ইউএস-ও-কানাডা
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘বেপরোয়া সামরিক অভিযানের’ অভিযোগ ইরানের
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অভিযোগ করেছেন যে, যখনই কোনো কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ আসে, যুক্তরাষ্ট্র তখনই একটি ‘বেপরোয়া সামরিক অভিযানের’ পথ বেছে নেয়।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি বলেছেন, ইরানিরা ‘কখনোই কোনো চাপের কাছে মাথা নত করবে না’।
এমন সময়ে তিনি এই মন্তব্য করলেন, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই হামলার জন্য একে অপরকে দোষারোপ করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র আরও কয়েকটি ইরানি জাহাজে হামলা চালিয়েছে।
তবে এসব সংঘর্ষের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধবিরতি এখনও বহাল রয়েছে। এই যুদ্ধবিরতির লক্ষ্য হলো ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে যুদ্ধ শুরু করেছিল, তা বন্ধে আলোচনার পথ তৈরি করা।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের জবাব দেওয়ার কথা রয়েছে। ইতালি সফরকালে তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই আশা করি, এটি একটি গুরুতর প্রস্তাব হবে।’
ইরান বর্তমানে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাব হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। প্রণালিটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ব্যাপক বেড়ে গেছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রায় দুই হাজার জাহাজকে মুক্ত করতে একটি সামরিক অভিযান শুরু করলেও পরে তা স্থগিত করা হয়। ফেব্রুয়ারি থেকে এসব জাহাজ ওই এলাকায় আটকে রয়েছে।
এছাড়া, তেহরানকে মার্কিন শর্ত মেনে নিতে চাপ দিতে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ বজায় রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান।
শুক্রবার (৮ মে) মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ওমান উপসাগরে ইরানের একটি বন্দরে ঢোকার চেষ্টা করা ইরানি পতাকাবাহী খালি দুটি তেলবাহী ট্যাংকার অচল করে দিয়েছে মার্কিন বাহিনী। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, জাহাজ দুটি চলমান মার্কিন অবরোধ লঙ্ঘন করছিল।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মার্কিন বাহিনী ‘নির্ভুল অস্ত্র’ ব্যবহার করে ট্যাংকার দুটির ধোঁয়ার চিমনিতে আঘাত হানে, যাতে সেগুলো ইরানে প্রবেশ করতে না পারে।
সেন্টকমের তথ্য অনুসারে, মার্কিন বাহিনী বর্তমানে ৭০টিরও বেশি ট্যাংকারকে ইরানের বন্দরগুলোতে প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হতে বাধা দিচ্ছে।
পরে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র জানায়, আগামী সপ্তাহে ইসরায়েল-লেবানন বৈঠকের নতুন দফা আয়োজন করতে তারা প্রস্তুত রয়েছে। এর লক্ষ্য লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ এবং ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে চলমান সংঘর্ষ বন্ধ করা।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, আগামী ১৪ ও ১৫ মে অনুষ্ঠিতব্য ‘নিবিড়’ আলোচনার উদ্দেশ্য হবে ‘ইসরায়েলের জন্য স্থায়ী নিরাপত্তা এবং লেবাননের জন্য সার্বভৌমত্ব ও পুনর্গঠন নিশ্চিত করা।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বলছে, যেকোনো শান্তিচুক্তির জন্য হিজবুল্লাহকে পুরোপুরি নিরস্ত্র হতে হবে। তবে শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীটি এই আলোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে। গত মাসে ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছিল। একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি হলেও তা বারবার লঙ্ঘিত হয়েছে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর সংঘর্ষে।
এদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শুক্রবার ওয়াশিংটনে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানির সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।
কাতারের প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান, সব পক্ষ যেন আলোচনায় অংশ নিয়ে ‘সংকটের মূল কারণ’সমাধান এবং ‘স্থায়ী শান্তি’প্রতিষ্ঠায় কাজ করে।
ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলার আগে বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালিতে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষ হয়, যার জন্য দুই দেশই একে অপরকে দায়ী করেছে।
সেন্টকম অভিযোগ করে, ইরান তাদের তিনটি যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌযান ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। তাদের ভাষায়, এটি ছিল ‘উসকানিবিহীন হামলা’।
পাশাপাশি, ইরানের সর্বোচ্চ সামরিক কমান্ড দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসরমান একটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ ও আরেকটি জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে এবং উপকূলীয় কয়েকটি এলাকায় বিমান হামলা করেছে।
