ঢাকা
নারায়ণগঞ্জে ফ্রিজের কম্প্রেসার বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৪ জন দগ্ধ
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি বাসায় ফ্রিজের কম্প্রেসার বিস্ফোরণের ঘটনায় একই পরিবারের চারজন দগ্ধ হয়েছেন।
সোমবার (১১ মে) সকাল ৬টার দিকে ফতুল্লার কুতুবপুর লাকিবাজার এলাকার এ ঘটনা ঘটে।
পরে দগ্ধ অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে সকাল সাড়ে আটটার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়।
দগ্ধরা হলেন—আব্দুল কাদের (৫০) এবং তার তিন ছেলে মোহাম্মদ মেহেদী (১৭), সাকিব (১৬) ও রাকিব (১৬)।
তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসা প্রতিবেশী মো. ফারুক জানান, সকাল ৬টার দিকে আমরা বিকট শব্দ পেয়ে বাসায় গিয়ে দেখি, বাবা ও তার ছেলেরা দগ্ধ অবস্থায় আগুনে ঝলসে গেছে। পরে জানতে পারি, ফ্রিজের কম্প্রেসার বিস্ফোরণ হয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। পরে আমরা তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসি। সেখানে চিকিৎসক তাদেরকে ভর্তি করান।
তিনি আরও জানান, আব্দুল কাদের পেশায় একজন অটোরিকশাচালক। তিনি পরিবার নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার কুতুবপুর লাকিবাজার এলাকায় বসবাস করেন।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে দগ্ধ হয়ে চারজন এসেছেন। তাদের মধ্যে আব্দুল কাদেরের শরীরের ৫৭ শতাংশ, মেহেদির ১৮ শতাংশ, সাকিবের ১৭ শতাংশ এবং রাকিবের ২৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের সবাইকে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আব্দুল কাদেরের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
৬ ঘণ্টা আগে
গাজীপুরে পোশাক কারখানায় অর্ধশত শ্রমিক অসুস্থ
গাজীপুরের ভোগড়া এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় হঠাৎ করে অন্তত অর্ধশত শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের মধ্যে ১৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার পর কারখানাটিতে ছুটি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (১১ মে) সকালে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভোগড়া এলাকার প্যানাসিয়া ক্লোদিং লিমিটেড কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।
কারখানার শ্রমিকরা জানান, সকালে তারা কারখানায় গিয়ে মিলাদ মাহফিলে অংশ নেন। মিলাদ শেষে একে একে শ্রমিকরা অসুস্থ হতে থাকেন। পরে তাদের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এর আগে গত শুক্রবার (৮ মে) শ্বাসকষ্টে কারখানার একজন শ্রমিক মারা যান। এতে অন্য শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, গণ মনোদৈহিক রোগে আক্রান্ত এসব রোগীদের নিয়ে তেমন কোনো আশঙ্কা নেই। চিকিৎসা দেওয়ার পর আস্তে আস্তে সুস্থ হয়ে উঠবেন তারা।
এদিকে, কারখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রথমে একজন নারী শ্রমিক হঠাৎ চিৎকার করে ওঠেন। এরপর থেকেই অন্যরা অসুস্থ হতে থাকেন। বিষয়টি পরিকল্পিত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
৭ ঘণ্টা আগে
নারায়ণগঞ্জে বাসে ‘র্যাব’ পরিচয়ে ডাকাতির চেষ্টা, আটক ২
ঢাকা থেকে মুন্সীগঞ্জগামী একটি বিআরটিসি বাসে ‘র্যাব’ পরিচয়ে ডাকাতির চেষ্টাকালে ব্যর্থ হয়েছে একটি চক্র । এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে ঘটনাস্থল থেকে তাদের আরও কয়েকজন সহযোগী পালিয়ে গেছেন।
শনিবার (৯ মে) রাতে নারায়ণগঞ্জের মাতুয়াইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটকরা হলেন— কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আক্তারুজ্জামান (৪৭) এবং কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আমিরুল ইসলাম (৩০)।
যাত্রীরা জানান, মুন্সীগঞ্জের ব্যবসায়ী শেখ মাসুম প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা নিয়ে বিআরটিসি বাসে করে বাড়ি ফিরছিলেন। বাসটি নারায়ণগঞ্জের মাতুয়াইল এলাকায় পৌঁছালে পথে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের র্যাব সদস্য পরিচয় দিয়ে বাসটির গতিরোধ করেন।
এ সময় তারা ব্যবসায়ী শেখ মাসুমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে দাবি করে তাকে বাস থেকে নামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় পরিস্থিতি সন্দেহজনক মনে হলে শেখ মাসুম বাসের ভেতরেই চিৎকার করে যাত্রীদের উদ্দেশে জানান, তিনি একজন ব্যবসায়ী। তার কাছে বিপুল পরিমাণ টাকা রয়েছে। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ভুয়া পরিচয়ে এসব ব্যক্তি ডাকাতির উদ্দেশ্যে এসেছেন।
তার চিৎকারে বাসের অন্য যাত্রীরা সতর্ক হয়ে ওঠেন। সে সময় তারা সংঘবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এতে ‘র্যাব’ পরিচয়দানকারী চক্রের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। একপর্যায়ে তাদের কয়েকজন দ্রুত পালিয়ে যান।
পরে যাত্রীদের সহায়তায় চক্রটির আক্তারুজ্জামান ও আমিরুল ইসলামকে আটক করা হয়। এরপর বাসের যাত্রীরা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুইজনকে আটক করে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুর রহমান জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি পলাতক অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
১ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণে এক পরিবারের ৫ জন দগ্ধ
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় এলাকায় গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় একই পরিবারের ৫ জন দগ্ধ হয়েছেন।
রবিবার (১০ মে) সকাল ৭টার দিকে ফতুল্লার ভূঁইগড় গিরিধারা এলাকায় অবস্থিত মো. শাহজাহান মিয়ার আটতলা ভবনের নিচতলার পশ্চিম পাশের একটি ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে।
দগ্ধরা হলেন— মো. কালাম (৪৫), তার স্ত্রী সালমা (৪০), ছেলে মুন্না (১২), মেয়ে মুন্নি (১০) ও কথা (৭)।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পর আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল আরেফীন বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ফ্ল্যাটের পশ্চিম পাশের কক্ষে থাকা রান্নাঘর-সংলগ্ন গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বন্ধ কক্ষে গ্যাস জমে যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘সকালে ওই ভাড়াটিয়া সিগারেটের লাইটার জ্বালানোর চেষ্টা করলে মুহূর্তেই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে আমরা ধারণা করছি। ওই কক্ষ থেকে আমরা একটি গ্যাস লাইটার পেয়েছি।’
জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, অগ্নিদগ্ধ পাঁচজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। আহতদের মধ্যে মো. কালাম ৯৫ শতাংশ, তার স্ত্রী সালমা ৬০ শতাংশ, ছেলে মুন্না ৩০ শতাংশ, মেয়ে মুন্নি ৩৫ শতাংশ এবং কথা ৫২ শতাংশ দগ্ধ হয়েছেন।
১ দিন আগে
গাজীপুরে গরু চোর সন্দেহে তিনজনকে পিটিয়ে হত্যা
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গরু চোর সন্দেহে তিনজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয়। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি।
রবিবার (১০ মে) ভোর ৪টার দিকে কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের বাগচালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ ভোরে ১০-১২ জনের সংঘবদ্ধ গরু চোর চক্রের একটি দল একটি পিকআপ ভ্যান নিয়ে বাগচালা এলাকার আবু বক্কর সিদ্দিকের বাড়িতে হানা দেয়। এ সময় বাড়ির লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে আশপাশের লোকজনকে ডাকাডাকি করলে স্থানীয়রা তাদের ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে জনতা তালা কাটার সরঞ্জাম, চাপাতি ও দাসহ তিনজনকে আটক করে পিটুনি দেয়। পাশাপাশি তাদের ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যানটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানা-পুলিশ ও ফুলবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। এ বিষয়ে ময়নাতদন্তসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
