ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ)।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে বিএসআরএফের সভাপতি মাসউদুল হক ও সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল বলেন, একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য জাতি দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন হঠাৎ মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করে সাধারণ মানুষকে নির্বাচনে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণসহ গণমাধ্যম কর্মীদেরও পেশাদারত্বে বাধা সৃষ্টি করছে।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হলো সংবাদমাধ্যম। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বা বিধিনিষেধ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং আইনের শাসনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী বলে মনে করে বিএসআরএফ ।
সংগঠনটি আরও বলেছে, নির্বাচন কমিশনের অনাকাঙ্ক্ষিত বিধিনিষেধ সাধারণ মানুষের স্বার্থের পরিপন্থী। ইসিকে তাদের এ ধরনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে বিএসআরএফ। একই সঙ্গে আসন্ন নির্বাচনে গণমাধ্যম কর্মীদের অবাধে কাজ করার সুযোগ প্রদানে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এর আগে, গতকাল রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলামের সই করা এক নির্দেশনায় বলা হয়, আসন্ন গণভোট ও সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না।
নির্দেশনা অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে প্রিসাইডিং কির্মকর্তাসহ নির্দিষ্ট ৩ শ্রেণির কর্মকর্তা ব্যতীত অন্য কেউ মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। ওই ব্যক্তিরা হলেন— ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ ইনচার্জ এবং ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ ব্যবহারকারী আনসার বা ভিডিপির দুই সদস্য। এই নির্দেশনা অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইসির সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে জানা গেছে, নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং কেন্দ্র থেকে তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য বা ছবি আদান-প্রদান বন্ধ করতেই এই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। তবে নির্বাচনের মাঠে দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা নির্দিষ্ট অ্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ করবেন বলে তাদের জন্য এই নিয়ম শিথিল করা হয়েছে।
নির্দেশনার ফলে ভোটগ্রহণের দিন ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের পরিসীমার মধ্যে প্রার্থী বা সাংবাদিকদেরও মোবাইল ফোন বহন বা ব্যবহার করার অনুমতি থাকছে না।
চিঠিতে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসক এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাসহ মোট ৬৯ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা সিদ্ধান্তটির যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হবে। সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ হবে। এবার ৬৪ জেলায় মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪২ হাজারের বেশি; মোট ভোটকক্ষের সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ।
সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের পাশাপাশি ওই দিন একযোগে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ নিয়েও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।