ময়মনসিংহ
শেরপুরে আবাসিক ভবনে মজুদ ১৮ হাজার লিটার ডিজেল, ব্যবসায়ীকে জরিমানা
নিয়মবহির্ভূতভাবে আবাসিক ভবনে জ্বালানি তেল মজুদ রেখে ব্যবসা পরিচালনা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকার অভিযোগে শেরপুরে এক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শেরপুর জেলা শহরের গোয়ালপট্টি এলাকার মেসার্স শিমলা ট্রেডার্সে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার মো. মাহমুদুল হাসান এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন।
অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় শিমলা ট্রেডার্সের মালিক তাপস নন্দীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন তিনি। একইসঙ্গে আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে মজুদ রাখা ডিজেল ও কেরোসিন নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি আবাসিক ভবনে স্থায়ীভাবে জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধের নির্দেশ দেন আদালত।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, ব্যবসায়ী তাপস নন্দী ও শফিকুল ইসলাম হেলালের মালিকানাধীন মেসার্স শিমলা ট্রেডার্স দীর্ঘদিন ধরে পাইকারি ও খুচরা মূল্যে প্রান্তিক কৃষক ও দোকানদারদের কাছে ডিজেল ও কেরোসিন বিক্রি করে আসছিলেন। তারা আবাসিক ভবনের নিচে প্রায় ২৭ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার একটি বড় ট্যাংক নির্মাণ করেছেন। সেখানে প্রায় ১৮ হাজার লিটার ডিজেল মজুদ রাখা হয়েছিল। এছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তরসহ কয়েকটি সরকারি দপ্তরের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্রও তাদের কাছে পাওয়া যায়নি।
অভিযানের সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন আক্তার, জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার সেলিম রেজা এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানাসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, খুচরা দোকানে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুদের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নানা অনিয়ম পাওয়া গেছে। এ কারণে পেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬-এর ২০ ধারায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কাগজপত্র যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিয়মবহির্ভূতভাবে আবাসিক ভবনে জ্বালানি তেল মজুদ রেখে ব্যবসা পরিচালনা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকার অভিযোগে শেরপুরে এক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শেরপুর জেলা শহরের গোয়ালপট্টি এলাকার মেসার্স শিমলা ট্রেডার্সে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার মো. মাহমুদুল হাসান এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন।
অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় শিমলা ট্রেডার্সের মালিক তাপস নন্দীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন তিনি। একইসঙ্গে আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে মজুদ রাখা ডিজেল ও কেরোসিন নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি আবাসিক ভবনে স্থায়ীভাবে জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধের নির্দেশ দেন আদালত।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, ব্যবসায়ী তাপস নন্দী ও শফিকুল ইসলাম হেলালের মালিকানাধীন মেসার্স শিমলা ট্রেডার্স দীর্ঘদিন ধরে পাইকারি ও খুচরা মূল্যে প্রান্তিক কৃষক ও দোকানদারদের কাছে ডিজেল ও কেরোসিন বিক্রি করে আসছিলেন। তারা আবাসিক ভবনের নিচে প্রায় ২৭ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার একটি বড় ট্যাংক নির্মাণ করেছেন। সেখানে প্রায় ১৮ হাজার লিটার ডিজেল মজুদ রাখা হয়েছিল। এছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তরসহ কয়েকটি সরকারি দপ্তরের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্রও তাদের কাছে পাওয়া যায়নি।
অভিযানের সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন আক্তার, জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার সেলিম রেজা এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানাসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, খুচরা দোকানে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুদের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নানা অনিয়ম পাওয়া গেছে। এ কারণে পেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬-এর ২০ ধারায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কাগজপত্র যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১ দিন আগে
