রাজশাহী
রাজস্ব কর্মকর্তার মরদেহ হাসপাতালে ফেলে পালাল কারা
নওগাঁয় জুনায়েদ সাকী (৩৭) নামের এক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তার মরদেহ সদর হাসপাতালে ফেলে পালিয়েছে অজ্ঞাত দুই ব্যক্তি।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৫টার দিকে নওগাঁ ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে মরদেহ রেখে তারা সরে পড়ে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ট্রলিম্যান বাপ্পি জানান, ভোরের দিকে একটি পিকআপ ভ্যানে করে দুজন লোক মরদেহটি নিয়ে আসে। এরপর জরুরি বিভাগের সামনে গাড়ি থেকে মরদেহটি ট্রলির ওপর ফেলে তারা চলে যায়। পরে তাকে ট্রলিতে উঠিয়ে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, ওই দুই লোক পালিয়ে যাওয়ার সময় পেছন থেকে তাদের অনেক ডাকাডাকি করেছি, কিন্তু তারা না শুনে দ্রুতই সটকে পড়ে।
নিহতের পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে ট্রেনযোগে সান্তাহার রেলওয়ে জংশনে নেমে জেলার মহাদেবপুরে স্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশে এসেছিলেন জুনায়েদ। ভোরে ট্রেন থেকে নামার পর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। হলুদ রঙয়ের একটি পিকআপ ভ্যান ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ হাসপাতালের সামনে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। এরপর সেখানকার কর্মচারীরা তাকে জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত জুনায়েদের পরিচয় নিশ্চিত করে নওগাঁ কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কমিশনার রাশেদ আহম্মেদ জানান, জুনায়েদের বাড়ি পিরোজপুর জেলার বলিহারী গ্রামে। তার বাবার নাম মনজুরুল হক। তিনি সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে ঢাকা কাস্টমসে কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রী নওগাঁর একটি কলেজের শিক্ষিকা। আজ (বুধবার) সকালে ট্রেনে করে ঢাকা থেকে সান্তাহারে নামেন। এরপর আর কিছু জানা যায়নি। পরে হাসপাতালে থেকে তার পরিবারকে মৃত্যুর খবর জানানো হয়।
২৫০ শয্যা নওগাঁ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রেহেনুমা মুনমুন বলেন, জুনায়েদকে মৃত অবস্থায় পাই আমরা। প্রাথমিকভাবে তার হাত ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মরদেহটি আমরা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হিসেবে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করেছি। পরে থানা পুলিশ এবং নিহতের পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানানো হয়। তবে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিয়ামুল হক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের স্ত্রী থানায় এসে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্ত করার জন্য নওগাঁ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। কারা তাকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে ফেলে পালিয়ে গেছে, তাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
৩ দিন আগে
নাটোরে অস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার, আটক ১
নাটোরের সিংড়ায় একটি অস্ত্র তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়ে তৈরিকৃত আগ্নেয়াস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ আব্দুল্লাহ নামে একজনকে আটক করেছে সেনাবাহিনী।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলার বামিহাল বাজারের একটি মোটর গ্যারেজে অভিযান চালায় সেনাবাহিনীর একটি দল।
সেনা সূত্র জানায়, অভিযান চালিয়ে গ্যারেজের ভেতরে গোপনে গড়ে ওঠা অস্ত্র কারখানার সন্ধান পায় সেনা সদস্যরা। পরে সেখানে তল্লাশি করে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির বেশ কিছু সরঞ্জাম ও কাঁচামাল জব্দ করা হয়। এছাড়া আব্দুল্লাহ নামের এক ব্যক্তিকে সেখান থেকে আটক করে হেফাজতে নেয় সেনাবাহিনী।
আব্দুল্লাহ (২৮) পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার রুপপুর এলাকার বাসিন্দা।
সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ স ম আব্দুন নূর জানান, অস্ত্রসহ আব্দুল্লাহকে সিংড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
৪ দিন আগে
নাটোরে এনসিপির নির্বাচনি ক্যাম্প ভাঙচুর, ২ কর্মী আহত