হরমোজগান প্রদেশের মিনাব উপকূলের কাছে হামলার শিকার হওয়া একটি মালবাহী জাহাজে আগুন ধরে যায় বলে জানান দক্ষিণাঞ্চলীয় ওই প্রদেশের কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাদমেহর।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা মেহরকে তিনি বলেন, ‘আহত ১০ নাবিককে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং অন্য নাবিকদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা জানতে স্থানীয় এবং উদ্ধারকারী দল কাজ করছে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রাতে ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র একাধিক ছোট নৌযান, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস করেছে এবং এতে ‘ইরানি হামলাকারীদের ব্যাপক ক্ষতি’ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আজ যেমন আমরা তাদের আবারও গুঁড়িয়ে দিয়েছি, ভবিষ্যতেও যদি তারা দ্রুত চুক্তিতে স্বাক্ষর না করে, তাহলে আরও কঠোর ও আরও সহিংসভাবে তাদের ওপর আঘাত হানা হবে।’
৬ দিন আগে
পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে ফের যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, ২ ‘মাদক কারবারি’ নিহত
পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারকারী সন্দেহে আরও একটি নৌযানে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলা। এ ঘটনায় ২ জন নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি একজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ডের পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সাগরের বুকে নৌকাসদৃশ একটি কালো বস্তুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটছে এবং সেখান থেকে আগুনের কুণ্ডলী আকাশে ছড়িয়ে পড়ছে।
সাউদার্ন কমান্ড জানিয়েছে, হামলার পরপরই জীবিত ব্যক্তিকে উদ্ধারে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম চালাতে মার্কিন কোস্ট গার্ডকে জানানো হয়।
এর আগে, গত বুধবার হোয়াইট হাউস থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নতুন সন্ত্রাসবিরোধী কৌশল অনুমোদন করেছেন। এই কৌশলের আওতায় পশ্চিম গোলার্ধ থেকে মাদক কার্টেল বা অপরাধী চক্র নির্মূল করাকে প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
গত সেপ্টেম্বর থেকে লাতিন আমেরিকার জলসীমা, বিশেষ করে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর এবং ক্যারিবীয় সাগরে কথিত মাদক পাচারকারী নৌযানের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে ট্রাম্প প্রশাসন। এই ধারাবাহিক অভিযানে এ পর্যন্ত অন্তত ১৯৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। তবে ধ্বংস করা এসব নৌকায় আসলেও কোনো মাদক ছিল কি না, সে বিষয়ে সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ দেওয়া হয়নি। গত কয়েক সপ্তাহে এ ধরনের হামলার পরিমাণ আরও বেড়েছে।
একই সঙ্গে ট্রাম্প ওই অঞ্চলের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা অপরাধী চক্রগুলো দমনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেন। তিনি মাদক পাচারকারী এবং আন্তঃদেশীয় গোষ্ঠীগুলোকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ‘অগ্রহণযোগ্য হুমকি’ হিসেবে বর্ণনা করে তাদের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন।
এদিকে, কোনো বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়াই সাগরে এভাবে নৌকা লক্ষ্য করে হামলা চালানোর আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মানবাধিকার কর্মী ও সমালোচকরা।
৬ দিন আগে
পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে ফের নৌযানে মার্কিন বাহিনীর হামলা, নিহত ৩
পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পরিবহনের সন্দেহে ফের একটি নৌযানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। এ ঘটনায় ৩ জন নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৫ মে) এ ঘটনা ঘটে। এর এক দিন আগে ক্যারিবীয় সাগরে আরেকটি সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌকায় হামলা চালিয়ে ২ জনকে হত্যা করে মার্কিন বাহিনী।
সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারী নৌযান ধ্বংসে গত সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে লাতিন আমেরিকার জলসীমায় ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এতে এখনও পর্যন্ত অন্তত ১৯১ জন নিহত হয়েছেন।
ইরান যুদ্ধ চলমান থাকা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এসব হামলা আবারও বেড়েছে, যা দেখায় যে পশ্চিম গোলার্ধে কথিত ‘মাদক সন্ত্রাস’ প্রশাসনের আক্রমণাত্মক পদক্ষেপের পরও থেমে নেই। তবে নৌযানে মাদক ছিল কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনো প্রমাণ দেয়নি মার্কিন সামরিক বাহিনী।
তবে মঙ্গলবার (৫ মে) এ হামলা নিয়ে ইউএস সাউদার্ন কমান্ড আবারও উল্লেখ করে, পরিচিত পাচার রুটে থাকা সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারীদের লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়েছে। তারা এক্সে একটি ভিডিও-ও প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যায়, একটি নৌযান চলার সময় হঠাৎ বড় বিস্ফোরণ হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, লাতিন আমেরিকার সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ‘সশস্ত্র সংঘাতে’ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে মাদকের প্রবাহ ও অতিরিক্ত মাত্রায় মৃত্যুর ঘটনা ঠেকাতে এসব হামলা প্রয়োজনীয়।
