বরিশাল
এসএসসির খাতায় উত্তর লিখে দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত, পটুয়াখালীতে দুই শিক্ষককে অব্যাহতি
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় চলমান এসএসসি পরীক্ষায় অর্থের বিনিময়ে কথিত ‘সিক বেডে’ এক পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষার সুযোগ করে দেওয়া এবং প্রকাশ্যে গণিত পরীক্ষার খাতায় উত্তরপত্র লিখে সরবরাহ করার ঘটনায় খেপুপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকদের প্রাথমিকভাবে পরীক্ষার সকল দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষা সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত প্রতিবেদনসহ চিঠি পাঠানো হয়েছে।
গত ৩ মে গণিত পরীক্ষার দিন অসাদুপায় অবলম্বনের দায়ে খেপুপাড়া মডেল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে ভিজিলেন্স টিম বহিষ্কার করলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। তদন্তে বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক জহিরুল ইসলাম (সমাজবিজ্ঞান) ও মেজবা উদ্দিন ওই শিক্ষার্থীকে অঙ্কের সমাধান সংবলিত পরীক্ষার বোর্ডের আলাদা বাড়তি খাতা সরবরাহের প্রমাণ মিলেছে।
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাউছার হামিদ এ ঘটনার পরই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেককে বিষয়টির তদন্তের দায়িত্ব দেন।
তদন্ত কর্মকর্তা মো. ইয়াসীন সাদেক তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, নকল সরবরাহ করা, কথিত ‘সিক বেড’ ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়ার ঘটনার সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই শিক্ষকের সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। শুধু তা-ই নয়, এই দুই শিক্ষকের যোগসাজশে বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থীকে প্রশ্নের উত্তরপত্র লিখে সরবরাহ করা হয়েছিল। এমনকি সিসি ক্যামেরাবিহীন ওই কক্ষের মূল দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক শিক্ষক দেবাশীষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে নকলে সরাসরি সহায়তার প্রমাণও মিলেছে।
গত ৬ মে দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বহিষ্কৃত ওই পরীক্ষার্থীকে শিক্ষা বোর্ডের সরবরাহকৃত অতিরিক্ত খাতায় কয়েকটি অঙ্কের সমাধান লিখে দেওয়ার বিষয়ে সত্যতা খুঁজে পেয়েছেন। শিক্ষার্থীর খাতার হাতের লেখার সঙ্গে অতিরিক্ত খাতার হাতের লেখার মিল নেই। মূল খাতার অর্ধেকের বেশি খালি থাকা সত্ত্বেও কক্ষ পরিদর্শকের সই ও তারিখবিহীন গণিতের সমাধান করা বোর্ডের সরবরাহকৃত অতিরিক্ত খাতা পাওয়া যায়।
তদন্ত কর্মকর্তা পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা অভিযুক্ত শিক্ষক মেজবা উদ্দিনের হাতের লেখার নমুনা পরীক্ষাও করেন। এরপর প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীর কাছে পাওয়া অতিরিক্ত খাতার লেখার সঙ্গে মেজবা উদ্দিনের হাতের লেখার বহু অক্ষরের মিল পাওয়া গেছে। তারপরও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ—সিআইডির মাধ্যমে তা নিশ্চিত হওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীর বাবা তদন্ত কর্মকর্তাকে জানান, তার সন্তানের অসুস্থতার খবর তার জানা ছিল না।
কক্ষপরিদর্শক দেবাশীষ চন্দ্র সিকদার তার জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন, পরীক্ষা চলাকালীন (ঘটনার দিন) শিক্ষক জহিরুল ইসলাম ৯ নম্বর কক্ষে (সিসি ক্যামেরাবিহীন) বহু নির্বাচনি প্রশ্নপত্রের পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগেই লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সরবরাহ করেন। কিছুক্ষণ পরেই সহকারী শিক্ষক মেজবা উদ্দিন ওই কক্ষে প্রবেশ করে পরীক্ষার্থীর সৃজনশীল প্রশ্নের ছবি তুলে নেন। এক ঘণ্টা পরে বোর্ডের সরবরাহকৃত অতিরিক্ত উত্তরপত্রে প্রশ্নের সমাধান করে ওই পরীক্ষার্থীকে তা সরবরাহ করেন। কক্ষ পরিদর্শক দেবাশীষ মেজবা উদ্দিনকে বাধা দিলে তিনি ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তাকে নিবৃত থাকতে বাধ্য করেন। এরপর কেন্দ্র সহকারী জহিরুল ইসলাম দাঁড়িয়ে থেকে ওই পরীক্ষার্থীকে নকলে সহায়তা করেন। এমনকি মেডিকেল সনদ ছাড়া সভাপতি কিংবা কেন্দ্রের পরামর্শ ছাড়া ‘সিক বেডে’ ক্যামেরাবিহীন কক্ষে পরীক্ষা গ্রহণের বিষয়ে কেন্দ্র সচিব মুহাম্মদ মহসিন রেজাকে অভিযুক্ত শিক্ষক মেজবা উদ্দিন ও জহিরুল ইসলাম চাপ প্রয়োগ করেন বলেও উল্লেখ করেছেন দেবাশীষ।
