কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে টানা ভারী বৃষ্টির মধ্যে পাহাড় ধসে একটি মাদরাসার শিক্ষকসহ আটজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বুধবার (৮ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সাব-ব্লক এ-৩ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন—উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৩-এর বাসিন্দা আব্দুস শুক্কুরের দুই মেয়ে উম্মে নেছাত (১৩) ও উম্মে সালমা (১১), রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৫-এর বাসিন্দা হাশিম উল্লাহর মেয়ে কাওসনা (১১) এবং মাদরাসার শিক্ষক শামসুল আলম।
উখিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, টানা বৃষ্টির মধ্যে পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে মাদ্রাসার ছাদের ওপর পড়ে। এতে ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয়রা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আরও কয়েকজনকে উদ্ধার করেন। আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়।
রোহিঙ্গা মাঝি ইলিয়াস মিয়া জানান, আজ সকাল থেকেই টানা ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৫-এর একটি সাব-ব্লকে ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনায় একটি মাদরাসার অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আটকা পড়েছিল। স্থানীয় রোহিঙ্গারা তাদের উদ্ধারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৫-এর ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ জানান, পাহাড় ধসে আটকা পড়া মাদরাসার শিক্ষার্থীদের উদ্ধারকাজ চলছে। উদ্ধার অভিযান শেষ হলে ক্ষয়ক্ষতি ও অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
এ ঘটনার তিন দিন আগে, গত ৬ জুলাই ভোরে জেলার বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টিজনিত পৃথক পাহাড়ধসে দুই পরিবারের সাত সদস্যসহ মোট নয়জন নিহত হন।
সর্বশেষ এ ঘটনা মিলিয়ে তিন দিনে কক্সবাজার জেলায় পৃথক পাহাড়ধসে মোট ১৭ জনের মৃত্যু হলো।