এদিকে, এসব নৌযান হামলার সামগ্রিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকরা।
৯ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমায় গুলিবর্ষণ, আহত অন্তত ১২
যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা সিটিতে একটি পার্টিতে গুলিবর্ষণের ঘটনায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় রবিবার (৩ মে) রাতে ওকলাহোমার কাছে আর্কেডিয়া লেকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন শহরটির পুলিশ ও হাসপাতাল কর্মকর্তারা ।
এডমন্ড পুলিশের মুখপাত্র এমিলি ওয়ার্ড বলেন, রবিবার রাত ৯টার দিকে আর্কেডিয়া লেকের কাছে তরুণদের একটি মিলানায়তনে এই হামলা চালানো হয়। খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে উপস্থিত হয় কর্তৃপক্ষ, তবে এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘এটি নিঃসন্দেহে খুবই ভয়ের ব্যাপার। আমরা জনসাধারণ ও সংশ্লিষ্টদের উদ্বেগ বুঝতে পারছি। দুষ্কৃতিকারীদের খুঁজে বের করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
ওয়ার্ড বলেন, ‘আমরা পুরো মেট্রো এলাকায় ছড়িয়ে আছি এবং ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলছি।’
তিনি জানান, ১০ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং আরও কয়েকজন নিজ দায়িত্বে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আহতদের স্বাস্থ্যের অবস্থা একেকজনের একেক রকম।
হাসপাতালের এক মুখপাত্রের মতে, ওকলাহোমা সিটির ইন্টেগ্রিস হেলথ ব্যাপ্টিস্ট মেডিকেল সেন্টারে ৯ জন এবং ইন্টেগ্রিস হেলথ এডমন্ড হাসপাতালে ৩ জন ভর্তি ছিলেন। রবিবার রাত পর্যন্ত রোগীদের সবার অবস্থা মূল্যায়ন করা হচ্ছিল।
পুলিশ এ সম্পর্কে বিস্তারিত না জানালেও গুলির ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা একটি ফ্লায়ারে বোঝা যায়, রবিবার সন্ধ্যায় লেকের কাছে ‘সানডে ফানডে’ নামে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।
ওকলাহোমা সিটি থেকে প্রায় ১৩ মাইল উত্তরে অবস্থিত আর্কেডিয়া লেক একটি কৃত্রিম জলাধার, যা বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহৃত হয়। একই সঙ্গে এটি একটি জনপ্রিয় বিনোদনকেন্দ্র, যেখানে মাছ ধরা, নৌকা চালানো, পিকনিক ও ক্যাম্পিংয়ের সুবিধা রয়েছে। এই পার্কটি মূলত ওকলাহোমা সিটির এডমন্ড উপশহরে অবস্থিত।
চল্লিশ বছর আগে এই উপশহরটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ গুলিবর্ষণের জায়গা। ১৯৮৬ সালের ২০ আগস্ট ডাককর্মী প্যাট্রিক শেরিল ২০ জন সহকর্মীর ওপর গুলি চালিয়ে ১৪ জনকে হত্যা করেছিলেন। ওই ঘটনার পর তিনি নিজেও আত্মহত্যা করেন।
১১ দিন আগে
মধ্যপ্রাচ্যের চার দেশে ৮.৬ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের
ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অস্ত্রভাণ্ডার শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে দেশটির সরকার। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জরুরি পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে কংগ্রেসে অস্ত্র নিয়ে পর্যালোচনা ছাড়াই দ্রুত এ অনুমোদন দিয়েছেন।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। এতে দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা অস্ত্রের মজুত কমে আসছে। দেশগুলোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপরও চাপ বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই অস্ত্র বিক্রির আওতায় ইসরায়েলের জন্য ৯৯২ মিলিয়ন ডলার মূল্যের অ্যাডভান্সড প্রিসিশন কিল উইপন সিস্টেম (এপিকেডব্লিউএস) ও অন্যান্য সরঞ্জাম পাঠানো হবে। কুয়েত যুক্তরাষ্ট্র থেতে আড়াই বিলিয়ন ডলারের ব্যাটল কমান্ড সিস্টেম কিনতে পারবে।
অন্যদিকে, কাতার প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে এপিকেডব্লিউএস কেনার অনুমোদন পেয়েছে। তাদের প্যাট্রিয়ট এয়ার ও মিসাইল প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পুনরায় মজুত করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতকেও ১৪৮ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এপিকেডব্লিউএস কেনার ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩ মে) কয়েকটি ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তারা এই অস্ত্র বিক্রিকে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরি প্রয়োজন হিসেবে দেখছে। তাই নিয়ম মেনে অস্ত্র নিয়ে কংগ্রেসে দীর্ঘ পর্যালোচনা হয়নি। সাধারণত যুক্তরাষ্ট্র থেকে অন্য দেশে বড় অঙ্কের অস্ত্র বিক্রি করতে হলে অস্ত্র রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইনের অধীনে আগে বিষয়টি পর্যালোচনা করে মার্কিন কংগ্রেস। কিন্তু এবার পরিস্থিতি এত জরুরি যে তারা বিস্তারিত কারণ দেখিয়ে নিয়মিত কংগ্রেসের রিভিউ প্রক্রিয়া পাশ কাটয়ে সরাসরি প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোকে অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এসব অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা, যা আকাশপথে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য হামলা প্রতিহত করতে ব্যবহৃত হয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অস্ত্রভাণ্ডারের অন্যতম উন্নত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা।