১ দিন আগে
মহাসড়কে পুলিশি চাঁদাবাজির অভিযোগ: সাভারে অটোরিকশাচালকদের সড়ক অবরোধ
সাভারে হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে অব্যাহত চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কয়েকশ ব্যাটারিচালিত অটো-রিকশাচালক।
শনিবার (৯ মে) দুপুরে পাকিজা মোড় এলাকায় এই অবরোধ কর্মসূচির কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দুপুর ১২টার দিকে সাভারের বিভিন্ন গলি ও শাখা সড়ক থেকে কয়েকশ রিকশাচালক একত্রিত হয়ে পাকিজা মোড়ে অবস্থান নেন। তারা মহাসড়কের ওপর আড়াআড়িভাবে রিকশা রেখে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা ব্যাপী (দুপুর ১২টা থেকে ১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত) এই অবরোধ চলাকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
বিক্ষুব্ধ রিকশাচালকদের দাবি, মহাসড়কে রিকশা নিষিদ্ধ থাকলেও জীবিকার তাগিদে তারা চলাচল করতে বাধ্য হন। কিন্তু হাইওয়ে পুলিশ ও তাদের সোর্সরা প্রতিনিয়ত চালকদের আটকে ২ হাজার ৬০০ টাকা করে নেয়। এই টাকার কোনো রশিদও দেওয়া হয় না। প্রখর রোদের মধ্যে রিকশা চালিয়ে ৬০০/৭০০ টাকার বেশি ইনকাম করতে পারি না। রিকশা আটকের পর দেখা যায় ধারদেনা করে টাকা এনে ছাড়িয়ে নিতে হয়। আবার পরদিন একই কায়দায় তারা রিকশা আটক করে। পুনরায় টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে নিতে হয়।
তারা বলেন, হাইওয়ে পুলিশের এই চাঁদাবাজি থেকে আমরা পরিত্রাণ চাই। সরকার আমাদের রিকশা চালাতে দেবে না, তাহলে রিকশার কারখানাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হোক । আমাদের কর্মসংস্থানেরও ব্যবস্থা করে দেওয়া হোক, যাতে করে পরিবার নিয়ে দুমুঠো খেয়ে বাঁচতে পারি।
বিক্ষুব্ধ চালকদের মুখ থেকে বলতে শোনা গেছে, ‘দিনভর যা আয় হয়, তার বড় একটা অংশ পুলিশকে দিয়ে দিতে হয়। প্রতিবাদ করলে মামলার ভয় দেখানো হয়।’
এদিকে, অবরোধের ফলে সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু করে গেন্ডা এবং অন্যদিকে হেমায়েতপুর অভিমুখে দীর্ঘ যানবাহনের সারি তৈরি হয়। তীব্র গরমে বাসে আটকে থাকা যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন। বিশেষ করে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি সেবার গাড়িগুলো যানজটে আটকে থাকে।
পরে দুপুর পৌনে ২টার দিকে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন আন্দোলনরত রিকশাচালকদের বলেন, হাইওয়ে পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের একটা ব্যবস্থা করা হবে । পরে তারা পুলিশের এই আশ্বাস পেয়ে অবরোধ তুলে নেন।
চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ শাহজাহান বলেন, হাইওয়েতে থ্রি-হুইলার, সিএনজি, ই-বাইক এবং সব ধরনের তিন চাকাবিশিষ্ট যানবাহন চলাচল আইনত নিষিদ্ধ। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে চালকদের আইনের ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে এবং সচেতন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
চালকদের পক্ষ থেকে যে চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়েছে, বিষয়টি তিনি পুরোপুরি অস্বীকার করে জানান, এগুলো কোনো ব্যক্তিগত চাঁদা নয়, বরং আইনি প্রক্রিয়া। অন্যান্য গাড়ির ক্ষেত্রে লাইসেন্স বা কাগজ থাকলে কেস স্লিপ দিয়ে পরে টাকা জমা দেওয়ার সুযোগ থাকে। কিন্তু এই রিকশাগুলোর কোনো লাইসেন্স বা সঠিক কাগজ না থাকায় তৎক্ষণাৎ মামলা দেওয়া হয়।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ৩৯ ধারায় ২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা এবং ব্যাংক চার্জ বাবদ ১০০ টাকা, অর্থাৎ মোট ২ হাজার ৬০০ টাকা জমা দেওয়ার পর গাড়ি ছাড়ার বিধান রয়েছে বলে জানান শেখ শাহজাহান।
