রাজশাহী
রাজশাহী বোর্ডের এসএসসির ফলে বড় অবনতি
রাজশাহীকে বলা হয় শিক্ষানগরী, কিন্তু বিগত বছরগুলো থেকে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে বিপর্যয়ের কারণে বড় ধরনের অবনতির কবলে পড়েছে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড। এর ফলে শিক্ষানগরীর সুনাম ক্ষুণ্ন হতে চলেছে। প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের প্রতি শিক্ষার্থীদের জন্য আরও যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অভিভাকরা।
রাজশাহী বোর্ডের বিগত বছরগুলোর এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সাত বছর থেকে পাসের হার কমতে শুরু করেছে যা এ বছর সবচেয়ে কম। গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে ১৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ। ২০২৫ সালে ৭৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করলেও এবার পাস করেছে ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ইফরাত জেরিন ফলাফল ঘোষণা করেন।
প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড থেকে মোট ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৫২ জন পরীক্ষার্থী ফরম পূরণ করেন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪৪ জন। পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন ২ হাজার ৯০৮ জন। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১ লাখ ১২ হাজার ৮৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে ছাত্র ৯২ হাজার ৭৭৩ জন এবং ছাত্রী ৮৩ হাজার ২৭১ জন।
ফলাফলে দেখা যায়, ছাত্রীদের পাসের হার ৭০ দশমিক ৭৩ শতাংশ। অন্যদিকে ছাত্রদের পাসের হার ৫৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ। অর্থাৎ ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের পাসের হার ১৩ দশমিক ৪০ শতাংশ বেশি। ছেলেদের পাশের এই নিদারুণ অবনতির প্রভাব পড়েছে এই শিক্ষা বোর্ডের সার্বিক ফলাফলে।
এ বছর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৬ হাজার ৬১৩ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্রী ৮ হাজার ৯৯১ জন এবং ছাত্র ৭ হাজার ৬২২ জন।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সাত বছরের তুলনামূলক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ সালে পাসের হার ছিল সর্বোচ্চ ৯৪ দশমিক ৭১ শতাংশ। ২০২০ সালে এ হার ছিল ৯০ দশমিক ৩৭ শতাংশ। ২০২২ সালে ৮৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৮৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৮৯ দশমিক ২৬ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেন। তবে ২০২৫ সালে পাসের হার কমে দাঁড়ায় ৭৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ। চলতি বছর তা আরও কমে ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশে নেমে এসেছে।
ফল প্রকাশকে ঘিরে নগরীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আগের মতো বড় ধরনের জটলা বা উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায়নি। এর অন্যতম কারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে না গিয়ে নিজের বাড়িতে অনলাইনে ফলাফল দেখতে পাওয়া। এছাড়া শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফল কেমন হবে তা আগে থেকেই অবগত হওয়া।
অভিভাবকদের মতে, বিগত বছরগুলোতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় কম পরিশ্রম করলেও ভালো ফলাফল অর্জন করেছে। সেই পরিবেশ থেকে শিক্ষার্থীরা এখনও বের হতে পারেনি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানসহ শিক্ষকদের প্রতি অভিভাবকদের দাবি, শিক্ষার্থীদের প্রতি পাঠদানে আরও যত্নশীল হতে হবে। প্রাইভেট-কোচিংয়ের প্রতি শিক্ষার্থীদের বিমুখ করে ক্লাসে উপস্থিতি বাড়াতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
২ দিন আগে
বগুড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে ধাক্কা, বাবা-ছেলেসহ নিহত ৩
বগুড়া সদরে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের উড়ালসড়কে বিকল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে অন্য একটি ট্রাকের ধাক্কায় বাবা-ছেলেসহ তিনজন নিহত হয়েছেন।
রবিবার (৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শহরের ছিলিমপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ কার্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেন।
নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন— বগুড়ার শেরপুর উপজেলার রামচন্দ্রপুর এলাকার আনন্দ সরকারের ছেলে তাপস সরকার (৩৫) এবং তার ছেলে তীব্র সরকার (১৮)। নিহত অন্য একজনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় নূর ইসলাম নামের আরও একজন আহত হয়েছেন। তার বাড়ি দিনাজপুরের বিরামপুর এলাকায়। তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, আজ (রবিবার) ভোরে ছিলিমপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে ঢাকাগামী একটি ট্রাকের চাকা বিকল হয়ে পড়ে। চালক ও সহকারী ট্রাকটির চাকা মেরামতের কাজ করছিলেন। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রংপুরগামী অন্য একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকটিকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রাকটির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে ভেতরে ঢুকে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন।
