গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় উপবৃত্তির প্রলোভন দেখিয়ে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের পর ভিডিও ধারণ করে তা প্রকাশ করে দেওয়ার ভয় দেখানোর অভিযোগে এক মাদরাসার অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার মো. রঞ্জু মিয়া (৫৫) উপজেলার গুমানীগঞ্জ ইউনিয়নের খড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় পণ্ডিতপুর আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ছাত্রী গুমানীগঞ্জ ইউনিয়নের জরিপপুর গ্রামের বাসিন্দা। চার মাস আগে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হন। ভর্তির পর থেকেই অধ্যক্ষ রঞ্জু মিয়া ওই ছাত্রীর পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার অজুহাতে তার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন এবং তাকে সরকারি উপবৃত্তি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন।
গত ১৮ ডিসেম্বর সকালে অধ্যক্ষ ওই ছাত্রীকে ফোন করে জানান, উপবৃত্তি ফরমে স্বাক্ষর করার জন্য জরুরিভিত্তিতে তার পান্থাপাড়ার বাসায় যেতে হবে। অধ্যক্ষের কথায় মেয়েটি বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তার বাসায় যান। সেখানে কেউ না থাকার সুযোগে রঞ্জু মিয়া তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এ সময় অত্যন্ত কৌশলে মোবাইল ফোনে ধর্ষণের ভিডিওচিত্র ধারণ করে রাখেন তিনি। পরবর্তীতে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় ।
গতকাল আবারও গোপন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে মেয়েটিকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন তিনি। পরে বাধ্য হয়ে ভুক্তভোগী বাড়িতে গিয়ে তার মা-বাবার কাছে বিষয়টি খুলে বলেন। পরিবারের পরামর্শে অবশেষে মেয়েটি নিজে বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা করেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করার পর পুলিশ দ্রুত অভিযানে নামে। গতকাল (শুক্রবার) রাতে তাকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ।
এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক জানান, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়েছে। আমরা রাতেই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। আসামিকে আজ (শনিবার) আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে।