ইউএস-ও-কানাডা
ইরানের পরমাণু আলোচনায় অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট
ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে অন্তর্বর্তী চুক্তিকে এগিয়ে নেওয়া এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে ইরানি নেতাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করতে আজ রবিবার সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এই আলোচনার লক্ষ্য হলো দুই দেশের একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানো ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।
গত সপ্তাহে আলোচনা শেষে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই আলোচনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ আলোচকরা ৬০ দিনের মধ্যে চুড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। আলোচনাটি বিশ্ব অর্থনীতি ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তবে এই ৬০ দিনের সময়সীমার শুরুতেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। কারণ, লেবাননে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে তীব্র গোলাগুলি শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের সামরিক বাহিনী আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ফলে বৈশ্বিক তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করার পথ ফের বন্ধ হয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড অবশ্য ইরানের দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি খোলা রয়েছে। মার্কিন বাহিনী বর্তমানে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং জলপথে স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করছে। এ বিষয়ে ভ্যান্স বলেন, গত দিনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে লাখ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হয়েছে।
ভ্যান্স প্রথমে স্থানীয় সময় শুক্রবার লুসার্নের কাছে বুর্গেনস্টক রিসোর্টে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সংঘর্ষ বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে তার যাত্রা বিলম্বিত হয়। একই সময়ে ইরানি কর্মকর্তারাও আলোচনায় অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করেন।
পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দেশটির আলোচকদের সুইজারল্যান্ডে পৌঁছানোর খবর প্রচারের পর পরই যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফ্রান্সের উদ্দেশে রওনা হন ভ্যান্স।
ইরানের প্রতিনিধিদলে রয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও তেল খাতের কর্মকর্তারা।
অপরদিকে, সুইজারল্যান্ডে ভ্যান্সের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। তারা ইতোমধ্যে সেখানে পৌঁছে যুদ্ধ অবসানের বিষয়গুলো পর্যালোচনা শুরু করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই আলোচনায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং কাতারের মধ্যস্থতাকারীরাও অংশ নিচ্ছেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শাহবাজ শরিফ ইরান, সুইজারল্যান্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবেন। বৈঠকে তিনি সংলাপের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির প্রতিষ্ঠার চ্ষ্টো করবেন।
ভ্যান্স ও তার স্ত্রী উষা ভ্যান্স স্থানীয় সময় সকাল ৬টার দিকে লুসার্নের বাইরে এমেন বিমানঘাঁটিতে পৌঁছান। সেখান থেকে ভ্যান্স জানান, তিনি সুইজারল্যান্ডে এক বা দুই দিন থাকবেন। মূলত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন।
এদিকে, ট্রাম্প ও ভ্যান্স নিজ দলের একটি অংশের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। রিপাবলিকান দলের কট্টরপন্থিরা এই চুক্তিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে হওয়া পারমাণবিক চুক্তির সঙ্গে তুলনা করছেন। রিপাবলিকানরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, ওই চুক্তি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কার্যকরভাবে বন্ধ করতে পারেনি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির ফলে ইরান অবিলম্বে অবাধে তেল বিক্রির সুযোগ পাচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জব্দ থাকা ইরানের কয়েক বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ব্যবহারের পথও উন্মুক্ত হচ্ছে। পাশাপাশি, চুক্তিতে শর্ত দেওয়া হয়েছে যে ইরানকে তার উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কমাতে হবে।
প্রসঙ্গত, যেসব পারমাণবিক স্থাপনায় ইরান ইউরেনিয়াম মজুত করে রেখেছিল, গত গ্রীষ্মে সেসব স্থানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, আগামী ৬০ দিন হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো কোনো ধরনের প্রবেশমূল্য ছাড়াই চলাচল করতে পারবে। তবে ভবিষ্যতে ইরান প্রবেশমূল্য আরোপ করতে পারবে কি না, সে বিষয়ে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
অন্যদিকে, স্থানীয় সময় শনিবার ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ৬০ দিনের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন না হলে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে টোল আরোপ করবে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সেবার বিনিময়ে এবার থেকে অর্থ নেওয়া হবে।
ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে মার্কিন ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণের মৌসুম শুরুর আগে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। এর মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্ববাজারকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছেন। তাদের দাবি, এই যুদ্ধ তেলের দামে সাময়িক সময়ের জন্য প্রভাব ফেলেছে।
হোয়াইট হাউস চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার পরই তেলের বাজারে দাম প্রায় ৮ শতাংশ কমে যায়। স্থানীয় সময় আজ (রবিবার) সন্ধ্যায় বাজার খোলার পর বিনিয়োগকারীরা আলোচনার অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন। তবে পরিস্থিতিকে এখনও কিছুটা জটিল রয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চুক্তির সঙ্গে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর কোনো পক্ষই জড়িত নয়।
এদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকি দূর না হওয়া পর্যন্ত তার বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে অবস্থান করবে। অপরদিকে, হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, ইসরায়েল লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তারা হামলা বন্ধ করবে না।
৮ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রে উৎসবে বন্দুক হামলায় অন্তত ১২ জন গুলিবিদ্ধ
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইয়োতে একটি জনাকীর্ণ উৎসবের কাছে ভয়াবহ এক গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১২ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
স্থানীয় সময় শনিবার (৬ জুন) লাইভ মিউজিক ও বাড়ি পরিদর্শনের বার্ষিক আয়োজন ‘ওল্ড ওয়েস্ট এন্ড ফেস্টিভ্যালের’ কাছাকাছি এলাকায় এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
গুলির শব্দে উৎসবমুখর পরিবেশ মুহূর্তেই আতঙ্কে রূপ নেয়; কেউ কেউ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি শুরু করেন, আবার অনেকে আহতদের সাহায্যে এগিয়ে আসেন।