এপিকেডব্লিউএস মূলত সাধারণ রকেটকে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যভেদি অস্ত্রে রূপান্তর করতে ব্যবহৃত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আরও জানায়, কুয়েতের কেনা ব্যাটল কমান্ড সিস্টেম দেশটির রাডারভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা শনাক্তকরণ সক্ষমতা আরও উন্নত করবে।
এর আগে, মার্চ মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও জর্ডানের জন্য আলাদা করে সাড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেয় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।
ওই চুক্তিগুলোর আওতায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের জন্য ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র, রাডার সিস্টেম ও এফ-১৬ যুদ্ধবিমান এবং কুয়েতের জন্য আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডার সিস্টেম অন্তর্ভুক্ত ছিল।
অপরদিকে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ব্যবহারের ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের বাইরে সম্ভাব্য সংঘাতগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে, তাইওয়ান ও চীনের মধ্যে চলমান দ্বন্দে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে সম্প্রতি প্রশ্ন উঠেছে।
তাইওয়ান একটি স্বশাসিত দ্বীপ, তবে এটিকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে বেইজিং। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের সংঘাত চলমান রয়েছে।
গত মাসে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিওজে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চালানোর মতো পর্যাপ্ত অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মজুত আছে। তবে চীনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আরও বড় অস্ত্রভাণ্ডার প্রয়োজন হবে।
প্রতিবেদটিতে উল্লেখ করা হয়, চীনের সঙ্গে সংঘাত প্রতিহত করার মতো পর্যাপ্ত অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মজুত নেই। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্র সরবরাহের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার যে পর্যায়ে রয়েছে, তা ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান সীমিত করে দিতে পারে।
১২ দিন আগে
ইরানের নতুন প্রস্তাব পর্যালোচনায় ট্রাম্প
যুদ্ধের ইতি টানতে ইরানের নতুন একটি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বিষয়টি শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তিতে পৌঁছাবে কি না, সে বিষয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় সময় শনিবার (৩ মার্চ) সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার কিছুক্ষণ পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন প্রস্তাব নিয়ে পোস্ট করেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমি ভাবতেও পারিনি যে তাদের এই প্রস্তাব প্রাসঙ্গিক হবে। কারণ বিগত ৪৭ বছরে তারা মানবতা এবং বিশ্বের প্রতি যে নির্দশন দেখিয়েছে, তার যথেষ্ট মূল্য এখনও পরিশোধ হয়নি।’
ইরানের আধা-সরকারি দুটি সংবাদমাধ্যম তাসনিম এবং ফার্স জানায়, পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরান ৯ দফা মার্কিন প্রস্তাবের জবাবে ১৪ দফা প্রস্তাব পাঠিয়েছে। পাকিস্তান এর আগেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার আয়োজন করেছে।
তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এখনও এই নতুন প্রস্তাব নিয়ে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প ইরানের আগের একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তবে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং তিন সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি এখনও কার্যকর রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট পারস্য উপসাগরের মুখে অবস্থিত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার একটি নতুন পরিকল্পনাও উত্থাপন করেছেন।
জাহাজ কোম্পানিগুলোর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা
এদিকে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে চলাচলের জন্য ইরানকে অর্থ দিলে জাহাজ চলাচলকারী কোম্পানিগুলো নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার পর ইরান জাহাজে হামলা ও হুমকির মাধ্যমে কার্যত প্রণালিটি বন্ধ করে দেয়। পরে ইরান তাদের উপকূলঘেঁষা পথ দিয়ে কিছু জাহাজকে নিরাপদে চলাচলের প্রস্তাব দিয়েছে এবং কখনও কখনও এর জন্য ফিও আদায় করেছে।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করে বলেছে, কেবল নগদ অর্থ নয়, ডিজিটাল সম্পদ, বিনিময়, অনানুষ্ঠানিক লেনদেন বা অন্য কোনো পণ্য বা সেবার বিনিময়, এমনকি দাতব্য অনুদান বা ইরানি দূতাবাসে অর্থ প্রদান করলেও জাহাজ কোম্পানিগুলো ঝামেলার সম্মুখীন হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র গত ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ জারি রেখেছে। এর ফলে তেল রপ্তানি থেকে আয় কমে গিয়ে দেশটির অর্থনীতি আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে। আজ (শনিবার) যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, ৪৮টি বাণিজ্যিক জাহাজকে ফিরে যেতে বলা হয়েছে।
১২ দিন আগে
ইরান যুদ্ধ নিয়ে টানা দ্বিতীয় দিন ডেমোক্র্যাটদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে হেগসেথ
ক্যাপিটল হিলে দ্বিতীয় দিনের মতো ডেমোক্র্যাটদের কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ইরান যুদ্ধ মোকাবিলায় পেন্টাগনপ্রধানের ভূমিকা নিয়ে সিনেটররা প্রথমবারের মতো তাকে প্রশ্ন করার সুযোগ পাবেন।
এর আগে, গতকাল (বুধবার) প্রায় ৬ ঘণ্টার হাউজ আর্মড সার্ভিস কমিটির শুনানির সময় হেগসেথ ডেমোক্র্যাট ও কয়েকজন রিপাবলিকানের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। সে সময় তাকে যুদ্ধের খরচ, প্রাণহানি এবং গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়া নিয়ে তীব্র প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়।
আর্মড সার্ভিস কমিটির শুনানিতে ট্রাম্প প্রশাসনের ২০২৭ সালের সামরিক বাজেট প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা করা হবে। এই আলোচনায় প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়িয়ে দেড় ট্রিলিয়ন ডলারে নেওয়ার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।
এ ছাড়াও বেশি বেশি ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং যুদ্ধজাহাজের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেবেন হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন।
একইসঙ্গে তারা ইউরোপে মার্কিন সেনা উপস্থিতি নিয়েও কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়তে পারেন। কারণ গতকাল (বুধবার) প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটোর মিত্র জার্মানিকে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, জার্মানিতে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে দিতে পারে, কারণ ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মেয়াৎর্সের বিরোধ চলমান।
বুধবারের অভিজ্ঞতা যদি কোনো ইঙ্গিত দেয়, তবে রিপাবলিকান সিনেটররা মূলত সামরিক বাজেটের খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন এবং ইরানে সামরিক অভিযানের প্রতি সমর্থন জানাবেন। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটরা এই সংঘাতের কৌশল নিয়ে জবাব চাইবেন। পাশাপাশি হেগসেথের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলবেন।
ডেমোক্র্যাটরা এই যুদ্ধকে ব্যয়বহুল এবং অপ্রয়োজনীয় বলে আখ্যা দিচ্ছেন। কংগ্রেসের অনুমোদন বা তদারকি ছাড়াই শুরু হয়েছে এই যুদ্ধ। তবে কংগ্রেস নিজেই একাধিক ‘ওয়ার পাওয়ারস’ প্রস্তাব পাস করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই প্রস্তাব সামরিক পদক্ষেপের আগে আইনপ্রণেতাদের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করত।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আইনপ্রণেতারা যেসব প্রশ্ন করতে চেয়েছিলেন, তার কিছু বুধবারের শুনানিতে উত্তর দেওয়া হয়েছে। তবে কিছু প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে পেন্টাগনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত এই যুদ্ধে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে, যার বেশিরভাগই অস্ত্র-গোলাবারুদের পেছনে। কিন্তু যুদ্ধ আর কতদিন চলবে বা আরও কত খরচ হতে পারে, এ বিষয়ে হেগসেথ কোনো উত্তর দেননি।
হেগসেথ আরও বলেন, একটি ইরানি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় ১৬৫ জনের বেশি মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে অনেক শিশু ছিল। এই বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, ক্রমবর্ধমান প্রমাণে ইঙ্গিত মিলছে যে এই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র দায়ী হতে পারে। ওই স্কুলটি একটি রেভল্যুশনারি গার্ড ঘাঁটির পাশেই ছিল।
ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি প্যাট রায়ান জানতে চান, কুয়েতে ড্রোন হামলায় ছয়জন মার্কিন সেনার মৃত্যু প্রতিরোধ করা যেত কি না। হেগসেথ সরাসরি এর উত্তর দেননি, তবে বলেন, মার্কিন বাহিনীকে সুরক্ষিত রাখতে সেনাবাহিনী আগাম পদক্ষেপ নিয়েছিল।
আরেকটি উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তে হেগসেথ ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি অ্যাডাম স্মিথকে বলেন, গত জুনে মার্কিন হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। এতে স্মিথ প্রশ্ন তোলেন, তাহলে এর এক বছরেরও কম সময় পরে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার যুক্তি কী?
স্মিথ বলেন, ‘আপনি তো ৬০ দিন আগে বলেছিলেন, এই যুদ্ধ শুরু করতে হয়েছে, কারণ পারমাণবিক অস্ত্র একটি আসন্ন হুমকি। এখন আপনি বলছেন, সেগুলো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে?’
জবাবে হেগসেথ বলেন, ইরান তাদের ‘পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা’ ত্যাগ করেনি এবং তাদের কাছে এখনও হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে।
স্মিথ বলেন, ‘এই যুদ্ধ আমাদের ঠিক সেই অবস্থাতেই রেখে গেছে, যেখানে আমরা আগেও ছিলাম।’
সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা জেনারেল র্যান্ডি জর্জকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে আরও প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাকে সরানো হয়েছে। হেগসেথ এসব প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘নতুন নেতৃত্ব দরকার ছিল।’
