পঞ্চগড় জেলা শহরে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টায় সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে মহাসড়কে অবস্থান নেন দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা। রাত ১২টা পর্যন্ত থেমে থেমে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গতকাল (রবিবার) রাত ১০টার দিকে জেলা শহরের তেঁতুলিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের সমর্থকরা মিছিল বের করেন। মিছিলটি এমআর কলেজ মোড়ে পৌঁছালে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদের সমর্থকদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইট-পাটকেল ছোড়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় লাঠি হাতে মহাসড়কে অবস্থান নেন দুই গ্রুপের সদস্যরা।
আরও জানা যায়, রবিবার সকালে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে মতবিনিময় সভায় সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদের সামনেই বোদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ আসাদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও হট্টগোল শুরু হয়। এরই রেশ ধরে রাতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলে দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা ফিরে যান। সংঘর্ষের কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। এতে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে।
এ সংঘর্ষে দুইপক্ষের ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে গুরুতর আহত চারজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
আহতরা হলেন রোকনুজ্জামান জাপান (৩৫), আব্দুল বাতেন (৪০), শামীম (২৮), জীবন (২২), সাফাত কবির (২১), সাক্ষর (১৮), পাক্কু (২২), ময়নুল (২৮), তপু (১৮), মিলন (১৮), সৌমিক (১৯), ফরহাদ (১৮), করিম আখতার (৪৪), জিসান (১৭) ও নুরনবী চৌধুরী (৩৮)। তারা সবাই বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মী।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রেজওয়ানুল্লাহ বলেন, মোট ১১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চারজনকে রমেক হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। অনেকে মাথায় আঘাত পেয়েছেন। রাজনৈতিক মারামারিতে তারা আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শইমী ইমতিয়াজ বলেন, পরিস্থিতি এখন আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।