খুলনা
সুন্দরবনে দস্যুদের সঙ্গে বনকর্মীদের গোলাগুলি, অপহৃত ৪ জেলে উদ্ধার
সুন্দরবনে বনদস্যুদের সঙ্গে বনকর্মীদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। গোলাগুলির পরে ওই স্থান থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অপহরণের শিকার হওয়া ৪ জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) সকালে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের কোকিলমনি এলাকার সিঙারটেকে এই ঘটনা ঘটে।
গোলাগুলির পরে ওই স্থান থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অপহৃত ৪ জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় বনদস্যুদের ব্যবহৃত একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা, একটি বন্ধুক ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছেন বনরক্ষীরা।
উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন— শরণখোলা উপজেলার সোনাতলা গ্রামের আবদুল বারেক খান ও মো. হাসান এবং খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার নাছিম ও দাকোপ উপজেলার ইরাক শেখ।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, সিঙারটেক এলাকায় শেলারচর টহল ফাঁড়ি এবং স্মার্টটিমের যৌথ টহল চলাকালীন ডাকাতের উপস্থিতি টের পেয়ে সেদিকে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ডাকাতরা গুলি ছুড়লে বনকর্মীরা পাল্টা গুলি চালান। তাদের দিক থেকে ৭ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। ডাকাতরা পরবর্তীতে তাদের ট্রলার এবং ৪ জন জিম্মিকে রেখে পালিয়ে যান।
তিনি আরও জানান, এ সময় সেখান থেকে জেলেদের ব্যবহৃত একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা, জিম্মি থাকা ৪ জেলে, একটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত জেলেরা শেলারচর টহল ফাঁড়ির হেফাজতে আছেন। তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। বনরক্ষীদের গুলি করা দস্যুরা শরীফ বাহিনীর সদস্য বলে জানা গেছে বলে জানান তিনি।
২৪ মিনিট আগে
ফুফুর টাকা হাতিয়ে নিতে ভাতিজার ‘ছিনতাই নাটক’
নিজের আপন ফুফুর টাকা হাতিয়ে নিতে এক অভিনব ও লোমহর্ষক ‘ছিনতাই নাটক’ সাজিয়েছিলেন ভাতিজা লিটন শেখ। তবে সিসিটিভি ফুটেজ আর প্রযুক্তির দক্ষতায় পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন সেই ভাতিজাসহ ছিনতাই চক্রের তিন সদস্য। উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাই হওয়া পুরো ৬ লাখ টাকা। এই কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়েছে।
সোমবার (১১ মে) এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, গতকাল (সোমবার) দুপুরে মহেশপুর উপজেলার পান্তাপাড়া গ্রামের সেলিনা বেগম চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের জনতা ব্যাংক থেকে ৬ লাখ টাকা উত্তোলন করে আপন ভাতিজা লিটন শেখের মোটরসাইকেলে চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে দত্তনগর ফার্ম-সংলগ্ন মথুরা বীজ উৎপাদন খামারের সামনে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ছিনতাইকারীরা চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে টাকার ব্যাগটি হ্যাঁচকা টান দিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে সেলিনা বেগম আহত হন।
ওসির ভাষ্যমতে, ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী নারী অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মহেশপুর থানায় মামলা করেন। পুলিশ তদন্তে নেমে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি শনাক্ত করে। এর সূত্র ধরেই একে একে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।
পুলিশ সোমবার উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করে। আটকরা হলেন— ভুক্তভোগী সেলিনা বেগমের আপন ভাতিজা এবং ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী লিটন শেখ (৪০), জলিলপুর গ্রামের আমিনুর রহমান খান (২৪) ও একই গ্রামের মোস্তফা জামান ওরফে বরকত বিশ্বাস (৪৭)। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত শাওন বদ্দি (২৩) নামে আরও এক যুবক বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