নাটোরের সিংড়ায় এনসিপির নির্বাচনি ক্যাম্প ভাঙচুর ও ২ কর্মীকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ ও দলীয় সূত্র জানায়, রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে উপজেলার সুকাশ ইউনিয়নের মৌগ্রামে এনসিপি প্রার্থী জার্জিস কাদিরের নির্বাচনি ক্যাম্পে খিচুড়ি ভোজের আয়োজন করা হয়েছিল। এ সময় স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল জলির মেম্বারের সঙ্গে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় বিএনপি কর্মীরাও জলির মেম্বারের সঙ্গে যোগ দিয়ে এনসিপির কর্মীদের পিটিয়ে তাদের নির্বাচনি কার্যালয়ের চেয়ার ভাঙচুর করে।
এনসিপি কর্মী আশিক রহমান অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল জলিল ও বিএনপি নেতা-কর্মীরা এই হামলা চালায়।
স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুল কুদ্দুস জানান, এনসিপি কর্মীরা নিজেরাই নিজেদের অফিসের চেয়ার ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে আহাদ ও সুলতান নামে আহত ২ এনসিপি কর্মীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়।
সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ স ম আব্দুন নূর জানান, উভয় পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে। তদন্তের পর সঠিক তথ্য নিশ্চিত করা যাবে। তবে পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে।
৫ দিন আগে
নেশার টাকা না পেয়ে মাকে কুপিয়ে হত্যা করে রাস্তায় ফেলে গেল ছেলে
রাজশাহী নগরীতে নেশা করার টাকা না পেয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে সুমন নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। মরদেহ রাস্তায় ফেলে বাড়িতে গিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে অবস্থান নেন সুমন। পরে বিষয়টি স্থানীয়রা জানতে পেরে সুমনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর খড়খড়ি এলাকার পুরাতন কৃষি ব্যাংক মোড়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহত ওই নারীর নাম সোহাগী খাতুন (৫৫)। তিনি ওই এলাকার আজিজুল ইসলামের স্ত্রী। দুই ছেলে ও এক মেয়ের জননী ছিলেন তিনি।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, মাদকাসক্ত সুমন রাতে নেশার করার টাকার জন্য তার মাকে চাপ দেন। কিন্তু টাকা দিতে রাজি না হলে ধারালো হাসুয়া দিয়ে তিনি তার মায়ের বুকে ও পেটে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মা নিহত হন। পরে মায়ের মরদেহ রাস্তায় ফেলে রেখে বাড়িতে গিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে অবস্থান নেন সুমন। বিষয়টি স্থানীয়রা জানার পর ওই ঘর থেকে তাকে আটক করে থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। নিহত ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
প্রতিবেশী মোজাম্মেল হক জানান, সুমন নিয়মিত নেশা করতেন। তিনি এলাকায় নিয়মিত ছোটখাট চুরিও করতেন। সুমন সব সময় হাসুয়া বা রামদা নিয়ে ঘুরতো বলেও জানান তিনি।
নগরীর চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত যুবককে আটক করে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ওই যুবক মাদকাসক্ত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৬ দিন আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে জামায়াতে যোগ দিলেন বিএনপির ৬০ নেতা-কর্মী
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় নির্বাচনি পথসভায় বিএনপি ছেড়ে জামায়াত ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন অন্তত ৬০ জন নেতা-কর্মী।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার দাইপুকুরিয়া ইউনিয়নের মফিজ মোড়ে আয়োজিত এক পথসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে তারা জামায়াতে যোগ দেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী কেরামত আলী নবাগতদের ফুলের মালা পরিয়ে বরণ করে নেন।
নতুন করে জামায়াতে যোগ দেওয়া ব্যক্তিরা জানান, আদর্শগত মিল, নৈতিক রাজনীতি এবং বর্তমান রাজনৈতিক বাস্ততার কারণে তারা জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এ সময় কেরামত আলী বলেন, ‘দেশ, ইসলাম ও মানবতার পক্ষে কাজ করতে আগ্রহী সবাইকে জামায়াতে ইসলামী স্বাগত জানায়। আপনাদের এই যোগদান আমাদের সংগঠনকে আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাবে।’