ঘটনার বেশ কয়েক ঘণ্টা পরও কোনো সন্দেহভাজনকে আটক করা যায়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় টলেডো পুলিশের ডেপুটি চিফ জো হেফার্নান। সেই সঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে কোনো ছবি বা ভিডিও থাকলে, তা তদন্তের স্বার্থে পুলিশকে দিয়ে সহায়তা করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
হেফার্নান জানান, প্রাথমিক তদন্তে মনে হয়েছে, অন্তত দুজন ব্যক্তি গুলি ছুড়েছেন। তারা সম্ভবত একে অপরকে লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছিলেন।
আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। ভুক্তভোগীদের বয়স ১৪ থেকে ৬১ বছরের মধ্যে, তবে তাদের বেশিরভাগেরই বয়স ২০ থেকে ২৫ বছরের কাছাকাছি বলে জানিয়েছেন তিনি।
এ ঘটনার পর এক বিবৃতিতে ওহাইয়োর গভর্নর মাইক ডিওয়াইন বলেছেন, ‘আজ রাতে টলেডোর পরিস্থিতি নিয়ে আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। গ্রীষ্মকালীন উৎসবগুলো পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য একটি নিরাপদ স্থান হওয়া উচিত, যেখানে কোনো সহিংসতার ভয় থাকবে না।’
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা গেছে, গুলির শব্দ শুনে মানুষ দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করছেন। আরেক ভিডিওতে জরুরি বিভাগের কর্মীদের আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে দেখা যায়।
ফায়ার চিফ অ্যালিসন আর্মস্ট্রং জানান, রাস্তা বন্ধ থাকা এবং উৎসব ছেড়ে ঘরে ফিরে যাওয়া মানুষের গাড়ির ভিড়ের কারণে শুরুর দিকে হাসপাতালে পৌঁছানো বেশ কষ্টকর ছিল। তবে জরুরি উদ্ধারকর্মীরা এক ঘণ্টার মধ্যেই সব রোগীকে ঘটনাস্থল থেকে হাসপাতালে স্থানান্তর করতে সক্ষম হয়েছেন।
কেভিন বেরি নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী বন্ধুদের সঙ্গে উৎসবস্থলের একটি উদ্যানে বসে গান শুনছিলেন। ঠিক তখনই তিনি বেশ কয়েকটি গুলির শব্দ শুনতে পান বলে জানান।
তার ভাষ্যে, ‘গুলির শব্দ শোনামাত্রই সবাই মাটিতে শুয়ে পড়েন। এরপর যখন মাথা তুলে তাকাই, তখন দেখি যে আমার থেকে ৫০ ফুটেরও কম দূরত্বে একটি বন্দুক মাটিতে ছুড়ে ফেলা হচ্ছে। উৎসবে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তারা সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে উপস্থিত হন।’
নৌবাহিনীতে কাজের অভিজ্ঞতা এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে কারও সাহায্যের প্রয়োজন আছে কি না, তা দেখতে এগিয়ে যান বেরি। সে সময় তিনি অন্তত পাঁচজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন বলে জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘যারা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, তারা উদ্যান এলাকার বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিলেন।’
টলেডোর ঐতিহাসিক জেলায় অনুষ্ঠিত ‘ওল্ড ওয়েস্ট এন্ড ফেস্টিভ্যাল’ মূলত দুই দিনব্যাপী একটি উৎসব। যেখানে লাইভ মিউজিক, খাবারের দোকান, ঘর সাজানোর প্রদর্শনী ও কেনাকাটার ব্যবস্থা থাকে। বেরি এটিকে ‘টলেডোর গ্রীষ্মকালীন উৎসব মৌসুমের আনুষ্ঠানিক সূচনা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
শহরের নিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক জর্জ ক্রাল জানিয়েছেন, উৎসবটি সপ্তাহের বাকি সময় চালু রাখা হবে কিনা, তা নিয়ে আয়োজকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, এটি টলেডোর অন্যতম একটি ঐতিহ্যবাহী উৎসব। অত্যন্ত দুঃখজনক যে, এমন একটি ঘটনা পুরো আয়োজনটি নষ্ট করে দিল।
২২ দিন আগে
৩৯ দেশের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি আদালতে বাতিল
৩৯টি দেশের অভিবাসীদের ওপর প্রভাব ফেলা ট্রাম্প প্রশাসনের একটি অভিবাসন নীতি বাতিল করে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক ফেডারেল বিচারক। ওই নীতির ফলে বহু দেশের অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান ও প্রবেশ কঠিন হয়ে পড়েছিল।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (৫ মে) এক শুনানিতে প্রধান জেলা বিচারক জন ম্যাককনেল জুনিয়র ওই নীতিটি বাতিল করে রায় দেন।
রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই নীতি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অগণিত অভিবাসীদের জীবনকে ‘অনির্দিষ্ট আইনি অনিশ্চয়তার মধ্যে’ ফেলে দিয়েছে। পাশাপাশি মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস) আইন উপেক্ষা করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রায়ে বিচারক বলেন, ইউএসসিআইএস এমন আইনি ও নিয়ন্ত্রক ক্ষমতার দাবি করেছে, যা তাদের নেই। পাশাপাশি তারা প্রয়োজনীয় যৌক্তিক ব্যাখ্যা ছাড়াই সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং আবেদনকারীদের স্বার্থ বিবেচনা করেনি। জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে সংস্থাটি এমন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, যা প্রকৃতপক্ষে অভিবাসীবিরোধী মনোভাবকে আড়াল করে।
তিনি বলেন, আইনের ভাষায় ইউএসসিআইএসের এসব পদক্ষেপ বেআইনি, খামখেয়ালি ও অযৌক্তিক।
তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস)।
গত বছর দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্যের ওপর হামলার ঘটনার পর প্রণীত ওই নীতির আওতায় আফ্রিকা, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের ৩৯টি দেশের অভিবাসীদের আশ্রয়, কাজের অনুমতি, গ্রিন কার্ড ও নাগরিকত্বসহ বিভিন্ন আবেদনের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি কার্যত স্থগিত রাখা হয়েছিল।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী সংগঠন ডেমোক্রেসি ফরোয়ার্ডের সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্কাই পেরিম্যান বলেন, ‘এই রায় একটি মৌলিক নীতিকে পুনর্ব্যক্ত করেছে—ফেডারেল সরকার আইনি অভিবাসন পথ বন্ধ করতে পারে না বা মানুষ কোথা থেকে এসেছে তার ভিত্তিতে বৈষম্য করতে পারে না।’
তিনি বলেন, ‘এসব অবৈধ নীতি দেশজুড়ে পরিবার, কর্মী, আশ্রয়প্রার্থী এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ব্যাপক ক্ষতি করেছে। তারা প্রত্যেকে এক অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যে আটকা পড়েছিলেন; কাজ করতে পারছিলেন না, আইনি সুরক্ষা পাচ্ছিলেন না এবং নিজেদের জীবন নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতেও পারছিলেন না।’
ইউএসসিআইএস যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান ও নাগরিকত্বসংক্রান্ত আবেদন অনুমোদনের দায়িত্বে রয়েছে। সংস্থাটি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত ব্যক্তিদের আশ্রয় আবেদনও মঞ্জুর করে থাকে। তবে সীমান্তে আটক ব্যক্তিদের আশ্রয় আবেদনের বিষয়ে অভিবাসন বিচারকেরা সিদ্ধান্ত দেন। ফলে বর্তমান রায় তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
আমেরিকান ইমিগ্রেশন লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শেভ দালাল-ধেইনি বলেন, এই রায়ের ফলে শুধু মামলার বাদীরা নন, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাভুক্ত দেশগুলোর ইউএসসিআইএসে বিচারাধীন সব আবেদনকারী উপকৃত হবেন।
তিনি বলেন, ‘আইনি অভিবাসনের পথগুলো যেন খোলা থাকে এবং ইউএসসিআইএস যেন কংগ্রেসের দেওয়া নির্দেশ অনুযায়ী আবেদনগুলো নিষ্পত্তির দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে, তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিজয়।’
ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও অভিবাসনের মানদণ্ড কঠোর করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সমালোচকদের মতে, এসব পদক্ষেপ বিভিন্ন দেশের মানুষের জন্য অন্যায্য ভ্রমণ ও অভিবাসন প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে।
থ্যাঙ্কসগিভিংয়ের ছুটির মধ্যে ন্যাশনাল গার্ডের দুই সেনাকে গুলি করার ঘটনায় একজন আফগান নাগরিককে গ্রেপ্তারের পর প্রশাসন ইঙ্গিত দিয়েছিল যে তারা এই নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়াবে।
মামলাটি খারিজ করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে একটি আবেদন করা হয়েছিল। সরকার তাদের আবেদনে যুক্তি দিয়েছিল, অভিবাসন নীতির ক্ষেত্রে কংগ্রেস নির্বাহী শাখাকে ব্যাপক ক্ষমতা দিয়েছে। এর মধ্যে বিদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ এবং বিভিন্ন সুবিধা প্রদান বা প্রত্যাহারের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত। তবে আদালত সেই আবেদন নাকচ করে দেয়।
রায়ের পর অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো আদালতের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে।
ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিলের সভাপতি জামাল আবদি বলেন, ‘এই রায় একটি শক্তিশালী নজির স্থাপন করল যে প্রশাসন কংগ্রেসের তৈরি করা আইনকে উপেক্ষা করতে পারে না এবং ডিক্রি জারির মাধ্যমে জাতীয়তার ভিত্তিতে অভিবাসন সুবিধাগুলোকে খামখেয়ালিভাবে বন্ধ করতে পারে না।’
তিনি বলেন, ‘সৌভাগ্যবশত এটি এখনও আইনের দেশ এবং যারা আমেরিকার মূল্যবোধকে ধারণ করেন, তাদের এই ধরনের বৈষম্যমূলক ও স্বেচ্ছাচারী নীতিকে চ্যালেঞ্জ করার এবং প্রতিহত করার অধিকার রয়েছে।’
আফগান পুনর্বাসন সহায়তা জোট আফগানইভ্যাকের (#AfghanEvac) প্রধান ও মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক সদস্য শন ভ্যানডাইভার বলেন, ‘টি আইনের শাসন এবং যুক্তরাষ্ট্রের হাজারো আফগান মিত্রসহ অন্যান্য অভিবাসীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিজয়।’
ভ্যানডাইভার বলেন, ‘এই সপ্তাহেই ডালাস ও ফোর্ট ওর্থে আমরা এমন মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি, যারা কাজের অনুমতি নবায়নে বিলম্বের কারণে চাকরি হারানোর আশঙ্কায় ছিলেন। অনেক পরিবার তাদের শিক্ষা, ভ্রমণ এবং বাড়ি কেনার পরিকল্পনা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছিল, কারণ তারা জানত না যে তাদের আবেদন কবে নিষ্পত্তি হবে। এমনকি নাগরিকত্ব পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা অনেকের আবেদনও কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে ছিল।’
২৩ দিন আগে
ফের যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা, অনিশ্চয়তায় যুদ্ধবিরতি আলোচনা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে ইরানের একটি ট্যাঙ্কার অচল করার পাশাপাশি ইরানের কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইরানও কুয়েত ও বাহরাইনের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে চলমান প্রচেষ্টা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২ জুন) মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালি থেকে ইরানে প্রবেশের সময় একটি টাঙ্কারকে লক্ষ্য করে হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, জাহাজটি তাদের আরোপিত অবরোধ অমান্য করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। পরে মার্কিন বাহিনী আরও জানায়, তারা ইরানের পাল্টা হামলা প্রতিহত করতে ইরানের কেশম দ্বীপের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালিয়েছে।
এর জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করে, কেশমে হামলার জবাবে তারা বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের এ দাবি অস্বীকার করেছে।
সেন্টকম জানায়, মঙ্গলবার দুই দেশের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়। বতসোয়ানার পতাকাবাহী খালি ট্যাঙ্কারবাহী এমটি লেক্সি জাহাজটি আন্তর্জাতিক জলসীমা দিয়ে ইরানের খার্গ দ্বীপের দিকে যাচ্ছিল। যাওয়ার সময় জাহাজটি ২৪ ঘণ্টা ধরে দেওয়া একাধিক সতর্কবার্তা উপেক্ষা করছিল। এরপর একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে জাহাজটির ইঞ্জিন অচল করে দেওয়া হয়। খার্গ দ্বীপটি হরমুজ প্রণালির উত্তরে কুয়েতের কাছাকাছি অবস্থিত।
এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে পেরেছে। একইসঙ্গে কুয়েত তাদের জনগণকে হামলা প্রতিহত করার সময় পড়ে থাকা ধ্বংসাবশেষ, ধারালো বা অজ্ঞাত কোনো বস্তুর কাছে না যেতে সতর্ক করে দেয়। প্রায় একই সময়ে বাহরাইনেও সতর্কতামূলক সাইরেন বাজতে শোনা যায়।
সেন্টকম জানায়, কুয়েতের দিকে ছোড়া ইরানের দুটি ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও বাহরাইনের যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বাহরাইনের দিকে লক্ষ্য করে ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করে।
পরে সেন্টকম জানায়, কুয়েতে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায় ইরান। সেটিও প্রতিহত করা হয়েছে। এতে কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি।
মার্কিন বাহিনী আরও জানায়, তারা তিনটি একমুখী হামলাকারী ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তাদের দাবি, ড্রোনগুলো ইরান থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। আঞ্চলিক জলসীমায় বৈধভাবে চলাচলরত বেসামরিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোনগুলো ছোড়া হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আর কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
এদিকে, মার্কিন বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের কেশম দ্বীপে অবস্থিত একটি সামরিক গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশনেও হামলা চালিয়েছে।
সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসনে কূটনৈতিক অগ্রগতির স্থবিরতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর প্রথমবারের মতো সিনেট ফরেন রিলেশনস কমিটিতে উপস্থিত হয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
মঙ্গলবার রুবিও দাবি করেন, তেহরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা এখন নাগালের মধ্যে রয়েছে। তিনি জানান, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির এমন কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনায় সম্মত হয়েছে, যেগুলো নিয়ে এক মাস আগেও তারা আলোচনা করতে রাজি ছিল না।
তবে রুবিওর এই মন্তব্য ইরানের সাম্প্রতিক অবস্থানের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকায় তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনা স্থগিত করবে। এতে দুই দেশের মধ্যে চলমান আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সব ফ্রন্টেই কার্যকর, যার মধ্যে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত। একটি ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন মানে সব ফ্রন্টেই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করা। এর যেকোনো পরিণতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দায়ী থাকবে।’
অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় নতুন সমঝোতা হওয়ার পরও ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। অথচ, ওই সমঝোতার উদ্দেশ্য ছিল লেবাননে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে আরও শক্তিশালী করা।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সোমবার জানান, তিনি বৈরুতে ইসরায়েলের একটি সম্ভাব্য হামলা ঠেকিয়েছেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। গোলাগুলি বন্ধ করতে তারা সবাই সম্মত হয়েছে।
