সিলেট
সিলেটে চার গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ১০
সিলেট নগরীর একটি পথসভায় চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে চার গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষের ছোড়া ঢিলে পুলিশসহ অন্তত ৮ থেকে ১০ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে নগরীর তেমুখি পয়েন্টে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে আশপাশের বেশ কিছু এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল (বুধবার) রাতে তেমুখি পয়েন্টে একটি পথসভায় কুমারগাঁও ও সাহেবের গাঁও গ্রামের দুই দল কিশোরের মধ্যে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে প্রথমে কথা কাটাকাটি হয়। তখন উপস্থিত লোকজন বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। তবে ঘণ্টাখানেক পর উভয় পক্ষ আবারও এ বিষয় নিয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়ে।
একপর্যায়ে কিশোরদের পক্ষ নিয়ে কুমারগাঁও এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে নাজিরের গাঁওয়ের লোকজন একাত্মতা প্রকাশ করলে সাহেবের গাঁওয়ের সঙ্গে চারুগাঁও এলাকার কয়েকজন যোগ দেন। এতে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় প্রায় দেড় ঘণ্টা উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ আরও জানায়, সংঘর্ষের কারণে সিলেট–সুনামগঞ্জ সড়কে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় যান চলাচল শুরু হয়। বর্তমানে এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবীব বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মধ্যরাতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে চার গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। এ সময় পুলিশসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। বর্তমানে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
২ দিন আগে
সিলেটে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলআরোহী যুবক নিহত
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায় মোটরসাইকেলে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় এক তরুণ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের অপর আরোহী গুরুতর আহত হয়েছেন।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার চারখাই ইউনিয়নের বাগবাড়ী মডেল স্কুলের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত বাধন আহমেদ উপজেলার নওয়াখানী গ্রামের বাসিন্দা রুহেল আহমেদের ছেলে। দুর্ঘটনায় আহত মাহিন নিহত বাধন আহমেদের বন্ধু।
স্থানীয়রা জানান, মাইক্রোবাসটির সঙ্গে ধাক্কা লেগে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই বাধন ও মাহিন গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে বাধনের মৃত্যু হয়। আর মাহিনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। সেখানে চিকিৎসা চলছে তার।
বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
৫ দিন আগে
সিলেটের সারি নদে চোরাবালিতে তলিয়ে শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু
সিলেটের জৈন্তাপুরে সারি নদে চোরাবালিতে তলিয়ে গিয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মো: মুসআব আমীন (২৮) শাবিপ্রবির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২২-২০২৩ সেশনের শিক্ষার্থী। তিনি গাজীপুর জেলার কালিয়াকর উপজেলার সকিপুর গ্রামের মো: শহিদুর রহমানের ছেলে।
মুসআব শাকসু নির্বাচনে সৈয়দ মুজতবা আলী হল সংসদে সদস্যপদে প্রার্থী ছিলেন।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, জৈন্তাপুরের সারি নদে আজ (শুক্রবার) সকালের দিকে বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়েছিলেন মুসআব। দুপুরের দিকে সারি নদের সাহেবমারা এলাকায় বন্ধুদের সঙ্গে নদের পানিতে গোসলে নেমেছিলেন তিনি। এ সময় নদের পানির নিচে চোরাবালিতে তলিয়ে যান। তাৎক্ষণিকভাবে সঙ্গে থাকা বন্ধুরা খোঁজাখুঁজি করে তাকে পাচ্ছিলেন না।
খবর পেয়ে জৈন্তাপুর উপজেলার ফায়ার সার্ভিস ও জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশের দুটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে বিকাল ৪টার দিকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করে।
জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহবুবুর রহমান মোল্লা জানান, সংবাদ পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের টিম ঘটনাস্থলে পৌছে দীর্ঘ তিন ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়ে নিখোঁজ ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করে। আমরা ময়নাতদন্ত করার জন্য মরদেহটি সিলেট এম এ জি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছি।
৮ দিন আগে