এ বিষয়ে কেন্দ্র সচিব জানান, তিনি এই প্রথমবার এসএসসি পরীক্ষার দায়িত্ব পালন করছেন। মেডিকেল সনদ ব্যতীত বোর্ডের পরামর্শ ছাড়া ‘সিক বেডের’ কক্ষে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য অভিযুক্ত ওই দুই শিক্ষক তাকে চাপ প্রয়োগ করেন। বিষয়টি পূর্বপরিকল্পিত এবং ওই দুই শিক্ষকের এ বিষয়ে আর্থিক লেনদেন হয়েছে বলেও তিনি তদন্ত টিমকে জানিয়েছেন।
তদন্ত কর্মকর্তা মো. ইয়াসীন সাদেক তার মতামতে উল্লেখ করেছেন, কেন্দ্র সহকারী কম্পিউটার অপারেটর জহিরুল ইসলাম ও সহকারী শিক্ষক মেজবা উদ্দিন বহিষ্কৃত ওই পরীক্ষার্থীকে পরিকল্পিতভাবে কেন্দ্র সচিব ও কক্ষ পরিদর্শককে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে সিসি ক্যামেরাবিহীন কক্ষে মেডিকেল প্রত্যয়ন ব্যতীত ‘সিক বেডে গণিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এবং বোর্ডের সরবরাহ করা অতিরিক্ত উত্তরপত্রে নকল সরবরাহ করায় একই সঙ্গে অসাদাচারণ ও ফৌজদারি অপরাধ করেছেন। ঘটনাটি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের প্রবিধানমালা-২০২৪-এর প্রবিধান-৫২ (২) (জ), ৫২ (২) (ঝ)-এর দণ্ড ও প্রবিধান ৫২-এর অপরাধযোগ্য দণ্ড ও দি পাবলিক এক্সামিনেশন অ্যাক্ট ১৯৮০-এর ৮ ও ৯ ধারা অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। এই অপরাধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছেন তিনি।
এই প্রতিবেদনের আলোকে উপরোক্ত দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিধি অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, মহাপরিচালক, পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক, উপপরিচালক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে গত বৃহস্পতিবার তদন্ত প্রতিবেদনসহ চিঠি পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয় অভিযুক্ত শিক্ষক মেজবা উদ্দিন বলেন, ‘মূলত কেন্দ্র সচিব ও কক্ষ পরিদর্শক তাদের অপরাধ আমাদের ওপর চাপাচ্ছেন। আমাদের ওপর আনীত অভিযোগ কিংবা দায় সম্পূর্ণ বানোয়াট ও মিথ্যা। কারণ কেন্দ্র সচিব ও কক্ষ পরিদর্শকের অনুমতি ছাড়া অন্য কারও কক্ষে প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই। এটি একটি গভীর ষড়যন্ত্র।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাউছার হামিদ বলেন, জড়িত দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার কার্যক্রম থেকে তাদের অব্যহতি দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডকে পুরো বিষয়টি বিস্তারিতভাবে প্রতিবেদন আকারে প্রদান করা হয়েছে। সরকারের নকলমুক্ত পরিবেশকে তারা সরাসরি প্রশ্নবিদ্ধ করতে এমন অপকর্ম করেছেন বলে তিনি মতামত ব্যক্ত করেছেন।
১৪ ঘণ্টা আগে
বরিশালে বাসচাপায় দাদি-নাতনি নিহত
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উজিরপুর উপজেলায় হানিফ পরিবহনের চাপায় পথচারী দাদি ও নাতনি ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে উপজেলার পশ্চিম জয়শ্রী কাজী বাড়ীর সামনে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহসীন হোসেন।
নিহতরা হলেন— ওই গ্রামের মৃত পান্নু কাজীর স্ত্রী রোকসানা ইয়াসমিন (৬৫) ও নিহতের ছেলে রুবেল কাজীর ৭ বছরের মেয়ে আরফা।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ওসি আরও জানান, গতকাল (মঙ্গলবার) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দুর্ঘটনাস্থল দিয়ে রোকসানা ও তার নাতনি মহাসড়ক পারাপার হওয়ার সময় বেপরোয়া গতিতে যাওয়া হানিফ পরিবহনের একটি বাস তাদের চাপা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তারা দুইজন নিহত হন।
