হামের টিকা না দেওয়ার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জড়িত নয় বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, বর্তমানে সরকারের প্রধান লক্ষ্য শিশুদের জীবন রক্ষা এবং টিকাদান কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করা।
শনিবার (২৩ মে) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি রেড ক্রিসেন্ট ও রেডক্রসের দেওয়া হাম আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসাসংক্রান্ত মেডিকেল যন্ত্রপাতি গ্রহণ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান হামের টিকা না দেওয়ার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে দেশি-বিদেশি সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানানোর পর এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তথ্য উপদেষ্টা তদন্ত কমিটি করলে বিষয়টি তার হাতে, আমি এর মধ্যে নেই।’
তিনি বলেন, ‘পশ্চাৎ নিয়ে আমি খুব একটা কথা বলি না। কোন সময় এটা আমার নেচারে নেই। সমালোচনা আমি খুব করতে চাই না, তবে খুব ভদ্র শালীনতার সঙ্গে আপনাদেরকে বলেছি বিগত সরকারের ব্যর্থতা আমাদেরকে ঘাটতির মুখে ফেলে দিয়েছিল টিকার ব্যাপারে। তারা নেয়নি, রিট হয়েছে এটাও জানেন। তারা প্রাইভেট থেকে কিনতে চেয়েছিল এটাও আপনারা জানেন। যাই হোক এগুলো অতীত কথা। আমরা নিয়েছি, এটিই হলো বর্তমান কথা।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিচার করার চাইতে আমাদের বুকের বাচ্চাদেরকে বাঁচানোর জন্য এখন সবাই চেষ্টা করছে। এটাতে থাকি, আগে এটা মিট আপ করি, তারপরে আমরা বলব।’
টিকাদান কর্মসূচির অগ্রগতি তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য ছিল ১ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ শিশুকে টিকা দেওয়া। তবে ২০ মে পর্যন্ত ১ কোটি ৮৪ লাখ ৩১ হাজার ১৪৯ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার ১০২ শতাংশ।
তিনি বলেন, ‘পরিসংখ্যান পৃথিবীর সব দেশে কিছু ভুল হয়। এটা একটা চলমান চেষ্টা আমাদের। টিকাদান কর্মসূচি চলবে।’
তদন্ত কমিটি গঠন সরকারের মধ্যে সমন্বয়হীনতার ইঙ্গিত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘না, আমি মোটেও মনে করি না সমন্বয়হীনতা। তথ্য উপদেষ্টা আর এটা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। আই অ্যাম নট পার্ট অব দ্যাট।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দায়িত্ব ক্রাইসিস মিট আপ করা। আর তথ্য উপদেষ্টা যদি ওইটা ইনকোয়ারি কমিটি করে, এটা উনার হাতে। আমি ওইটার অংশ না।’