ভোটের মাঠে অনড় সিলেট বিভাগীয় বিএনপির ৫ বিদ্রোহী প্রার্থী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল গতকাল (মঙ্গলবার)। সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনে মোট ২৬ জন প্রার্থী এদিন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া বিএনপির ৫ বিদ্রোহী শেষ দিনেও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। শেষ পর্যন্ত ভোটের লড়াইয়ে অনড় রয়েছেন তারা।
ওই পাঁচ প্রার্থী হলেন— সিলেট-৫ আসনে জেলা বিএনপির সদ্য বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি মামুনুর রশীদ (চাকসু মামুন), হবিগঞ্জ-১ আসনে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত, মৌলভীবাজার-৪ আসনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সাবেক মেয়র মহসিন মিয়া মধু, সুনামগঞ্জ-৩ আসনে জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন এবং সুনামগগঞ্জ-৪ জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন।
বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে এই পাঁচ আসনে বিএনপি ও তাদের জোটের প্রার্থীদের বিপাকে পড়তে হতে পারে বলে মত স্থানীয় রাজনীতি-সচেতন মানুষের।
সিলেট জেলার মধ্যে একমাত্র বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মামুনুর রশীদ। যিনি চাকসু মামুন নামে পরিচিত। তিনি সিলেট-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় মামুনকে দল থেকে সম্প্রতি বহিষ্কার করা হয়েছে। এই আসনটি জোটসঙ্গী জমিয়ত ইসলামকে ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। জমিয়তের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক এখানে প্রার্থী হয়েছেন।
মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনে বিএনপি নেতা শ্রীমঙ্গল পৌরসভার চেয়ারম্যান মো. মহসিন মিয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। আর এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরী।
সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ) আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য কয়ছর এম আহমদ। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন।
সুনামগঞ্জ-৪ (সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) বিএনপির প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন।
তবে সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক ও দোয়ারাবাজার) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও ছাতক উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী মিজান মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া। এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়া।
১৭ দিন আগে
তারেক রহমানের আগমন ঘিরে সিলেটে উৎসবের আমেজ
আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সিলেট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করছে বিএনপি। এ লক্ষ্যে আজ বুধবার সিলেট যাচ্ছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে পুরো সিলেট বিভাগজুড়ে উৎসবের আমেজ শুরু হয়েছে।
দীর্ঘ ২২ বছর পর তারেক রহমানের সিলেট সফরকে কেন্দ্র করে পুরো বিভাগ উৎসবমুখর। থানা, জেলা ও বিভাগীয় সদরে ঘণ্টায় ঘণ্টায় বের হচ্ছে প্রচার মিছিল। বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন ছাড়াও জোটভুক্ত দলগুলো প্রচার মিছিল করছে। শুধু সিলেট নয়, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জেও রাজনীতির মাঠ সরগরম হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ সতর্কতা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ছয় স্তরের নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা।
দলীয় সূত্র, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
সিলেটের সমাবেশ শেষে ঢাকায় ফেরার পথে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলেও জনসভায় ভাষণ দেবেন তারেক রহমান।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারেক রহমান আজ (বুধবার) রাতে আকাশপথে সিলেটে পৌঁছাবেন। তার সঙ্গে আসবেন দলের কেন্দ্রীয় পর্যয়ের স্থানীয় কয়েকজন নেতাও। আগামীকাল সকাল ১০টায় সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে বিএনপির জনসভা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ওই সভার মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে দলটির নির্বাচনি প্রচারণা।
১৭ দিন আগে
ওসমানী হাসপাতালে ইন্টার্নদের কর্মবিরতি অব্যাহত, রোগীদের ভোগান্তি
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে আসা রোগী ও তাদের স্বজনেরা।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সকাল থেকে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে ইন্টার্নদের উপস্থিতি কম দেখা যায়। বহির্বিভাগে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অনেক রোগী চিকিৎসক দেখা পাননি। জরুরি বিভাগে চিকিৎসা পেলেও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় সেবা নিতে বিলম্ব হচ্ছে বলে অভিযোগ রোগীদের।
