্লিখিত খাদ্যপণ্যগুলো কেনা বা গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে বিএফএসএ।
৫ দিন আগে
রাজবাড়ীতে ঘুষ গ্রহণের ভিডিও ভাইরাল, এসআই প্রত্যাহার
রাজবাড়ী আদালত কার্যালয়ে পুলিশের একজন উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে গত সোমবার ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেন তদন্ত কমিটির প্রধান রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) মো. শামসুল হক।
অভিযুক্ত ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম ইসরাফিল হাওলদার। তিনি রাজবাড়ীর আদালত কার্যালয়ে উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ীর আদালত কার্যালয়ে নিজ চেয়ারে বসে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ইসরাফিল হাওলাদার এক ব্যক্তির কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণ করছেন—এ সংক্রান্ত ১২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও গত সোমবার (৬ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওটি শীতকালের কোনো এক সময়ের হবে। ভিডিওতে দেখা যায়, এসআই ইসরাফিল হাওলাদার কার্যালয়ে তার নিজের চেয়ারে বসে কাজ করছিলেন। এ সময় তার টেবিলের সামনে চশমা চোখে প্যান্ট-শার্ট পরা ও শার্টের ওপর জ্যাকেট পরিহিত এক ব্যক্তি জ্যাকেটের পকেট থেকে কিছু টাকা বের করে তাকে (ইসরাফিল) দিচ্ছেন। এ সময় ওই ব্যক্তির পাশে আরেক ব্যক্তি দৃশ্যটি দেখছেন এবং মুখে মুচকি হাসি দিচ্ছেন। টাকা গ্রহণের পর ইসরাফিল হাওলাদার হাত দিয়ে ওই ব্যক্তিকে (ঘুষ প্রদানকারী) কিছু একটা দেখিয়ে দিচ্ছেন।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ওই দিনই (সোমবার) সন্ধ্যায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদের নির্দেশে এসআই ইসরাফিল হাওলাদারকে আদালত কার্যালয় থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
একই সঙ্গে, ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং প্রকৃত ঘটনা বের করতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) মো. শামসুল হককে প্রধান করে জেলা পুলিশের ডিআইও ওয়ান মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং আদালত কার্যালয়ের পুলিশ পরিদর্শক মো. মমিনুল হককে সদস্য করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে এসআই ইসরাফিল হাওলাদার আজ (বুধবার) দুপুরে মুঠোফোনে বলেন, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার। দীর্ঘদিন ধরে আইনজীবীদের একটি গ্রুপ তার বিরুদ্ধে লেগে আছে। এছাড়া নিজেদের কর্মচারীদের মধ্যে কেউ ষড়যন্ত্রে জড়িত রয়েছে। তবে ভিডিওতে টাকা গ্রহণের কোনো বিষয় ছিল না। একটি মামলা-সংক্রান্ত বিষয়ে তাকে স্লিপ দেওয়া হচ্ছিল বলে তিনি দাবি করেন।
তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) মো. শামসুল হক বলেন, ঘুষ গ্রহণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়াসহ পুলিশ সম্পর্কে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। ভিডিওটি নজরে আসায় ওই দিন পুলিশ সুপারের নির্দেশে অভিযুক্ত উপপরিদর্শক (এসআই) ইসরাফিল হাওলাদারকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে যাচাই বাছাই শেষে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ খবর নিচ্ছি। যথাসময়ে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১৩ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক নাসির উদ্দিন সারোয়ার প্রত্যাহার
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সারোয়ারকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় গুলির নির্দেশ দেওয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের তালিকায় নাসির উদ্দিন সারোয়ারের নাম রয়েছে।
এর আগে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি রাষ্ট্রপতির প্রোটোকল অফিসার এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৬ দিন আগে
চট্টগ্রামে ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধর: দুই পুলিশ প্রত্যাহার, গ্রেপ্তার ১
চট্টগ্রামে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে পুলিশ পরিচয়ে আটক, মারধর ও হেনস্তার ঘটনায় পুলিশের উপপরিদর্শকসহ (এসআই) তিনজনের বিরুদ্ধে তার পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। মামলার পর একজনকে গ্রেপ্তার করেছে খুলশী থানা পুলিশ।
এ ঘটনায় জড়িত এসআই মো. সফিকুল ইসলাম ভুঁইয়া ও কনস্টেবল মো. রাসেল চৌধুরীকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে সিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাদের প্রত্যাহারের বিষয়টি জানানো হয়।
এ ঘটনায় রাতেই খুলশী থানায় মামলা করেন ক্রিকেটার নাঈম হাসানের ভাই সাব্বির হাসান।
মামলার আসামিরা হলেন— এসআই শফিকুল, কনস্টেবল রাসেল ও সোর্স সোহেল।