তবে তার এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হননি পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ক্রিসি হাউলাহান। তিনি বলেন, ‘আপনি কেন এত অসাধারণ একজন মানুষকে বরখাস্ত করলেন, তার কোনো উপযুক্ত ব্যাখ্যা আপনার কাছে নেই।’ তখনই হেগসেথ তাকে থামিয়ে দিয়ে আবার বলেন, ‘আমাদের নতুন নেতৃত্ব দরকার ছিল।’
১৫ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যা মামলার বিচার শুরু
যুক্তরাষ্ট্রে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হিশাম আবুঘারবিয়েহর (২৬) বিরুদ্ধে আদালতে তোলা হচ্ছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে এই শুনানি দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, আবুঘারবিয়েহর বিরুদ্ধে অস্ত্র ব্যবহার করে দুটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যার অভিযোগসহ আরও কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তিনি মৃত্যুদণ্ড পেতে পারেন। তবে প্রসিকিউটররা এখনও বিষয়টি নিশ্চিত করেননি।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল ৯টার স্ট্যাটাস কনফারেন্সে তিনি উপস্থিত থাকবেন কি না, তা এখনও জানা যায়নি। পাবলিক ডিফেন্ডার জেনিফার স্প্রাডলি গতকাল (সোমবার) জানান, তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবেন না।
বাংলাদেশি দুই পিএইচডি শিক্ষার্থী ২৭ বছর বয়সী জামিল লিমন এবং নাহিদা বৃষ্টি বিয়ের কথা ভাবছিলেন বলে তাদের এক স্বজন জানিয়েছেন। গত ১৬ এপ্রিল তারা নিখোঁজ হন। লিমনকে সর্বশেষ দেখা যায় ক্যাম্পাসের বাইরে একটি আবাসিক কমপ্লেক্সে, যেখানে তিনি আবুঘারবিয়েহ এবং আরও এক রুমমেটের সঙ্গে থাকতেন।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে লিমনের মরদেহ যেখান থেকে উদ্ধার করা হয়, গোয়েন্দারা মোবাইল ফোনের অবস্থান এবং লাইসেন্স প্লেট রিডার তথ্য ব্যবহার করে আবুঘারবিয়েহর গাড়ি এবং লিমনের ফোনের গতিপথ অনুসরণ করে সেই সেতু পর্যন্ত পৌঁছান।
মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্ত শেষে লিমনের দেহাবশেষে অসংখ্য ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল বলে জানিয়েছেন মেডিকেল পরীক্ষক।
অন্যদিকে, বৃষ্টিকে খুঁজে পেতে এখনও তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন ডেপুটিরা। রবিবার (২৬ এপ্রিল) শেরিফের কার্যালয় জানায়, সেতুর কাছাকাছি একটি জলাশয় থেকে একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, তবে সেটির পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
নিখোঁজ হওয়ার কয়েকদিন পর যখন গোয়েন্দারা আবুঘারবিয়েহ এবং অপর রুমমেটকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন, তখন তারা লক্ষ করেন আবুঘারবিয়েহর কনিষ্ঠ আঙুলে ব্যান্ডেজ বাঁধা। তবে লিমনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় কোনো সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেন আবুঘারবিয়েহ।
লিমনের আরেক রুমমেট গোয়েন্দা পুলিশকে জানান, ১৬ এপ্রিল রাতে আবুঘারবিয়েহ একটি ট্রলি ব্যবহার করে তার কক্ষ থেকে কার্ডবোর্ডের কয়েকটি বাক্স আবর্জনা ফেলার স্থানে নিয়ে যান। সেখান থেকেই গোয়েন্দারা লিমনের মানিব্যাগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, চশমা এবং রক্তের দাগযুক্ত পোশাক উদ্ধার করেন।
পরবর্তীতে আবুঘারবিয়েহর কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে গোয়েন্দারা রান্নাঘর থেকে তার শয়নকক্ষ পর্যন্ত রক্তের চিহ্ন দেখতে পান এবং তার কক্ষের কার্পেটে রক্তের দাগ শনাক্ত করেন। লিমনের কক্ষে তারা বৃষ্টির বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি এবং ক্রেডিট কার্ডও খুঁজে পান।
প্রসিকিউটরদের দাখিল করা এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, নিখোঁজের কয়েকদিন আগে আবুঘারবিয়েহ চ্যাটজিপিটিকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, যদি কোনো মানুষের দেহ একটি প্লাস্টিক ব্যাগে ভরে ডাম্পস্টারে ফেলে দেওয়া হয়, তাহলে কী হতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চ্যাটজিপিটি ওই প্রশ্নটিকে বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করে সতর্ক করেছিল।
১৭ দিন আগে
সাংবাদিকদের সঙ্গে ট্রাম্পের নৈশভোজে গুলি: গ্রেপ্তার ব্যক্তি শিক্ষক ও প্রোগ্রামার
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নৈশভোজ চলাকালে গুলির ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিকে ঘিরে বিভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। তার লিংকডইনের পোস্ট থেকে জানা যায়, তিনি পেশায় শিক্ষক এবং ভিডিও গেম ডেভেলপার।
স্থানীয় সময় শনিবার (২৫ এপ্রিল) তাকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম কোল টমাস অ্যালেন (৩১)। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার টরেন্সের বাসিন্দা।
গ্রেপ্তার ওই ব্যক্তি ২০২৫ সালের মে মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইনে তার প্রোফাইল ছবি প্রকাশ করেছিলেন। ছবিটিকে তাকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের সময় ক্যাপ ও গাউন পরা অবস্থায় দেখা যায়। ওই প্রোফাইল ছবির সঙ্গে শনিবার রাতে ট্রাম্পের পোস্ট করা হোয়াইট হাউসে হামলাকারীকে গ্রেপ্তারের সময় তোলা ছবির ব্যক্তির চেহারার মিল পাওয়া গেছে।