ওসি মো. মহসীন হোসেন জানান, খবর পেয়ে গৌরনদী হাইওয়ে থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেছে। পাশাপাশি হানিফ পরিবহনের ওই বাসটি আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
৪ দিন আগে
সেশন ফি কমানোর দাবিতে বিএম কলেজ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
শিক্ষার্থীদের সেশন ফি ও অনান্য ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাসহ ১০ দফা দাবিতে বিক্ষোভ করেছে সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুর ১২টার দিকে বিএম কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্ট থেকে এই বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি কলেজ ক্যাস্পাস ও শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
এ সময় শিক্ষার্থীরা জানান, শিক্ষার্থীদের ওপর প্রতি বছর অতিরিক্ত সেশন চার্জ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অযৌক্তিক খাত দেখিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ টাকা নিচ্ছে। যেসব খাতে টাকা নেওয়া হচ্ছে, তার কোনো সেবা বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা পাচ্ছেন না। দাবি মানা না হলে আগামীতে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।
তবে শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষ ড. শেখ মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, শিক্ষার্থীদের কিছু দাবি সল্প সময়ের, আবার কিছু দীর্ঘ সময়ের। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
৪ দিন আগে
ভোলায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে অস্ত্র ও গাঁজাসহ আসামি আটক
ভোলার সদর উপজেলার ইলিশা এলাকায় অভিযান চালিয়ে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও গাঁজাসহ মো. জাকির হোসেন (৪২) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড।
আটক মো. জাকির হোসেন কোরালিয়া খায়েরহাট এলাকার বাসিন্দা।
মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে ভোলা দক্ষিণ জোন কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন, জাকির হোসেন একাধিক মামলার আসামি। তিনি ঢাকা থেকে কর্ণফুলী-১৩ লঞ্চে করে আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদক নিয়ে ভোলায় আসছেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল (সোমবার) দিবাগত রাত ৩টার দিকে কোস্ট গার্ড বেস ভোলা ইলিশা তুলাতুলি মোহনা-সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
এ সময় লঞ্চে তল্লাশি চালিয়ে একটি একনলা বন্দুক, ৪ রাউন্ড গুলি এবং আনুমানিক ৮০ হাজার টাকা মূল্যের ২ কেজি গাঁজাসহ জাকির হোসেনকে আটক করা হয়।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক জাকির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছেন।
সাব্বির আলম বলেন, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তার কাছ থেকে পাওয়া অবৈধ অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে।
৪ দিন আগে
কলাপাড়ায় পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মেহেরুন্নেছা উর্মি (২৮) নামের এক নারী পুলিশ কনস্টেবলের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২ মে) ভোরে টিয়াখালী ইউনিয়নের পশ্চিম বাদুরতলী গ্রামের একটি ভাড়া বাসার তিন তলার কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত উর্মি বাউফল উপজেলার ইন্দ্রপুর গ্রামের বহিষ্কৃত পুলিশ সদস্য মহিববুর রহমান বাপ্পীর স্ত্রী ছিলেন। তিনি পার্শ্ববর্তী আমতলী পৌর শহরের শাহজাহান মিয়ার কন্যা এবং কলাপাড়া থানায় কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট মাস আগে স্বামী বাপ্পী, দেড় বছরের সন্তান ফারদিন ও চার বছরের সন্তান ফারিস্তাকে নিয়ে আমিরুল ইসলামের পাঁচতলা ভবনের তিন তলার বাসাটি ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন উর্মি। পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো।