তবে এর পরদিনই লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দেশেটির দক্ষিণাঞ্চলে অন্তত ৩০টি ইসরায়েলি হামলা চালানো হয়েছে।
লেবাননের সাইদা শহরের কাছে একটি ইসরায়েলি হামলার পর উদ্ধারকারীরা একই পরিবারের ছয় সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছেন। নিহতদের মধ্যে দুই শিশু ও এক নারী ছিলেন।
এদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নাবাতিয়েহর বাসিন্দাদের নতুন করে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিল। এরপর ওই এলাকায় তারা হামলা চালিয়েছিল। তাদের দাবি, হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে।
গত ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কয়েকটি জাহাজ অচল করেছে। তার মধ্যে এমটি লেক্সি হলো ষষ্ঠ জাহাজ।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, এ পর্যন্ত তারা ১২২টি জাহাজকে ইরানের বন্দরগুলোতে প্রবেশ বাতিল করতে সক্ষম হয়েছে।
এর আগে, গত সপ্তাহের শেষে মার্কিন বাহিনী ইরানের রাডার ও ড্রোন স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান কুয়েতে অবস্থিত একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায়।
২৬ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের দুই রাজ্যে ৩ কোটি ২০ লাখ মশা ছাড়তে চায় গুগল
কম্পিউটার কোডিংয়ের ‘বাগ’বা ত্রুটি সংশোধন প্রক্রিয়ার মতো এবার ‘ভালো মশা দিয়ে খারাপ মশা ধ্বংস’ করার একটি বিস্ময়কর প্রকল্প হাতে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক প্রযুক্তি কোম্পানি গুগল। টেক জায়ান্ট কোম্পানিটি ক্যালিফোর্নিয়া এবং ফ্লোরিডায় ৩ কোটি ২০ লাখ বন্ধ্যা (স্টেরাইল) মশা ছাড়ার অনুমতি চেয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে আবেদন করেছে।
দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, নিজেদের সফল ‘ডিবাগ’কর্মসূচির অংশ হিসেবে, রোগ সৃষ্টিকারী মশার সংখ্যা কমিয়ে আনতে গুগল তাদের প্রযুক্তিগত দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে বন্ধ্যা পুরুষ মশার এক বিশাল বাহিনী তৈরি করছে।
মশা বিশ্বের সবচেয়ে মারাত্মক ও প্রাণঘাতী জীবগুলো একটি। প্রতি বছর এটি ডেঙ্গু, ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস, জিকা, চিকুনগুনিয়া এবং ম্যালেরিয়ার মতো মারাত্মক রোগ ছড়িয়ে পৃথিবীর অন্য যেকোনো প্রাণীর চেয়ে বেশি মানুষ হত্যা করে চলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রেজিস্ট্রারের একটি নোটিশ থেকে জানা গেছে, মার্কিন পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা ক্যালিফোর্নিয়া এবং ফ্লোরিডায় দুই বছর মেয়াদে প্রতি বছর ১ কোটি ৬০ লাখ পর্যন্ত মশা ছাড়ার বিষয়ে গুগলের আবেদনটি পর্যালোচনা করছে। আগামী ৫ জুন জনমত প্রকাশের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর গুগলকে এই পরীক্ষামূলক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ইপিএ।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, পুরুষ মশা কামড়ায় না এবং রোগও ছড়ায় না। গুগল মূলত একটি বিশেষ পদ্ধতি পরীক্ষা করছে, যেখানে পুরুষ মশার শরীরে প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন ‘উলবাকিয়া’ নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করানো হয়। এই ব্যাকটেরিয়া পুরুষ মশাগুলোকে বুনো বা সাধারণ নারী মশার সঙ্গে বংশবৃদ্ধির অনুপযোগী করে তোলে। এই ব্যাকটেরিয়া-আক্রান্ত পুরুষ মশা যখন কোনো বুনো নারী মশার সঙ্গে মিলন করবে, তখন সেই নারী মশার ডিম ফুটে কোনো বাচ্চা বের হবে না।
গুগল তাদের একটি ব্লগপোস্টে বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেছে, ‘এর ফলে প্রতি প্রজন্মে মশার সংখ্যা ক্রমান্বয়ে কমতে থাকবে।’
একটি শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ল্যাবরেটরিতে ব্যাকটেরিয়া-আক্রান্ত মশা উৎপাদন করার বিষয়টি আপাতদৃষ্টিতে অদ্ভুত মনে হতে পারে। তবে গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই মেলবন্ধনে একদম নতুন নয়।
গুগল এক্সের একটি অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী প্রজেক্ট ‘ভেরিলি হেলথ’ বা ‘মুনশট’হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল। এই প্রজেক্টটি বছরের পর বছর ধরে এই ডিবাগ কর্মসূচির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। চলতি বছরের শুরুর দিক পর্যন্ত অ্যালফাবেটের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে থাকা ভেরিলি, মূলত রোগব্যাধি ও বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সমস্যা মোকাবিলায় প্রযুক্তি এবং ডেটা সায়েন্স ব্যবহার করে থাকে।
দ্য গার্ডিয়ানকে পাঠানো একটি ইমেইলে ভেরিলি ডটকম জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর নাগাদ গুগল ‘ডিবাগ’ প্রকল্পটিকে সম্পূর্ণভাবে কিনে নেয় এবং ভেরিলির পোর্টফোলিও থেকে এটিকে নিজেদের অধীনে নিয়ে আসে।
ডিবাগ প্রকল্পের ২০১৬ সালের একটি ব্লগপোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রায় এক দশক আগে এই কর্মসূচিটি প্রাণঘাতী মশা দমনে প্রযুক্তিভিত্তিক সমাধান খোঁজার কাজ শুরু করেছিল।
গুগলের মতে, মশা দমনের অন্যান্য প্রচলিত পদ্ধতিগুলো তেমন কার্যকর প্রমাণিত হয়নি। যেমন, মশার ওষুধ বা কীটনাশক স্প্রে করা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ও বিষাক্ত হতে পারে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মশার ওপর এর কার্যকারিতাও কমে যায়। এছাড়া, মশার প্রজননক্ষেত্র হিসেবে গড়ে ওঠা সমস্ত পানির উৎস খুঁজে বের করা এবং তা পরিষ্কার করা অত্যন্ত কঠিন কাজ।
গুগলের এই পদ্ধতিটি অবশ্য একদম নতুন বা অনন্য কিছু নয়। কোম্পানিটি ‘স্টেরাইল ইনসেক্ট টেকনিক’ (বন্ধ্যা কীটপতঙ্গ প্রযুক্তি) নামক একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সাহায্য নিচ্ছে, যা বিশেষজ্ঞরা গত কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন ক্ষতিকারক কীটপতঙ্গ দমনে ব্যবহার করে আসছেন। মশা ও অণুজীবের মিথস্ক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করা ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক এরিক ক্যারাগাটা ইউএসএ টুডেকে জানিয়েছেন, মশা বন্ধ্যাত্বকরণে উলবাকিয়া ব্যাকটেরিয়ার ব্যবহার প্রায় ১৫ বছর ধরে চলে আসছে।
আপাতত গুগল ‘এডিস ইজিপ্টাই’নামক একটি নির্দিষ্ট প্রজাতির মশার ওপর তাদের প্রাথমিক প্রচেষ্টাগুলো চালাচ্ছে। এই মশাটি মূলত ডেঙ্গু, জিকা, পীতজ্বর এবং চিকুনগুনিয়ার মতো রোগ ছড়ানোর জন্য দায়ী।
গুগল জানিয়েছে, তাদের প্রকৌশলী ও বিজ্ঞানীরা এই সংবেদনশীল জীবগুলোর জন্য ‘স্বয়ংক্রিয় প্রজনন ব্যবস্থা’ তৈরি করতে ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং সেন্সর ব্যবহার করছেন। এই প্রক্রিয়ার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো, এআই-চালিত কম্পিউটার ভিশন প্রযুক্তির মাধ্যমে নিখুঁতভাবে পুরুষ মশা থেকে নারী মশাকে আলাদা করা এবং অত্যন্ত নির্ভুলভাবে ‘সঠিক স্থানে ও সঠিক সংখ্যায়’ পুরুষ মশাগুলোকে প্রকৃতিতে অবমুক্ত করা।