অ্যালেন ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি ডোমিঙ্গেজ হিলস থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এর আগে ২০১৭ সালে তিনি ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। ছাত্রজীবনে তিনি একটি খ্রিস্টান ছাত্র সংগঠন এবং ক্যাম্পাসের একটি সশস্ত্র গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
তার সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্সের অধ্যাপক বিন তাং জানান, অ্যালেন তার কয়েকটি ক্লাসে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘সে খুবই ভালো ছাত্র ছিল। সব সময় সামনের সারিতে বসত, মনোযোগ দিয়ে ক্লাস করত এবং প্রায়ই ইমেইলে পড়াশোনার বিষয়ে প্রশ্ন করত।
তিনি আরও বলেন, ‘ছেলেটি শান্ত স্বভাবের, ভদ্র এবং ভালো মানুষ ছিলেন। এই খবর দেখে আমি ভীষণ অবাক হয়েছি।’
কলেজ জীবনের শেষ বছরে লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি স্থানীয় টেলিভিশন অ্যালেনের একটি সাক্ষাৎকার প্রচার করেছিল। সেখানে বয়স্কদের সাহায্যকারী নতুন প্রযুক্তিবিষয়ক একটি প্রতিবেদনের অংশ হিসেবে তার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছিল। তিনি হুইলচেয়ারের জন্য নতুন ধরনের জরুরি ব্রেকের একটি প্রোটোটাইপ তৈরি করেছিলেন। তার এই উদ্ভাবন প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এছাড়া, ফেডারেল ক্যাম্পেইন তহবিলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে কমলা হ্যারিসের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনি প্রচারে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির একটি রাজনৈতিক কমিটিতে অ্যালেন ২৫ ডলার অনুদান দিয়েছিলেন।
অ্যালেনের অনলাইন বৃত্তান্ত থেকে জানা যায়, তিনি গত ছয় বছর ধরে সি২ এডুকেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি কলেজে ভর্তি-সংক্রান্ত পরামর্শ ও পরীক্ষার প্রস্তুতি সেবা দিয়ে থাকে। ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটির একটি পোস্টে তাকে ‘মাসসেরা শিক্ষক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে স্থানীয় সময় শনিবার রাতে এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।
এ ছাড়াও, লিংকডইনের একটি পোস্টে অ্যালেন উল্লেখ করেন, তিনি স্টিম প্ল্যাটফর্মের জন্য আণবিক রসায়নভিত্তিক একটি ভিডিও গেম তৈরি করেছেন। আরেকটি পোস্টে তিনি জানান, তিনি মহাকাশকে প্রেক্ষাপট করে একটি নতুন ‘টপ-ডাউন শুটার’ কমব্যাট গেম তৈরির কাজ করছেন।
১৯ দিন আগে
ইরান আলোচনায় বসলে মার্কিনিদের নেতৃত্ব দেবেন জেডি ভ্যান্স
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ঘনিয়ে আসছে। এ প্রেক্ষাপটে ইসলামাবাদে তেহরান পুনরায় আলোচনায় বসতে রাজি হলে মঙ্গলবার একটি মার্কিন কূটনৈতিক প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে যাওয়ার কথা রয়েছে। এ দলের প্রধান হিসেবে থাকবেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্টের জামাতা জারেড কুশনারও পাকিস্তান যাবেন।
এদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি এখনও একটি গভীর অবিশ্বাস রয়ে গেছে। তেহরান মার্কিন কর্মকর্তাদের অগঠনমূলক এবং পরস্পরবিরোধী সংকেত নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং তারা মনে করছে, এটি তাদের আত্মসমর্পণে বাধ্য করার একটি প্রচেষ্টা। তিনি বলেন, ইরানিরা শক্তির কাছে নতি স্বীকার করে না।
তবে একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, তেহরান আলোচনায় অংশগ্রহণের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে পর্যালোচনা করছে। খবর পাওয়া গেছে যে, ভ্যান্স উপস্থিত থাকলে ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে আবারও সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ থাকতে পারেন।
গালিবাফ পরে বলেন, হুমকির মুখে থাকা অবস্থায় ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা অংশ নেবে না। মঙ্গলবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমরা রণক্ষেত্রে নতুন কার্ড (তুরুপের তাস) উন্মোচনের প্রস্তুতি নিয়েছি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে তার অভিযোগ, ট্রাম্প তার নিজস্ব কল্পনায় এই আলোচনার টেবিলকে আত্মসমর্পণের টেবিলে পরিণত করতে চাইছেন অথবা নতুন করে যুদ্ধংদেহী মনোভাবকে সঠিক প্রমাণ করতে চাইছেন।
এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ-অবরোধ অবসানের আহ্বান জানিয়েছে তেহরান। অন্যদিকে, ট্রাম্প তার সেই পুরনো দাবির পুনরাবৃত্তি করেছেন যে ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না এবং এমনকি ইরানি নেতাদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন তিনি।