তিনি আরও বলেন, সত্য, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাজনীতির মাধ্যমেই একটি মানবিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়া সম্ভব।
অনুষ্ঠানে উপজেলা জামায়াতে ইসলামের সাবেক আমির ও কানসাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেফাউল মূলকসহ স্থানীয় জামায়াত এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
৭ দিন আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে গান পাউডার ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম জব্দ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় পরিত্যক্ত অবস্থায় বিপুল পরিমাণ গান পাউডার ও বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন—র্যাব।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে র্যাব-৫, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্পের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে উপজেলার ঘাড়াপাখিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর বেড়িবাঁধ-সংলগ্ন একটি লিচু বাগান থেকে ওইসব সরঞ্জাম জব্দ করে।
অভিযানে বাগানে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা দুটি বাজার করার প্লাস্টিক ব্যাগের ভেতর থেকে বিপজ্জনক আলামত উদ্ধার করেছে র্যাব।
উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে—পলিথিনে মোড়ানো সাদা, কালো ও হলুদ বর্ণের মোট ৩ কেজি ৩০৬ গ্রাম গান পাউডার, বোমা তৈরির কাজে ব্যবহৃত কাঁচের গুঁড়া ৮৫৫ গ্রাম, পাথর ৮০২ গ্রাম, লোহার পেরেক ১৮৭ গ্রাম, ২টি লাল রঙের স্কচটেপ, ১২টি জর্দার কৌটা এবং ৬টি গ্যাস লাইটার।
আজ (শনিবার) সকালে র্যাব-৫ এর চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্প থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, পলাশ নামের এক ব্যক্তির লিচু বাগানে অভিযান চালিয়ে দুটি ব্যাগ সন্দেহজনকভাবে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সামনে ব্যাগ দুটি তল্লাশি করে এসব আলামত জব্দ করা হয়।
র্যাব আরও জানায়, ঘটনাস্থলের আশপাশে কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তারও করা সম্ভব হয়নি। জব্দ করা আলামতগুলো পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিবগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
৭ দিন আগে
নওগাঁয় ট্রাকচাপায় ৫ আদিবাসী কৃষক নিহত
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় ডাম্প ট্রাকের চাপায় ৫ জন আদিবাসী কৃষক নিহত হয়েছেন।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ভোর সাড়ে ৪টায় উপজেলার মহাদেবপুর-পত্নীতলা আঞ্চলিক সড়কের শিবপুর পাঠকাঠি এলাকায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতরা হলেন—উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের মৃত কোকো পাহানের ছেলে বীরেন পাহান (৩৫), মৃত নরেন পাহানের ছেলে উজ্জল পাহান (৩৮), ঝটু পাহানের ছেলে বিপুল পাহান (২৫), মৃত মাংরা উড়াও এর ছেলে সঞ্জু উড়াও (৪৫) এবং ঝটু পাহানের ছেলে বিপ্লব পাহান (২২)।
হাসপাতালের বরাত দিয়ে থানা পুলিশ জানায়, ভোরে নিজেদের জমিতে উৎপাদিত হলুদ বিক্রি করতে নূরপূর থেকে ব্যাটারী চালিত ভ্যানে চড়ে মহাদেবপুর হাটের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন ওই কৃষকরা। পথে ভ্যানটি মহাদেবপুর-পত্নীতলা আঞ্চলিক সড়কের পাঠকাঠি এলাকায় পৌঁছালে দ্রুত গতিতে আসা একটি ডাম্প ট্রাক তাদের চাপা দেয়। পরে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত অবস্থায় ৪ জন এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় একজনকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায় ফায়ার সার্ভিস ।
মহাদেবপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার আবুল কাসেম বলেন, ডাম্প ট্রাকটি মহাদেবপুর থেকে পত্নীতলার দিকে যাচ্ছিল। পথে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ভ্যানকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হন। তিনজনকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ইমরুল কায়েস বলেন, ফায়ার সার্ভিস দুই দফায় পাঁচ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে এনেছিল। তাদের মধ্যে চার জন আগেই মারা গেছেন। বাকি একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে তারও মৃত্যু হয়।
মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ঘাতক ডাম্প ট্রাকটি সড়কের পাশের একটি খালে ফেলে রেখে চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছেন।