ডিবাগ প্রকল্পটি তাদের প্রথম আন্তর্জাতিক গবেষণা ও উন্নয়নকেন্দ্র সিঙ্গাপুরে বেশ ভালো অগ্রগতি অর্জন করেছে। দেশটির জাতীয় পরিবেশ সংস্থার বরাত দিয়ে গুগল গত ১১ মে এক ব্লগপোস্টে জানায়, সিঙ্গাপুরে লাখ লাখ পুরুষ উলবাকিয়া মশা ছাড়ার পর সেখানে এডিস ইজিপ্টাই মশার সংখ্যা ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। এছাড়া মশা ছাড়ার মাত্র ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্তের হার ৭০ শতাংশেরও বেশি হ্রাস পেয়েছে। মে মাসে গুগল ঘোষণা করেছে যে, তারা সিঙ্গাপুরের এই প্রকল্পটির পরিধি আরও বাড়াতে যাচ্ছে।
প্রকল্পটির প্রধান লাইনাস আপসন বলেন, ‘আমরা যখন সিঙ্গাপুরে প্রথম ডিবাগ চালু করি, তখন আমাদের লক্ষ্য ছিল প্রযুক্তির মাধ্যমে মশার উৎপাদন ও অবমুক্তকরণ প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়া এবং এশিয়ার আরও বেশি মানুষের কাছে এর সুফল পৌঁছে দেওয়া। কারণ বিশ্বের মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের ৭০ শতাংশই এই এশিয়া অঞ্চলে ঘটে থাকে। সিঙ্গাপুরে আমাদের এই সাফল্য আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে।’
২৭ দিন আগে
লড়াই কমাতে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর সঙ্গে সমঝোতার দাবি ট্রাম্পের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলাপ এবং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগের পর দুপক্ষই লড়াইয়ের তীব্রতা কমাতে সমঝোতায় পৌঁছেছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (১ জুন) নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই দাবি করেন।
বিগত সময়গুলোর তুলনায় সম্প্রতি ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের মধ্যে তাদের সবচেয়ে গভীরে অনুপ্রবেশ করেছে। ট্রাম্প ঘোষণা দেন, কোনো ইসরায়েলি সেনা বৈরুতে যাবে না এবং যারা ওখানে যাওয়ার চেষ্টা করছিল, তাদের ইতোমধ্যেই ফেরত পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, সকল ধরনের গোলাগুলি ও সহিংসতা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে হিজবুল্লাহ। ইসরায়েল তাদের ওপর হামলা করবে না এবং তারাও ইসরায়েলের ওপর হামলা চালাবে না।’
নেতানিয়াহু এই ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি এটিকে সংযম হিসেবে দেখার চেয়ে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছেন। তিনি বলেন, তিনি ট্রাম্পকে জানিয়েছেন যে হিজবুল্লাহর হামলা বন্ধ না হলে লেবাননের রাজধানী বৈরুতের লক্ষ্যবস্তুতে ইসরায়েল আঘাত হানবে। সেই সঙ্গে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ‘পরিকল্পনা অনুযায়ী’ তাদের কাজ চালিয়ে যাবে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
এ কথার প্রতিক্রিয়ায় হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এখনও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে উভয়পক্ষই একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু চুক্তি ভেঙে ইসরায়েল লেবাননে হামলা শুরু করলে হিজবুল্লাহ পুনরায় পাল্টা হামলা শুরু করে। যদিও ইসরায়েল নিজেদের এই হামলাকে আত্মরক্ষা হিসেবে চালিয়ে দিতে চাইছে, তবে এই লড়াই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত চুক্তির পথে একটি বড় বাধা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। তেহরান চায়, যেকোনো চুক্তিতে লেবানন, বিশেষ করে হিজবুল্লাহ অন্তর্ভুক্ত থাকুক।
যুক্তরাষ্ট্রে লেবাননের দূতাবাসের জারি করা এক বিবৃতি অনুযায়ী, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর একটি প্রস্তাবে লেবানন কর্তৃপক্ষ হিজবুল্লাহর অনুমোদন নিশ্চিত করেছে। প্রস্তাবটিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েল বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে হামলা করবে না এবং হিজবুল্লাহও উত্তর ইসরায়েলে কোনো ধরনের সহিংসতা করবে না।
ট্রাম্পের বার্তার কয়েক মুহূর্ত পরই ইসরায়েল লেবানন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত করে এবং উত্তর ইসরায়েলের কিছু অংশের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য সতর্ক করে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২ জুন) ও আগামীকাল বুধবার (৩ জুন) ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ওয়াশিংটনে বৈঠক করার কথা রয়েছে, যেখানে লেবাননের আলোচকরা একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের পাশাপাশি ইসরায়েলে হামলার পরিধি অনেকাংশে কমানোর ব্যাপারে আলোচনা করবেন বলে জানা গেছে।
ট্রাম্পের মন্তব্যের পরও বৈরুতের শহরতলিতে ইসরায়েলের হামলার নির্দেশ
ট্রাম্পের মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন ইসরায়েল সরকার বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে হামলার নির্দেশ দিয়েছে। অপরদিকে, ইসরায়েলের উপকূলীয় শহর হাইফার উপকণ্ঠসহ উত্তর ইসরায়েলে রকেট নিক্ষেপ করেছে হিজবুল্লাহ।
এ বিষয়ে নেতানিয়াহু এবং ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎস এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে বারবার যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন করা হচ্ছে। আমাদের শহর ও নাগরিকদের ওপর হামলার পরই আমরা এই পাল্টা হামলার নির্দেশ দিয়েছি।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর আরবি ভাষার মুখপাত্র এক্সে একটি পোস্টে জানান, এখানকার সব বাসিন্দাদের শহরতলি ছেড়ে এখনই চলে যাওয়া উচিৎ। তিনি আরও বলেছেন, হিজবুল্লাহ যদি ইসরায়েলি জনবসতিতে হামলা চালিয়ে যায়, তবে ইসরায়েলও হিজবুল্লাহ-সমর্থিত বৈরুতের দাহিয়েহ এলাকায় ব্যাপক হামলা শুরু করবে।
ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ওই সতর্কবার্তা দেওয়ার পর আজ (সোমবার) বিপুল সংখ্যক মানুষকে দাহিয়েহ থেকে পালিয়ে যেতে দেখা গেছে। এর ফলে ওই এলাকা থেকে বের হওয়ার সড়কগুলোতে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
মোহাম্মদ ফারহাত (২৩) নামের এক বিশ্ববিদ্যালয়েরর শিক্ষার্থী তার ভাই ও বাবা-মাকে নিয়ে বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলি হারেত হরিক থেকে পালিয়ে অন্য এক জায়গায় যাচ্ছিলেন।
জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা চিন্তিত। আমি এতে অভ্যস্ত, কিন্তু মূলত আমার বাবা-মায়ের নিরাপত্তার কথা ভেবে চলে যাচ্ছি।’
রাতভর ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর পাল্টাপাল্টি গোলাবর্ষণ
দক্ষিণ লেবাননে রাতভর ইসরায়েলি বিমান হামলায় এক সিরীয় নাগরিকসহ ৬ জন নিহত হয়েছেন বলে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে।
ইসরায়েল এই প্রধান শহরের কাছাকাছি অন্যান্য শহর ও গ্রামে আঘাত হেনেছে, যা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বোফোর্ট প্রাসাদ এবং সম্প্রতি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দখল করা অন্যান্য শহরগুলোর কাছাকাছি অবস্থিত।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবার বিকেলে বন্দর নগরী টায়ারে একটি বিমান হামলায় জাবাল আমেল হাসপাতালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে হাসপাতালের ভেতরে আতঙ্কিত নারী ও শিশুদের দেখা গেছে। সেই সঙ্গে হাসপাতালের জানালার কাঁচ ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাওয়ার দৃশ্যও দেখা গেছে।
এদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের বিমান বাহিনী লেবানন থেকে ইসরায়েলি ভূখণ্ডের দিকে উৎক্ষেপণ করা দুটি ক্ষেপণাস্ত্র এবং দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সৈন্যরা যেখানে কাজ করছে, সেই এলাকায় একটি সন্দেহভাজন আকাশযান প্রতিহত করেছে। তবে তারা কোনো হতাহতের খবর পায়নি বলে জানিয়েছে।
