ভেনেজুয়েলের লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যে উদ্ধারকর্মী ও সাধারণ মানুষ যখন ধ্বংসস্তূপের নিচে বেঁচে থাকা মানুষদের খুঁজছে, তখন সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেখানে উত্তেজনা ও মরিয়া ভাব আরও বাড়ছে। দেশটিতে শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পের পর এরই মধ্যে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৩০ জনে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর শনিবার পর্যন্ত অন্তত ৬৮ হাজার ৯০০ জন নিখোঁজ থাকার তথ্য জানিয়েছে পরিবারগুলো।
ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যগুলোর অন্যতম লা গুয়াইরা। সেখানকার ধসে পড়া কংক্রিটের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে স্বজন ও প্রতিবেশীদের খোঁজে কোদাল, ভারী যন্ত্রপাতি, দড়ি ও খালি হাতেই উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলোও। ধসে পড়া ভবনের ফাটল গলে তাদের ভেতরে ঢোকার দৃশ্য শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর মনে ক্ষীণ হলেও আশার আলো জাগাচ্ছে।
তবে সরকারের অপর্যাপ্ত পদক্ষেপের কারণে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এখন চরমে পৌঁছেছে। দেশটির সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও সামরিক ক্যাডেটদের উপস্থিতি থাকলেও এত বড় দুর্যোগ মোকাবিলায় তাদের প্রস্তুতিতে স্পষ্ট ঘাটতি লক্ষ করা গেছে। এর মধ্যেই সরকারি তৎপরতা খুব জোরালো, সরকারের এমন একটি ভাবমূর্তি জাহির করার চেষ্টায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
সহায়তা সংস্থাগুলোর মতে, ধ্বংসস্তূপ থেকে মানুষকে জীবিত উদ্ধারের জন্য প্রথম ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। তবে খাবার ও পানির উৎস থাকলে এই সময়সীমা আরও বাড়তে পারে। ভেনেজুয়েলার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শনিবার পর্যন্ত ১ হাজার ৬০০-রও বেশি উদ্ধারকর্মী নিয়ে ১৭টি বিমান দেশটিতে অবতরণ করেছে।