ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহে শাশুড়িকে হত্যার দায়ে যুবকের মৃত্যুদণ্ড
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় শাশুড়ি জ্যোৎস্না রানীকে (৬৫) হত্যার দায়ে তার জামাই সুজিত শীলকে (৪২) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) দুপুরে ময়মনসিংহের বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফারহানা ফেরদৌস এ রায় দেন। ময়মনসিংহ আদালতের পরিদর্শক মোস্তাসিনুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, হালুয়াঘাট উপজেলার কৈচাপুর বোর্ড বাজার গ্রামের বাসিন্দা সুজিতের সঙ্গে তার স্ত্রী ইতি রানী শীল ও শাশুড়ি জ্যোৎস্না রানীর পারিবারিক বিষয় নিয়ে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। এর জেরে ২০২১ সালে ৬ অক্টোবর রাতে বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে গেলে সুজিত তার স্ত্রী ইতিকে হত্যার উদ্যেশে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন। এ সময় সুজিতের শাশুড়ি বিষয়টি টের পেলে তাকেও দা ও ছুরি দিয়ে কুপিয়ে আহত করেন তিনি।
তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরদিন সকালে জ্যোৎস্না রানী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
এ ঘটনায় ইতির বড় বোন সন্ধ্যা রানী শীল বাদী হয়ে হালুয়াঘাট থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। সেই মামলার যুক্তিতর্ক ও সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আজ (বুধবার) দুপুরে বিশেষ দায়রা জজ আদালত এ রায় দেন।
২ ঘণ্টা আগে
ময়মনসিংহের দুটি ইউনিয়নে পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় পাহাড়ি ঢলে ঘোড়াঘাট নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গাজীরভিটা ও ভূবনকুড়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) রাত থেকে টানা বৃষ্টিতে গারো পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকায় পানি প্রবেশ করায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পাহাড়ি ঢলের কারণে ঘোড়াঘাট নদীর পানি বেড়ে কয়েকটি গ্রামের নিম্নাঞ্চল ও কৃষিজমি প্লাবিত হয়েছে। দ্রুত পানি প্রবেশ করায় আরও বাড়ি-ঘরে পানি প্রবেশের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অনেকে পরিবার নিয়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ জানান, সীমান্তবর্তী গাজীরভিটা ও ভূবনকুড়া পয়েন্ট দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে। এতে দুই ইউনিয়নের দুটি কাঁচা রাস্তা ভেঙে গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
২ ঘণ্টা আগে
মমেক হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ শিশুর মৃত্যু
হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই হাসপাতালে মোট ৩১ শিশুর মৃত্যু হলো।
এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৩ শিশু ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে মোট ৯৬ শিশু। আইসোলেশন ওয়ার্ডে শয্যা সংকট থাকায় রোগীরা হাসপাতালের মেঝেতে ও বারান্দায় স্থান নিয়েছে।
হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকালপারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে গত ২৪ ঘন্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৩ মাস ও ১০ মাস বয়সী দুই ছেলে শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
তিনি জানান, গত ১১ মে জামালপুরের সদর থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে ৩ মাস বয়সী এক ছেলে শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি হয়। তাকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ মে বিকেলে হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত জটিলতায় শিশুটি মারা যায়।
এছাড়া, গত ৫ মে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে ১০ মাস বয়সী এক ছেলে শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি হয়। তাকেও যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত জটিলতায় তাকেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি। আজ (বুধবার) ভোরে মৃত্যু হয় তার।
ডা. গোলাম মাওলা আরও জানান, গত ১৭ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ১ হাজার ২৯৩ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ১৬৬ শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে এবং ৩১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৮ শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
তিনি বলেন, সর্বনিম্ন ৩ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছে। তবে হাসপাতালে ৩ মাস থেকে ১ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা বেশি।
এ বিষয়ে মমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সব রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এই হাসপাতালে লোকবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে শিশুদের জন্য নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) এখনও চালু করা সম্ভব হয়নি । তবে বর্তমানে বাবল সিপ্যাপের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
৮ ঘণ্টা আগে
মমেক হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু
হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে গত ২৪ ঘন্টায় আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই হাসপাতালে মোট ২৯টি শিশুর মৃত্যু হলো।
এছাড়া সোমবার (১১ মে) থেকে আজ মঙ্গবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৬ শিশু ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে মোট ৯৬টি শিশু। আইসোলেশন ওয়ার্ডে শয্যা সংকট থাকায় রোগীরা হাসপাতালের মেঝেতে ও বারান্দায় স্থান নিয়েছে।
হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকালপারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে গত চব্বিশ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৭ মাস বয়সী আরও এক ছেলে শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
