খুলনা
কুষ্টিয়ায় মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ২ কিশোর নিহত
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে প্রাইভেট পড়া শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে নিজেদের মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুই কিশোর নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরও এক কিশোর গুরুতর আহত হয়েছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার দৌলতখালী গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলো— দৌলতখালী চৌহদ্দিপাড়া গ্রামের হেকমত আলীর ছেলে রহমত (১৪) এবং একই গ্রামের আমিনুল ইসলামের ছেলে সাহাবি (১৪)। আর আহত শিক্ষার্থীর নাম সাইফ আলী (১৪)। তারা তিনজনই দৌলতখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, আজ (শনিবার) সকালে মোটরসাইকেলে করে দৌলতখালী মাদরাসা মোড়ে প্রাইভেট পড়তে যায় ওই তিন কিশোর। পড়া শেষ করে কিশোরীনগর সড়ক দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলটির নিয়ন্ত্রণ হারায়। এরপর সড়কের পাশে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে মোটরসাইকেলের তিন আরোহীই গুরুতর আহত হয়।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা দ্রুত তাদের দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রহমত ও সাহাবিকে মৃত ঘোষণা করেন। সেইসঙ্গে সাইফ আলীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেন, ‘প্রাইভেট পড়া শেষে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী নিহত এবং একজন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
১ দিন আগে
মাটি কাটতে গিয়ে পরিত্যক্ত বোমায় কোদালের আঘাত, বিস্ফোরণে দুই শ্রমিক আহত
যশোরের শার্শা উপজেলায় মাটি কাটার সময় পরিত্যক্ত বোমা বিস্ফোরণে দুই শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কায়বা ইউনিয়নের বালুন্ডা দক্ষিণ পাড়ার গনি ঢালির ভিটে নামক স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— বালুন্ডা গ্রামের আব্দুল বারীকের ছেলে জাকির হোসেন (৪৮) এবং একই গ্রামের মৃত নুজ্জাকের ছেলে আব্দুল কাদের (৪৫)। তারা পেশায় মাটি কাটার শ্রমিক।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুরিশ জানায়, সকালে জাকির ও কাদের ওই ভিটায় মাটি কাটছিলেন। একপর্যায়ে মাটির আনুমানিক দেড় হাত গভীরে কোদাল দিয়ে আঘাত করলে সেখানে পুঁতে রাখা একটি বোমা বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। আহতদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জাকিরের শরীরের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। বর্তমানে তারা দুজনেই নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। খবর পেয়ে শার্শা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাটির নিচে বোমাগুলো অনেক আগে থেকেই পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। তবে এটি পরিকল্পিত কোনো নাশকতার অংশ কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেইসঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
৪ দিন আগে
খুলনায় ট্রিপল মার্ডারের মূল আসামি গ্রেপ্তার
খুলনার লবণচরা থানার আলোচিত ট্রিপল মার্ডারের অন্যতম আসামি বিসমিল্লাহ ওরফে বিসমিল্লাহ শেখকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে টুটপাড়া দারোগার বস্তি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে খুলনা থানার পুলিশ। তার বিরুদ্ধে একটি মামলায় ২ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পরোয়ানা ছিল।
বিসমিল্লাহ টুটপাড়া ২ নম্বর ক্রস রোড কবি নজরুল সড়কের বাসিন্দা।
খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন জানান, রাত সাড়ে ১১টার দিকে আমরা জানতে পারি আসামি বিসমিল্লাহ টুটপাড়া দারোগার বস্তিতে অবস্থান করছেন। এরপর সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আজ আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বিসমিল্লাহ দরবেশ মোল্লা গলির আলোচিত ট্রিপল মার্ডারের আসামি ছিলেন বলেও জানান ওসি।
ট্রিপল মার্ডারের তদন্ত কর্মকর্তা ও লবণচার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত মো. ইউসুফ আলী জানান, তিন খুনের মূল পরিকল্পনাকারী শামীম আহমেদসহ আরও কয়েকজন আসামি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে বিসমিল্লাহর নাম বলেছেন। তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হবে। এর আগে তিনি খুলনা থানায় জিজ্ঞাসাবাদে ট্রিপল মার্ডারে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। খুব শীঘ্রই এ মামলার চার্জশিট দেওয়া হবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৪ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় ট্রেন থামিয়ে পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের দশম গ্রেডে বিএসসি ডিগ্রিধারীদের চাকরিতে প্রবেশের অনুমতির প্রতিবাদে পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সব শ্রেণি পাঠ ও পরীক্ষা বর্জন করে ক্যাম্পাস থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মজমপুর গেটে গিয়ে অবস্থান নেন। এ সময় সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করলে খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি থামিয়ে নানা স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, কারিগরি শিক্ষায় ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করার পর দীর্ঘ সময় ও বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা যে যোগ্যতা অর্জন করেছেন, তা উপেক্ষা করে সাধারণ বিএসসি ডিগ্রিধারীদের দশম গ্রেডে চাকরির সুযোগ দেওয়া সম্পূর্ণ বৈষম্যমূলক। এতে করে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের কর্মক্ষেত্র সংকুচিত হবে এবং কারিগরি শিক্ষার মর্যাদা ক্ষুণ্ন হবে।
তারা জানান, আগে কারিগরি খাতে দশম গ্রেডের পদগুলো ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জন্য নির্ধারিত ছিল। হঠাৎ করে নীতিমালা পরিবর্তনের মাধ্যমে বিএসসি ডিগ্রিধারীদের একই গ্রেডে নিয়োগের অনুমতি দেওয়া হলে ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীরা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়বেন। এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল না করা হলে আন্দোলন আরও কঠোর করার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালে প্রায় ৩০ মিনিট খুলনার সঙ্গে সারা দেশের ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। এতে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচিতে সড়কপথের দুপাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে কর্মসূচি প্রত্যাহার হলে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
৪ দিন আগে
মাগুরায় সৎ ছেলের হাতুড়ির আঘাতে নারী নিহত
মাগুরায় পারিবারিক বিরোধের জেরে সৎ ছেলের হাতুড়ির আঘাতে গুরুতর আহত আমেনা বেগম (৫০) নামের এক নারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
গত ২৭ জানুয়ারি সকালে সদর উপজেলার কুচিয়ামোড়া ইউনিয়নের আমুড়িয়া চরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তারপর থেকেই চিকিৎসাধীন ছিলেন ওই নারী। তবে রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
নিহত আমেনা বেগম ওই গ্রামের কামরুজ্জামানের স্ত্রী ছিলেন। কামরুজ্জামান স্থানীয় ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনার দিন সকালে পারিবারিক তুচ্ছ বিষয় নিয়ে আমেনা বেগমের সঙ্গে তার সৎ ছেলে খালিদের (১৮) কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে খালিদ তার হাতে থাকা একটি হাতুড়ি দিয়ে আমেনা বেগমের মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মাগুরা হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা নড়ে অবশেষে তিনি গতকাল (রবিবার) মারা যান।
মাগুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় মাগুরা থানায় মামলা হয়েছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কারও গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি।
৫ দিন আগে
যশোরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে ১০ গ্রেনেডসহ অস্ত্র উদ্ধার
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার মুহূর্তে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ১০টি শক্তিশালী গ্রেনেড ও ৩টি বিদেশি পিস্তল।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, নির্বাচনকে সামনে রেখে বড় ধরনের নাশকতার উদ্দেশ্যেই এসব অস্ত্র মজুত করা হয়েছিল।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা-এনএসআইয়ের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযান পরিচালনা করা হয় উপজেলার দলগ্রাম ইউনিয়নের দড়িআগ্রা গ্রামে চুন্নু মোল্লার বাড়িতে।
সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন আকিবের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ওই বাড়ির ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় ১০টি গ্রেনেড, ৩টি বিদেশি পিস্তল, ১৯ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ১টি চাপাতি, ১টি ছুরি ও ১টি খুর।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, অভিযান শুরু হওয়ার আগেই বাড়ির সদস্যরা পালিয়ে যায়। অভিযানে মূল সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে চুন্নু মোল্লার ছেলে রায়হান মোল্লাকে (২৮)। তিনি ওই গ্রামের বাসিন্দা এবং তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
যৌথ বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার অস্ত্র ও বিস্ফোরকগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং এগুলো দিয়ে বড় ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটানো সম্ভব ছিল। বিশেষ করে সামনে জাতীয় নির্বাচন থাকায় এসব অস্ত্র জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারত।
বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত রায়হান মোল্লাকে আটকে অভিযান চলছে।
৭ দিন আগে
ঝিনাইদহে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র ও মাদকসহ নারী গ্রেপ্তার
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে চরমপন্থি নেতা হানেফ বাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হোসেন আলীর বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে ঝিনাইদহ র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৬। এ সময় মাদক ও বিপুল সংখ্যক দেশীয় অস্ত্রসহ তাছলিমা আক্তার (৩৫) নামে এক নারী গ্রেপ্তার হয়েছেন।
ঝিনাইদহ র্যাবের একটি দল বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ভোরে ওই পৌরসভার চটকাবাড়িয়া গ্রামে হোসেন আলীর বাড়িতে অভিযান চালায়। এসময় তিনি বাড়ি না থাকলেও আটক করা হয় তার প্রথম স্ত্রী তাছলিমা আক্তারকে।
হরিণাকুণ্ডু থানার ওসি (তদন্ত) অসিত কুমার রায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ সময় দুই কেজি গাঁজা ও ৮টি রাম দা ও বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র জব্দ করে র্যাব-৬।
স্থানীয়রা জানান, হোসেন আলী চরমপন্থি সংগঠন পূর্ববাংলা কমিউনিষ্ট পার্টির সঙ্গে সম্পৃক্ত। সন্ত্রাসী হানেফ আলী নিহত হওয়ার পর তার বাহিনীর হাল ধরেন হোসেন আলী। তার কাছে হানেফ আলীর বেআইনি অস্ত্র ভান্ডার রক্ষিত আছে। এই অস্ত্র দিয়ে তিনি এখনও অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, হোসেন আলী ‘দেশি’ নামে ভুয়া ও জাল ব্যান্ডরোলের একটি সিগারেট হরিণাকুণ্ডু এলাকায় বিক্রি করেন। তার সঙ্গে রয়েছে দিগনগর গ্রামের জিয়া ও পিটার। অবৈধভাবে নিম্নমানের দেশি সিগারটে বিক্রি করে হোসেন আলী লাখ লাখ টাকা কামালেও হরিণাকুণ্ডুর পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন সম্পূর্ণ নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে জানান স্থানীয়রা।
র্যাব-৬ এর কোম্পানি কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হোসেন আলীর বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।
র্যাবের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হোসেন আলী পলাতক রয়েছেন। তিনি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। এ ঘটনায় স্থানীয় থানায় মামলা করা হয়েছে।
হরিণাকুণ্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অসিত কুমার রায় বলেন, র্যাব-৬ এর পক্ষ থেকে হরিণাকুণ্ডু থানায় একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গ্রেপ্তার নারীকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
৯ দিন আগে
ঝিনাইদহে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ২০ জন আহত
ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে দুপক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) উপজেলার সাধুখালী গ্রামে সকালে এ সংঘর্ষ বাঁধে।
আহতদের মধ্যে সাধুখালী গ্রামের মো. আইয়ুব হোসেন (৬০), মোলায়েম হোসেন (৫৫), মো. নুরুল হোসেন (৪৫), নূর আলী বাদশা (৪৭), মতিয়ার রহমান (৪৮), নূর আলী (৪৫), আতিয়ার রহমান (৪৬), ইজারত মন্ডল (৬০), মদিনা খাতুন (৫৫), আহাদ আলী (১৩) ও শফি উদ্দিনের (৬০) নাম পাওয়া গেছে।
পুলিশ জানায়, সাধুখালী গ্রামের শহিদুল মাস্টারের সঙ্গে একই গ্রামের নূর আলী ও বাদশা মিয়ার জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধের জেরে আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে ওই জমির দখল নিয়ে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ।
তর্কাতর্কির একপর্যায়ে উভয়পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে লিপ্ত হন। এতে দুই পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে ১১ জনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল ও শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
শৈলকূপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্ল্যা বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ওই এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখনও থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৯ দিন আগে
