ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত ২৯৭ জন সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একইসঙ্গে গণভোটের ফলাফলের গেজেটও প্রকাশ করা হয়।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ এই গেজেট দুটি ইস্যু করেন।
গেজেটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নামের পাশাপাশি তাদের পিতা বা স্বামীর নাম, মাতার নাম এবং ঠিকানা প্রকাশ করা হয়েছে। এখন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সারা দেশের ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’-এর ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ওই আসনে নির্বাচন আগেই স্থগিত করা হয়েছিল।
গতকাল (শুক্রবার) ইসি ২৯৭টি আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করে এবং আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী চট্টগ্রাম-২ ও ৪ আসনের ফলাফল স্থগিত রাখে।
নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এছাড়া যে দুইটি আসনের (চট্টগ্রাম-২ ও ৪) ফলাফল স্থগিত আছে, সেখানেও বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। বিএনপির জোটসঙ্গীদের মধ্যে বিজেপি (আন্দালিব রহমান পার্থ), গণঅধিকার পরিষদ ও গণসংহতি আন্দোলন ৩টি আসনে জয়ী হয়েছে।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী জিতেছে ৬৮টি আসনে। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের অন্য শরিকরা ৯টি আসনে জয় পেয়েছে, যার মধ্যে এনসিপি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি এবং খেলাফত মজলিস ১টি আসন পেয়েছে। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয়লাভ করেছেন।
নির্বাচন কমিশনের পৃথক গেজেট অনুযায়ী, গণভোটে ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০ জন ভোটার সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। অপরদিকে, ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬ জন ভোটার ‘না’ ভোট দিয়েছেন। গণভোটে বাতিল হওয়া ব্যালটের সংখ্যাও ছিল ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭টি।
সংবিধান অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে স্পিকার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করান। তবে দ্বাদশ সংসদের স্পিকারের অনুপস্থিতি বা পদত্যাগের কারণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) অথবা রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত কোনো ব্যক্তি এই শপথ পাঠ করাবেন।
সংবিধানের ১৪৮ (২) (ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে যদি স্পিকার শপথ পাঠ করাতে না পারেন, তবে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সেই শপথ পাঠ করাবেন।