২ দিন আগে
গাজীপুরে ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা: মরদেহের ওপর মিলল চাঞ্চল্যকর ‘অভিযোগপত্র’
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী ও তিন কন্যাসহ একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর মরদেহের ওপর টাইপ করা অভিযোগপত্র রেখে পালিয়েছেন অভিযুক্ত গৃহকর্তা ফোরকান মিয়া। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, স্ত্রীর পরকীয়া ও অর্থ আত্মসাতের ক্ষোভ থেকে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
শনিবার (৯ মে) সকালে উপজেলার রাউতকোনা গ্রামের একটি ভাড়া বাসা থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন—ফোরকানের স্ত্রী শারমিন খানম (৪০), তাদের তিন মেয়ে মিম (১৬), মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২) এবং ফোরকানের শ্যালক রসুল (২২)। শারমিন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইকান্দি গ্রামের শাহাদাত মোল্যার মেয়ে ছিলেন। তার স্বামী ফোরকান মিয়া প্রাইভেট কারের চালক।
আজ সকালে ফোরকানের ফোন কল থেকেই তাদের মৃত্যুর খবর পেয়ে স্বজনরা এসে ঘরের ভেতরে মরদেহগুলো দেখতে পান। গোপালগঞ্জের বাসিন্দা মো. ফোরকান তার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে রাউতকোনা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের ওই বাড়িতে গত পাঁচ মাস ধরে ভাড়ায় বসবাস করছিলেন।
এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে দুজনকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের বিস্তারিত পরিচয় এখনও জানানো হয়নি।
মরদেহের ওপর ৫টি অভিন্ন অভিযোগপত্র
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে মদের বোতল, চাপাতি ও কম্পিউটারে টাইপ করা একটি অভিযোগপত্রের পাঁচটি অভিন্ন কপি উদ্ধার করা হয়েছে। গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লেখা ওই অভিযোগপত্রে ফোরকান তার স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও স্ত্রীর পরকীয়ার অভিযোগ তুলেছেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে, স্ত্রী শারমিন তার খালাতো ভাইয়ের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েছিলেন। বিষয়টি জানার পর ফোরকান এসব নিয়ে স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এর জেরে গত ৫ মে শারমিন ও তার লোকজন মিলে ফোরকানকে বেঁধে রেখে মারধর করেন।
এছাড়া শারমিন ও তার বাবাসহ কয়েকজন মিলে ফোরকানের উপার্জিত ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে তাদের নামে জমি কিনেছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগপত্রটি উল্লিখিত থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে দেওয়া হয়েছিল কি না, তা যাচাই করছে পুলিশ।
পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের আলামত
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, ফোরকান তার পরিবার নিয়ে আগে টঙ্গীতে থাকতেন। মাস পাঁচেক আগে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে তিনি কাপাসিয়ার ওই নিরিবিলি এলাকায় বাসা ভাড়া নেন। সেখানে এতদিন ধরে বসবাস করলেও আশপাশের লোকজনের সঙ্গে তাদের তেমন সখ্যতা ছিল না।
ঘটনাস্থল থেকে মদের খালি বোতল ও চাপাতিসহ বেশ কিছু আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশের ধারণা, হত্যার আগে সবাইকে চেতনাশক কিছু খাইয়ে অচেতন করা হয়েছিল। শুক্রবার রাতে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর ফোরকান নিজেই স্বজনদের ফোনে বিষয়টি জানান এবং এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। নিজের ব্যবহৃত প্রাইভেট কারটি নিয়ে তিনি পালিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালীগঞ্জ সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে জেলা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশ, সিআইডি, পিবিআইসহ বিভিন্ন টিম আলাদাভাবে তদন্ত করছে। শিগগিরই ফোরকানকে গ্রেপ্তার এবং খুনের রহস্য উদঘাটন হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