ওসি মেহেদি হাসান আরও জানান, সেলিনা বেগমের ভাতিজা লিটন শেখই ছিলেন এই সাজানো ছিনতাইয়ের ‘মাস্টারমাইন্ড’। তিনি শাওন বদ্দির সঙ্গে মিলে এই পরিকল্পনাটি করেছিলেন। পুলিশের তৎপরতায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে এবং পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
১ দিন আগে
শার্শায় ৪২ বছরেও ভবন পায়নি পাঁচভুলাট মাদরাসা: বৃষ্টি এলেই বাজে ছুটির ঘণ্টা
যশোরের সীমান্তবর্তী শার্শা উপজেলার গোগা ইউনিয়নের পাঁচভুলাট গ্রামে অবস্থিত ‘পাঁচভুলাট দাখিল মাদরাসা’। খুলনা বিভাগে দাখিল পরীক্ষায় ফলাফলের দিক থেকে ঈর্ষণীয় সাফল্য ধরে রাখলেও দীর্ঘ ৪২ বছরেও মাদরাসাটির ভাগ্যে জোটেনি কোনো সরকারি ভবন। অবকাঠামোগত চরম সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।
জরাজীর্ণ টিনশেডেই ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান
সরেজমিনে দেখা গেছে, মাদরাসার টিনশেড ঘর দুটির জরাজীর্ণ দশা। টিনের চালে শত শত ছিদ্র, নেই দরজা-জানালাও।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃষ্টি হলেই টিনের চাল দিয়ে পানি পড়ে শ্রেণিকক্ষ সয়লাব হয়ে যায়। ফলে বৃষ্টি নামলেই শিক্ষার্থীদের বই-খাতা ও পোশাক ভিজে যাওয়ার ভয়ে দপ্তরি ছুটির ঘণ্টা বাজিয়ে দিতে বাধ্য হন।
অন্যদিকে, গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমে টিনশেড ঘরে অবস্থান করা অসম্ভব হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীদের ভোরেই ক্লাস নিতে হয়। এভাবেই দীর্ঘ বছর ধরে ঝুঁকি ও কষ্ট সহ্য করে লেখাপড়া করছে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী।
সাফল্যে শীর্ষে, সুযোগ-সুবিধায় শূন্য
১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মাদরাসাটি তিন যুগ আগে এমপিওভুক্ত হয়। মাদরাসাটিতে ২৬ জন শিক্ষক-কর্মচারী থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৯ জন। ইতোমধ্যে এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের আবেদন করা হয়েছে।
শ্রেণিকক্ষ সংকটের পাশাপাশি শিক্ষকদের বসার জায়গাটুকুও নেই। এলাকাবাসীর চাঁদায় নির্মিত একটি ছোট্ট হলুদ ঘরে শুধু জরুরি নথিপত্র রাখা হয়। অধিকাংশ শিক্ষক বারান্দায় বিছানা পেতে বসেন।
বর্তমানে এবতেদায়ী থেকে দাখিল পর্যন্ত এখানে মোট ৫৯২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে এবতেদায়ীতে ১৬২ জন এবং দাখিলে ৩৫০ জন।
প্রতি বছর এই মাদরাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করে। এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছেন এবং অনেকেই কর্মজীবনে সফলতার পরিচয় দিচ্ছেন। অথচ এই সাফল্যও প্রতিষ্ঠানটির ভাগ্যে একটি পাকা ভবন এনে দিতে পারেনি।
শিক্ষার্থীদের আকুতি
অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসলিমা খাতুন জানায়, গরমের সময় মাদরাসার পুরাতন টিনশেডে ক্লাস করা যায় না। আমাদের অনেক বান্ধবী গরমে জ্ঞান হারিয়ে ফেলার মতো ঘটনা অনেকবার ঘটেছে।
আলিম ও দাখিলের শিক্ষার্থী জাহাঙ্গীর হোসেন ও হাসনাইন বলেন, ঘরগুলোর দরজা-জানালা নেই। টিনের চাল ফুটো হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টি হলে পানি পড়ে। কখন ঘরগুলো বাতাসে ভেঙে পড়ে, তা নিয়ে আতঙ্কে থাকতে হয়। এমন কষ্ট নিয়ে বছরের পর বছর পড়াশোনা করছি আমরা।
দুর্ভোগের কথা জানিয়ে সপ্তম ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী হোসনে আরা ও ফাতেমা আক্তার আক্ষেপ করে বলে, শ্রেণিকক্ষের একেবারে বেহাল অবস্থা। টিনের চালগুলো জরাজীর্ণ। ঘরের বেড়া নেই। বৃষ্টি হলে বই-খাতা ভিজে যায়; তখন শ্রেণিকক্ষে থাকা যায় না। আমাদের পড়ালেখায় সমস্যা হয়। তবু আশপাশে বড় মাদরাসা না থাকায় এখানে পড়াশোনা করতে হচ্ছে।
মাদরাসায় একটি পাকা ভবনের জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে অনুরোধ জানায় শিক্ষার্থীরা।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য
মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট আইয়ুব আলী বলেন, আমাদের কোনো ভবন নেই, শিক্ষকদের বসার জায়গা নেই। একটি ছোট রুমে ১৯ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে কষ্ট করে বসতে হয়। অনেক শিক্ষক বারান্দায় বিছানা পেতে বসেন।
