স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত। এ বিষয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্কের অবসান হওয়া উচিত এবং আলোচনা ও সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের কাজ এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
রবিবার (১৯ জুলাই) সকালে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল আয়োজিত ‘জুলাই শহিদ সাংবাদিক সম্মাননা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, এখন আমাদের কিছু অঙ্গীকার আছে। তার মধ্যে ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার আছে। জুলাই সনদে আমরা স্বাক্ষর করেছি, সেটি বাস্তবায়নেরও অঙ্গীকার আছে। আমরা এগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি।
তিনি বলেন, আমার খুব খারাপ লাগে, যখন দেখি যে কতগুলো বিষয় নিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়। তার মধ্যে একটি জুলাই সনদ।
মন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদে সব রাজনৈতিক দলের স্বাক্ষর রয়েছে। সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়নি, নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে গেলে তারা নিজ নিজ নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী সেসব বিষয়ে কাজ করবে। ‘এ বিষয়টি আমরা কেন যেন এড়িয়ে যাচ্ছি। এ নিয়ে বিতর্কের অবসান হওয়া উচিত’, বলেন তিনি।
সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, সাধারণ আলোচনার মধ্যেই বিষয়গুলোর সমাধান হতে পারে। সংসদে সুযোগ এসেছে, একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। আমার আহ্বান থাকবে, সবাই সেই কমিটিতে যোগ দিয়ে সংবিধানের যেসব বিষয় পরিবর্তন করা প্রয়োজন, সেগুলোতে সহযোগিতা করবেন।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, আন্দোলন আমরা অনেক করেছি, অনেক রক্তও দিয়েছি। এবার দেখা যাক, আলোচনার মাধ্যমে সংসদে কোনো ঐকমত্যে পৌঁছানো যায় কি না। এটাই আমার আহ্বান। তিনি বলেন, আমার এই শেষ বয়সে আমি এমন একটি বাংলাদেশ দেখতে চাই, যেখানে আগামী প্রজন্মকে আর মারামারি, কাটাকাটি বা প্রাণ দিতে হবে না। সবকিছু একেবারে নাকচ করে দেওয়ার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে আলোচনার মধ্য দিয়ে এগোনো উচিত।