এর আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স এবং তার দল এখনই রওনা হচ্ছে এবং সেদিন সন্ধ্যায় তারা ইসলামাবাদ পৌঁছাবে—এমন কথা বলে পরিস্থিতি কিছুটা বিভ্রান্তিকর করে তুলেছিলেন। অবশ্য পরে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, যদিও সোমবার ভ্যান্সের রওনা হওয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, তবে আলোচনা শুরু হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট আসলে মঙ্গলবার সকালে রওনা হবেন।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মার্কিন ও ইসরায়েলি বোমা হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে উচ্চ পর্যায়ের এই দ্বিতীয় দফা আলোচনা আগামীকাল (বুধবার) অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে এই আলোচনার প্রেক্ষাপটে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর হুমকিও রয়েছে।
ট্রাম্প বলেছেন, তিনি এখন মনে করেন, ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ওয়াশিংটন সময় বুধবার সন্ধ্যায় শেষ হবে। ইসলামাবাদে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি করার সুযোগ দিতে তিনি বিরতির সময় আরও ২৪ ঘণ্টা বাড়িয়েছেন।
ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এটি আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা খুবই কম। তিনি ইঙ্গিত দেন যে এর পরেই পুনরায় বোমা হামলা শুরু হতে পারে। তবে তিনি এও বলেছেন, আমি তাড়াহুড়ো করে কোনো খারাপ চুক্তি করব না। আমাদের হাতে যথেষ্ট সময় আছে।
চলতি মাসের শুরুর দিকে ইরানের সঙ্গে ২১ ঘণ্টা ধরে চলা ব্যর্থ আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন ভ্যান্স। তবে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে এবং তাদের ৪৪০ কেজি উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করার দাবিতে রাজি হয়নি বলে আলোচনা ভেস্তে যায়।
ইরানিরা জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বিশ্বাসের ঘাটতি রয়ে গেছে এবং তারা এই নিশ্চয়তা চেয়েছিল যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছালে তাদের ওপর আর হামলা করা হবে না। যদিও পাঁচ সপ্তাহের যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি অভিযানে ইরানে ব্যাপক বোমা হামলা চালানো হয়েছে, তবে তেহরানের নেতৃত্ব বিশ্বাস করে না যে তারা পরাজিত হয়েছে।
এদিকে, পাকিস্তান রবিবার থেকেই সম্ভাব্য আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে; দেশটির রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গণপরিবহন চলাচল স্থগিত করেছে। ইসলামাবাদের বিদ্যুৎ বোর্ডও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে আলোচনা চলাকালীন শহরে লোডশেডিং বন্ধ রাখা হবে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক হরমুজ প্রণালি দ্বিমুখীভাবে বন্ধ রাখার ফলে সৃষ্ট তেল ও গ্যাস সংকটের কারণে পাকিস্তানের শহরগুলোতে দিনে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিভ্রাট এখন সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
কৌশলগত এই জলপথ অতিক্রমকারী বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর টোল আদায়ের ইরানের সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করেছিলেন। গত রবিবার মার্কিন সামরিক বাহিনী একটি ইরানি পতাকাবাহী কন্টেইনার জাহাজ জব্দ করে, যা শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার পথে উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তুসকা নামক জাহাজটির ক্রুরা ছয় ঘণ্টা ধরে দেওয়া সতর্কবার্তা উপেক্ষা করার পর সেটিকে জব্দ করা হয়। একটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার থেকে গোলাবর্ষণ করে জাহাজের ইঞ্জিন বিকল করে দেওয়া হয় এবং এরপর হেলিকপ্টার থেকে দড়ি বেয়ে ইউএসএস ত্রিপোলির মেরিন সেনারা জাহাজটি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
ইরান শুক্রবার সাময়িকভাবে তাদের অবরোধ তুলে নিয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা অবরোধ প্রত্যাহার না করায় শনিবার তারা পুনরায় তা কার্যকর করে। শনিবার ওই অঞ্চলে একটি ট্যাঙ্কারে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী হামলা চালায় এবং দ্বিতীয় একটি কন্টেইনার জাহাজে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে।
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আবারও প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। শনিবারে ১৮টি জাহাজ চলাচল করলেও সোমবারে মাত্র তিনটি ট্যাঙ্কার প্রণালি পার হয়েছে। সোমবার অপরিশোধিত তেলের দাম ৫ ডলার বেড়ে ৯৫ ডলার ছাড়িয়েছে, যা ওই অঞ্চলে নতুন করে তৈরি হওয়া বিপদেরই প্রতিফলন।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েল ও লেবানন বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূত পর্যায়ে দ্বিতীয় দফা আলোচনায় বসার কথা রয়েছে। গত সপ্তাহে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর এটিই দেশ দুটির মধ্যে প্রথম আলোচনা হবে।
এদিকে, ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের বাসিন্দাদের সীমান্ত-সংলগ্ন একটি অঞ্চল থেকে দূরে থাকতে বলেছে এবং লিটানি নদী এলাকার কাছাকাছি না যেতে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। যুদ্ধবিরতি চলাকালীন ওই এলাকায় নিজেদের সামরিক নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত করার চেষ্টা করছে দেশটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশটির সামরিক বাহিনীর পোস্ট করা একটি মানচিত্রে সীমান্তের ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার এলাকার ভেতরে থাকা ২১টি গ্রামের ওপর দিয়ে একটি লাল রেখা টেনে দেওয়া হয়েছে।
২৪ দিন আগে