এজেন্টদের সরবরাহের উদ্দেশ্যে ব্যাংক থেকে টাকা তোলার পর তা আত্মসাতের ফন্দি আসে বিকাশের এক বিক্রয় প্রতিনিধির। এরপর গা ঢাকা দিয়ে অপহরণের নাটক সাজান তিনি। সেইসঙ্গে ফোন করে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকেও জানিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। পুলিশের অভিযানে ধরা পড়েছেন ওই ব্যক্তি। তার সঙ্গে থাকা আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে গত ৫ ফেব্রুয়ারি চাঁদপুরে। এরপর গতকাল (মঙ্গলবার) তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিকেলেই দুজনকে আদালতের মাধ্যমে হাজতে পাঠিয়েছে সদর মডেল থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন— চাঁদপুর সদরের উত্তর ইচুলি এলাকার মো. রাব্বি (২২) এবং একই এলাকার ফরহাদ হোসেন (২১)। এই নাটকের মূল নাট্যকার রাব্বি বিকাশের বিক্রয় প্রতিনিধি।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ জানান, মেসার্স দিবা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের পরিবেশক ও বিকাশের বিক্রয় প্রতিনিধি রাব্বি গত ৫ ফেব্রুয়ারি সকালে ঢাকা ব্যাংকের চাঁদপুর শাখা থেকে অফিসের সুপারভাইজারের মাধ্যমে ৯ লাখ টাকা তোলেন। এরপর টাকাগুলো সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বিকাশ এজেন্টদের কাছে বিতরণের কথা ছিল তার। কিন্তু টাকাগুলো আত্মসাতের ধান্দায় পরিকল্পনা আঁটেন তিনি। সে মোতাবেক তিনি নিখোঁজ হন।
পরে মূল ঘটনা ধামাচাপা দিতে তিনি অফিসে ফোন করে জানান যে তাকে অপহরণ করা হয়েছে। বিষয়টি জেনে ওই দিনই চাঁদপুর সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন রাব্বির ব্যবস্থাপক মনির হোসেন তালুকদার। পুলিশ তদন্তে নেমে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাব্বিকে আটক করে থানা পুলিশ।
এরপর থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি অপহরণ ও হামলার ঘটনা সাজানো বলে স্বীকার করেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজ (বুধবার) তার বসতঘরের মেঝে খুঁড়ে প্লাস্টিকের ব্যাগে মোড়ানো ৯ লাখ টাকা উদ্ধার করে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশের একটি দল। থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কালাম গাজীর নেতৃত্বাধীন দলটি ওই টাকা উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। সেই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িত রাব্বির সহযোগী মো. ফরহাদ হোসেনকেও (২১) গ্রেপ্তার করা হয়।
এ বিষয়ে ওসি ফয়েজ আহমেদ ইউএনবিকে বলেন, গ্রেপ্তাররা বিকাশের পরিবেশকের দায়িত্বে থেকে প্রতারণার মাধ্যমে ৯ লাখ টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করেছিল। এ ঘটনায় ব্যবস্থাপকের পক্ষ থেকে থানায় মামলা হয়েছে। ওই মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
তিনি জানান, উদ্ধার করা টাকা জব্দ করা হয়েছে এবং মামলাটির বিষয়ে আরও তদন্ত চলছে।