নিহত তাপস সরকারের শ্যালক নয়ন রায় জানান, ট্রাকটির চাকা নষ্ট হওয়ার পর তাপশ তার ছেলেকে চাকা নিয়ে আসতে বলেছিলেন। পরে বাবা-ছেলে মিলে চাকা মেরামতের কাজ শুরু করলে পেছন থেকে একটি ট্রাক এসে তাদের ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই বাবা ও ছেলে নিহত হন।
বগুড়া ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। একটি ট্রাকের কেবিন পুরোপুরি দুমড়েমুচড়ে যাওয়ায় ভেতর থেকে মরদেহ বের করতে বেশ বেগ পেতে হয়। আমরা আসার পর দুইজনের মরদেহ ভেতর থেকে উদ্ধার করেছি।’
বগুড়া সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মুঞ্জুর মোর্শেদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি ও মালামাল সড়ক থেকে সরানোর কাজ চলছে। নিহত তিনজনের মধ্যে দুইজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৩ দিন আগে
নাটোরে ভটভটির সঙ্গে বাসের সংঘর্ষে নিহত ৩
নাটোরের বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে গরুবাহী ভটভটি ও বাসের সংঘর্ষে তিন গরু ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অন্তত তিনজন।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মহাসড়কের গুরুদাসপুরের নয়াবাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— আব্দুর রহমান, আক্কাছ আলী এবং তার বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলম। তাদের বাড়ি বড়াইগ্রাম উপজেলার লক্ষীকোল এলাকায়।
পুলিশ জানায়, ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে নাটোরের বড়াইগ্রাম থেকে চান্দাইকোনা গরুর হাটগামী ভটভটির সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ভটভটিতে থাকা এক গরু ব্যবসায়ী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় কয়েকজনকে বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও রাজশাহী মেডিকেলে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুইজনের মৃত্যু হয়।
আহত তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহত ও আহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ করছে পুলিশ।
বনপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটি উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
৪ দিন আগে
বগুড়ায় বাসচাপায় ৭ শ্রমিক নিহত
বগুড়া সদরের এরুলিয়ায় একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে থাকা শ্রমিকদের চাপা দিলে ৭ জন নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সদর উপজেলার এরুলিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে কাজের সন্ধানে দাঁড়িয়ে থাকা দিনমজুরদের ওপর যাত্রীবাহী বাসটি উঠে গেলে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন প্রায় ২৫ জন। তাদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে চারজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন— বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জয়পুরহাট জেলার বাসিন্দা তাজমুল (৪৫), বগুড়া সদর উপজেলার ফাঁপোড় এলাকার বেলাল, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের আমিরুল এবং নূর আলম। বাকি তিনজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, রংপুর, গাইবান্ধা, পাবনাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা দিনমজুরেরা প্রতিদিন ভোরে এরুলিয়া বাজারের এই হাটে কাজের সন্ধানে জড়ো হন। স্থানীয় গৃহস্থরা এখান থেকেই দৈনিক মজুরিতে তাদের সংগ্রহ করেন। আজ (শুক্রবার) ভোরে ঢাকা থেকে নওগাঁ অভিমুখী একটি যাত্রীবাহী বাস দ্রুতগতিতে যাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এ সময় বাসটি দাঁড়িয়ে থাকা শ্রমিকদের চাপা দিয়ে উল্টো ঘুরে বগুড়ামুখী হয়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তিন শ্রমিক নিহত হন।
পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান আরও তিনজন। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরেক জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
স্থানীয়রা জানান, বৃষ্টির মধ্যে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে একটি খুঁটিতে ধাক্কা দেয়। চালক নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করলেও গাড়িটি শ্রমিকদের ওপর উঠে যায়।
এদিকে, দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা মহাসড়ক অবরোধ করেন। এই স্থানে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করে তারা স্থায়ী গতিরোধক নির্মাণের দাবি জানান।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, বাসচাপায় ঘটনাস্থলে তিনজন এবং হাসপাতালে চারজন মারা গেছেন। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও সড়ক সচল করার চেষ্টা করছে।
৫ দিন আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ট্রেনের ধাক্কায় ট্রলিচালক নিহত
