নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার নির্বাচনি অঙ্গীকার পূরণে নারীপ্রধান পরিবারগুলোর জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সরকার গঠনের মাত্র তিন সপ্তাহের মাথায় প্রধানমন্ত্রী তার নিজের নির্বাচনি এলাকা বনানীর কড়াইল বস্তি-সংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
আজ (মঙ্গলবার) বেলা সোয়া ১১টার দিকে তারেক রহমান প্রথম ফ্যামিলি কার্ডটি পারভীন বেগমের হাতে তুলে দেন। পরবর্তীতে আরও বেশ কয়েকজন নারী প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এই কার্ড গ্রহণ করেন।
কার্ড তুলে দেওয়ার পরপরই সরকারপ্রধান ল্যাপটপে একটি বাটন প্রেস করেন, সঙ্গে সঙ্গে উপকারীভোগীদের কাছে নগদ অর্থ চলে যায়।
বেলা পৌনে ১১টার দিকে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত এবং অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। অনুষ্ঠানে বিএনপির থিম সং ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার, শেষ বাংলাদেশ’ পরিবেশন করা হয়।
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ডা. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ। মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, কূটনীতিক এবং সামরিক ও বেসামরিক উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান সকাল ১০টা ৩২ মিনিটে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান এবং ফ্যামিলি কার্ড নিতে আসা বেশ কয়েকজন নারীর সঙ্গে কথা বলেন।
এ কর্মসূচি নারীর ভূমিকাকে শক্তিশালী করার এবং সমাজকল্যাণমূলক উদ্যোগে তাদের পরিবারের প্রাথমিক প্রতিনিধি হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে সামাজিক ন্যায্যতা ও জাতীয় অগ্রগতিতে সরকারের অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে (পাইলট প্রজেক্ট) দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনের ১৫টি ওয়ার্ডে ১৩টি জেলার ইউনিয়নে এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।
পারিবারিক আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটিগুলো বাড়ি বাড়ি গিয়ে জরিপ চালিয়েছে। জরিপে পরিবারের সদস্য সংখ্যা, শিক্ষার স্তর, আবাসন অবস্থা, টেলিভিশন, রেফ্রিজারেটর, কম্পিউটার ও মোবাইল ফোনের মতো সম্পদের মালিকানা এবং রেমিট্যান্স প্রবাহের তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে। পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই ও মূল্যায়নের পর মোট ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে এ সহায়তার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।
এই পাইলট কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি নির্বাচিত পরিবার জি-টু-পি পদ্ধতিতে ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে নারীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা পাবে।
২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত এই পাইলট প্রকল্পের জন্য সরকার ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ করেছে। এই অর্থের মধ্যে ২৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা সরাসরি নগদ সহায়তা হিসেবে বিতরণ করা হবে এবং বাকি ১২ কোটি ৯২ লাখ টাকা তথ্য সংগ্রহ, সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট ও কার্ড তৈরির কাজে ব্যয় হবে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই কর্মসূচি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হচ্ছে এবং সুবিধাভোগীদের কার্ড সংগ্রহের জন্য কোনো অফিসে যেতে হবে না; কর্মকর্তারা সরাসরি তাদের বাড়িতে কার্ড পৌঁছে দেবেন।
সরকার প্রতি মাসে এই পাইলট কর্মসূচিটি পর্যালোচনা করবে এবং পরবর্তী সম্প্রসারণের কথা বিবেচনা করার আগে ৩০ জুন পর্যন্ত তিন মাসের একটি ‘শিক্ষা গ্রহণ’ সময়কাল চলমান থাকবে।