উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানে একটি নিরাপত্তা চৌকিতে আত্মঘাতী হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তানি তালেবানের (টিটিপি) একটি স্বঘোষিত বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।
স্থানীয় সময় রবিবার (১০ মে) সকালে কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য জানান।
জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা সাজ্জাদ খান জানান, শনিবার (৯ মে) গভীর রাতে আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বান্নু জেলায় অবস্থিত একটি চৌকির কাছে একজন আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী এবং কয়েকজন বন্দুকধারী বিস্ফোরক বোঝাই একটি যানবাহনে বিস্ফোরণ ঘটায়। এই হামলার ফলে তীব্র গোলাগুলি শুরু হয়। এতে ঘটনাস্থলেই কিছু কর্মকর্তা নিহত হন এবং বাকিরা ভবন ধসে পড়ার পর প্রাণ হারান।
তিনি আরও জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মরদেহ উদ্ধারে উদ্ধারকারীরা ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে কয়েক ঘণ্টা ধরে তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করেন। এই হামলায় তিন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। হামলাকারীদের খুঁজে বের করতে নিরাপত্তা বাহিনীও একটি অভিযান শুরু করেছে।
এদিকে, সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক বিবৃতিতে ‘ইত্তেহাদ-উল-মুজাহিদিন পাকিস্তান’ নামক একটি নবগঠিত জঙ্গি গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) নামে পরিচিত পাকিস্তানি তালেবানের বিচ্ছিন্ন উপদলগুলো মিলে এটি গঠিত হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ এটিকে টিটিপির একটি ছায়া সংগঠন হিসেবে অভিযুক্ত করেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে জঙ্গি সহিংসতার ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে, যার বেশিরভাগেরই দায় টিটিপির ওপর চাপানো হয়। এই গোষ্ঠীটি আফগান তালেবানের একটি মিত্র এবং পৃথক সংগঠন বলে পরিচিত।
ইসলামাবাদ প্রায়ই আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে টিটিপিকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ তোলে, তবে কাবুল এই দাবি অস্বীকার করে আসছে।
এটির মতো আরও কিছু বিষয় নিয়ে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে এবং ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে শুরু হওয়া লড়াইয়ে উভয় পক্ষের শত শত মানুষ নিহত হয়েছে।
এপ্রিলের শুরুতে চীন মধ্যস্থতা করার পর আফগান ও পাকিস্তানি কর্মকর্তারা শান্তি আলোচনায় বসেন। তবে আলোচনা সত্ত্বেও বিক্ষিপ্তভাবে আন্তঃসীমান্ত সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে, যদিও এর তীব্রতা আগের তুলনায় কিছুটা কম।