হিজবুল্লাহ আজ (সোমবার) ভোরে জানায়, তারা লিটানি নদীর ঠিক উত্তরে জাওতার আল-শারকিয়াহতে ইসরায়েলি সৈন্যদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এছাড়া সীমান্ত থেকে বেশ কয়েক মাইল দক্ষিণে তিবিরিয়াসে ইসরায়েলি সামরিক অবকাঠামোতে আঘাত হেনেছে।
ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের আসন্ন বৈঠক
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীতে ইসরায়েল-লেবানন প্রত্যক্ষ আলোচনার পরবর্তী দফার ঠিক আগেই সর্বশেষ এই হামলাগুলো ঘটল। হিজবুল্লাহ প্রত্যক্ষ আলোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ইরানের চাপের ওপর ভরসা রাখছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের আলোচনায় লেবাননে যুদ্ধ অবসানের দাবি জানিয়েছে।
এপ্রিলে ওয়াশিংটনে শুরু হওয়া ইসরায়েল-লেবানন আলোচনার আগে দেশদুটোর মধ্যে তিন দশকেও এমন কোনো আলোচনা হয়নি। তাদের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্কও নেই।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) সঙ্গে আলাপকালে লেবাননের একজন কূটনৈতিক কর্মকর্তা জানান, তীব্র উত্তেজনা সত্ত্বেও বৈরুত সংঘাতের অবসান ঘটাতে আলোচনা চালিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সোমবার দাবি করেছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যেকোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তি মানে ‘লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি।’
ইরানের এই শীর্ষ কূটনীতিক এক্স পোস্টে বলেন, ‘একটি ফ্রন্টে এর লঙ্ঘন মানে সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন।’
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিরাপদ ছিল লেবাননের রাজধানী
মে মাসে বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে দুটি লক্ষ্যভিত্তিক হামলা ছাড়া যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে লেবাননে তেমন কোনো বিমান হামলা হয়নি।
সৌদি আরব লেবাননে ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে যে, তারা এই ছোট ভূমধ্যসাগরীয় দেশে ইসরায়েলের প্রবেশকে ‘দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান’ করে। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসরায়েলকে লেবাননের আরও ভেতরে যাওয়া থেকে বিরত রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
হিজবুল্লাহর অন্যতম প্রধান মিত্র লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরি চলতি সপ্তাহের রবিবার এক বিবৃতিতে বলেন, তিনি এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর ‘যুদ্ধবিরতির প্রতি পূর্ণ, ব্যাপক এবং তাৎক্ষণিক প্রতিশ্রুতির’ গ্যারান্টি দিতে পারেন। কিন্তু ইসরায়েলকে তাদের আগ্রাসন বন্ধ করতে কে বাধ্য করবে?’
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফাউন সোমবার বলেছেন, তার সরকার ‘সাধারণভাবে লেবাননের মানুষের, বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের কষ্ট’ দূর করতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পরে তিনি আলোচনার প্রতি বৈরুতের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে একটি বিবৃতি জারি করেন এবং বলেন যে আলোচনা যুদ্ধের চেয়ে ‘নিরাপদ’।
জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব মার্থা পোবি নিরাপত্তা পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে বলেন, লেবাননে ইসরায়েলের প্রবেশ লেবাননের আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং ২০০৬ সালের কাউন্সিলের প্রস্তাবকে লঙ্ঘন করে। ওই প্রস্তাবে ইসরায়েলকে লেবাননের সঙ্গে জাতিসংঘ-নির্ধারিত সীমান্তের দক্ষিণে প্রত্যাহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
তিনি হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধেও ওই প্রস্তাব লঙ্ঘনের অভিযোগ আনেন, যা এই সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিরস্ত্রীকরণের নির্দেশ দেয়।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেছেন, ‘প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী হিজবুল্লাহ যদি অবিলম্বে হামলা বন্ধ করে এবং লেবানন সরকার দেশটিতে পূর্ণ সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করে দেশের পুনর্গঠন এবং জনগণকে ঘরে ফিরিয়ে আনে, তবে উত্তেজনা হ্রাস ও দ্রুত শান্তি ফিরবে।’
জাতিসংঘে লেবাননের রাষ্ট্রদূত আহমদ আরাফা ‘কূটনীতিকে একটি সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্যে গঠনমূলক প্রচেষ্টা’ এবং ট্রাম্পের সাম্প্রতিক উদ্যোগের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের প্রশংসা করেন।
ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সাম্প্রতিক লড়াইয়ে লেবাননে ৩ হাজার ৪৩৩ জন নিহত হয়েছেন এবং ১০ লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে রাতভর হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলায় এক সৈন্য নিহত হয়েছেন। হিজবুল্লাহর সহজে শনাক্ত না হওয়া ফাইবার অপটিক ড্রোনের ব্যবহার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর জন্য মোকাবিলা করা কঠিন হচ্ছে।
নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের মতে, দক্ষিণ লেবাননে বা তার কাছাকাছি এলাকায় অন্তত ২৬ জন ইসরায়েলি সৈন্য এবং একজন প্রতিরক্ষা ঠিকাদার নিহত হয়েছেন। এছাড়া উত্তর ইসরায়েলে ২ জন বেসামরিক নাগরিকও নিহত হয়েছেন।
২৭ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে একাধিক গাড়ির সংঘর্ষে ৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বাসচালকের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৯ মে) রাত আড়াইটার দিকে ভার্জিনিয়ার স্ট্যাফোর্ড কাউন্টিতে ইন্টারস্টেট ৯৫ মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ঘটনাস্থলে গাড়িতে চড়ে একটি পরিবার ম্যাসাচুসেটস থেকে দক্ষিণ ক্যারোলিনায় বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিল। এ দুর্ঘটনায় ওই পরিবারের ৪ সদস্যই নিহত হয়েছেন।
ক্যারোলিনা বুবলিক নামের ওই পরিবারের এক সদস্য বলেন, দক্ষিণ ক্যারোলিনায় নির্ধারিত বিয়ের অনুষ্ঠানটি রবিবার অনুষ্ঠিত হওয়া কথা ছিল। তবে আনন্দের এই আয়োজনের মধ্যেই দিমিত্রি ও একাতেরিনা দোনচেভ এবং তাদের দুই সন্তান এমিলি ও মার্কের মৃত্যুতে আমাদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা খুব প্রিয় মানুষদের হারিয়েছি। পুরো একটি পরিবারকে হারিয়ে ফেললাম। তারা আমাদের খুব কাছের মানূষ ছিল।’
পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানায়, শুক্রবার রাত প্রায় ২টা ৩৫ মিনিটে ভার্জিনিয়ার স্ট্যাফোর্ড কাউন্টিতে আন্তঃরাজ্য ৯৫ মহাসড়কে সড়ক মেরামতকাজ চলায় সেখানে কয়েকটি গাড়ি ধীরগতিতে চলছিল। এ সময় একটি মোটরকোচ বাস গাড়িগুলোর মধ্যে ঢুকে পড়ে। এর ফলে একাধিক গাড়ির সঙ্গে বাসটির সংঘর্ষ ঘটে।
পুলিশ আরও জানায়, বাসটি প্রথমে একটি শেভ্রোলেট গাড়িকে ধাক্কা দেয়। এ দুর্ঘটনায় শেভ্রোলেট গাড়িতে থাকা ম্যাসাচুসেটসের উরচেস্টারের বাসিন্দা ২৫ বছর বয়সী প্রিসিলা মাফালদাও নিহত হন। পরে সেটি গিয়ে দোনচেভ পরিবারের গাড়িটিকে আঘাত ধাক্কা দেয়। এতে তাদের পরিবারের ৪ জন নিহত হন।
মেরি ওয়াশিংটন হেলথকেয়ার জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তবে আহতদের বেশিরভাগকে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় বাসচালক ৪৮ বছর বয়সী জিং এস. দংয়ের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি নিউইয়র্কের স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের বাসিন্দা। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ যুক্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্ট্যাফোর্ড কাউন্টির প্রসিকিউটরদের কার্যালয় জানিয়েছে, বাসচালক জিং এস দংকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত হওয়ায় হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি পুলিশি হেফাজতেই থাকবেন।