তিনি বলেন, বর্ষাকালে প্রবল আতঙ্কে থাকতে হয়। আকাশে মেঘ দেখলেই ঝড়বৃষ্টির ভয়ে মাদরাসা ছুটি দিতে হয় বাধ্য হয়ে। অভিভাবকরা এখন আর সন্তানদের এই অবস্থায় এখানে পাঠাতে চান না। নতুন ভবনের জন্য মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে বারবার আবেদন করেও কোনো ফল পাননি বলে অভিযোগ করেন এই শিক্ষক।
এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার নূরুজ্জামান বলেন, উপজেলার প্রতিটি মাদরাসায় পর্যায়ক্রমে পাকা ভবন হবে। বর্তমানে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে জানতে চাওয়া হয়েছে। মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে নতুন ভবন নির্মাণের কোন ঘোষণা আসেনি। ওই মাদরাসা ভবনের জন্য আবেদন করা থাকলে নতুন পাকা একটি ভবন সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে পাস হবে। তখন ভবন নির্মাণ করে দেওয়া হবে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদও পরিস্থিতির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মাদরাসাটির টিনশেড ঘরটি বর্তমানে ব্যবহার অনুপযোগী। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি।
১ দিন আগে
নাভারন-সাতক্ষীরা মহাসড়কে কাভার্ড ভ্যানচাপায় ২ মোটরসাইকেল-আরোহী নিহত
যশোরের নাভারন-সাতক্ষীরা মহাসড়কের গিলাপোল এলাকায় কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় শাহিন হোসেন (৩৪) ও তুজাম্মেল হোসেন (৪৫) নামে ২ মোটরসাইকেল-আরোহী নিহত হয়েছেন।
সোমবার (১১ মে) সকাল পৌনে ৭টার দিকে গিলাপোলের কবির ব্রিক্সের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শাহিন হোসেন শার্শার উলাশী খালপাড় এলাকার সিদ্দিক হোসেনের ছেলে। তুজাম্মেল হোসেন একই গ্রামের আতিয়ার রহমানের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শাহিন ও তুজাম্মেল মোটরসাইকেলে চড়ে পার্শ্ববর্তী নাভারন বাজারে কাঁচা মরিচ নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে গিলাপোল এলাকার কবির ব্রিক্সের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি কাভার্ড ভ্যান তাদের মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই শাহিন হোসেন নিহত হন।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তুজাম্মেল হোসেনকে উদ্ধার করেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তারও মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে নাভারন হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোপাল কর্মকার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। দুর্ঘটনায় জড়িত কাভার্ড ভ্যানটি পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভ্যানের চালক ও হেলপারকে আটকের জন্য পুলিশি অভিযান চলছে বলে জানান তিনি।
২ দিন আগে
যশোরে ট্রেনের ধাক্কায় ট্রাকচালকের মৃত্যু
যশোরের অভয়নগরে ট্রেনের ধাক্কায় কয়লাবাহী একটি ট্রাক দুমড়ে-মুচড়ে গিয়ে ট্রাকচালক মনোয়ার হোসেন (৩৪) নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় ট্রাকের সহকারী (হেলপার) গুরুতর আহত হয়েছেন।
রবিবার (১০ মে) দুপুরে উপজেলার ভাঙ্গাগেট মশরহাটী গ্রামে আকিজ রিসোর্সের কয়লার ডিপোর সামনে যশোর-খুলনা রেললাইনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ট্রাকচালক মনোয়ার হোসেন ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার রায়গ্রাম ইউনিয়নের আড়পাড়া গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। আহত হেলপার রায়হান (২৮) একই ইউনিয়নের হাজিপুর মুন্দিয়া গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে।
অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আহত হেলপার রায়হান বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আমরা ট্রাক নিয়ে আকিজ রিসোর্সের কয়লার ডিপোর সামনে পৌঁছাই। রেললাইন পার হওয়ার সময় যশোরগামী ট্রেনের ধাক্কায় ট্রাকটি উল্টে যায়। এরপর আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রেনের ধাক্কায় ট্রাকের ভেতর থেকে চালক ছিটকে রেললাইনে আছড়ে পড়েন। ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। পরে ট্রাকের ভেতর থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় হেলপারকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ দুর্ঘটনার পর প্রায় এক ঘণ্টা রেল চলাচল বন্ধ ছিল।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ওই রেলক্রসিংটি দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। সেখানে কোনো গেটম্যান বা সংকেত ব্যবস্থা না থাকায় চালক ট্রেনের উপস্থিতি বুঝতে পারেননি।
তারা আরও জানান, আকিজ রিসোর্সের কয়লার ডিপো থেকে কয়লা লোড করতে হলে যশোর-খুলনা রেললাইন পার হতে হয়। কিন্তু সেই ক্রসিংয়ের স্থানটি অরক্ষিত, যে কারণে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
নওয়াপাড়া রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার ইয়াসির আরাফাত বলেন, দুর্ঘটনার পর এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে রেল চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ওই রুটে কিছু সময় ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
২ দিন আগে
যশোরে উচ্ছেদ অভিযানে ভাঙা পড়ল আ.লীগ কার্যালয়সহ শতাধিক স্থাপনা
যশোরে সরকারি খাস জমি উদ্ধার ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরু করেছে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ। অভিযান আওয়ামী লীগের দুটি আঞ্চলিক কার্যালয়সহ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (১০ মে) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালিত হয়। একইভাবে আগামীকাল (সোমবার) দ্বিতীয় দফায় এ অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উচ্ছেদকারী দল আজ (রবিবার) সকালে প্রথমে শহরের বাবলাতলা এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে। সেখানে সরকারি খাস জমির ওপর নির্মিত একটি বাড়ি ভেঙে ফেলা হয়। পরে দলটি গাবতলা মোড়ে গিয়ে রাস্তার পাশের একাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে। এরপর তারা শহরের উপশহর নিউমার্কেটের বি-ব্লক বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। সেখানে রাস্তার পাশে অবস্থিত আওয়ামী লীগের একটি আঞ্চলিক কার্যালয় ভেঙে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সি-ব্লক এলাকায় গিয়ে সরকারি জমিতে নির্মিত দুটি বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
অভিযানের একপর্যায়ে উপশহর পার্কের সামনে অবস্থিত আওয়ামী লীগের আরও একটি আঞ্চলিক কার্যালয় এবং পাশের একটি মুদি দোকান উচ্ছেদ করা হয়। পরে পার্ক-সংলগ্ন আমতলা বস্তিতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা প্রায় অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বস্তির ভেতরে স্থাপিত দুটি ভিক্সল কারখানাও ভেঙে ফেলা হয়।
অভিযান চলাকালে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল।
এ সময় স্থানীয়দের অনেকেই অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালীরা সরকারি জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করে আসছিলেন। তবে বর্তমানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি জমি উদ্ধারে এ অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের খুলনা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউর রহমান। তিনি জানান, প্রতিনিয়ত মাইকিং করেও অবৈধ দখলদারদের সরানো সম্ভব হয়নি। এর আগে তাদের নিজ উদ্যোগে সরে যেতে বললেও নানা ধরনের তালবাহানা করেন তারা। শেষ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ‘দুই দিনব্যাপী এ অভিযানে প্রায় ৫ একর সরকারি খাস জমি উদ্ধার করা হবে। উদ্ধার হওয়া জমির বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ৫০ কোটি টাকা।’
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ যশোরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইমাদুল ইসলাম তুহিন, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আশিক আহম্মেদ সাকিব ও উপসহকারী প্রকৌশলী রাসেল মিয়া।
