সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের ঐতিহাসিক ডেগ ও দানবাক্স আপাতত জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণেই থাকছে। মাজারে জমা হওয়া দানের টাকা সোনালী ব্যাংকে মাজারের নামে খোলা একটি হিসাবে (অ্যাকাউন্টে) জমা রাখা হবে। পরবর্তীতে এ টাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে প্রশাসন।
সোমবার (২২ জুন) সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাঈদা পারভীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘মাজারের টাকা সোনালী ব্যাংকে মাজারের নামীয় একটি হিসাবে রাখা হবে। সম্প্রতি এই অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। পরবর্তীতে এই টাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ডিসি চলে যাওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা।’
সাঈদা পারভীন বলেন, দানবাক্স জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে। যদি সেগুলো ভর্তি হয়ে যায়, তাহলে আবার খুলে গণনা করা হবে। এ ছাড়াও দানবাক্সের পাহারায় আনসার সদস্যরা নিয়োজিত থাকবেন।
এদিকে, গতকাল (সোমবার) দুপুর আড়াইটার দিকে সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলমের উপস্থিতিতে প্রশাসনের উদ্যোগে মাজারে স্থাপন করা তিনটি ঐতিহাসিক ডেগ ও একটি দানবাক্স খুলে প্রকাশ্যে গণনা করা হয়। এতে নগদ ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫৯ টাকা পাওয়া যায়। গণনার সময় দানবাক্সে টাকার পাশাপাশি ৭ আনা সোনা ও বৈদেশিক মুদ্রাও পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে রিয়াল, ডলার, পাউন্ড এবং স্বর্ণের চেইন, আংটিসহ ছোট ছোট স্বর্ণের টুকরো।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত মাজার প্রাঙ্গণে এ গণনা কার্যক্রম চলে। এ সময় প্রশাসনের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানার উপস্থিতিতে মাজারে নতুন একটি দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একই সময়ে মাজারে থাকা তিনটি ঐতিহাসিক ডেগ সিলগালা করা হয় এবং নিরাপত্তার জন্য আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়।