মিয়ানমারে চলমান অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এ মুহূর্তে শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
সোমবার (৩০ মার্চ) সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিরোধী দলীয় (জামায়াত) চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে তার পক্ষে প্রশ্নের উত্তর দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, মিয়ানমারে চলমান সংঘাতের কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা যাচ্ছে না। তবে সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সমর্থন জোরদার করার পাশাপাশি কূটনৈতিক, আইনি এবং মানবিক সকল প্রকার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে বাংলাদেশ।
সত্তরের দশকের শেষভাগ এবং নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বিগত বিএনপি সরকারের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও সংঘাত সত্ত্বেও অতীতের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বর্তমান বিএনপি সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
তিনি বলেন, মিয়ানমারে বর্তমানে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত চললেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার পূর্বের অভিজ্ঞতার আলোকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
মন্ত্রী জানান, ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ প্রথমবার ২ লাখ রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশের সম্মুখীন হয়েছিল। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে তাদের সবাইকে সফলভাবে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে আরও ২ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এদের মধ্যে ২ লাখ ৩৬ হাজার জনকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সফল নেতৃত্বে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় ফেরত পাঠানো হয়।
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সাম্প্রতিক বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ সংকটের টেকসই সমাধানের জন্য বাংলাদেশ কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান।