সিলেট
ভারতে প্রবেশের চেষ্টাকালে বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ, বিজিবির মামলা
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার নলজুড়ি সীমান্ত দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মো. বাবলা লিটন (২৮) নামের এক বাংলাদেশি আহত হয়েছেন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে ঘটনাটি জানাজানি হয়। এর আগে মঙ্গলবার রাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) তামাবিল ক্যাম্পের কমান্ডার মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা এ ঘটনায় বাদী হয়ে গোয়াইনঘাট থানায় মামলা করেন।
বাবলা লিটনসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে মামলার এজাহারে বলা হয়, মঙ্গলবার সকালে সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশের চেষ্টাকালে বিএসএফ গুলি করলে তা লিটনের হাতে লাগে।
বাবলা লিটন নলজুড়ি এলাকার বাসিন্দা। ঘটনার সময় তার সঙ্গে আরও সাত থেকে আটজন ছিলেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় বিজিবির মামলায় তাদের বিরুদ্ধে সীমান্ত দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা, সরকারি কাজে বাধা ও বিজিবি সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোরে সীমান্তের ১২৭৮/৪ নম্বর পিলারের কাছ দিয়ে বাবলা লিটনসহ সাত থেকে আটজন ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা তাদের ধাওয়া করেন। তখন তারা বিএসএফ সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছুড়লে বিএসএফ সদস্যরা চারটি গুলি ছোড়েন। এতে বাবলা লিটন গুলিবিদ্ধ হন।
এজাহারে আরও বলা হয়, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও বাবলা লিটনসহ অন্যরা বিএসএফ সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাথর নিক্ষেপ করেন। পরে খবর পেয়ে সিলেট বিজিবির তামাবিল ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে তাদের লক্ষ্য করেও ইট-পাথর ছোড়া হয়। এতে বিজিবির কয়েকজন সদস্য সামান্য আহত হন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি সদস্যরা পাঁচটি ফাঁকা গুলি ছোড়েন এবং অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক মোড়ল বলেন, মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, বিজিবি সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়া হলে সতর্কতামূলকভাবে চার থেকে পাঁচটি গুলি ছোড়া হয়। এ ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে।
১২ ঘণ্টা আগে
অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে সিলেটে আটক ৭
উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভনে দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে সিলেটের গোয়াইনঘাটে দুই নারীসহ সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত দালালদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অনুসন্ধান চলছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আটকদের সিলেট আদালতে পাঠানো হয়। এর আগে গতকাল (মঙ্গলবার) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের নলজুরি বড়ইতলা গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আটকরা হলেন বাগেরহাটের বকুলতলা গ্রামের মো. সাইফুল (২১), খুলনার দিগলদিয়া থানার বাগমারা গ্রামের মো. রাব্বি শিকদার (১৭), কাজিগঞ্জ মোগলা গ্রামের মো. কাউছার (১৬), বাগেরহাটের বকুলতলা গ্রামের মো. ওমর ফারুক (১৮), মোড়লগঞ্জ থানার নিশানবাড়িয়া গ্রামের মো. পারভেজ হাসান (২১), নড়াইলের কালিয়া উপজেলার ভমবাগ গ্রামের শম্পা (২৪) ও ঢাকার যাত্রাবাড়ীর মুন্নি (১৬)।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্টরা জানায়, অজ্ঞাত এক দালালের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাদের সিলেটের জাফলং এলাকায় নিয়ে আসা হয়। তাদের মধ্যে দুই নারীকে ভারতে বাসাবাড়িতে মাসিক ৫০ হাজার টাকা এবং পাঁচ যুবককে বিভিন্ন কোম্পানিতে মাসিক ৩৫ হাজার টাকা বেতনের চাকরি দেওয়ার কথা বলা হয়।
পরবর্তীতে মিজান নামের এক ব্যক্তি তাদের নলজুরি বড়ইতলা গ্রামের আব্দুল মান্নানের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থান করে তারা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পেরে গোয়াইনঘাট থানার তামাবিল পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ওই এলাকায় অভিযান চালান। এ সময় দুই নারীসহ সাতজনকে আটক করে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়।
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক বলেন, উচ্চ বেতনের প্রলোভনে দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের উদ্দেশ্যে ওই সাতজন নলজুরি বড়ইতলা এলাকায় অবস্থান করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত দালালদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
১ দিন আগে
ভারতে প্রবেশের চেষ্টাকালে নির্বাচন অফিসের কর্মচারী আটক
মৌলভীবাজারে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের চেষ্টাকালে উপজেলা নির্বাচন অফিসের এক কর্মচারীকে আটক করেছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (৫৫ বিজিবি) সদস্যরা।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তাকে আটকের পর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে বিজিবি।
আটককৃত সুশান্ত চন্দ্র বিশ্বাস (৩৪) সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসের একজন ডাটা এন্ট্রি অপারেটর। তিনি কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার সাচাইল গ্রামের সত্যেন্দ্র চন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে।
বিজিবি জানায়, শ্রীমঙ্গল উপজেলার মোংলামবস্তি চা-বাগানের সীমান্ত পিলার ১৯৩৯/এম-এর কাছ দিয়ে শূন্যরেখা অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশের চেষ্টাকালে বিজিবির টহলদল সুশান্ত চন্দ্রকে আটক করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সুশান্ত ২০১৬ সাল থেকে চুক্তিভিত্তিকভাবে নির্বাচন অফিসে নিয়োজিত। বর্তমানে তিনি সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর হিসেবে কর্মরত।