বাগেরহাট কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন ২৩ ভারতীয় জেলে
বাগেরহাট জেলা কারাগারে বন্দি থাকা ভারতীয় ২৩ জন জেলে মুক্তি পেয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে আদালতের নির্দেশে কারা কর্তৃপক্ষ কোস্টগার্ডের কাছে তাদের হস্তান্তর করেন। এ সময় ভারতীয় দুতাবাসের কর্মকর্তা, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, পুলিশ এবং জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত ছিলেন। পরে কোস্টগার্ড সদস্যরা নিরপত্তা দিয়ে ভারতীয় ওইসব জেলেদের মোংলায় নিয়ে যান।
আগামী পরশু (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমার মধ্যবর্তী স্থানে ভারতীয় কোস্টগার্ড সদস্যদের কাছে তাদের হস্তান্তর করা হবে বলে জানায় কারা কর্তৃপক্ষ।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, বাংলাদেশ জলসীমায় অনুপ্রবেশ করে মাছ ধরার অপরাধে নৌবাহিনীর সদস্যরা গত অক্টোবর মাসে দুই দফায় ওই ২৩ জন জেলেকে আটক করেন। এর মধ্যে একটি ট্রলারসহ ১৪ জনকে এবং অপর একটি ট্রলারসহ ৯ জনকে আটক করা হয়েছিল। পরে বাগেরহাটের মোংলা থানায় হস্তান্তর করে তাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বাংলাদেশ জলসীমায় প্রবেশ এবং মাছ ধরার অপরাধে সমুদ্র মৎস্য আইনে মামলা করা হয়।
পরে পুলিশ তাদের বাগেরহাট জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠালে বিচারক জেলা কারাগারে পাঠান।
বাগেরহাট জেলা কারাগারের সুপার মো. মোস্তফা কামাল জানান, বাংলাদেশ জলসীমা থেকে আটক ভারতীয় ১৪ জেলে ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর এবং ৯ জেলে ২৪ অক্টোবর আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে আসেন। চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি বাগেরহাটের আদালত থেকে ভারতীয় ওই ২৩ জেলেকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর ২৫ জানুয়ারি স্বারাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের আদেশ আসে। আদেশ মোতাবেক তাদের কারগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানান মোস্তফা কামাল।
কোস্টগার্ড মোংলা পশ্চিম জোনের লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সেলিম বিশ্বাস জানান, বাগেরহাট জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ আজ (মঙ্গলবার) ভারতীয় ২৩ জেলেকে তাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। আগামীকাল (বুধবার) সকালে মোংলা থেকে কোস্টগার্ড সদস্যরা ওই জেলেদের নিয়ে সমুদ্র পথে রওনা হবেন। এরপর বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমার মধ্যবর্তী স্থানে ভারতীয় কোস্টগার্ডের কাছে তাদের হস্তান্তর করা হবে।
প্রসঙ্গত, গত ৭ ডিসেম্বর বাগেরহাট জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে আরও ৪৭ জন ভারতীয় জেলে দেশে ফিরে গেছেন।
১১ দিন আগে
যশোরে নেশার টাকা না পেয়ে বাবা-মাকে কুপিয়ে পালিয়েছে ছেলে
নেশার টাকা না পেয়ে নিজের বাবা-মাকে বটি দিয়ে কুপিয়ে এবং লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে এক যুবক। এরপর থেকে পলাতক রয়েছেন তিনি।
রবিবার (২৬ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ৩টার দিকে সাতমাইল হৈবতপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— ওই গ্রামের আছির উদ্দিন (৭০) ও তার স্ত্রী রোকেয়া (৬০)। আহত দম্পতি বর্তমানে যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও আহতদের কাছ থেকে জানা যায়, গতকাল (রবিবার) গভীর রাতে আছির উদ্দিনের ছোট ছেলে সাদ্দাম তার বাবা-মায়ের কাছে নেশার জন্য টাকা দাবি করেন। তবে তারা টাকা দিতে অস্বীকার করায় ক্ষিপ্ত হয়ে সাদ্দাম প্রথমে তার বাবা-মাকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন। পরে বটি দিয়ে দুজনেরই বাঁ হাতে আঘাত করেন। এতে তারা আহত ও রক্তাক্ত হন। আহতদের আর্তচিৎকারে প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এলে সাদ্দাম পালিয়ে যান। এরপর প্রতিবেশীরা আহত আছির উদ্দিন ও তার স্ত্রীকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. বিচিত্র মল্লিক জানান, আহতদের মাথা ও শরীরের একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া উভয়ের হাতে ধারালো অস্ত্রের ক্ষতচিহ্ন রয়েছে।
এ ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে সাদ্দামকে আটক করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
হাসপাতালে কর্তব্যরত যশোর কোতয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, আহতদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইতোমধ্যে পলাতক সাদ্দামকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
১৩ দিন আগে