২ দিন আগে
গাজীপুরে স্ত্রী-সন্তানসহ ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় এক ব্যক্তির স্ত্রী, তিন কন্যাসন্তান ও শ্যালককে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত নারীর স্বামী ফোরকান পলাতক রয়েছেন।
শুক্রবার (৮ মে) গভীর রাতে উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— ফোরকানের স্ত্রী, তাদের তিন কন্যাসন্তান এবং স্ত্রীর ভাই। তারা গোপালগঞ্জের বাসিন্দা এবং কাপাসিয়ার রাহাতখানা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
ফেকরান গাড়িচালক হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করেন। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনুর আলম জানান, পারিবারিক বিরোধের জেরে স্বামী ফোরকান স্ত্রী ও সন্তানদের হত্যা করে পালিয়ে গেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে। তদন্ত ছাড়া বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।’
২ দিন আগে
মানিকগঞ্জে ট্রাক ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ, নিহত ৩
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় ট্রাক ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে ৩ জন নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৮ মে) বিকেল ৬টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোশাররফ হোসেন।
এর আগে, আজ (শুক্রবার) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার উত্তর পাড়তিল্লী বিলপাড়া সেতুর পূর্ব পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে দুজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মারা যান।
ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেলের আরোহী আলমের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন মোটরসাইকেলচালক সোনা মিয়া (২২) ও অপর আরোহী কালু মিয়া (১৬)। পরে তাদের উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ২টার দিকে কালু মিয়া এবং বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সোনা মিয়া মারা যান।
ওসি মো. মোশাররফ হোসেন জানান, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
২ দিন আগে
রাজধানীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে ডেন্টাল হাসপাতালের কর্মচারী গুলিবিদ্ধ
রাজধানীর বনানীর মহাখালী পুরাতন কাঁচাবাজার এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে মো. রফিকুল ইসলাম (৪০) নামে মিরপুর ডেন্টাল হাসপাতালের আউটসোর্সিং কর্মচারী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়।
গুলিবিদ্ধ রফিকুল বরগুনা সদরের ঘরবাড়িয়া গ্রামের মৃত আব্দুল রশিদের ছেলে। তিনি পরিবারের সঙ্গে মহাখালী আইপিএস স্টাফ কোয়ার্টারে বসবাস করতেন।
রফিকুলের বোন রাশেদা বেগম জানান, গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাতে মহাখালী পুরাতন কাঁচাবাজার এলাকায় দুটি মোটরসাইকেলে চড়ে এসে ৫ থেকে ৬ জন লোক রফিকুলের পায়ে গুলি করেন। এরপর তারা পালিয়ে যান। আমার ভাইয়ের বাম পায়ে হাঁটুর নিচে গুলি লাগলে তিনি আহত হন। পরে আমরা খবর পেয়ে তাকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাই। তবে কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, আমরা সে বিষয়ে কিছুই জানি না।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক জানান, গত রাতে বাম পায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়। বর্তমানে হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে। আমরা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানিয়েছি।
৩ দিন আগে