জিয়াউর রহমান আরও বলেন, ‘সরকারি সম্পত্তি দখলমুক্ত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। কোনো প্রভাবশালী মহলকে ছাড় দেওয়া হবে না।’
এদিকে, অভিযানের সময় অনেকেই অভিযোগ করেন, তাদের কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই উচ্ছেদ করা হয়েছে। কয়েকজন অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের আমলে গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের কিছু কর্মকর্তা টাকা নিয়ে তাদের সেখানে বসবাসের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। এখন হঠাৎ করে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করায় শতাধিক পরিবার মানবেতর অবস্থায় পড়েছে।
২ দিন আগে
শার্শায় প্রেম-বিয়ের পর যুবক নিখোঁজ: এক মাস পর মিলল মরদেহ
যশোরের শার্শা উপজেলার বসতপুর গ্রামে প্রেমের সূত্র ধরে বিয়ের পর ইকরামুল কবির (২৬) নামে এক যুবক নিখোঁজ ছিল। তবে এক মাস পর মরদেহ উদ্ধার করে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।
শনিবার (৯ মে) সন্ধ্যায় অভিযুক্তদের বাড়ির গোয়ালঘরের মেঝে খুঁড়ে তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক দম্পতিকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত ইকরামুল কবির উপজেলার পুটখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ বারোপোতা গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বসতপুর পূর্বপাড়া এলাকার আল ফুয়াদের স্ত্রী মুন্নী আক্তারের (২২) সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ইকরামুল কবিরের প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। গত ৮ এপ্রিল ইকরামুল মুন্নীর কাছে পাওনা টাকা আনতে গিয়ে নিখোঁজ হন। এরপর থেকেই তার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।
এ নিয়ে গত মঙ্গলবার যশোরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শার্শা আমলি আদালতে মামলা করেন ইকরামুলের বাবা আব্দুর রশিদ। মামলায় ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়।
এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, তার একমাত্র ছেলে ইকরামুল কবিরকে দীর্ঘদিন ধরে মুন্নী প্রেমের প্রস্তাব ও বিভিন্ন প্রলোভন দিয়ে আসছিলেন। ইকরামুলকে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর চেষ্টা করেন তিনি। এতে রাজি না হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে তাকে ফাঁদে ফেলে জোরপূর্বক কাজী অফিসে নিয়ে বিয়ে করেন। মুন্নী অতীতেও একাধিক যুবককে একইভাবে বিয়ে করে তাদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে পরে ডিভোর্স দেন। বিয়ের এক মাসের মধ্যেই ইকরামুলের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে ১০ লাখ ৭০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। একইসঙ্গে ইকরামুল ও তার পরিবারের কাছে দুই বিঘা জমি লিখে দেওয়ার জন্য চাপ ও হুমকি দেওয়া হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ৮ এপ্রিল ইকরামুল নিজ গ্রাম থেকে বড় বোনের বাড়ি শার্শা থানার সেতাই গ্রামে বেড়াতে যান। রাত ১টার দিকে মুন্নী তাকে ডেকে নিয়ে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। একইসঙ্গে হুমকি দেওয়া হয়, টাকা না দিলে ইকরামুলকে জীবিত পাওয়া যাবে না। এরপর থেকেই ইকরামুলের ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায় বলে অভিযোগ করা হয়।
বাদী অভিযোগ করেন, ছেলের খোঁজ জানতে চাইলে মুন্নী বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিতে থাকেন। একপর্যায়ে ইকরামুলকে জীবিত ফেরত পেতে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন।
দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকায় বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ দানা বাঁধলে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে মুন্নীর স্বামী আল ফুয়াদকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার সন্ধ্যায় বসতপুর গ্রামের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে গোয়ালঘরের মেঝে খুঁড়ে ইকরামুলের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত আল ফুয়াদ ও তার স্ত্রী মুন্নীকে আটক করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের সূত্র ধরে মুন্নীকে টাকা ধার দেন ইকরামুল। ওই টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে তাকে শ্বাসরোধে কিংবা অন্য কোনো উপায়ে হত্যা করে মরদেহ গুম করে দেওয়া হয়েছিল। গোয়ালঘরের মেঝে খুঁড়ে সেই মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এদিকে, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর শত শত লোক অভিযুক্তদের বাড়ির সামনে ভিড় জমান। দীর্ঘ এক মাস পর মাটি খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় লোকজন এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩ দিন আগে
মাদক কারবারিকে ছাড়াতে গিয়ে কুষ্টিয়ায় বিএনপি-জামায়াতের ৫ নেতাকর্মী আটক
কুষ্টিয়ার মিরপুর থানায় মাদকসহ আটক হওয়া এক আসামিকে ছাড়ানোর জন্য তদবির করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন বিএনপি ও জামায়াতের পাঁচ নেতাকর্মী।
শনিবার (৯ মে) রাতে ৮ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হওয়া এক মাদক কারবারিকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার তদবির করতে গেলে পুলিশ সদরপুর ইউনিয়নের এক বিএনপি নেতা ও জামায়াতের চার নেতাকর্মীকে আটক করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৯ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মিরপুর থানার আমলা ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) রকিবুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল সদরপুর ইউনিয়নের টেকনিক্যাল কলেজ সড়ক এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে নওদা আজমপুর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে রবিউলকে ৮টি ইয়াবাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাকে মিরপুর থানায় নিয়ে গিয়ে মাদক আইনে মামলা দেওয়া হয়।
মাদকসহ রবিউল গ্রেপ্তার হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত ১০টার দিকে তাকে ছাড়িয়ে নিতে স্থানীয় জামায়াত-বিএনপির পাঁচ নেতাকর্মী মিরপুর থানায় উপস্থিত হন। তারা হলেন— সদরপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও বিএনপি নেতা এনামুল হক এবং স্থানীয় জামায়াতের কর্মী সুজন আলী, আলাউদ্দিন, শফিকুল ইসলাম ও সাইফুল ইসলাম।
থানা পুলিশ জানায়, আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তারা দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের ওপর দফায় দফায় চাপ সৃষ্টি করেন। পুলিশ বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা মাদক ব্যবসায়ীকে মুক্ত করার দাবিতে অনড় থাকেন। একপর্যায়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তদবির করতে আসা ওই ৫ জনকেই আটক করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সারা দেশে মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চলছে। মাদকসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা অনৈতিকভাবে তদবির করছিলেন। এতে প্রতীয়মান হয় যে, তারা হয় এই মাদক ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি জড়িত, অথবা তারা মাদক ব্যবসায়ীদের উৎসাহ প্রদান করেন। এ কারণেই তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রবিবার (১০ মে) সকাল ১০ টা পর্যন্ত আটককৃত ৫ নেতাকর্মী ও মাদক কারবারি রবিউল মিরপুর থানা পুলিশি হেফাজতে ছিল।
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের এমন কঠোর অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
৩ দিন আগে
যশোরে এসএসসি পরীক্ষায় মেয়েকে সহযোগিতা: প্রধান শিক্ষকসহ কারাগারে ২
যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া সম্মিলিত গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষার্থী নিজ মেয়েকে অনৈতিকভাবে সহযোগিতা করার অভিযোগে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও এক কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (৯ মে) সকালে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে তাদের আটক করা হয় এবং রাতেই তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন— ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক শাহানারা খাতুন এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ফাতেমা খাতুন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শাহানারা খাতুনের মেয়ে ঝিকরগাছা উপজেলার কুলবাড়িয়া বিকেএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী হিসেবে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। সে বাগআঁচড়া সম্মিলিত গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের ৩০১ নম্বর কক্ষে পরীক্ষা দিচ্ছিল।
অভিযোগ উঠেছে, গত ২৮ এপ্রিল ইংরেজি দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর প্রধান শিক্ষক শাহানারা খাতুন ক্ষমতার অপব্যবহার করে গোপনে তার মেয়ের উত্তরপত্রটি সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ফাতেমা খাতুনের সহায়তায় উত্তরপত্রের ভুলগুলো সংশোধন করে পুনরায় তা জমা দেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ এবং উপজেলা অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার এ কে এম নুরুজ্জামান সরেজমিনে তদন্ত পরিচালনা করেন। প্রাথমিক তদন্তে জালিয়াতির প্রমাণ মেলায় তাদের দুইজনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।
একেএম নুরুজ্জামান জানান, তদন্তে অনৈতিক সহযোগিতার সত্যতা পাওয়ায় উপজেলা শিক্ষা অফিসের পক্ষ থেকে আমি বাদী হয়ে মামলা করেছি। পরীক্ষাকেন্দ্রের পবিত্রতা রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না।
ওসি মারুফ হোসেন জানান, গতকাল (শুক্রবার) রাতেই ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইনের ৮, ৯, ১২ ও ১৩ ধারায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের আজ (শনিবার) সকালে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরীক্ষা কেন্দ্রের মতো একটি সংবেদনশীল জায়গায় প্রধান শিক্ষকের এমন কর্মকাণ্ডে শিক্ষার মান ও নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
৩ দিন আগে
নড়াইলে শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে মক্তবের ইমাম গ্রেপ্তার
নড়াইলে মক্তবপড়ুয়া এক শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে নড়াইল সদর থানা পুলিশ।
শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে উপজেলার চাকই বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে স্থানীয় জনতা তাকে ধরে গণপিটুনি দেয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে জামিল (৫৭)। উপজেলার রুখালী গ্রামের এই বাসিন্দা চাকই পশ্চিম পাড়া বায়তুস সালাম জামে মসজিদের ইমামতি করেন।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুণ্ডু জানান, ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। মামলার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নামাজ শেষে রাতে মসজিদেই থাকেন আমিনুল ইসলাম। প্রতিদিন ভোরে ফজরের নামাজের পরে তিনি এলাকার ছেলেমেয়েদের মসজিদের বারান্দায় মক্তবে আরবি পড়ান। ভুক্তভোগী শিশুটিসহ স্থানীয় আরও দুই মেয়ে শিশু প্রতিদিন সকালে মক্তবে তার কাছে আরবি পড়তে যায়। পড়ানোর মাঝে কোনো এক সময় তাদের যৌন নিপীড়ন করেন আমিনুল।
গত ৫ জুন আমিনুল ভুক্তভোগী শিশুকে চকলেট খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে ঘরের ভেতর ডেকে নেন। এ সময় তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় হাত দেন তিনি। পরবর্তী সময়ে শিশুটি বাড়ি ফিরে তার পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায়। তারা অন্য শিশুদের কাছে জানতে চাইলে তাদের সঙ্গেও এমন করা হয়েছে বলে জানায়। পরে স্থানীয়রা একত্রিত হয়ে বিষয়টি আমিনুল ইসলামের কাছে জানতে গেলে তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তখন স্থানীয়রা তাকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দেন। পরে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।
ওসি অজয় কুমার কুণ্ডু বলেন, আমিনুল রাতে শিশুদের যৌন হয়রানি করেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞেসাবাদে স্বীকার করেছেন। আজ (শনিবার) তাকে আদালতে পাঠানো হবে।
৪ দিন আগে