মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থেমে গেলেও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট পুরোপুরি শেষ হবে না বলে সতর্ক করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। এ সংকট মোকাবিলায় সম্মিলিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) মরিশাসে অনুষ্ঠিত নবম ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে (আইওসি) বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ আহ্বান জানান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকটের কারণে আমরা সবাই বিপদে আছি। এর প্রভাব আগামী দিনেও পড়বে। এমনকি জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতি হলেও আমাদের বহুপাক্ষিকতা হ্রাসের মতো আরও বড় সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে।
সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করসহ অন্যান্য বিশ্বনেতারা বক্তব্য রাখেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার ডিজেল সরবরাহের জন্য ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানায় বাংলাদেশ। একইসঙ্গে ডিজেল ও সারের সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য ভারতকে অনুরোধ জানায় ঢাকা। দিল্লি এই অনুরোধটি সহজভাবে এবং ইতিবাচকভাবে বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়েছে।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, বৈশ্বিক ব্যবস্থার ওপর আস্থা ও বিশ্বাস হারানোর যে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে, তা আমাদের নিজেদের কাজের মাধ্যমেই মোকাবিলা করতে হবে। যদি আমরা আমাদের অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে শক্তিশালী থাকতে পারি, তবে বাইরে থেকে আসা ঝড়গুলো মোকাবিলা করা আমাদের জন্য অনেক সহজ হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, এই সংকটের প্রভাব ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকটের চেয়েও অনেক বেশি হবে। বর্তমান সংকটের প্রভাব যদি ৭০-এর দশকের ধাক্কার চেয়েও বড় হয়, তবে আমরা কী ধরনের ঝুঁকির মুখে আছি তা কল্পনা করা যায়। এটি একটি তাৎক্ষণিক সমস্যা, তবে এর চেয়েও বড় সমস্যা হলো যে প্রেক্ষাপটে এটি ঘটছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, একটি সুশৃঙ্খল বিশ্ব যা পুরোপুরি সুশৃঙ্খল ছিল না ঠিকই, কিন্তু আমাদের বিশ্বাস করার মতো যথেষ্ট সুশৃঙ্খল ছিল যে, বৈশ্বিক ব্যবস্থা আমাদের সমস্যাগুলোর সমাধান করবে। তবে তা এখন গুরুতর চাপের মুখে পড়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে বহুপাক্ষিকতার ওপর আঘাত এবং বৈশ্বিক কাঠামোর মধ্যে একতরফা পদক্ষেপের প্রবণতা বাড়ছে। এসব কাঠামো এই ইস্যুগুলো মোকাবিলায় আমাদের আর কার্যকরভাবে সাহায্য করছে না। তাই আমরা একটি বড় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এখন সম্মিলিত পদক্ষেপের সময়, কারণ একক কোনো দেশের পক্ষে এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল বর্তমানে এক উত্তাল সময় অতিক্রম করছে। জ্বালানি সংকট অর্থনীতি ও সমাজের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে। এ পরিস্থিতিতে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
মরিশাস সরকার এবং ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ‘ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন’ মরিশাসে এই নবম ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনের আয়োজন করেছে। এই সম্মেলনে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নেতা, নীতি-নির্ধারক এবং বিশেষজ্ঞরা পারস্পরিক দায়িত্ব ও আঞ্চলিক শাসনের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে একত্রিত হয়েছেন।