এর আগে, গতকাল (শুক্রবার) দিবাগত রাত ১টার দিকে জাতীয় ক্রিকেট দলের অফ-স্পিনার নাঈম হাসান ঢাকা থেকে বিমানযোগে চট্টগ্রামে ফেরেন। তিনি এয়ারপোর্ট থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে নিজ বাসায় ফেরার পথে নগরীর লালখান বাজার ফ্লাইওভারের মুখে টহল পুলিশ নিজেদের ডিবি (গোয়েন্দা পুলিশ) পরিচয়ে তার গাড়ি থামিয়ে তাকে জিম্মি করে আপহরণের চেষ্টা ও মারধর করে। এ সময় নাঈম নিজেকে জাতীয় দলের খেলোয়াড় পরিচয় দিলেও পুলিশ তাকে নাজেহাল করে, এমনকি গায়ে হাতও তোলে। পরে পুলিশ তাকে রাত ২টার দিকে নগরীর খুলশী থানায় নিয়ে যায়। সেখানেও নাঈম নিজের জাতীয় দলের খেলোয়াড় পরিচয় দেওয়ার পরও তাকে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ না জানিয়ে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় খবর পেয়ে শত শত মানুষ থানার সামনে জড়ো হলে রাত ৩টার দিকে নাঈমকে পুলিশ ছেড়ে দেয়।
নাঈম হাসানের দাবি, থানায় তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে এবং অযৌক্তিকভাবে গায়ে হাত তোলা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলেও জানিয়েছেন। একজন জাতীয় দলের ক্রিকেটারের সঙ্গে এমন আচরণের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর ক্রীড়াঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমানকে রাতে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন ধরেননি।
সকালে ওসি আরিফুর রহমান জানান, অভিযানের বিষয়ে এসআই শফিকুল ইসলাম আমাকে আগে থেকে কিছুই জানাননি। থানায় আনার পরই তিনি ক্রিকেটার নাঈমের পরিচয় সম্পর্কে জানতে পারেন। বিষয়টি জানার পর দুঃখ প্রকাশ করে সম্মানের সঙ্গে নাঈমকে থানা থেকে চলে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, নাঈমের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জড়িতদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা থানা ত্যাগ করবেন না। পরে এ ঘটনায় নাঈমের ভাই সাব্বির বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। মামলার পর আসামি (সোর্স) সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে, নাঈম হাসানকে মারধর ও হেনস্তার ঘটনায় আজ (শনিবার) সকালে এসআই শফিকুল, কনস্টেবল রাসেলকে বরখাস্ত করেছে সিএমপির জনসংযোগ বিভাগ।
৩৮ দিন আগে
যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলামকে প্রত্যাহার
যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলামকে তার পদ থেকে প্রত্যাহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৭ মার্চ) লন্ডনে পৌঁছে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। কমনওয়েলথের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে এদিন লন্ডনে পৌঁছান।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আবিদা ইসলাম লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশনকে অনেকটা ‘আওয়ামীকরণ’ করে রেখেছিলেন। বাংলাদেশের স্বার্থ যথাযথভাবে রক্ষা করতে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে এই পদ থেকে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
গত বছরের জানুয়ারিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আবিদা ইসলামকে লন্ডনে হাইকমিশনার হিসেবে পাঠিয়েছিল। এর আগে, বহুল আলোচিত হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিমকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল।
জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক আবিদা ইসলাম এর আগে মেক্সিকোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। তার আগে দক্ষিণ কোরিয়ায় দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া কলকাতায় বাংলাদেশের প্রথম নারী ডেপুটি হাইকমিশনার (প্রধান মিশন) হিসেবেও কাজ করেছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তরে তিনি আমেরিকা অনুবিভাগসহ বিভিন্ন শাখায় দায়িত্ব সামলেছেন।
১৩৫ দিন আগে
কেবি কলেজের শিক্ষকদের আমরণ অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম ফজলুল হক ভূঁইয়ার আশ্বাসে আমরণ অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (কেবি) কলেজের শিক্ষকরা।
রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কেবি কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক বি. এম. আব্দুল্লাহ রনি।
আরও পড়ুন: ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের হামলার প্রতিবাদে চোখে লাল কাপড় বেঁধে বাকৃবি শিক্ষার্থীদের মৌন মিছিল
আব্দুল্লাহ রনি ইউএনবিকে বলেন, অতি দ্রুত বিষয়টি সমাধান করার আশ্বাস দিয়েছেন উপাচার্য। তার আশ্বাসের ভিত্তিতে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এর আগে, কলেজে বোমা হামলার হুমকি, শিক্ষকদের শারীরিক ক্ষতির ভয়ভীতি, হাত-পা ভেঙে ঝুলিয়ে রাখার ভয় এবং বহিরাগত ও অভ্যন্তরীণ নানা ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে গতকাল দুপুর থেকে কলেজের অধ্যক্ষ ড. মো. আতাউর রহমানের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে আমরণ অনশন কর্মসূচিতে যোগ দেন কলেজের অন্য শিক্ষকরা।
৩১০ দিন আগে
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হলে আ. লীগ নির্বাচন করতে পারবে না: ইসি সানাউল্লাহ
আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের উপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করা হলে দলটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা কোনো রাজনৈতিক দলের নেতারা আসন্ন সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের কোনো কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি নেই। তাই, তারা সেই রাজনৈতিক দলের নামে যেকোনো ধরনের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না।’
বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগওরগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনার এ কথা বলেন।
নির্বাচন কমিশনার জনপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়ায় পরিবর্তনগুলো উত্থাপন করার সময় এই মন্তব্য করেন।
আগামী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এই আইনের খসড়াটি অধ্যাদেশ হিসেবে আইনে রূপান্তরিত হবে।
পড়ুন: নির্বাচনে ‘না ভোট’ দেওয়ার সুযোগ রাখার খসড়া আইন ইসির
কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা দলের নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন কিনা এমন আরেকটি প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা দলের প্রতীক ছাড়া নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কিনা তা সময়ই বলে দেবে।
খসড়া আরপিও-তে পরিবর্তনগুলো তুলে ধরে সানাউল্লাহ বলেন, যদি কোনো রাজনৈতিক দলকে 'অবৈধ বা বাতিল' ঘোষণা না করা হয় কিন্তু সরকার তার কার্যক্রম স্থগিত করে, তবে সেক্ষেত্রে সেই রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন এবং তার জন্য সংরক্ষিত প্রতীক স্থগিত থাকবে।
পলাতকদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব করে নির্বাচন কমিশন খসড়া আরপিও (সংশোধন) অধ্যাদেশ চূড়ান্ত করেছে।
সানাউল্লাহ বলেন, যেকোনো আদালতে পলাতক ঘোষণা করা ব্যক্তি নির্বাচনের জন্য বা (সংসদের) সদস্য হওয়ার জন্য অযোগ্য হবেন।
২০২৫ সালের ১২ মে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে সরকার একটি গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলোর সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) দলের নেতা-কর্মীদের বিচার সম্পন্ন করা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।
পড়ুন: নির্বাচনে অন্য কোনো দেশকে থাবা মারার সুযোগ দেওয়া হবে না : প্রধান উপদেষ্টা
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারির পর নির্বাচন কমিশন (ইসি) আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন স্থগিত করে।
সরকারের বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীদের বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী ও সমমনা সংগঠনগুলোর সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ বা এর সহযোগী সংগঠনগুলোর আয়োজিত যেকোনো ধরণের প্রকাশনা, গণমাধ্যম সম্পৃক্ততা, অনলাইন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা, সমাবেশ, সভা, সমাবেশ এবং সম্মেলন কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
৩২১ দিন আগে
লেবাননে শান্তিরক্ষী বাহিনী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিল জাতিসংঘ
আগামী বছরের শেষ নাগাদ লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল থেকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদ। বাহিনীটি মোতায়নের প্রায় পাঁচ দশক পর যুক্তরাষ্ট্র ও তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলের চাপে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সর্বসম্মতভাবে এ প্রস্তাব গৃহীত হয়।
সিএনএন জানিয়েছে, প্রথমে ছয় মাসের মধ্যে লেবানন থেকে শান্তিরক্ষী বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি জানায় যুক্তরাষ্ট্র। পরে এক বছরের চূড়ান্ত সময়সীমার প্রস্তাব দেয় ওয়াশিংটন। সবশেষ ১৬ মাস মেয়াদি একটি চূড়ান্ত প্রস্তাবে সম্মতি দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এর আওতায় লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাবে শান্তিরক্ষী বাহিনী।
১৯৭৮ সালে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের হামলার পর সেখানে জাতিসংঘ অন্তর্বর্তীকালীন বাহিনী (ইউএনআইএফআইএল) মোতায়ন করে। এরপর ২০০৬ সালের ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধের এই বাহিনীর মেয়াদ আরও বাড়ানো হয়। ফলে দশক ধরে ইউএনআইএফআইএল দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে চলেছে।
আরও পড়ুন: জোরপূর্বক ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ যুদ্ধাপরাধের শামিল: জাতিসংঘ
গৃহীত প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে এক বছরের মধ্যে ইউএনআইএফআইএল তাদের ১০ হাজার ৮০০ সামরিক ও বেসামরিক সদস্য এবং সব জাতিসংঘ সরঞ্জাম প্রত্যাহার করবে। এ সময়ে সীমিত কিছু কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি থাকবে বাহিনীটির।
প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের জাতিসংঘ-চিহ্নিত সীমান্তরেখা ‘ব্লু লাইন’-এর উত্তরে নিরাপত্তা প্রদানের একমাত্র দায়িত্ব পালন করবে লেবানন সরকার। পাশাপাশি ইসরায়েলকে ওই রেখার উত্তরের এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
গত বছর ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধের সময় এ বাহিনী উভয়পক্ষের সমালোচনার মুখে পড়ে। মার্কিন কংগ্রেসের অনেক সদস্যও ইউএনআইএফআইএলের তীব্র সমালোচনা করেন সে সময়।