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় মহানন্দা ট্রেনের ধাক্কায় একটি ছাগলবোঝাই ট্রলির চালক নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল সোয়া ৬টার দিকে নাচোল রেলওয়ে স্টেশনের কাছে নাচোল-খলসি সড়কের দেওপাড়া রেলক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম আবুল কালাম আজাদ (৩৫)। তিনি উপজেলার বান্দ্রা গ্রামের মহিবুর রহমানের ছেলে ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, আবুল কালাম আজাদ একটি ট্রলিতে ছাগল নিয়ে দেওপাড়া এলাকা থেকে নিজ বাড়ি বান্দ্রায় ফিরছিলেন। পথে দেওপাড়া রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় রহনপুর থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী মহানন্দা ট্রেনের সঙ্গে ট্রলিটির সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ জানান, আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি রেলওয়ে পুলিশকে জানানো হয়েছে। রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
৬ দিন আগে
রূপপুরে মদ্যপ অবস্থায় দুই রাশিয়ানের মারামারি, একজন নিহত, অন্যজন হাসপাতালে
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে মদ্যপ অবস্থায় দুই রাশিয়ান নাগরিকের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে কুদরিন সার্গেই (৫৬) নামে একজন নিহত হয়েছেন আর গুরুতর আহত অবস্থায় অন্যজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পে কর্মরত বিদেশিদের আবাসিক এলাকা রূপপুর গ্রিন সিটির ৬ নম্বর ভবনের ৫ তলায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত কুদরিন সার্গেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ট্রেস্ট রোসেমে ‘আল্ট্রাসনিক টেস্টিং ইন্সপেক্টর’ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি গ্রিন সিটির ৬ নম্বর ভবনের পঞ্চম তলার ৫১ নম্বর কক্ষে বসবাস করতেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহত ব্যক্তির নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে মদ্যপানের পর তারা দুজন বাগবিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে উভয়েই একে অপরকে আঘাত করেন। এ সময় দুজনই গুরুতর আহত হন। আহত অবস্থায় তাদের গ্রিন সিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সার্গেইকে পাবনার এসোর্ট স্পেশালাইজড হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিষয়টি নিয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
৯ দিন আগে
সুগন্ধি আতপ চাল ‘রপ্তানির অনুমতিতে’ নওগাঁয় চালের বাজার লাগামহীন
ধান চাল উৎপাদনে বরাবরই শীর্ষে উত্তরের জেলা নওগাঁ। এখানকার উৎপাদিত সুগন্ধি চালের বিশেষ কদর রয়েছে সারা দেশের খুচরা এবং পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে। তবে গেল এক সপ্তাহ ধরে চাল বাজারে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। কেজিতে এবার ২-৪ টাকা নয়, বেড়েছে ৯০ টাকা।
নওগাঁর বাজারে এক কেজি সুগন্ধি আতপ চালে ৯০ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকায়। শুধু তাই নয়, সুগন্ধি চালের পাশাপাশি বেড়েছে কাটারিসহ সব ধরনের সরু চালের দামও।
ক্রেতা এবং খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, বড় কিছু মিল আর করপোরেট কোম্পানিগুলোর মজুত সিন্ডিকেটের কারণেই বাড়ছে চালের দাম। তবে মিল মালিক আর ব্যবসায়ী নেতাদের দাবি, সরকারিভাবে বিদেশে আতপ চাল রপ্তানি আর হাটে ধানের বাড়তি দামের কারণে চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী। পরিরিস্থি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিংয়ের কথা বললেও বাস্তবে কারোরই দেখা মেলেনি।
নওগাঁ শহরের সবচেয়ে বড় খুচরা চালের বাজার ঘুরে দেখা যায়, গেল ৩ সপ্তাহের ব্যবধানে সকল প্রকার সরু চালের দাম বেড়েছে কেজিতে ৩ থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত। বাজারে মোট বিক্রির ৮০ শতাংশই হয় কাটারি চাল। শর্টার ও নন শর্টারসহ সব ধরনের কাটারি চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ৪ টাকা। ৭৬ টাকা কেজির চাল ৩ সপ্তাহের ব্যবধানে বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। স্বর্ণা-৫ জাতের চাল ২ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫১ টাকায়। বিআর-২৮ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি, কয়েকদিন আগেও যার দাম ছিল ৫৮ টাকা।
তবে স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সুগন্ধি (আতপ) চাল। দুই সপ্তাহ আগেও এই চাল বাজারে বিক্রি হচ্ছিল ১২০ টাকা কেজিতে। কিন্তু প্রতিদিনই বৃদ্ধি পেতে পেতে এখন সেই চাল বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকায়। অর্থাৎ কেজিতেই বেড়েছে ৯০ টাকা। চালের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে সাধারণ ভোক্তাদের মাঝে। বাজারে চাল কিনতে এসে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
নওগাঁ সদর উপজেলার ডাক্তারের মোড় এলাকা থেকে পৌর চালের বাজারে আতপ চাল কিনতে এসেছিলেন মোসলেম উদ্দিন। তিনি বলেন, গ্রামের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য ১৫ কেজি আতপ চাল কিনতে এসেছিলাম। কিন্তু বাজারে এসে শুনি, সেই চালের দাম বেড়েছে কেজিতে ৯০ টাকা। এভাবে হঠাৎ করেই দাম বেড়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
উপজেলার বালুভরা গ্রামের কৃষক আল ফারুকের সঙ্গে কথা হয় নওগাঁর খুচরা বাজারে। ৫ কেজি ভাতের চাল কিনতে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু হঠাৎই দাম বৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন এই কৃষক। তিনি বলেন, এভাবে দাম বাড়লে যারা দিন এনে দিন খান, তাদের জন্য চাল কেনা কঠিন হয়ে পড়ছে।
