সৌদি আরামকোর ঘোষিত কনট্রাক্ট প্রাইস (সৌদি সিপি) সমন্বয়ের ফলে আগস্ট মাসের জন্য বেসরকারি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও অটোগ্যাসের নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
নতুন দরে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫২৮ টাকা থেকে ৭০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৫৯৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
রবিবার (২ আগস্ট) জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বিইআরসি জানিয়েছে, এই নতুন দর আজ (রবিবার) সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হবে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভোক্তা পর্যায়ে বেসরকারি এলপিজির দাম প্রতি কেজি ১৩৩ টাকা ১৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। জুলাইয়ে এ দাম ছিল ১২৭ টাকা ৩০ পয়সা। সে হিসাবে প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ৫ টাকা ৮৫ পয়সা।
মূল্য সমন্বয় করে বিভিন্ন আকারের সিলিন্ডারের মধ্যে সাড়ে ৫ কেজির দাম ৭৩২ টাকা, ১২ কেজির ১ হাজার ৫৯৮ টাকা, সাড়ে ১২ কেজির ১ হাজার ৬৬৪ টাকা, ১৫ কেজির ১ হাজার ৯৯৭ টাকা, ১৬ কেজির ২ হাজার ১৩০ টাকা, ১৮ কেজির ২ হাজার ৩৯৭ টাকা, ২০ কেজির ২ হাজার ৬৬৩ টাকা, ২২ কেজির ২ হাজার ৯২৯ টাকা, ২৫ কেজির ৩ হাজার ৩২৯ টাকা, ৩০ কেজির ৩ হাজার ৯৯৫ টাকা, ৩৩ কেজির ৪ হাজার ৩৯৪ টাকা, ৩৫ কেজির ৪ হাজার ৬৬০ টাকা এবং ৪৫ কেজির দাম ৫ হাজার ৯৯২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সৌদি আরামকো আগস্ট মাসের জন্য প্রতি টন প্রোপেনের দাম ৬২০ ডলার এবং বিউটেনের দাম ৬৪০ ডলার নির্ধারণ করেছে। ৩৫:৬৫ অনুপাতে প্রোপেন ও বিউটেনের গড় সৌদি সিপি প্রতি টন ৬৩৩ ডলার বিবেচনায় নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
জুলাইয়ে গড় সৌদি সিপি ধরা হয়েছিল প্রতি টন ৫৯৩ ডলার। সে হিসাবে আগস্টে গড় সৌদি সিপি প্রতি টনে ৪০ ডলার বেড়েছে।
এছাড়া রেটিকুলেটেড পদ্ধতিতে তরল অবস্থায় সরবরাহকৃত বেসরকারি এলপিজির দাম প্রতি কেজি ১২৯ টাকা ৪০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর গ্যাসীয় অবস্থায় সরবরাহকৃত এলপিজির দাম প্রতি ঘনমিটার ২৮৭ টাকা ৫০ পয়সা বা প্রতি লিটার ২৮ পয়সা ৭৫ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া ভোক্তা পর্যায়ে অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটার ৭৩ টাকা ৬৭ পয়সা নির্ধারণ করেছে কমিশন।
তবে সরকারি এলপিজির দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি জারি করা আদেশ অনুযায়ী সরকারি এলপিজির ডিলার ও রিটেইলার পর্যায়ে সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের মূল্য ৭৭৬ টাকা ৯৩ পয়সাই বহাল থাকবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, এলপিজি মজুত, বোতলজাতকরণ, বিতরণ ও খুচরা বিক্রির কোনো পর্যায়েই কমিশন নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বা অটোগ্যাস বিক্রি করা যাবে না। কমিশনের আগের অন্যান্য নির্দেশনাও বহাল থাকবে।