গতকাল (১ মে) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বাপ্পী থানায় খবর দিয়ে জানান, তার স্ত্রী ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। পরে পুলিশ ভোরে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, মানসিক সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য ওই পুলিশ সদস্যের স্বামী ও দুই সন্তানকে থানায় আনা হয়েছে। মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
৭ দিন আগে
অচলাবস্থা কাটাতে ববি শিক্ষকদের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষকদের পদোন্নতি আন্দোলনে সৃষ্ট অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে শিক্ষকদের দাবির বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও ক্লাস-পরীক্ষায় ফেরার বিষয়ে আন্দোলনরত শিক্ষকরা সোমবারের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমের সভাপতিত্বে তার বাসভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রশাসনের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা এবং আন্দোলনরত শিক্ষক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা নিরসনে শিক্ষকদের দাবির বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। তবে এখনই পাঠদানে ফিরছেন না শিক্ষকরা, তারা নিজেদের মধ্যে সভা করে সোমবারের মধ্যে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে জানিয়েছেন।
গত ২১ এপ্রিল থেকে চলমান এ আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস, ক্লাস টেস্ট, মিডটার্ম পরীক্ষা ও পাঠদান বন্ধ রয়েছে।
বৈঠকে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ, রেঞ্জ ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ইসরাত জাহান লিজা, কলা অনুষদের ডিন ড. আব্দুল বাতেন, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন ড. রাহাত হোসেন ফয়সাল এবং জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. হাফিজ আশরাফুল ইসলামসহ অন্যান্য শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘ আলোচনার পর উপাচার্য ও বিভাগীয় কমিশনার সাংবাদিকদের জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম পুনরায় সচল করার বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষকদের পদোন্নতি-সংক্রান্ত দাবিগুলো নিয়ম অনুযায়ী পূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, উপাচার্য ও বিভাগীয় আমাদের বলেছেন, আপনারা আইন অনুযায়ী সব কিছু পাবেন। তারা আমাদের শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে ক্লাসে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। এখন যেহেতু পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত আমরা শিক্ষকরা মিলে নিয়েছিলাম, তাই আবার সকল শিক্ষকের সঙ্গে রবি বা সোমবারের মধ্যে বসে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেব।
ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রাহাত হোসেন ফয়সাল বলেন, চলমান বিষয় নিয়ে আজ (বৃহস্পতিবার) বিভাগীয় কমিশনার ও ভিসির সঙ্গে ডিনদের মিটিং ছিল। সেখানে ছয় অনুষদের ছয়জন ডিনের মধ্যে পাঁচজন ডিন উপস্থিত ছিলেন। উপাচার্য ও বিভাগীয় কমিশনার আমাদের দাবির কিছু বিষয়ে আমাদের সঙ্গে একমত পোষণ করছেন। তারা বলেছেন, যত দ্রুত সম্ভব শিক্ষকদের এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পরবর্তীতে যত দ্রুত সম্ভব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্যও বোর্ড বসানো হবে। এ ছাড়াও তারা আমাদের ক্লাস এবং পরীক্ষা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।
উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মাদ তৌফিক আলম বলেন, আজ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি ডিনদের সঙ্গে একটা ত্রিপক্ষীয় মিটিং হয়েছে। মিটিংয়ে আমরা আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সিন্ধান্ত নিয়েছি, ক্লাস পরীক্ষা যেগুলো বন্ধ রয়েছে, সেগুলো একাডেমিক কার্যক্রম শিক্ষকরা খুব দ্রুতই চালু করবে। একইসঙ্গে তাদের যে সমস্যাগুলো রয়েছে, সেগুলোর সমাধানের জন্য আগামী সিন্ডিকেটে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। খুব শিগগিরই একটা সিন্ডিকেট সভা ডাকা হবে। সিন্ডিকেটে বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে, ১০২ জন শিক্ষকের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ২১ এপ্রিল থেকে কর্মবিরতিতে নামেন শিক্ষকরা। ববিতে ২১০ জন শিক্ষক রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬০ জন শিক্ষকের সকল যোগ্যতা অর্জনের পরও বছরের পর বছর পদোন্নতি আটকে আছে বলে অভিযোগ তোলেন আন্দোলনরতরা।
শিক্ষকদের অভিযোগ, বর্তমান উপাচার্য দায়িত্ব পাওয়ার পর গত বছরের অক্টোবরের শেষ দিকে পদোন্নতি বোর্ড গঠন করেন। এরপর দুটি সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হলেও উপাচার্য সেখানে নিয়োগ বোর্ড অনুমোদনের প্রস্তাব উত্থাপন করেননি। সর্বশেষ ৩১ মার্চ সিন্ডিকেট সভা হলেও এই সংকটের কোনো সমাধান হয়নি। তাই তারা কর্মবিরতিতে নেমেছেন।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, ২০১৫ সালের বিধিমালা অনুযায়ী শিক্ষকদের পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল । কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) চিঠি দিয়ে সেই কার্যক্রম আটকে দিয়েছে। ইউজিসির চিঠিতে বলা হয়, শিক্ষকদের পদোন্নতি দিতে ২০২১ সালের অভিন্ন নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে।
দেশের অধিকাংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এ নীতিমালার আওতায় এলেও ববিসহ তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় এখনও তা কার্যকর হয়নি। এখন থেকে নীতিমালা তৈরি শেষে ববির সিন্ডিকেটে পাস করতে হবে। তারপর দ্রুত অনুমোদনের জন্য ইউজিসিতে পাঠানো হবে। ইউজিসির অনুমোদন শেষে শিক্ষকদের পদোন্নতি দেওয়া হবে।
৯ দিন আগে
হত্যার পর মোটরসাইকেলচালকের মরদেহ গুম: ছেলের যাবজ্জীবন, মায়ের ৭ বছরের জেল
পিরোজপুরের নেছারাবাদে ৮ বছর আগে মিলন বাহাদুর নামে এক মোটরসাইকেলচালককে হত্যার পর তার মরদেহ গুমের ঘটনায় ছেলেকে যাবজ্জীবন ও তার মায়ের ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন পিরোজপুরের একটি আদালত।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. মজিবুর রহমান এ আদেশ দেন।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন— নেছারাবাদ উপজেলার সোহাগদল গ্রামের মো. তাজিম (২৮) এবং তার মা মোসা. রেহানা বেগম (৫০)।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মোটরসাইকেলচালককে হত্যার দায়ে তাজিমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, আনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডদেশ দিয়েছেন আদালত। অপরদিকে, মরদেহ গুমের দায়ে রেহানা বেগমকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা, আনাদায়ে আরও ৩ মাসের কারাদণ্ডদেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় রেহানা উপস্থিত থাকলেও, তার ছেলে পলাতক রয়েছেন।
২০১৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বিকেলে উপজেলার বয়ারহুলা মোটরসাইকেলস্ট্যান্ড থেকে মিলনের মোটরসাইকেল ভাড়া নেন তাজিম ও আরেক যুবক। এরপর রাতেও বাড়ি না ফেরায় মিলনকে বিভিন্ন স্থানে খুঁজতে থাকে তার পরিবার। সে সময় তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ ছিল। পরবর্তীতে ১২ ফেব্রুয়ারি নেছারাবাদ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন নিহত মিলনের বাবা শাহাদত বাহাদুর। এরপর ১৪ ফেব্রুয়ারি তাজিমের বাড়ির সেফটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে নিহত মিলনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
জানা যায়, মিলনকে হত্যার পর তাজিম তার মায়ের সহযোগিতায় মরদেহটি গুম করেছিলেন।
এ ঘটনার পর ৫ জনকে আসামি করে নিহত মিলনের বাবা ওই দিন নেছারাবাদ থানায় একটি মামলা করেন। এরপর তদন্ত শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
রায় ঘোষণার সময় বিচারক অন্য দুই অভিযুক্তকে মামলা থেকে অব্যহতি দেন।
৯ দিন আগে
পটুয়াখালীতে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ৫ বসতঘর বিধ্বস্ত, ক্ষতিগ্রস্ত অর্ধশতাধিক
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কালবৈশাখী ঝড়ে অন্তত ৫টি বসতঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়া অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ে উপড়ে পড়েছে শত শত গাছপালা।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের নবাবগঞ্জ ও সলিমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যার পর কয়েক দফায় প্রবল বৃষ্টির সঙ্গে হঠাৎ ঝড়ো হাওয়া শুরু হয়। এতে নবাবগঞ্জ গ্রামের মন্নান বয়াতি, মরিয়ম ও মাধবের বসতঘর এবং সলিমপুর গ্রামের নির্মল বিশ্বাস ও বিমল বিশ্বাসের বসতঘর পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো প্রতিবেশীদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।
এছাড়া লতাচাপলী, মহিপুর, ধুলাসার ও মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের বেশ কিছু ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে হতদরিদ্র পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে আহাজারি চলছে।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় আজ সকাল ১০টা পর্যন্ত পটুয়াখালী জেলায় ১৮৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সাগর উত্তল রয়েছে। তবে মাছধরা ট্রলারগুলো নিরাপদে রয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউসার হামিদ বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তাদের সহযোগিতার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।’
১০ দিন আগে
বরিশালে দুই বিদ্যালয়ে বজ্রপাতে শিক্ষকসহ ১৬ জন আহত
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পৃথক দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বজ্রপাতের ঘটনায় এক শিক্ষকসহ ১৬ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে ক্লাস চলাকালে উপজেলার চর এককরিয়া ইউনিয়নের দাদপুর তেমুহনী মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং আলীমাবাদ ইউনিয়নের পাতাবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
দাদপুর তেমুহনী মাধ্যমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, গতকাল (মঙ্গলবার) দুপুর সোয়া ২টার দিকে বিকট শব্দে বজ্রপাত হলে আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা ছোটাছুটি শুরু করে। এ সময় ধর্মীয় শিক্ষক মাওলানা ফারুকুল ইসলামসহ ৮ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাদের কয়েকজন জ্ঞানও হারান।
আহতরা হলেন— ধর্মীয় শিক্ষক মাওলানা ফারুকুল ইসলাম, সপ্তম শ্রেণির জান্নাত বেগম, অষ্টম শ্রেণির ফাতেমা বেগম দোলা, আমেনা বেগম, সুমাইয়া বেগম, মীম আক্তার এবং নবম শ্রেণির আফরোজ আক্তার ও সুমাইয়া আক্তার।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার মৌ বলেন, ‘দুপুরে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল। হঠাৎ বিকট শব্দে বিদ্যালয়ের ওপর বজ্রপাত হয়। স্যারসহ আমরা কয়েকজন জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।’
পরে বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষক ও স্থানীয়রা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
দাদপুর তেমুহনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘দুপুর সোয়া ২টায় ক্লাস চলাকালে হঠাৎ বজ্রপাতে এ ঘটনা ঘটে। আমরা দ্রুত আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাই।’
একই সময়ে আলীমাবাদ ইউনিয়নের পাতাবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বজ্রপাতের ঘটনায় আরও ৮ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানান বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বাহাদুর মৃধা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নিজাম উদ্দিন ফকির বলেন, ‘বজ্রপাতের বিকট শব্দে আতঙ্কিত হয়ে শিক্ষার্থীরা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ও অজ্ঞান হয়ে যায়। তাদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।’
মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আব্দুল কাদের বলেন, বজ্রপাতে আহত হয়ে দাদপুর স্কুলের ৮ জন হাসপাতালে এসেছে। তবে তাদের কারও অবস্থা গুরুতর নয়। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে তারা অনেকটা সুস্থ। তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে।
এ বিষয়ে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. মহি উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনার পর থেকেই আমি আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার নিয়মিত খোঁজখবর রাখছি। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।’
১০ দিন আগে
পদোন্নতির দাবিতে ববি শিক্ষকদের একাংশের অসহযোগ আন্দোলনের ডাক
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) পদোন্নতির দাবিতে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছে শিক্ষকদের একটি অংশ। তাদের এই আন্দোলনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশও একাত্মতা প্রকাশ করেছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, উপাচার্য আইনি বাধ্যবাধকতা উপেক্ষা করে শিক্ষকদের পদোন্নতি দিচ্ছেন না। এদিন শিক্ষকরা সব ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনসহ প্রশাসনিক কাজ থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার করেন।
শিক্ষকদের সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ধীমান কুমার রায়। তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৪ সাল থেকে অনেক শিক্ষক-কর্মকর্তা পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জন করলেও উপাচার্য আইনি বাধ্যবাধকতা উপেক্ষা করে তা ঝুলিয়ে রেখেছেন। ইউজিসির একটি চিঠির অপব্যাখ্যা দিয়ে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আইন ও স্বায়ত্তশাসনকে ক্ষুণ্ন করছেন। এর ফলে ডিগ্রি প্রদানের বৈধতা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ২৫টি বিভাগে শিক্ষক সংকট রয়েছে এবং ৫১টি অনুমোদিত পদ খালি থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা হয়েছে। এ ‘প্রশাসনিক অদক্ষতা’ ও ‘অধিকার হরণের’ প্রতিবাদে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা।
অন্যদিকে, শিক্ষকদের সংবাদ সম্মেলনের পর পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম শিক্ষকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানান। কাজে না ফিরলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা রক্ষায় যা যা করণীয়, তা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এ সময় শিক্ষকদের এই কর্মসূচিকে ‘উন্নয়নবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে শৃঙ্খলাভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন উপাচার্য।
তিনি শিক্ষকদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে, যা শিক্ষকদের এমন কর্মকাণ্ডে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সংকট নিরসনের জন্য আমি তাদের মন্ত্রণালয় বা ইউজিসিতে নিয়ে যেতে চেয়েছি, কিন্তু তারা রাজি হননি।
উপাচার্য আরও দাবি করেন, অনেক শিক্ষক চার বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই রেয়াত (বিশেষ সুবিধা) নিয়ে পদোন্নতির আবেদন করেছেন, কেউ কেউ দুই বছরেই আবেদন করেছেন।
শিক্ষকদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা যদি ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রাখেন, তবে শৃঙ্খলা রক্ষায় আমার দিক থেকে যা যা করণীয়, আইন অনুযায়ী আমি তাই করব।
এর আগে, গত ২০ এপ্রিল সন্ধ্যায় ১০২ জন শিক্ষকের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির অঙ্গীকার অনুযায়ী আজ (মঙ্গলবার) থেকে কর্মবিরতিতে নামেন শিক্ষকরা। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ২১০ জন শিক্ষক রয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০১৫ সালের বিধিমালা অনুযায়ী পদোন্নতির জন্য বোর্ড বসানো হয়েছিল। তবে ইউজিসি ২০২১ সালের অভিন্ন নীতিমালা অনুসরণ করে পদোন্নতি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সেই নীতিমালা চূড়ান্ত করে সিন্ডিকেটে পাসের পর অনুমোদনের জন্য ইউজিসিতে পাঠানো হবে এবং এরপর পদোন্নতি দেওয়া হবে।
১১ দিন আগে