তবে বিজিবি সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করে জানতে পারে, সুশান্ত এক মাস ধরে অনুমোদিত ছুটি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তার অবস্থান সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ খোঁজ নিচ্ছিল।
জিজ্ঞাসাবাদে সুশান্ত জানান, তিনি গত বৃহস্পতিবার শ্রীমঙ্গলে এসে একটি হোটেলে অবস্থান করেন। পরে একজন দালালের সহায়তায় সুবিধাজনক সময়ে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করেন।
এদিকে সুশান্তর কাছ থেকে দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, নগদ ১২ হাজার ১৮৫ টাকা, তার নামে দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র, বিভিন্ন ধরনের আরও ছয়টি পরিচয়পত্র, ব্যবহৃত দাপ্তরিক সিল ও ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী পাওয়া যায়।
উদ্ধার করা পরিচয়পত্র, ডিজিটাল তথ্য ও অন্যান্য নথিপত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে জানিয়ে বিজিবি বলেছে, অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টার অভিযোগে আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
৩ দিন আগে
সিলেটে হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু
সিলেটে আজ শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭০ জনে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
হবিগঞ্জের ৫ মাস বয়সী রুপায়ন ও সুনামগঞ্জের ৩ মাস বয়সী অর্পনা—তারা দুজনই সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সন্দেহজনক হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৬১ জন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৫৬৯ জন।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৩ জনে। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ৩৮৫ জন, সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন, হবিগঞ্জে ১৫৩ জন ও মৌলভীবাজারে ১৫৮ জন আক্রান্ত হয়েছে।
এ পর্যন্ত বিভাগে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম রোগে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৭০ জনের।
৫ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তির অভিযোগে সিলেটে যুবক আটক
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে গালিগালাজ ও কটূক্তিমূলক পোস্ট করার অভিযোগে মেহেদী আহমেদ (২১) নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে সিলেট কোতোয়ালী থানার তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) শিমুল চৌধুরীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে মেহেদীকে তার বাসা থেকে আটক করে।
আটক মেহেদী আহমেদ সিলেট নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন নোয়াগাঁও সাদিপুর এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, মেহেদী দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুকে তারেক রহমানকে নিয়ে অশালীন ও আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার এবং গালিগালাজ করে আসছিলেন। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের হলে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে শনাক্ত করে আটক করা হয়।
এ বিষয়ে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল জাকির চৌধুরী বলেন, ফেসবুকে কটূক্তির অভিযোগে একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান তিনি।
৫ দিন আগে
হবিগঞ্জে পূর্ব বিরোধের জেরে যুবককে কুপিয়ে ‘হত্যা’
হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে জায়দুল মিয়া (২৭) নামে এক যুবককে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার মন্দরি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত জায়দুল ওই গ্রামের লোকমান মিয়ার পুত্র।
পুলিশ জানায়, জায়দুল মিয়ার পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন যাবৎ বিরোধ চলে আসছিল একই গ্রামের আব্দুল মজিদের পরিবারের। আজ (শুক্রবার) সকালে জায়দুল তাদের গ্রামের বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাকে একা পেয়ে গতিরোধ করে কিছু লোক। এক পর্যায়ে কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই তাকে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করে।
পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাজমুল হক বলেন, বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তাদের মধ্যে গ্রাম্য আধিপত্য নিয়ে পূর্ব বিরোধ ছিল। পুলিশ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত করছে। দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের এ কর্মকর্তা।
৬ দিন আগে
সাথী হত্যা: সাবেক স্বামীসহ ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড
সিলেটের জাফলংয়ে প্রায় ১৫ বছর আগে পোশাককর্মী রুনা আক্তার সাথী (১৯) হত্যার ঘটনায় তার সাবেক স্বামীসহ দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালতের বিচারক শেখ নাজমুন নাহার এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় দুই আসামি পলাতক ছিলেন বলে জানিয়েছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. কবীর হোসেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন: গাজীপুরের জয়দেবপুর বুরুলিয়া গ্রামের নাজমুল হাসান খান (২৩) এবং তার বন্ধু শেরপুর জেলার শ্রীবরদী লংপাড়া হাওলাচর গ্রামের সুজন মিয়া (২০)।
মামলার নথি অনুযায়ী, ময়মনসিংহের নান্দাইল আসারগাঁও এলাকার নাজমুল হকের মেয়ে রুনা আক্তার সাথী গাজীপুরে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। সেখানে বাসের সহকারী নাজমুল হাসান খানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং বিয়ে হয়। এরপর তাদের একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। পরবর্তীতে ওই সন্তানকে নাজমুল তার বন্ধু সুজন মিয়ার ফুফুর কাছে দত্তক দেন।
এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। সন্তানকে ফিরে পেতে সাথী একাধিকবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। বিচ্ছেদের পরও নাজমুল গার্মেন্টেসে যাওয়া-আসার পথে সাথীকে বিরক্ত করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ছেলের সঙ্গে দেখা করানোর কথা বলে ২০১০ সালের ১২ মে সাথীকে সিলেটে নিয়ে যান তিনি।