মামলার প্রসিকিউটররা এক বিবৃতিতে জানান, হাসপাতাল থেকে ছাড়া না পাওয়া পর্যন্ত দংয়ের প্রথম আদালতে হাজিরার তারিখ নির্ধারণ করা হবে না। এরই মধ্যে একজন ম্যাজিস্ট্রেট তাকে জামিন না দিয়ে হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দং যে অবহেলায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন, তার যথেষ্ট প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছেন তদন্তকারীরা।
২৯ দিন আগে
অবরোধ ভাঙার চেষ্টা: বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের
ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করা একটি বাণিজ্যিক জাহাজকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে থামিয়ে দিয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।
স্থানীয় সময় শনিবার (৩০ মে) যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, গাম্বিয়ার পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ ‘লিয়ান স্টার’ একটি ইরানি বন্দরে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। এ সময় মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে ২০টিরও বেশি সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও জাহাজটি সেগুলো উপেক্ষা করে।
সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর জাহাজটির ইঞ্জিনকক্ষে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে সেটিকে থামিয়ে দেওয়া হয়।
এই সামরিক অভিযান সম্পর্কে অবহিত এক মার্কিন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জাহাজটি বর্তমানে ওমান উপসাগরে ভাসমান অবস্থায় রয়েছে। মার্কিন বাহিনী এখন পর্যন্ত জাহাজটিতে চড়েনি।
সেন্টকম জানিয়েছে, সর্বশেষ এই অভিযানের মাধ্যমে অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করা মোট ছয়টি জাহাজকে থামানো হয়েছে। এর মধ্যে একটি জাহাজকে গন্তব্যে যেতে দেওয়া হয়। এছাড়া আরও ১১৬টি জাহাজকে অন্য পথে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় এর প্রতিক্রিয়ায় ১৭ এপ্রিল থেকে এই অবরোধ কার্যকর করে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে পাকিস্তানের প্রচেষ্টায় ৭ এপ্রিল থেকে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। বর্তমানে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর বিষয়ে কোনো সমঝোতা হয় কি না, তা নিয়ে অপেক্ষায় রয়েছে সব পক্ষ। ওই সময়ের মধ্যে ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং সারসহ সংশ্লিষ্ট পণ্যের বড় অংশের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ভোক্তা ও খাদ্য উৎপাদকদের ওপর চাপ বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধের লক্ষ্য হচ্ছে, ইরানের নিজস্ব রপ্তানি সীমিত করা এবং দেশটির অর্থনীতিতে নগদ অর্থের প্রবাহ আরও কমিয়ে আনা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার তার উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে তিনি এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। ইরান জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো চুক্তি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় অনেক কম হলেও প্রণালিটি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে। যদিও ইরান দাবি করে আসছে, এই পথে যেকোনো নৌযান চলাচলের জন্য তাদের অনুমোদন প্রয়োজন।
শনিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ড সতর্ক করে বলেছে, ‘এই বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট জাহাজের নিরাপদ চলাচল গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়বে।’ পাশাপাশি তারা হুঁশিয়ারি দেয়, এ বিষয়ে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করা যেকোনো সামরিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
ইরান হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত টোল আদায় করছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শান্তিপূর্ণ নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের একটি মৌলিক নীতির পরিপন্থী।
কাতারের উপ-প্রধানমন্ত্রী শেখ সৌদ বিন আবদুর রহমান বিন হাসান বিন আলী আল থানি শনিবার বলেন, তারা প্রণালি ব্যবহারে ফি আরোপের বিরোধী। তবে সাময়িকভাবে মাইন অপসারণ বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট কাজে ওই অর্থ ব্যবহার করা হলে তা আলোচনার বিষয় হতে পারে এবং তা হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ-চলাচল পুনরুদ্ধারেও সহায়ক হতে পারে।
এর আগে, একই মার্কিন কর্মকর্তা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালিতে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র কোনো মাইন শনাক্ত বা ধ্বংস করতে পারেনি।
৩০ দিন আগে
যুদ্ধকালীন যৌন সহিংসতার অভিযোগে জাতিসংঘের কালো তালিকায় ইসরায়েল ও রুশ বাহিনী
সংঘাতপূর্ণ এলাকায় যৌন সহিংসতার অভিযোগে ইসরায়েলি বাহিনী ও রুশ বাহিনীকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে জাতিসংঘ।
জাতিসংঘের যৌন সহিংসতা-বিষয়ক ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর যৌন নির্যানের অভিযোগে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এবং ইউক্রেনের যুদ্ধবন্দিদের ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগে রাশিয়ার বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে দুই দেশই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সংঘাতকালীন যৌন সহিংসতা নিয়ে তৈরি জাতিসংঘের ৩৫ পৃষ্ঠার বার্ষিক এ প্রতিবেদনটি স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৯ মে) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এর আগেই বৃহস্পতিবার রাতে জাতিসংঘে ইসরায়েলের মিশন প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ এলাকায় যৌন সহিংসতার অভিযোগে জড়িত ১২টি দেশের ৭৭টি সরকারি ও বেসরকারি পক্ষকে কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
২০২৫ সালের এই তালিকায় রয়েছে ইসরায়েলের সশস্ত্র ও নিরাপত্তা বাহিনীর নাম। একইসঙ্গে এই তালিকায় হামাসের নামও রয়েছে । ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার পর হামাস আগে থেকেই কালো তালিকার অন্তর্ভুক্ত ছিল। এছাড়া, ইউক্রেন যুদ্ধে যুদ্ধবন্দি ও আটক বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার অভিযোগে এ বছর রাশিয়ার সশস্ত্র ও নিরাপত্তা বাহিনীকেও এই তালিকায় রাখা হয়েছে।
এর আগে, গত বছরের প্রতিবেদনে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ইসরায়েল ও রাশিয়াকে সতর্ক করেছিলেন, তাদের নামও এই তালিকায় যুক্ত হতে পারে।
তালিকায় নাম আসার পর ইসরায়েল ও রাশিয়া—দুই দেশের রাষ্ট্রদূতই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তারা এ ব্যাপারে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সমালোচনা করেছেন।
জাতিসংঘে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া বলেন, ‘আমরা মহাসচিবকে চিঠি দেব। চিঠিতে জানানো হবে, প্রতিবেদনে আনা এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। আগের মতোই আবারও রাশিয়াকে খলনায়ক হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে।’