১১ দিন আগে
বগুড়ায় ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ৪
বগুড়ায় ট্রাক ও পিকআপের সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন।
শনিবার (১ আগষ্ট) সকাল ১০টার দিকে বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কে কাহালু উপজেলার কাজিপাড়া নামক স্থানে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতদের মধ্যে লুৎফর রহমান (৫০) নামের এক ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি ময়মনসিংহের সদর উপজেলার রাঘবপুর গ্রামের তৈয়ব আলীর ছেলে। তিনি একজন মাছ ব্যবসায়ী ছিলেন বলে জানা গেছে।
কাহালু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, ময়মনসিংহ থেকে একটি পিকআপ নওগাঁয় মাছ বিক্রি করে ফিরছিল। সকাল ১০ টায় বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের কাহালু উপজেলার কাজিপাড়া নামক স্থানে পৌঁছালে অন্য একটি ভটভটিকে অতিক্রম করার সময় নওগাঁগামী মালবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে পিকআপটির সংঘর্ষ হয়। এতে পিকআপের সামনের অংশ দুমড়ে মুচড়ে যায়। এ সময় পিকআপের চালক, সহকারী ও দুজন মাছ ব্যবসায়ী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। দুর্ঘটনার পরপরই ট্রাকের চালক ও সহকারী পালিয়ে যান।
খবর পেয়ে কাহালু থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা নিহত চারজনের মরদহ উদ্ধার করেন। এ সময় দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও পিকআপ ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহত লুৎফর রহমানের পরিবারের কাছে সংবাদ পাঠানো হয়েছে এবং অপর তিনজনের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে বলে জানান ওসি শফিকুল ইসলাম।
১১ দিন আগে
পদ্মায় নৌকাডুবিতে নিখোঁজ সেই বাবা-ছেলের মরদেহ উদ্ধার
রাজশাহীর পদ্মা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজের দুই দিন পর বাবা ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) পৃথক স্থান থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
রাজশাহী অঞ্চলের নৌ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন জানান, আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে কুষ্টিয়ার বাংলাবাজার পাকশী সেতু-সংলগ্ন পদ্মা নদী থেকে নৌকার মাঝি কাওসার আলীর (৬০) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে দুপুরে রাজশাহীর পবা উপজেলার সাতবাড়িয়া চর এলাকা থেকে তার ছেলে জিয়ারুল হকের (৪০) মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।
তিনি জানান, দুর্ঘটনার পর গত দুই দিন ধরে নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল যৌথভাবে তল্লাশি চালায়। পদ্মায় প্রবল স্রোতের কারণে মরদেহ দুটি দুর্ঘটনাস্থল থেকে অনেক দূরে ভেসে যায়। উদ্ধার শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাজশাহী নগরের পদ্মা গার্ডেন-সংলগ্ন এলাকায় ঝাউগাছবোঝাই একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবে যায়। চর মাজারদিয়া এলাকা থেকে আটজন যাত্রী নিয়ে লালন শাহ মুক্তমঞ্চের উদ্দেশে রওনা দেওয়া নৌকাটি মাঝনদীতে অতিরিক্ত ঢেউয়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়। এ ঘটনায় ছয়জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও নৌকার মাঝি কাওসার আলী ও তার ছেলে জিয়ারুল হক নিখোঁজ ছিলেন। দীর্ঘ দুই দিনের অনুসন্ধান শেষে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হলো।
১৩ দিন আগে
পাবনায় শৌচাগারের ট্যাংকে মিলল স্কুলশিক্ষিকার মরদেহ
পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত এলাকায় শৌচাগারের ট্যাংক থেকে এক স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে বাড়ির পাশে টয়লেটের ট্যাংকি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত গীতা রানী (৪৫) উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের একদন্ত বারইপাড়া গ্রামের নন্দ দাসের স্ত্রী। তিনি চাচকিয়া ব্র্যাক স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন।
আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ ও স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গীতা রানী বাড়িতে একাই থাকতেন। তার স্বামী ঢাকায় থাকেন। গতরাত ৩টার দিকে দুর্বৃত্তরা সিঁধ কেঁটে ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে। পরে গীতা রানী টের পেলে দুর্বৃত্তদের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায় তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে তাকে বাড়ির পাশে পরিত্যক্ত শৌচাগারের ট্যাংকে দুর্বৃত্তরা ফেলে দেয় বলে স্থানীয়দের ধারণা।
আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে তাকে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বেলা ১১টার দিকে শৌচাগারের ট্যাংকে তার মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
ওসি নাজমুল হক জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
কারা, কেন এবং কীভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
১৩ দিন আগে