দীর্ঘ প্রায় সাত মাসেরও বেশি সময় ধরে কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পাওয়ার ৭ দিনের মাথায় মারা গেলেন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল কুদ্দুস মোয়াজ।
হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বুধবার (৬ মে) ভোর ৪টার দিকে রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতালের চিকিৎসকের দেওয়া মৃত্যু রেজিস্ট্রারের উদ্ধৃতি দিয়ে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মোয়াজ শেরপুর শহরের মীরগঞ্জ এলাকার মাছ ব্যবসায়ী ফজু মিয়ার ছেলে ছিলেন। তিনি ছাত্রলীগের শেরপুর সরকারি কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ওই কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে তিনি বিএসসি (সম্মান) ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন।
নিহতের পারিবারের সদস্যরা জানান, চব্বিশের গণআন্দোলনের পর আত্মগোপণে থাকা অবস্থায় রাজধানীর ধানমণ্ডি এলাকা থেকে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা তাকে আটক করে পুলিশে দেয়। দীর্ঘ প্রায় ৭ মাস কারাগারে থাকার পর গত সপ্তাহে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জামিনে মুক্ত হয়ে নিজবাড়ি শেরপুরে ফিরেছিলেন আব্দুল কুদ্দুস মোয়াজ। তার শারীরিক কোনো জটিলতা ছিল না। গতকাল (মঙ্গলবার) তিনি ঢাকায় যান এবং হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর আজ (বুধবার) ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
নিহতের বাবা ফজু মিয়া জানান, আজ (বুধবার) আসরের নামাজের পর শেরপুরের মীরগঞ্জ বারাকপাড়া ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
এ ব্যাপারে শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে তার মৃত্যুর বিষয়টি আমরা জেনেছি। এ বিষয়ে মৃত্যু সনদ হাতে পেলে সেটি আমরা আদালতে উপস্থাপন করব। আইনি প্রক্রিয়া অনুসারে আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। সেক্ষেত্রে বিচারিক প্রক্রিয়ায় চার্জশিট থেকে মৃত ব্যক্তির নাম বাদ যাবে।