হাসপাতালে আসা কয়েকজন রোগীর স্বজন জানান, দূরদূরান্ত থেকে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেকেই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও প্রাথমিক চিকিৎসা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে কষ্ট বেড়েছে।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু দাবি আদায়ে তারা এই কর্মবিরতিতে গেছেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা। তবে জরুরি রোগীদের সেবা ব্যাহত না করতে সীমিত পরিসরে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
হাসপাতাল প্রশাসন বলছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনও পূর্ণমাত্রায় সেবা স্বাভাবিক হয়নি।
এর আগে, শুক্রবার রাতে এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় টানা কর্মবিরতিতে রয়েছেন হাসপাতালটির ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। ঘটনার পর তিনজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমাদের কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে। এটি আমরা প্রত্যাহার করিনি, কারণ হাসপাতাল প্রশাসন এখনও আমাদের এই আশ্বাস দিতে পারেনি যে তারা চিকিৎসকদের জন্য নিরাপত্তা বাড়াবে বা কী পরিমাণ ফোর্স (নিরাপত্তা বাহিনী) তারা আমাদের দেবে।’
তিনি বলেন, ‘আজকে আবারও প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। আশা করি, বৈঠকের পর একটি সিদ্ধান্ত আসলে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করবেন।’
এদিকে, শুক্রবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে হাসপাতালে নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে সিলেট হাসপাতাল প্রশাসন।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঈনুল জাকির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘হাসপাতাল প্রশাসন থেকে তিনজনের নাম উল্লেখ করে জিডি করে গিয়েছেন। আটক হওয়া তিন আসামিকে আমরা ইতোমধ্যে ৫৪ ধারায় আদালতে সোর্পদ করেছি।’
অন্যদিকে, নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির বলেন, ‘হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মীদের নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ঘটনার পর থেকেই হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখছে। আশা করছি, দ্রুত একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো যাবে।’
২০ দিন আগে
সিলেট নগরীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২ যুবক নিহত
সিলেট নগরীর তালতলা এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই তরুণ নিহত হয়েছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— সিলেট নগরীর মির্জাজাঙাল এলাকার বাসিন্দা ইমন দাস এবং জিন্দাবাজার এলাকার বাসিন্দা গৌরাঙ্গ দাসের ছেলে দীপ্ত দাস। দীপ্ত দাস একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিল।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের তালতলা শাখা জানায়, রাত ১টা ২৫ মিনিট থেকে ১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় পড়ে। দুর্ঘটনায় ২২ থেকে ২৩ বছর বয়সী দুই তরুণ ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) খোরশেদ আলম জানান, নিহতদের লাশ ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। পরিবারের সঙ্গে আলোচনার পর ময়নাতদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে, গতকাল (শনিবার) সকালে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগরে তিনটি বাসের সংঘর্ষে দুজন নিহত হন। সুনামগঞ্জ সড়কে বাস ও পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে আরও একজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া জকিগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিশুর প্রাণহানি ঘটে। রাতে তালতলার দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যুতে একদিনে মোট ছয়জনের মৃত্যু দেখল সিলেটবাসী।
২০ দিন আগে
সুনামগঞ্জে বাস-পিকআপ সংঘর্ষ, পিকআপচালক নিহত, আহত ৮
সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তি পিকআপ ভ্যানটির চালক ছিলেন। এ দুর্ঘটনায় বাসচালকসহ অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ এলাকার ঘোড়ারগাঁও গ্রামে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রাকিব হোসেন যশোরের মনিরামপুর উপজেলার বেগারিতলা বাজার এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সুনামগঞ্জগামী এনা পরিবহনের একটি বাস ঘোড়ারগাঁও এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের ফলে পিকআপ ভ্যানটি দুমড়ে-মুচড়ে রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে এবং এনা পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের একটি ছোট খালে পড়ে যায়। এ সময় পিকআপের চালক ঘটনাস্থলেই নিহত হন। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা এগিয়ে গিয়ে বাসের ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধার কাজ শুরু করেন। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়।
