দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কুইন্সটাউনের নিকটবর্তী সমো টাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয় বাংলাদেশি নিহত এবং একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নের, একজন পাশের বক্তাবলী ইউনিয়নের এবং অপরজন মুন্সিগঞ্জের রিকাবিবাজার এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৭ জুলাই) দিবাগত রাত ৩টার দিকে সমো টাউনের একটি দোকানে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
প্রিটোরিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন এক বিবৃতিতে ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা, শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা এবং গুরুতর আহত বাংলাদেশি নাগরিকের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছে।
হাইকমিশন থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার শাহ আহমেদ শফী আজ মঙ্গলবার দুপুরে কুইন্সটাউনের সমো টাউনের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন। সফরকালে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন, নিহত ও আহত বাংলাদেশিদের বিষয়ে খোঁজখবর নেবেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
এছাড়া তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও দক্ষিণ আফ্রিকা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবেন। বৈঠকে ঘটনার সর্বশেষ পরিস্থিতি, তদন্তের অগ্রগতি এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পরবর্তী করণীয় বিষয়ে আলোচনা হবে।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করতে তারা বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছে হাইকমিশন।
এদিকে, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রওশন আলী জানান, নিহত ছয়জনের মধ্যে চারজন তার ইউনিয়নের বাসিন্দা।
তিনি বলেন, ‘খবরটি শুনে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। নিহতদের মধ্যে চারজন আলীরটেক ইউনিয়নের, একজন পাশের ইউনিয়ন বক্তাবলীর এবং আরেকজন মুন্সিগঞ্জের রিকাবিবাজার এলাকার বাসিন্দা। সবাই একে অপরের আত্মীয়।’
তবে এ ঘটনায় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন।
তিনি বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এখনও কোনো বার্তা পাইনি। এমনকি ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকেও কেউ যোগাযোগ করেননি। আমরা বিষয়টি খোঁজখবর নিচ্ছি।’
একই তথ্য জানিয়েছেন সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান। তিনি বলেন, নিহতদের বিস্তারিত পরিচয় এবং অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।