জামালপুরে ভাসমান সেতু উল্টে ৫ শিশু নিহত
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর নির্মিত ভাসমান সেতু ধসে নিখোঁজ আরও দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এতে করে ওই দুর্ঘটনায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচজনে দাঁড়িয়েছে।
শনিবার (২১ মার্চ) বিকেলে দেওয়ানগঞ্জ থানা মোড় এলাকায় আনন্দভ্রমণে আসা অতিরিক্ত মানুষের চাপে সেতুটি উল্টে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলো— দেওয়ানগঞ্জের ডাকাতিয়াপাড়া গ্রামের জয়নাল আবেদীনের মেয়ে মায়ামনি (১০) ও ছেলে হাফেজ মিহাদ (১৬); ঝালুরচর এলাকার শের আলীর ছেলে আব্দুল মোতালেব (৮) ও মেয়ে খাদিজা (১৪) এবং বেলতলি এলাকার হাবিবুল্লাহর ছেলে আবির হোসেন (১৫)।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ড্রাম ও বাঁশ দিয়ে নির্মিত ভাসমান সেতুটিতে নারী ও শিশুসহ অসংখ্য মানুষ উঠে পড়ে। অতিরিক্ত মানুষের চাপে সেতুর পশ্চিমাংশের বড় একটি অংশ হঠাৎ উল্টে যায়। এতে শতাধিক মানুষ পানিতে পড়ে যান। তাদের অধিকাংশই সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও বেশ কয়েকটি শিশু নিখোঁজ হয়।
খবর পেয়ে দেওয়ানগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা দর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। পরে জামালপুর থেকে ডুবুরি দল এসে অভিযানে অংশ নেয়। রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ছয় শিশুকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পাঁচজনকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্য এক শিশুকে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
দেওয়ানগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের লিডার মুবিন খান জানান, আর কোনো নিখোঁজ না থাকায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।
দুর্ঘটনার পর রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জামালপুরের নবাগত পুলিশ সুপার ফারহানা ইয়াসমিন। তিনি জানান, ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত মানুষ সেতুতে ওঠায় এবং কয়েকজন রেলিং ধরে ঝুলে থাকায় ভারসাম্য হারিয়ে সেতুটি উল্টে যায়। তিনি জনসাধারণকে চলাচলে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে, দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোকে সান্ত্বনা দিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি প্রত্যেক নিহতের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দেন।
একসঙ্গে পাঁচ শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
৬ দিন আগে
স্বামীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
স্বামীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ রায় দেন। রায়ে একজনকে বেকসুর খালাসও দেওয়া হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামিরা হলেন— সদরের পাকুল্যা মধ্যপাড়া গ্রামের মো. ফারুক হোসেন, মুনছুর আলী ও ফেরদৌস হোসেন। এছাড়া অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস পেয়েছেন একই এলাকার জাহিদুল ইসলাম।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট ফজলুল হক জানান, ২০২৩ সালের ১৯ জুলাই রাতে জামালপুর সদর উপজেলার পাকুল্লা এলাকায় স্বামীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করেন আসামিরা।
তিনি জানান, এ ঘটনার পরদিন ভুক্তভোগী বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা করেন। চারজন সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষে আসামিদের অনুপস্থিতিতে আদালত তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং একজনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন। এছাড়া প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
১৭ দিন আগে
ময়মনসিংহে দীপু দাস হত্যায় গ্রেপ্তার আরও ২
ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম নিয়ে কটুক্তির অভিযোগ তুলে পোশাক শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
বুধবার (৪ মার্চ) রাতে ভালুকার পৃথক দুটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবদুল্লাহ আল মামুন।
গ্রেপ্তাররা হলেন— ভালুকার বাটাজোর ডাকুরিয়া এলাকার সিয়াম আহম্মেদ (১৯) এবং হবিরবাড়ী ইউনিয়নের কড়ইতলা মোড় এলাকার আব্দুল্লাহ (২৮)।
পুলিশ জানায়, দীপু দাস হত্যার পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল (বুধবার) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাটাজোর ডাকুরিয়া এলাকা থেকে সিয়ামকে এবং রাত ১০টার দিকে জামিরদিয়া এলাকা থেকে আব্দুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন দীপুর মরদেহ যখন স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকায় মেইন রোডের পাশে গাছে ঝুলানো ছিল, তখন গ্রেপ্তার এই দুই আসামি সেখানে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন। তারা রশি টেনে মরদেহ নিয়ে স্লোগান দেন এবং উপস্থিত জনতাকে উত্তেজিত করে তোলেন। শুধু তাই নয়, উত্তেজিত জনতাকে উস্কানি দিয়ে মরদেহের ওপর নির্যাতন চালাতে তারা মুখ্য ভূমিকা পালন করেন বলে জানায় ডিবি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডে এখন পর্যন্ত সর্বমোট ২৫ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১২ জন আসামি ইতোমধ্যে আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
২৩ দিন আগে
ক্ষমতার দাপট দেখানো সেই চেয়ারম্যান স্বপদে ফিরলেন, শাস্তি পেলেন ইউএনও
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বরখাস্ত হওয়া নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান ভুঁইয়া আদালতের রায়ে স্বপদে ফিরেছেন।
রবিবার (১ মার্চ) নেত্রকোনার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. আরিফুল ইসলাম সরদারের সই করা এক আদেশে তাকে স্বপদে বহালের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিকে, একই দিনে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মীর সই করা এক প্রজ্ঞাপনে কলমাকান্দা ইউএনও মাসুদুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়। তাকে প্রত্যাহার করে পরবর্তী পদায়নের জন্য বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়।
নেত্রকোনার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. আরিফুল ইসলাম সরদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সাইদুর রহমান ভুঁইয়া জেলার কলমাকান্দা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার লেংগুড়া বাজারে সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধভাবে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ ওঠে চেয়ারম্যানের ভাই মো. পারভেজসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১৭ জানুয়ারি বিকেলে ইউএনও মাসুদুর রহমান ওই এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। অভিযানে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের দায়ে মো. পারভেজকে আটক করা হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ভ্রাম্যমাণ আদালত চলাকালে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন সাইদুর রহমান ভুঁইয়া। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের লোকজনের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তিনি ইউএনওকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘কার অনুমতিতে এসেছেন? আমার ইউনিয়নে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে হলে আগে আমাকে জানাতে হবে।’ তখন ইউএনও বলেন, ‘এটা কোন আইনে আছে?’ পাল্টা জবাবে তিনি বলেন, ‘চেয়ারম্যানের আইনে আছে।’
এমন কথোপকথনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে চারদিকে সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরে গণমাধ্যমেও এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়। এদিকে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানান ইউএনও।
পরদিন স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মো. মোতাছেম বিল্যাহর সই করা এক প্রজ্ঞাপনে চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূঁইয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে ওই ইউনিয়নে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়।
এদিকে, ২০ জানুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সামিউল আমিনের সই করা প্রজ্ঞাপনে ইউএনও মাসুদুর রহমানকে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এই খবর পেয়ে ইউএনওর বদলির আদেশ বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন করে স্থানীয় লোকজন। পরে বদলির আদেশ বাতিল করা হয়।
অন্যদিকে, চেয়ারম্যান পদ ফেরত চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট করেন সাইদুর রহমান ভুঁইয়া। গত ২৫ জানুয়ারি আদালত তার সাময়িক বরখাস্তের আদেশ স্থগিত করেন। পরে গতকাল (রবিবার) সাইদুর রহমানকে স্বপদে বহালের আদেশ দেয় নেত্রকোনার স্থানীয় সরকার বিভাগ। পাশাপাশি ওই ইউনিয়নে প্রশাসক নিয়োগের আদেশ বাতিল করা হয়।
২৬ দিন আগে
জামালপুরে সিএনজি-অটোরিকশার সংঘর্ষে শিশু নিহত
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় মাহেন্দ্রর (ট্রাক্টর) সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে এক শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় অটোরিকশার যাত্রী আরও ৩ নারী আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সোয়া ৮টার দিকে উপজেলার ক্ষুদ্র জোনাইল মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত জাহিন (৮) জোনাইলের ফকিরবাড়ী গ্রামের মামুনুর রশীদের ছেলে।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, দুর্ঘটনার সময় জামালপুর থেকে ৪ জন যাত্রী নিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে মাহেন্দ্রর সঙ্গে ধাক্কা লেগে উল্টে যায়। এতে অটোরিকশায় থাকা চারজনই গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মাদারগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জাহিনকে মৃত ঘোষাণা করেন।
এছাড়া সামিরা (৪০), সেলিনা (৩৫) ও জাহিনের মা বিথিকে (৩৫) মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তারা প্রত্যেকেই জোনাইল গ্রামের বাসিন্দা।
মাদারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার পর পরই অটোরিকশার চালক সুজনকে (১৮) পুলিশ আটক করেছে। তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
৩২ দিন আগে
ময়মনসিংহে সেনা ট্রাক-বাস সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১৫ জন
ময়মনসিংহে সেনাবাহিনী সদস্যবহনকারী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে উভয় গাড়ির চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৫ জন।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা পৌনে ১১টার দিকে শেরপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বালিয়া মোড় এলাকায় কাকলি রাইস মিলের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— সেনাবাহিনীর ট্রাকচালক সার্জেন্ট রেজাউল (৩৬) ও বাসচালক আব্দুল বাসেত (৫০)। তবে তাৎক্ষণিকভাবে দুর্ঘটনায় আহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল হাসান জানান, আজ (বুধবার) সকালে সেনাবাহিনী তাদের ক্যাম্প কার্যক্রম শেষ করে ফুলপুর থেকে ময়মনসিংহ ফেরার পথে বালিয়া মোড়ে পৌঁছালে শেরপুরগামী যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে সেনাবাহিনীর ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাসের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এ ঘটনায় আহত হয় কমপক্ষে ১৫ জন।
আহতদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে ৯ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি ৬ জনকে ময়মনসিংহ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে মমেক হাসপাতালে নেওয়ার পথে ট্রাকটির ড্রাইভার সার্জেন্ট রেজাউল করিম (৩৬) এবং যাত্রীবাহী বাসের চালক আব্দুল বাসেত (৫০) মারা যান।
ময়মনসিংহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এই ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে, দুর্ঘটনার পরপরই ময়মনসিংহ-হালুয়াঘাট সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সম্মিলিতভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে দুর্ঘটনার শিকার যান সরিয়ে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
৩৮ দিন আগে
শেরপুরে বিএনপি কর্মীর ওপর হামলা, অভিযোগের আঙুল জামায়াত সমর্থকদের দিকে
শেরপুরে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে এক বিএনপি কর্মীর ওপর হামলা চালিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ৮টার দিকে সদর উপজেলার চরশেরপুর ইউনিয়নের হেরুয়া-বালুরঘাট এলাকার কান্দাপাড়া-নামাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত গিয়াস উদ্দিন রাসেল মিয়াকে (৩৫) শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার মাথায়, নাকে-মুখে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও জখমের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
রাসেল মিয়া শেরপুর-১ (সদর) আসনে হেরুয়া বালুরঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কার প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট ছিলেন। তিনি ইদ্রিস গ্রুপের জিহান অটো রাইস মিলের ব্যবস্থাপক হিসেবে চাকরি করেন।
হাসপাতালের বেডে থেকে তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় তিনি শেরপুর শহর থেকে মোটরসাইকেলে করে হেরুয়া এলাকার নিজের বাড়িতে ফিরছিলেন। এ সময় হামলাকারীরা তার পকেটে থাকা নগদ ১৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন এবং মোটরসাইকেলটিও ভাঙচুর করেন।
তিনি বলেন, আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এ হামলা চালানো হয়েছে। আমি বিএনপি করি, ধানের শীষের নির্বাচনি এজেন্ট ছিলাম, এ কারণেই রাতে বাড়ি ফেরার পথে আমার ওপর জামায়াত সমর্থকরা অতর্কিত হামলা চালিয়েছেন। জাময়াত সমর্থক স্থানীয় কেরামত, জামাল, সোহেল, মনির ও তার ভাইসহ ১২/১৩ জন মিলে আমার ওপর এ হামলা চালিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, আমার মোটরসাইকেলের পিছু পিছু একটি মোটরসাইকেলে করে ৩ জন আসছিলেন। তারা আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন এবং সামনে তখন আরও ৮/৯ জন ছিলেন। তারা সবাই মিলে লাঠিসোটা নিয়ে আমার ওপর আক্রমণ করলে আমি দৌড়ে পাশের একটি দোকানে আশ্রয় নেই। সেই দোকানে ঢুকেও তারা আমাকে মারধর করেছেন। স্থানীয়রা তাদের কবল থেকে আমাকে উদ্ধার করেছেন। এ সময় তার ওপর হামলাকারীদের বিচার ও শাস্তির দাবি করেন তিনি।
শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা রাতেই জেলা সদর হাসপাতালে আহত রাসেল মিয়াকে দেখতে যান এবং ঘটনার বিস্তারিত শুনেন।
ওসি সোহেল রানা বলেন, ঘটনাটি জেনেছি। এ ব্যাপারে অভিযোগ পেলে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
৪১ দিন আগে
সুপারী চুরির অপবাদ দিয়ে শিশু হত্যা
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে সুপারী চুরির অপবাদ দিয়ে এক শিশুকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের নাম ইমন মিয়া (৯)।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকালে উপজেলার স্বদেশী ইউনিয়নের বাউশা গ্রামে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, প্রায় এক মাস আগে ইমন প্রতিবেশী আতাহার আলীর গাছ থেকে সুপারী চুরি করে। এতদিন কিছু না বললেও শুক্রবার ইমনকে প্রতিবেশী আতাহার আলী তার ঘরে ডেকে নেয়। সেখানে ঘরের দরজা লাগিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে। খবর পেয়ে ইমনের পরিবার তাকে উদ্ধার করে হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। বর্তমান পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ ফেরদৌস আলম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে সুপারী চুরির ঘটনায় এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। এই হত্যাকান্ডের সাথে নির্বাচনি সহিসংতার কোনো সম্পর্ক নেই। তারপরও বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে।
৪২ দিন আগে
শেরপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ নিহত ২
শেরপুরে ভোটগ্রহণের দায়িত্ব পালনের জন্য আসার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় একজন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ ২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৫ জন।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শেরপুর-জামালপুর সড়কের সদর উপজেলার শিমুলতলি এলাকায় এ দূর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান (৩১) ও গৃহবধু মাহফুজা বেগম (১৯)।
রোকনুজ্জামান জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে। তিনি শেরপুর সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর পদে চাকরি করছিলেন। শেরপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব ছিল তার। অপরজন মাহফুজা জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার কাতলামারি গ্রামের নীরব মিয়ার স্ত্রী ছিলেন।
আহতরা হলেন— শ্রীবরদী উপজেলার দয়ারচর গ্রামের শাহীন মিয়া (৩০), শহরের চকপাঠক এলাকার রায়হান মিয়া (৩০), নিহত মাহফুজার ৩ মাস বয়সী ছেলে আব্দুর রহমান, সদরের গাজীর খামার এলাকার মোহাম্মদ আলী (২৮) ও জামালপুরের উপজেলার খইর এলাকার সুরাইয়া বেগম (২২)। আহতদের মধ্যে ৩ জন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে ও ২ জন শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
পুলিশ ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, আজ (বুধবার) রোকনুজ্জামান জামালপুর ব্রিজ মোড় থেকে নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশা করে শেরপুর শহরে আসছিলেন। পথিমধ্যে শিমুলতলি এলাকায় একটি পিকআপের সঙ্গে তাদের বহনকারী অটোরিকশাটির ধাক্কা লাগে। এ সময় অটোরিকশার যাত্রী রোকনুজ্জামান ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং মমেক হাসপাতালে নেওয়ার পথে মাহফুজা নিহত হন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা জানান, শিমুলতলির ওই দুর্ঘটনায় একজন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ ২ জন নিহত ও ৫ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
৪৫ দিন আগে