ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবার সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রী হয়ে ব্যাপক কাজ করছেন, যা অনেকেই সহ্য করতে পারছে না। তাই ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১১ মে) দুপুরে সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএসআরএফ সভাপতি মাসউদুল হক। সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।
ধর্মমন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশংসা করে বলেন, সমাজে কিছু ব্যক্তি ভুল করলেও পুরো সাংবাদিক সমাজকে দায়ী করা যায় না। তিনি প্রয়াত সাংবাদিক আলতাফ মাহমুদের সততা, সরল জীবনযাপন ও দেশপ্রেমের কথা স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, ‘তিনি বড় সাংবাদিক হয়েও অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করতেন। তার সততা ও নিষ্ঠা আমাকে মুগ্ধ করত। আমি জনগণের একজন কর্মী। সাংবাদিকরা যেকোনো প্রয়োজনে সরাসরি আমার কাছে আসতে পারবেন।’
গণতন্ত্র রক্ষায় সাংবাদিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘অনেকে সহ্য করতে পারছে না যে তারেক রহমান প্রথমবার এমপি ও প্রধানমন্ত্রী হয়ে এত কাজ করছেন। তাই ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সবাইকে চোখ-কান খোলা রাখতে হবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, যারা সরকারের স্বাদ গ্রহণ করতে পারেনি, তারাই নানা ধরনের বক্তব্য ও অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা বিভিন্নভাবে পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।’
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের ওপর হামলার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে কায়কোবাদ বলেন, বাংলাদেশে কোনো সংখ্যালঘুর ওপর নির্যাতন সহ্য করা হবে না।
তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনবোধে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেব, কিন্তু এখানে কোনো সংখ্যালঘুদের ওপর, কোনো অন্য ধর্মাবলম্বীদের ওপর অত্যাচার, অবিচার, জুলুম-নির্যাতন সহ্য করবো না ইনশাআল্লাহ।’
একইসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিকভাবে উদ্যোগ নেবে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘ভারত তো বিশাল দেশ। উনাদের আমি শ্রদ্ধা করি, যেহেতু উনাদের দেশে গণতন্ত্রটাকে উনারা খুব লালন করেন। তবে মনের থেকে আরও বেশি শ্রদ্ধা করব যদি উনারা ওই দেশের সংখ্যালঘুদের আপন করে নেয়, নিরাপত্তা দেয় এবং জনগণের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়।’
সামাজিক অবক্ষয় ও মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, গ্রামাঞ্চলেও মাদক, জুয়া ও ফেনসিডিলের বিস্তার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মাদক সম্রাটদের মুখোশ উন্মোচনে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। তবে নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয়, সেটিও খেয়াল রাখতে হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারবিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠী ধর্মীয় গুজব ছড়িয়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে।
এ প্রসঙ্গে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘স্বৈরাচার সরকারের সময় করা আইনটি অপব্যবহার হয়েছিল। কিন্তু আইনটি পুরোপুরি বাতিল করে অপপ্রচারকারীদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সাইবার অপরাধ ও অপপ্রচার ঠেকাতে নতুনভাবে আইন প্রয়োজন।’
তিনি দাবি করেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোনো মতপ্রকাশ দমনের পক্ষে নন। বিরোধী মত দমন বা সাংবাদিকদের হয়রানির জন্য আইন ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
রমজান ও ঈদের চাঁদ দেখা নিয়ে বিভ্রান্তি প্রসঙ্গে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ইসলাম ধর্মে স্থানীয়ভাবে চাঁদ দেখেই রোজা রাখা ও ঈদ উদযাপনের নির্দেশনা রয়েছে। সৌদি আরবের সঙ্গে মিলিয়ে ঈদ করতেই হবে—এমন কোনো নির্দেশনা কোরআন-হাদিসে নেই।
হজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি বলেন, হজ মৌসুমে তিনি নিজেই গভীর রাত পর্যন্ত হাজী ক্যাম্পে অবস্থান করে হাজীদের সমস্যা পর্যবেক্ষণ ও সমাধানের চেষ্টা করছেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘যদি কোথাও খাবারের মান খারাপ হয়, প্রমাণ দিলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেব। পর্যটন করপোরেশন খুব ভালো মানের খাবার সরবরাহ করছে এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে খাবারের দামও কম রাখা হয়েছে।’
হজযাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হাজীরা আল্লাহর মেহমান। আল্লাহই তাদের হেফাজত করবেন। যুদ্ধ পরিস্থিতিও অনেকটা কমে এসেছে। এ বছরও শান্তিপূর্ণভাবে হজ সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
হজ এজেন্সিগুলোর অনিয়ম ও হজের ব্যয় কমানোর বিষয়ে মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে হজের খরচ কিছুটা কমিয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন, ভবিষ্যতে হজের খরচ আরও কমবে।
বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ প্রসঙ্গে ধর্মমন্ত্রী বলেন, মুসলমানদের মধ্যে বিভক্তি ইসলাম সমর্থন করে না। দুই পক্ষ একসঙ্গে কাজ করলে সরকার খুশি হবে। তবে সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হবে।
তিনি বলেন, ‘একজনকে জোর করে রাজি করানো যায় না। উদ্দেশ্য ভালো থাকলে তখন সম্ভব হয়। এখানে এক পক্ষ আরেক পক্ষকে সহ্য করতে পারছে না। আল্লাহ পাক উনাদেরকে এই অবস্থা থেকে মুক্তি দিন। আল্লাহ উনাদের মিলের ব্যবস্থা করে দিন এবং আগের মতো সুন্দর পরিবেশে যেন তারা তাবলিগের কাজ করতে পারেন।’