নির্বাচন-পরবর্তী কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন নিয়ে উন্নয়ন, মাদক ও ছিনতাইমুক্ত কেরানীগঞ্জ গড়ার লক্ষে বিএনপির নেতা-কর্মীসহ যেকোনো সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, মাদক কারবারি ও ছিনতাইকারীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ সভা কক্ষে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
গয়েশ্বর বলেন, বিএনপির নেতা-কর্মীসহ যেকোনো সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, জমি দখল, মাদক কারবারি ও ছিনতাইকারীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা প্রশাসনকে নিতে হবে। অপরাধী যেই হোক, তাকে মামলা দিয়ে জেল-হাজতে পাঠানো হবে।
প্রশাসনকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাকে ঢাকা-৩ আসনের জনগণ ভোট দিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন। তাদের পক্ষে এবং তাদের স্বার্থ রক্ষা করা আমার কর্তব্য। তাই সব দলের লোকই আমার কাছে সমান অধিকার পাবে। প্রশাসনের দুর্বলতা নিয়ে অপরাধী যাতে কোনো অপরাধ করতে না পারে। অতি উৎসাহিত হয়ে থানা পুলিশ দিয়ে যেন কাউকে অযথা হয়রানি করার চেষ্টা না করা হয়। আমি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে চাই। কোনো কর্মকর্তা আমার কথা না শুনলে বা জনগণের স্বার্থে কাজ না করলে আমি সংসদে বলতে বাধ্য হব।’
ঢাকা-৩ আসনের এই এমপি বলেন, পুলিশ এবং উপজেলা প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করলে সমাজে অপরাধ কমে যাবে।
মন্ত্রিত্বের বিষয়ে গয়েশ্বর বলেন, আমি কোনো প্রতিহিংসার রাজনীতি করব না। আমাকে মন্ত্রিত্ব দেওয়া হবে না, আমি তা আগেই জানতাম। তবুও আমন্ত্রণ পেয়ে মন্ত্রিপরিষদে উপস্থিত হয়েছিলাম। পরে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার অসদচারণের কারণে রাগ করে মন্ত্রিপরিষদ থেকে চলে আসি, কিন্তু একটি পত্রিকা পরের দিন নিউজ করেছে— গয়েশ্বর চন্দ্র রায় মন্ত্রীত্ব পায়নি বলে মন্ত্রিপরিষদ থেকে রাগ করে চলে গেছেন।
মিডিয়ার প্রতি অনুরোধ করে তিনি বলেন, মিডিয়া বন্ধুদের কাছে আমার অনুরোধ, আপনারা মনগড়া কোনো নিউজ করবেন না; কারও চরিত্র হরণ করবেন না। আমি জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য এমপি হয়েছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যাকে যে স্থানে দেবেন, আমরা সেটাই মেনে নিতে বাধ্য।
স্থানীয় নির্বাচনের বিষয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, আমার কোনো পুলিশ প্রটোকলের প্রয়োজন নাই। আমি মানুষের অধিকার আদায়ের রাজনীতি করি। আমার কেউ শত্রু নাই। আমি একা রিকশা করে চলার অভ্যাস আছে। আগামীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। যার যোগ্যতা আছে সে-ই দাঁড়াবে, কারও পক্ষে আমি হস্তক্ষেপ করতে পারব না। এখন থেকে জনগণের পক্ষে কাজ শুরু করুন। কোনো কারণে যেন জনগণের স্বার্থ নষ্ট না হয়।