উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভনে দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে সিলেটের গোয়াইনঘাটে দুই নারীসহ সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত দালালদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অনুসন্ধান চলছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আটকদের সিলেট আদালতে পাঠানো হয়। এর আগে গতকাল (মঙ্গলবার) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের নলজুরি বড়ইতলা গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আটকরা হলেন বাগেরহাটের বকুলতলা গ্রামের মো. সাইফুল (২১), খুলনার দিগলদিয়া থানার বাগমারা গ্রামের মো. রাব্বি শিকদার (১৭), কাজিগঞ্জ মোগলা গ্রামের মো. কাউছার (১৬), বাগেরহাটের বকুলতলা গ্রামের মো. ওমর ফারুক (১৮), মোড়লগঞ্জ থানার নিশানবাড়িয়া গ্রামের মো. পারভেজ হাসান (২১), নড়াইলের কালিয়া উপজেলার ভমবাগ গ্রামের শম্পা (২৪) ও ঢাকার যাত্রাবাড়ীর মুন্নি (১৬)।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্টরা জানায়, অজ্ঞাত এক দালালের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাদের সিলেটের জাফলং এলাকায় নিয়ে আসা হয়। তাদের মধ্যে দুই নারীকে ভারতে বাসাবাড়িতে মাসিক ৫০ হাজার টাকা এবং পাঁচ যুবককে বিভিন্ন কোম্পানিতে মাসিক ৩৫ হাজার টাকা বেতনের চাকরি দেওয়ার কথা বলা হয়।
পরবর্তীতে মিজান নামের এক ব্যক্তি তাদের নলজুরি বড়ইতলা গ্রামের আব্দুল মান্নানের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থান করে তারা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পেরে গোয়াইনঘাট থানার তামাবিল পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ওই এলাকায় অভিযান চালান। এ সময় দুই নারীসহ সাতজনকে আটক করে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়।
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক বলেন, উচ্চ বেতনের প্রলোভনে দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের উদ্দেশ্যে ওই সাতজন নলজুরি বড়ইতলা এলাকায় অবস্থান করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত দালালদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।