তিনি জানান, ইউক্রেনীয় বাহিনী রুশ যুদ্ধবন্দিদের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করছে, সেসব তথ্য সংগ্রহ করে রাশিয়াও একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করছে।
অন্যদিকে, জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা জাতিসংঘ মহাসচিবের কর্মকাণ্ডে হতাশ। গুতেরেস ইসরায়েলকে হামাস, আইএস এবং বিশ্বের সবচেয়ে নৃশংস সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর সঙ্গে একই কালো তালিকায় রেখেছেন।’
ড্যানন আরও জানান, প্রতিবেদনে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলোর জবাবে ইসরায়েল আগে থেকেই প্রয়োজনীয় নথি, তথ্য ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা জাতিসংঘের কাছে জমা দিয়েছিল।
উল্লেখ্য, আগামী ৩১ ডিসেম্বর মাসে গুতেরেসের দ্বিতীয় পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হবে।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সংঘাত-সংশ্লিষ্ট যৌন সহিংসতার একটি ধারাবাহিক চিত্র নথিভুক্ত করেছে জাতিসংঘ। বিশেষ করে ইসরায়েল ও অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে আটক ফিলিস্তিনিদের ক্ষেত্রে এ ধরনের একাধিক ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। সংস্থাটি গাজা ও পশ্চিম তীরের ১৪ জন পুরুষ, ৭ জন নারী, ৯ জন ছেলে ও এক মেয়ে শিশুর ওপর সংঘাতকালে যৌন সহিংসতার একাধিক ঘটনা যাচাই করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি ঘটনা ঘটেছে ২০২৫ সালে। বাকি ১৮টি ঘটনা ঘটে ২০২৩ ও ২০২৪ সাল মিলিয়ে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ আরও করা হয়েছে, এসব নির্যাতনের মধ্যে ধর্ষণ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা, যৌনাঙ্গে শারীরিক নির্যাতন, যৌনাঙ্গ লক্ষ্য করে গুলি, স্তন ও যৌনাঙ্গ স্পর্শ, অযৌক্তিকভাবে পোশাক খুলে শরীর তল্লাশি এবং ধর্ষণের হুমকির মতো ঘটনা ঘটেছে।
প্রতিবেদনে অন্তত ৯ জন ভুক্তভোগীর ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। তাদের বেশিরভাগই গাজার বাসিন্দা। তাদের কেউ কেউ একাধিকবার ধর্ষণ বা সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ঘটনায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ), ইসরায়েলের কারা বিভাগ, বিশেষ বাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা জড়িত ছিলেন।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে ওঠা সকল অভিযোগ তারা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, অভিযোগগুলো তারা পূর্ণাঙ্গভাবে পর্যালোচনা করেছে। সেগুলোর কোনো ভিত্তি নেই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় লিখেছে, এই সিদ্ধান্ত আবারও প্রমাণ করল, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক পক্ষপাতিত্ব রয়েছে।
এদিকে, প্রতিবেদনে হামাসের বিরুদ্ধে আবারও যৌন সহিংসতার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে জাতিসংঘ জানিয়েছে, অভিযোগের অনেক তথ্য এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। কারণ তদন্ত পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রবেশাধিকার জাতিসংঘকে এখনও দিচ্ছে না ইসরায়েল সরকার।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রাশিয়াও নিয়মিতভাবে জাতিসংঘের মানবাধিকার তদন্তকারীদের প্রবেশাধিকার দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। এরপরও রাশিয়া এবং রুশ-নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় যুদ্ধবন্দি ও আটক বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে সংঘাত-সংশ্লিষ্ট যৌন সহিংসতার ৩১০টি ঘটনা যাচাই করতে পেরেছে জাতিসংঘ। প্রতিবেদনে ইউক্রেনের ভুক্তভোগীদের বেশিরভাগই পুরুষ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা যুদ্ধবন্দি ও আটক বেসামরিকদের বিরুদ্ধে সংঘাত-সংশ্লিষ্ট যৌন সহিংসতার ৩১টি ঘটনা নথিভুক্ত করেছেন। এসব ঘটনার বেশিরভাগই ২০২৫ সালের আগের সময়ের। তবে ইউক্রেনকে জাতিসংঘের কালো তালিকায় রাখা হয়নি।
৩১ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রে আবাসিক ভবনে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ নিহত ৩
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে গ্যাস বিস্ফোরণের পর অগ্নিকাণ্ডে এক শিশুসহ অন্তত ৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৫ জন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৮ মে) টেক্সাসের ডালাস শহরের কেন্দ্রস্থলের দক্ষিণে ওক ক্লিফ এলাকার একটি দোতলা আবাসিক ভবনে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
গ্যাস লিকের খবর পেয়ে দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই বিস্ফোরণটি ঘটে বলে জানিয়েছে ডালাস অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার কর্তৃপক্ষ।
ডালাস অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার বিভাগের মুখপাত্র জেসন ইভানস জানান, এ ঘটনায় আহত হয়ে আরও অন্তত পাঁচজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ওই ভবনে কতজন বাসিন্দা ছিলেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ভবনটিতে আগুন লাগার পর অনেক দূর থেকেও বিশাল কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে।
ইভানস জানান, ভবনটির ধ্বংসস্তূপে দমকলকর্মীরা এখনও তল্লাশি চালাচ্ছেন। সেখানে আরও হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলের অর্ধেকেরও কম অংশে অনুসন্ধান চালাতে পেরেছেন। এই ভবনের কিছু অংশ সরাতে উদ্ধারকর্মীরা খননযন্ত্রও ব্যবহার করবেন বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ভবনটিতে ভয়াবহ মাত্রায় আগুন লেগেছিল।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে অসংখ্য দমকলকর্মী কাজ করছেন। ধোঁয়া ওঠা ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি পুড়ে যাওয়া ভবনের ধ্বংসাবশেষে পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে।
ডালাস অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার বিভাগের সহকারী প্রধান জেমস রাস বলেন, ‘ভবনে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে আমাদের সদস্যরা এখনও ঘটনাস্থলে প্রাথমিক অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন।’
এ ঘটনায় প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস এনার্জি এক বিবৃতিতে জানায়, দমকল বিভাগের কর্মকর্তারা তাদের জানিয়েছেন যে কোম্পানির সঙ্গে সম্পর্কহীন একটি নির্মাণকর্মী দল ঘটনাস্থলের কাছাকাছি একটি গ্যাস পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। কোম্পানির কর্মকর্তারা তদন্তকারীদের সঙ্গে ঘটনাস্থলে কাজ করছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।
ভবনটির বাসিন্দা ক্যাসি প্রোক্টর বলেন, বিস্ফোরণের এক দিন আগে তার মা ঘরের ভেতরে গ্যাসের গন্ধ পেয়েছিলেন। তবে তখন বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
তিনি জানান, বিস্ফোরণের সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। তবে তার পোষা বিড়াল শার্ল ভবনের ভেতরে আটকে পড়েছে।
প্রোক্টর বলেন, ‘আমি কয়েক ঘণ্টা ধরে এখানে বসে কাঁদছি। কী করব বুঝতে পারছি না। এই মুহূর্তে আমার কাছে গায়ে থাকা এই কাপড় ছাড়া আর কিছু নেই।’
অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার কর্তৃপক্ষ কাছের একটি হাইস্কুলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করেছে।
৩১ দিন আগে