ওয়াশিংটনের দাবি, এ বাহিনী কেবল অর্থের অপচয় করছে এবং হিজবুল্লাহর প্রভাব নির্মূল ও লেবাননের সেনাবাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যকে দীর্ঘায়িত করছে। এরই মধ্যে ইউএনআইএফআইএলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে বড় ধরনের কাটছাঁট করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
তবে লেবাননের সেনাবাহিনী এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করেনি বলে দাবি করেছে দেশটির সরকার।
গৃহীত ওই প্রস্তাবে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনীকে সরঞ্জাম, উপকরণ ও আর্থিক সহায়তা জোরদার করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
এদিকে, ইউরোপের অনেক দেশ, বিশেষত ফ্রান্স ও ইতালি এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। তাদের ভাষ্যে, লেবানিজ সেনাবাহিনী সীমান্ত এলাকায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আগে শান্তিরক্ষী বাহিনী চলে গেলে সেখানে এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হবে। এই সুযোগ হিজবুল্লাহ সহজেই কাজে লাগাতে পারবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দেশগুলো।
৩২৬ দিন আগে
প্রত্যাহারের জন্য সুপারিশকৃত রাজনৈতিক মামলার তালিকা প্রকাশের সিদ্ধান্ত
দেশে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের মধ্যে হওয়া রাজনৈতিকভাবে হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের জন্য মন্ত্রণালয় পর্যায়ে গঠিত কমিটির ইতোমধ্যে সুপারিশ করা মামলাগুলোর তালিকা আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করবে স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়।
রবিবার (২৭ এপ্রিল) সচিবালয়ে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করার বিষয়ে মন্ত্রণালয় পর্যায়ে গঠিত কমিটির দ্বাদশ সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় আরও ৫১৭টি মামলা প্রত্যাহার করার সুপারিশ করা হয়। এ নিয়ে গত চার মাসে মোট ৮ হাজার ৮৩২টি রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে এই কমিটি।
আরও পড়ুন: পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মোবাইল কোর্ট, ৪৫০০০ টাকা জরিমানা আদায়
সভায় জানানো হয়, এসব মামলার প্রতিটিতে গড়ে কমপক্ষে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছিল। সেই হিসেবে বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রায় পাঁচ লাখ নেতাকর্মী এসব মামলার আসামি ছিলেন।
বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয়ের সলিসিটর অনুবিভাগে (সলিসিটর অনুবিভাগ, আইন ও বিচার বিভাগ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রনালয়, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট প্রাঙ্গন, ঢাকা) বা solicitor.lawjusticediv.gov.bd ই-মেইলে সরাসরি আবেদন করেও মামলা প্রত্যাহার করা যাচ্ছে। মামলার এজাহার ও অভিযোগপত্রের ‘সার্টিফাইড কপি’ সংগ্রহে সমস্যা হলে মামলা প্রত্যাহারের দরখাস্তের সঙ্গে এজাহার ও অভিযোগপত্রের ‘সার্টিফাইড ফটোকপি’ ও দাখিল করা যাবে বলে কমিটি সিদ্ধান্ত নেয়।
৪৫০ দিন আগে
রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারে আইন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা যাবে
রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলার শিকার যেকোনো ব্যক্তি এখন থেকে সরাসরি আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর বরাবর মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করতে পারবেন।
রবিবার (২০ এপ্রিল) সচিবালয়ে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করার বিষয়ে মন্ত্রণালয় পর্যায়ে গঠিত কমিটির একাদশ সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের চলমান কার্যক্রম আরও বেগবান করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সময়ের মধ্যে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলার শিকার যে কোনো ব্যক্তি মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করতে পারবেন।
তবে আবদনপত্রের সঙ্গে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট মামলার এজাহার ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অভিযোগপত্রের (চার্জশিট) সত্যায়িত অনুলিপি দাখিল করতে হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: শ্রমিকদের দাবি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আজকের সভায় আরও ৭২৪টি মামলা প্রত্যাহার করার সুপারিশ করা হয়েছে। এর আগের বিভিন্ন সভায় কমিটি মোট ৭ হাজার ৫৭০টি মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করে। ফলে আজ পর্যন্ত সর্বমোট ৮ হাজার ২৯৪টি রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করল এই কমিটি।
দেশে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সময়ের মধ্যে দায়েরকৃত সকল রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা ক্রমান্বয়ে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্তও নেয় কমিটি।
৪৫৭ দিন আগে