ইতালির রোমে নিজ বাসায় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে এক প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় একজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। নিহতরা সবাই নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা।
শুক্রবার (২৬ জুন) স্থানীয় সময় রাত ৮টার দিকে রাজধানী রোমের পার্শ্ববর্তী এলাকা কাসালোত্তির ভিয়া মন্তিলিওর একটি অ্যাপার্টমেন্টে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহতরা হলেন— কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সিরাজুল ইসলামের ছেলে কামাল উদ্দিন বাবুল (৪৫), তার স্ত্রী আরজু বেগম (৪০) এবং তাদের মেয়ে আরোয়া ইসলাম আরিশা (৫)।
এ ঘটনায় ছেলে আমির হোসেন অয়ন (২০) আহত হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় জেমেলি পলিক্লিনিক হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহত কামাল উদ্দিন বাবুলের আত্মীয় আফনান হোসেন নাইম জানান, শুক্রবার ইতালির স্থানীয় সময় রাত ৮টার দিকে কয়েকজন দুর্বৃত্ত বাবুলের ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে আকস্মিক হামলা চালায়। সে সময় ঘরে থাকা বাবুল, তার স্ত্রী ও মেয়েকে লক্ষ্য করে তারা ছুরিকাঘাত করে। ঐ মুহূর্তে ছেলে অয়ন বাইরে থেকে ঘরে ফিরছিলেন। কক্ষে প্রবেশ করার সময় বিষয়টি টের পেয়ে তিনি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা অয়নকেও কুপিয়ে জখম করে। পরে অয়নের চিৎকারে আশপাশের লোকজন বের হয়ে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা বাবুলসহ চারজনকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন এবং অয়নকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
নিহত কামাল উদ্দিনের বাবা সিরাজুল ইসলাম জানান, আমার ছেলে পরিবারের আর্থিক অবস্থা স্বচ্ছল করার জন্য বছর ১৫ আগে ইতালি পাড়ি জমান। দেড় বছর আগে বাবুল দেশে আসেন এবং তার স্ত্রী, এবং ছেলেমেয়েকে তার সঙ্গে ইতালি নিয়ে যান।
তিনি আরও জানান, বছরখানেক আগে তার গ্রামের বাড়িতে বসতঘরের সামনে লাল বাহিনী পরিচয়ে একটি চিরকুট পাওয়া যায়। সেখানে লক্ষাধিক টাকা চাঁদার দাবি করা হয়। চাঁদা পরিশোধ না করলে কামালকে হত্যা ও তার পরিবারের ক্ষতি করার হুমকির কথা উল্লেখ করা হয় চিরকুটে। এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি কোম্পানিগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
তবে এ হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে তিনি সুনিশ্চিত করে এই মুহূর্তে কাউকে দায়ী করেননি এবং অন্যকোনো ধারণাও পোষণ করছেন না।
এ হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে নিহতের গ্রামের পরিবার, বাড়িসহ স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে দাবি করা হয়েছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিহতদের মরদেহ দেশে ফেরত আনাসহ হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে তাদের শাস্তি দেওয়া হোক।
রোমে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হতাহতদের পরিবার ও সেখানকার বাঙালি কমিউনিটির সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। স্থানীয় পুলিশ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে।