দেশে ক্রমবর্ধমান হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সমন্বিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস, ২০২৬ উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত এক র্যালির উদ্বোধনকালে তিনি এ আহ্বান জানান। র্যালিটি কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার থেকে শুরু হয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে গিয়ে শেষ হয়।
রিজভী বলেন, টিকাবিরোধী অপপ্রচার, কুসংস্কার এবং স্বাস্থ্যখাতে অবহেলার কারণে হামের ঝুঁকি বেড়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
এই রোগের বিস্তার রোধে সরকার, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, চিকিৎসক এবং জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে যৌথভাবে কাজ করার অনুরোধ জানান তিনি।
দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরে রিজভী বলেন, চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে জড়িত সবার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
এ বছরের প্রতিপাদ্য— ‘স্বাস্থ্যসেবায় বিজ্ঞান এবং সুরক্ষিত সবার জীবন’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই প্রতিপাদ্যের মূল কথাই হচ্ছে, সবাইকে বিজ্ঞানের সঙ্গে থাকতে হবে। বিজ্ঞানের সঙ্গে না থাকলে সঠিক রোগ নির্ণয়, সুস্বাস্থ্য এবং কার্যকর চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
এই বিএনপি নেতা বলেন, আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা বিজ্ঞানেরই ফল। মানুষ প্রত্যাশা করে, যেকোনো মহামারি বা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে সরকার দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও উপকরণ নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াবে।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে হামের প্রকোপ বাড়ার অন্যতম কারণ হলো টিকাবিরোধী প্রচারণা ও ভুল ধারণা। উন্নত বিশ্বেও ‘টিকাবিরোধী’ একটি গোষ্ঠী সক্রিয়। এর ফলে সমাজে এখনও অন্ধত্ব, ভুল ধারণা ও কুসংস্কার ছড়িয়ে আছে।
বিগত ১৫ বছরের স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত এবং তারা সক্রিয়, তবে জনস্বাস্থ্যের ওপর আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। গত দেড় দশকে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সময়েও স্বাস্থ্যখাত পর্যাপ্ত মনোযোগ পায়নি বলে আক্ষেপ করেন তিনি।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান তুলে ধরে রিজভী জানান, গত ১২–১৩ মার্চ থেকে এপ্রিলের মধ্যে ৩৮ জনের জীবন গেছে। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও ময়মনসিংহ এখন হামের ‘হটস্পট’। এ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যভিত্তিকভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, বিজ্ঞান মানুষকে সুস্বাস্থ্য ও উন্নতমানের চিকিৎসার পথ দেখায়। আজ মানুষ মহাকাশের বহু দূর পর্যন্ত যেতে পারছে। অথচ হাম এমন একটি রোগ যা বহু আগে থেকেই শিশুদের আক্রমণ করে আসছে। এত দিনেও কেন এই রোগ নির্মূল হলো না, সেটি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, দেশে একটি মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল আছে, কিন্তু সেখানে গবেষণার জন্য বরাদ্দ খুবই কম। মাত্র ২ থেকে ৫ লাখ টাকা দিয়ে অর্থবহ গবেষণা সম্ভব নয়। এছাড়া জার্নাল রিভিউয়ের ওপর ২৩ শতাংশ ভ্যাটের কারণে গবেষণার খরচ আরও বেড়ে যায়। তিনি বিজ্ঞান ও গবেষণায় উচ্চতর বরাদ্দের ওপর জোর দেন।
চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরা হাম ও এই জাতীয় জনস্বাস্থ্য হুমকি মোকাবিলায় সক্রিয় ও সময়োপযোগী ভূমিকা পালন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।