দুর্ঘটনায় আহত ৮ জনের মধ্যে বাসের চালক ও পিকআপের সামনের আসনে থাকা এক যাত্রী গুরুতর আহত হন। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের স্থানীয় ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
জয়কলস হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কুমার চৌধুরী জানান, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে হাইওয়ে ফাঁড়িতে নিয়ে আসি। বর্তমানে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। নিহতের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে, তারা যশোর থেকে সুনামগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।’
দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটি সরিয়ে নিয়ে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করা হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। এই ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন ওসি সুমন কুমার চৌধুরী।
২১ দিন আগে
ওসমানী হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা, প্রতিবাদে কর্মবিরতি
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দায়িত্বরত এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। হামলার অভিযোগে এখন পর্যন্ত ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) মধ্যরাতে হাসপাতালের চতুর্থ তলার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই কর্মবিরতি পালন করছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গতকাল (শুক্রবার) রাত ১১টার দিকে সার্জারি বিভাগের ওই ওয়ার্ডে ভর্তি এক রোগীর স্বজনদের সঙ্গে দায়িত্বরত ইন্টার্ন চিকিৎসকের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে রোগীর স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে ওই চিকিৎসকের ওপর হামলা চালান। এতে ওই চিকিৎসক হেনস্তার শিকার হন।
ঘটনার পরপরই হাসপাতালে থাকা অন্যান্য ইন্টার্ন চিকিৎসকরা সেখানে পৌঁছে এক নারী ও ২ পুরুষকে আটক করেন এবং পরে তাদের পুলিশে দেন। পরবর্তী সময়ে রাত ১টার দিকে হামলার প্রতিবাদে কর্মবিরতির ঘোষণা দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
আজ সকাল ১০টার দিকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত হাসপাতালের পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ ছিল।এদিকে সেবা না পেয়ে অনেক রোগীকে অন্যত্র নিয়ে যেতে দেখা যায় তাদের স্বজনদের। তবে আরও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আজ সকাল থেকেই হাসপাতালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এ ঘটনায় চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হাসপাতালের চিকিৎসকরা। তারা দোষীদের দ্রুত শাস্তির দাবি এবং চিকিৎসার পরিবেশ নিরাপদ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে শনিবার সকালে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনিরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তবে তিনি ফোন ধরেননি।
সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল জাকির জানান, কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সেজন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশি নিরাপত্তা রয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ হাসপাতাল থেকে ৩ জনকে আটক করেছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে থানায় কেউ এখনও অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পাওয়ার পর আটকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২১ দিন আগে
সিলেটে তিন বাসের সংঘর্ষ, নিহত ২
সিলেটের ওসমানীনগরে তিন বাসের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১০ জন।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল ৭টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের পরিচয় জানা যায়নি।
তবে নিহত দুজন শ্যামলি বাসের চালক ও হেল্পার বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
পুলিশ জানায়, সকাল ৭টার দিকে সিলেট থেকে ঢাকাগামী এনা পরিবহন ও ইউনিক পরিবহনের সঙ্গে গাইবান্ধা থেকে সিলেটগামী শ্যামলী পরিবহনের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ২ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন ১০ জন। দুর্ঘটনায় এনা ও শ্যামলী পরিবহনের বাস দুটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
খবর পেয়ে ওসমানীনগরের তাজপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল, থানা ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
এদিকে, দুর্ঘটনার পর সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ঘটনার প্রায় ৩ ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোনায়েম মিয়া জানান, হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
২১ দিন আগে