এ বিষয়ে নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় সকাল ৭টার দিকে সৎকারের জন্য মরদেহগুলো তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে মহাদেবপুর থানায় একটা মামলা দায়ের হয়েছে। ঘাতক ডাম্প ট্রাকের চালক ও সহকারীকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের একটি দল কাজ করছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৭ দিন আগে
রাজশাহীতে স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু, সাংবাদিক স্বামী আহত
রাজশাহীতে এক সাংবাদিকের স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। সাংবাদিক নিজেও বাসায় আহত অবস্থায় পড়ে ছিলেন। পরে পুলিশ ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় ওই দম্পতিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
নিহত নারীর নাম রওশন আরা (৫৫)। তার স্বামীর নাম গোলাম কিবরিয়া কামাল (৬০)। তিনি কামাল মালিক নামে সাংবাদিকতা করেন। বর্তমানে স্থানীয় দৈনিক রাজশাহী সংবাদের উপসম্পাদক হিসেবে কাজ করছেন। নগরীর হড়গ্রাম বাজার এলাকার একটি বাসায় তিনি ভাড়া থাকেন। কামাল মালিক ডাক বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নিজ বাসা থেকে ওই দম্পতিকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিল্লাল উদ্দিন জানান, রওশন আরাকে তারা মৃত অবস্থায় পেয়েছেন। তার গলায় একটি কাপড় পেচানো ছিল। তবে তার মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, সেটি ময়নাতদন্তের পর নিশ্চিত করে বলা যাবে। সাংবাদিক গোলাম কিবরিয়ার হাতে ও পায়ে জখম আছে। তিনি একধরনের রাসায়নিক দ্রব্য পান করেছিলেন। তার অবস্থাও সংকটাপন্ন। তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানান এই চিকিৎসক।
পুলিশ জানিয়েছে, তিনতলা বাসার তৃতীয় তলায় ভাড়া থাকেন গোলাম কিবরিয়া। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ বাড়িতে যায়। তাদের বাসার দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। পরে দরজা ভেঙে তাদের বের করা হয়েছে। মেঝেতে রওশন আরা পড়ে ছিলেন। আর বিছানায় আহত অবস্থায় ছিলেন গোলাম কিবরিয়া। পরে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের মাধ্যমে তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।
দৈনিক রাজশাহী সংবাদের সম্পাদক আহসান হাবীব বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে আমরাও হাসপাতালে যাই। কীভাবে ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে সাংবাদিক কামাল মালিকের অবস্থা সংকটাপন্ন। হাত ও পায়ে জখম আছে। সম্ভবত রগ কেটে গেছে। তাকে আইসিইউতে নেওয়া হচ্ছে।
রাজশাহী নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইমসিন বিশেষজ্ঞ দল পাঠানো হয়েছে। তারা ঘটনাস্থল পর্যক্ষেণ করেছে। কীভাবে ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। ওই দম্পতির বাসার দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। যা-ই ঘটুক, তারা নিজেরাই এ ঘটনা ঘটিয়েছেন, এটুকু অনুমান করা যাচ্ছে।
৭ দিন আগে
রাজশাহীতে বাসচাপায় শিক্ষার্থীসহ নিহত ৩
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় বাসচাপায় ব্যাটারিচালিত রিকশার যাত্রী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ছয়জন আহত হন। তাদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার পোল্লাপুকুর এলাকায় রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- রাজশাহীর বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ট্রিপল-ই) বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শান্ত ইসলাম। তিনি পুঠিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের বারইপাড়ার আবুল হোসেনের ছেলে। এছাড়া একজন নারী ও পুরুষের লাশ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। তাদের পরিচয় পাওয়া যায়নি বলে জানান পবা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক কাজী।
এ ঘটনায় আহতরা হলেন- মুকুল হোসেন (৩৫), মোজাম্মেল হক (৫০), রিফাত হোসেন (৩০), আমিন (৪০) ও দুই শিশু। রামেক হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মেডিকেলের ৮ ও ৩১ নং ওয়ার্ডে ভর্তি করেন।
রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শঙ্কর কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘পুঠিয়া থেকে হাসপাতালে দুজনকে মৃত অবস্থায় নিয়ে আসা হয়েছে। একই সঙ্গে আরও ছয়জন আহত অবস্থায় এসেছেন। তাদের হাসপাতালের ৮ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে। এছাড়া নারী ও পুরুষের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।’
ওসি মোজাম্মেল হক কাজী বলেন, দুর্ঘটনায়কবলিত অটোরিকশাটি পুঠিয়ার দিকে যাচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই শান্ত নিহত হন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে একজন পুরুষ ও একজন নারী মারা যান। তবে প্রাথমিক অবস্থায় তাদের পরিচয় পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।
স্থানীয়রা বলেন, এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করলে কয়েক কিলোমিটার যানজট তৈরি হয়। দুই দিকে যান চলাচল বন্ধ হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েন বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা। এ ছাড়াও এ দুর্ঘটনার পর বাস চালককে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে বেলপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও উপপরিদর্শককে (এসআই) অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয় জনতা। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে তারা অবরুদ্ধ থাকে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে সেনাবাহিনী গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। এরপর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বলেন, অবরোধকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।
১২ দিন আগে
চালক-সহকারীর হাত-পা বেঁধে ধানবোঝাই ট্রাক ডাকাতি, গ্রেপ্তার ৬
নওগাঁয় ধানবোঝাই একটি ট্রাক ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ডাকাতি হওয়া ট্রাকটি উদ্ধার করার পাশাপাশি ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত সাতটি মোবাইল ফোন উদ্ধার জব্দ করা হয়েছে।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
গ্রেপ্তাররা হলেন— গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শিবপুর গ্রামের রফিকুলের ছেলে আরিফুল ইসলাম আরিফ (৩০), বড় বাতাইল গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে রফিকুল ইসলাম অপু (৩১), একই উপজেলার রাজা মিয়ার ছেলে সাজিদুল ইসলাম সবুজ (২৩), পলুপাড়া গ্রামের হাসেন আলীর ছেলে গোলাপ (২৪), সদুল্যাপুর উপজেলার বলিদহ গ্রামের ওয়াহেদ আলীর ছেলে লাভলু (২৮) এবং বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার চরকাকাটা চানপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেন শরীফের ছেলে রাকিব হোসেন শরীফ (২৭)।
পুলিশ সুপার জানান, গত ২২ জানুয়ারি দিনাজপুর জেলার বদরগঞ্জ থেকে একটি ট্রাক ২৫০ বস্তা (৫০০ মন) ধান নিয়ে নওগাঁয় আসছিল। এরপর রাত দেড়টার দিকে নওগাঁ সদর উপজেলার কীর্ত্তিপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের ফাঁকা রাস্তায় ট্রাকটি পৌছাঁলে সামনে ব্যারিকেড দেয় ডাকাতদল। পরে ট্রাকের চালক মারুফ ও সহকারী শামীমকে মারধর করে রশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে তারা ধানবোঝাই ট্রাকটি নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় সদর থানায় একটি মামলা হলে ডাকাতদের গ্রেপ্তার ও লুন্ঠিত মালামাল উদ্ধারে মাঠে নামে পুলিশ। একপর্যায়ে শিবগঞ্জ থানার মোকামতলা তদন্তকেন্দ্রে একটি ট্রাক ও সন্দেহজনক আরিফুল ইসলাম আরিফকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি তাকে নিয়ে গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গোলাপ ও লাভলুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাদের সঙ্গে নিয়ে দলের সর্দার সামিউল ইসলামকে ধরতে গাজিপুরে অভিযান চালানো হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি পালিয়ে যান।
পরবর্তী সময়ে আশুলিয়া, সাভার, কামরাঙ্গীরচর এলাকায় দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে শরীফ, অপু ও সবুজকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ট্রাক জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় অন্য ডাকাতদলটির অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং ডাকাতির মালামাল উদ্ধারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার তারিকুল।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
১৩ দিন আগে