তিনি জানান, রবিবার (১০ মে) ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে সাত মাস বয়সী এক শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি হয়। তাকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। এরই মধ্যে সোমবার (১১ মে) বিকালে হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত ব্যর্থতায় শিশুটি মারা যায়।
গোলাম মাওলা বলেন, গত ১৭ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ১ হাজার ২৭০ শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ১ হাজার ১৪৫ শিশু আর মৃত্যু হয়েছে ২৯ শিশুর। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে আরও ২৮ শিশু।
তিনি আরও বলেন, সর্বনিম্ন ৩ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। তবে হাসপাতালে ৩ মাস থেকে ১ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা বেশি।
এ বিষয়ে মমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সব রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
তিন আরও বলেন, এই হাসপাতালে লোকবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে শিশুদের আইসিইউ এখনও চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমানে চিকিৎসায় বাবল সিপ্যাপের ব্যবহার করা হচ্ছে।
১ দিন আগে
হামের উপসর্গ নিয়ে মমেকে আরও এক শিশুর মৃত্যু
হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই হাসপাতালে মোট ২৮ শিশুর মৃত্যু হলো।
এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে নতুন করে আরও ২৪ শিশু ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে মোট ৮৯ শিশু। আইসোলেশন ওয়ার্ডে শয্যা সংকট থাকায় রোগীরা হাসপাতালের মেঝেতে ও বারান্দায় স্থান নিয়েছেন।
হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকালপারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গত ৮ মে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে সাত মাস বয়সী এক মেয়ে শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (১১ মে) ভোরে হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত জটিলতায় শিশুটি মারা যায়।
তিনি আরও জানান, গত ১৭ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে এ হাসপাতালে মোট ১ হাজার ২৪৪ শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ২৭ শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। এবং ২৮টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৫টি শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে।
তিনি বলেন, হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে বর্তমানে হাসপাতালে সর্বনিম্ন ৩ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী রোগী ভর্তি আছে। তবে ৩ মাস থেকে ১ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা বেশি।
এ বিষয়ে মমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সব রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এই হাসপাতালে লোকবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে শিশুদের জন্য নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) এখনও চালু করা সম্ভব হয়নি । তবে বর্তমানে বাবল সিপ্যাপের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
২ দিন আগে
জামালপুরে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে জামালপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন। জরিমানা আদায় করে ভুক্তভোগীকে দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেছেন তিনি।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার শীলদহ গ্রামের মো. শিপন (২১), মো. ইব্রাহিম (২৭) ও মো. ইউসুফ আলী (২২) ।
রাষ্টপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-১-এর সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট ফজলুল হক এবং আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. মাহফুজুর রহমান মন্টু ও হাফিজুর রহমান হিরু মিয়া।
অ্যাডভোকেট ফজলুল হক জানান, ইসলামপুর উপজেলার শিলদহ গ্রামের প্রতিবেশী যুবকের সঙ্গে ভুক্তভোগীর প্রেমের সম্পর্ক হয়। তার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ১৯ এপ্রিল রাত ৯টার দিকে তারা বাড়ির কাছাকাছি এক জঙ্গলে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন করেন। ঘটনাস্থলের পাশেই ওঁৎ পেতে থাকা শিপন, ইব্রাহিম ও ইউসুফ হঠাৎ সেখানে উপস্থিত হলে সাদিক ভুক্তভোগীকে একা ফেলে দৌড়ে পালিয়ে যান। সুযোগ পেয়ে এবং তাদের বিষয়টি সবাইকে বলে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে শিপন, ইব্রাহিম ও ইউসুফ ভুক্তভোগীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন।
পরে ভুক্তভোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ধর্ষকরা তাকে রাত ১০টার দিকে বাড়ির সামনে রেখে পালিয়ে যান। এরপর ভুক্তভোগী বাড়িতে গিয়ে ঘটনার বিস্তারিত তার পরিবারকে জানায়।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীর বাবা ৪ জনকে আসামী করে ইসলামপুর থানায় একটি মামলা করেন। মামলার পর আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হলে তারা বিচারকের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
মামলার দুই বছর পর ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত আজ (বৃহস্পতিবার) এ রায় ঘোষণা করেন। প্রেমিক যুবকটির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাকে খালাস দিয়েছেন।
৬ দিন আগে
ধর্ষণে মাদরাসাছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা: নেত্রকোনায় অভিযুক্ত শিক্ষক গ্রেপ্তার
নেত্রকোণার মদনে ১১ বছর বয়সী মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত হযরত ফাতেমা তুজ-জোহরা মহিলা কওমী মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন—র্যাব।