পরদিন দুপুরে তাকে জাফলংয়ের সোনাটিলা ফরেস্ট এলাকায় নির্জন স্থানে নিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর ১৫ মে নিহতের বাবা গোয়াইনঘাট থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
তদন্তে পুলিশ পরিদর্শক শহীদুল্লাহ নাজমুল হাসান খানকে গ্রেপ্তার করেন। আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং হত্যার বিস্তারিত বর্ণনা করেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
২০১১ সালের ৩১ জানুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরবর্তীতে নাজমুল জামিনে মুক্তি পান। মামলায় ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) আল আসলাম মুমিন এবং আসামিপক্ষে ছিলেন ফারহানা হাবিব চৌধুরী।
৭ দিন আগে
সিলেটে হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ১৬৮
সিলেটে আজ বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নতুন করে ১৯৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৮ জনে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ৫১৮ জন।
স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে মৃতদের মধ্যে সুনামগঞ্জের দুই শিশু এবং মৌলভীবাজারের এক শিশুর তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন চিকিৎসাধীন ছিল সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
স্বাস্থ্য বিভাগের জেলা-ভিত্তিক হিসাবেও মৃত্যুর ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিলেটে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গে ৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হবিগঞ্জে সন্দেহজনক হামে মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের এবং নিশ্চিত হামে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৌলভীবাজারে হামের উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে ১৪ শিশুর ও নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে এক জনের। অন্যদিকে, সুনামগঞ্জে সন্দেহজনক হামে ৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ১ জনের।
স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, সিলেট বিভাগে এ পর্যন্ত নিশ্চিত ও সন্দেহজনক—দুই ধরনের হিসাব মিলিয়ে মোট ১৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০ জন এবং হামের উপসর্গে ১৫৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
৮ দিন আগে
রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বয়কট সিলেট মহানগর বিএনপির
সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সম্মানে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বয়কট করেছে সিলেট মহানগর বিএনপি।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাষ্ট্রপতি সিলেটে পৌঁছে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। পরে বিকেল সাড়ে ৩টায় তিনি ওই নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
এর আগে সিলেটে প্রবেশের পথে মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা নগরীর সাতটি পয়েন্টে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান। তবে সিটি করপোরেশনের এই অনুষ্ঠান বয়কটের ঘোষণা দেয় মহানগর বিএনপি।
সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন বয়কটের তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ওই অনুষ্ঠানে মহানগর বিএনপির কোনো নেতাকর্মী অংশ নেবেন না।
অন্যদিকে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘যথাযথ প্রক্রিয়ায় নাগরিক কমিটি তৈরি করে সংবর্ধনার আয়োজন না করা ও অনুষ্ঠানের আয়োজকদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে মহানগর বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো সিটি করপোরেশন আয়োজিত এই অনুষ্ঠান বয়কট করেছে।’
দলটির নেতাদের ভাষ্য, রাষ্ট্রপতির সিলেট সফরকে স্বাগত জানিয়ে মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে উপস্থিত থেকে তাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজনের প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি থাকায় মূল অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সিলেটে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রথম সফর এটি।
৯ দিন আগে
খুলনা থেকে ‘অপহৃত’ কলেজছাত্রী সিলেটে উদ্ধার, যুবক গ্রেপ্তার
সিলেট নগরীর আম্বরখানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে খুলনা থেকে অপহরণের দাবি করা এক কলেজছাত্রীকে উদ্ধার করেছে র্যাব-৯। এ ঘটনায় খুলনায় হওয়া একটি অপহরণ মামলার প্রধান আসামি ইমরান মোল্ল্যাকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে সিলেট কোতোয়ালী থানাধীন আম্বরখানা এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালানো হয়।
র্যাব-৯-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার ইমরান মোল্ল্যা খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার নাসিরপুর গ্রামের বাসিন্দা।
র্যাব জানিয়েছে, খুলনার পাইকগাছা উপজেলার একাদশ শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে পরিচয়ের সূত্র ধরে ইমরান তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবে সাড়া না পেয়ে বিভিন্ন সময় তাকে অপহরণের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত ১৮ আগস্ট সকালে ওই শিক্ষার্থী বাড়ি থেকে কলেজের উদ্দেশ্যে বের হয়ে আর ফিরে না এলে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরদিন তারা জানতে পারেন, কলেজের সামনে থেকে তাকে একটি গাড়িতে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে পাইকগাছা থানায় মামলা করেন।
র্যাব জানায়, মামলার পর তারা ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে। এর ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল (রবিবার) রাতে সিলেট কোতোয়ালী থানাধীন আম্বরখানা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় মামলার প্রধান পলাতক আসামি ইমরান মোল্ল্যাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং অপহৃত শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়।
র্যাব আরও জানায়, পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেপ্তার আসামি ও উদ্ধারকৃত শিক্ষার্থীকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
১০ দিন আগে