হামের টিকা দেওয়ায় গাফিলতির ঘটনায় তদন্তের দরকার নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।
রবিবার (২১ জুন) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। পর্তুগালের লিসবনে অনুষ্ঠিত ৩৪তম ইন্টারন্যাশনাল কনফেডারেশন অব মিডওয়াইভস (আইসিএম) ট্রায়েনিয়াল কংগ্রেসে অংশগ্রহণসহ সাম্প্রতিক ইউরোপ সফর নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
হামে শিশুমৃত্যু নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে কি না, জানতে চাইলে বিশেষ সহকারী বলেন, এখানে তদন্তের কী আছে? আমরা তো জানি যে অপারেশনাল প্ল্যান (কার্যকর পরিকল্পনা) বাদ দিয়ে এটাকে ডিপিপিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। তখন হয়তো ধারণা করা হয়েছিল যে ডিপিপিগুলোকে এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে তারা অনুমোদন করতে পারবে এবং টাকা অ্যাভেইলেবল (সহজলভ্য) হবে। কিন্তু বাস্তব চিত্র হলো, এক বছরেও অনেক ডিপিপি প্রস্তুত সম্ভব হয়নি এবং সেগুলোকে একনেকে অনুমোদন, প্রজেক্ট অফিস তৈরি করা—সেগুলো করতে পারেনি।
তিনি বলেন, যার ফলে স্বাভাবিক যে ফান্ড ফ্লো ওপির মাধ্যমে হচ্ছিল, সেইটা আমি বন্ধ করলাম উইদাউট ওপেনিং আপ নিউ ফান্ড ফ্লো (নতুন তহবিল খোলা ছাড়া)। এই যে ঘাটতি, এই ঘাটতির বোঝা তো আমরা জাতি হিসেবে এখনও বহন করছি।
জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, আমাদের ফ্যামিলি প্ল্যানিংয়ের বিভিন্ন প্রোডাক্ট বিভিন্ন জায়গাতে স্টক আউট, সেগুলো আমরা কীভাবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ক্রয় করতে পারি, সেগুলো নিয়ে আমাদের মন্ত্রীসহ সবাই কাজ করছে। মন্ত্রী কোপেনহেগেন, ডেনমার্কের ইউনিসেফের যে সাপ্লাই ডিভিশনের হেডকোয়ার্টার যাচ্ছেন তাদের সঙ্গে আলাপ করার জন্য, যাতে করে আমাদের অন্যান্য যে প্রয়োজনীয় উপকরণ, সেগুলোও দ্রুততম সময়ের মধ্যে কেনা যায় এবং ঘাটতি পূরণ করা যায়—এজন্য আমরা দিনরাত পরিশ্রম করছি।
আগের সরকারের কোনো গাফিলতি কি আপনি স্বাস্থ্য উপদেষ্টা হিসেবে দেখেন না? জবাবে তিনি বলেন, ‘গাফিলতি তো আছেই। আমরা তো এটা বলেই দিয়েছি। তাদের গাফিলতির জন্যই তো ২০২৪-২৫-এর যে টিকার রাউন্ড, সে রাউন্ডটা পুরোপুরি মিস করা হয়েছে। হ্যাঁ, ভ্যাকসিনের কোনো প্রকিউরমেন্ট (চাহিদা নির্ধারণ) হয়নি। পরিবার পরিকল্পনার এই যে গর্ভনিরোধক উপকরণ, এগুলোরও প্রকিউরমেন্ট হয়নি। এখানে গাফিলতি আছে, এটা নিঃসন্দেহে আমরা বলতে পারি। এটার জন্য কোনো তদন্ত করার দরকার নেই।’