বুধবার (৬ মে) ভোর সোয়া ৪টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে র্যাব-১৪ তাকে গ্রেপ্তার করে। এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাব-১৪ এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান।
নয়মুল হাসান বলেন, শিক্ষকের পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় ওই শিশু শিক্ষার্থী এখন সাত মাসের অন্ত্বঃসত্ত্বা। সম্প্রতি ১১ বছর বয়সী ওই শিশুটির শারিরীক গঠন দেখে তার মায়ের সন্দেহ হয়। গত ১৮ এপ্রিল শিশুটির পরিবার তাকে স্থানীয় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যায়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক জানান, শিশুটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এরপর বাড়িতে আসার পর শিশুটি জানায়, গত ২ অক্টোবর বিকেলে মাদরাসা ছুটির পর ওই শিক্ষক তাকে মসজিদের বারান্দা ঝাড়ু দিতে নিয়ে যান। এ সময় নির্জন স্থান পেয়ে ওই শিক্ষক তাকে তার কক্ষে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে তিনি তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য তাকে ভয়ভীতি দেখান ওই শিক্ষক।
এরপর গত ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা করেন। ধর্ষণের ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্ত শিক্ষক গা ঢাকা দেন। এরপর প্রযুক্তির সহযোগিতায় র্যাব-১৪-এর সদস্যরা তাকে ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর থেকে গ্রেপ্তার করেন।
এদিকে, গ্রেপ্তার এড়াতে ফেসবুকে লাইভে এসে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন অভিযুক্ত শিক্ষক। তিনি এটিকে চক্রান্ত বলে দাবি করেছেন।
অপরদিকে, পরীক্ষার মাধ্যমে শিশুটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা নিশ্চিত করায় ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এক নারী চিকিৎসককে অভিযুক্ত শিক্ষক হুমকি দিয়েছেন বলে ফেসবুক লাইভে এসে নিজের নিরাপত্তা চেয়েছেন ওই চিকিৎসক।
র্যাব জানায়, শিশুটি পরিবারের একমাত্র কন্যা সন্তান। দীর্ঘদিন ধরে শিশুটির বাবা তার মাকে ফেলে নিরুদ্দেশ। তার মা জীবিকার তাগিদে সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। নানির সঙ্গে থেকে শিশুটি ওই মাদরাসায় পড়াশোনা করত।
৭ দিন আগে
ময়মনসিংহে ট্রাকচাপায় অটোরিকশার ৪ যাত্রী নিহত
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলায় ট্রাকের চাপায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার ৪ যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ২ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার (৪ মে) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার মনতলা সমিতিঘর এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের পরিচয় জানা যায়নি। তবে, হতাহতরা সবাই অটোরিকশার যাত্রী বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যাত্রীবাহী অটোরিকশাটি ময়মনসিংহ-মুক্তাগাছা সড়কের মনতলা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই অটোরিকশার ৩ যাত্রী নিহত হন এবং গুরুতর আহত হন আরও অন্তত ৩ জন।
আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে আরেকজনের মৃত্যু হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে।
মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান বলেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা সাধারণত অতিরিক্ত গতি ও অসতর্ক ওভারটেকিংয়ের কারণে ঘটে থাকে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
৯ দিন আগে
ময়মনসিংহে ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত ১
ময়মনসিংহে রেললাইনে হাঁটার সময় ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে।
রবিবার (৩ মে) সকাল ১০টার দিকে শহরতলীর শম্ভুগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আকতার হোসেন বলেন, আনুমানিক ৪৭ বছরের ওই ব্যক্তি সকালে শম্ভুগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় রেললাইন দিয়ে হাঁটাহাঁটি করছিলেন। সকালে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা হাওর এক্সপ্রেস নামের যাত্রীবাহী ট্রেনটি ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। সকাল ১০টার দিকে ওই এলাকা পার হওয়ার সময় ট্রেনে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন ওই ব্যক্তি।
ওসি মো. আকতার হোসেন আরও বলেন, মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
১০ দিন আগে
ময়মনসিংহের পাঁচবারের সাবেক এমপি মোসলেম উদ্দিন আর নেই
ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনের আওয়ামী লীগ নেতা ও দলটি থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য হওয়া অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিন মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।
শনিবার (২ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
মোসলেম উদ্দিন ফুলবাড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, গণপরিষদের সাবেক সদস্য, জাতীয় সংসদ সদস্য ও ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি তিন ছেলে, দুই মেয়েসহ আত্মীয়-স্বজন ও বহু গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়লে মোসলেম উদ্দিনকে জাপান- বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
তার ছেলে ইমদাদুল হক সেলিম বলেন, ঢাকার ধানমণ্ডির তাকওয়া মসজিদে বাদ যোহর তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া আগামীকাল (রবিবার) সকাল ১০টায় ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতিতে, বিকেল ৩টায় ফুলবাড়ীয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে, বিকেল ৫টায় আলহাজ্ব মো. মোসলেম উদ্দিন এতিমখানা মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে নিউগী কুশমাইলের নিজ বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ময়মনসিংহ-৬ থেকে ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এই নেতা।
১১ দিন আগে