রাজধানীর বাড্ডায় একটি বাসায় ঢুকে মো. রানা (৩৫) নামে এক যুবককে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বাড্ডা থানাধীন হোসেন মার্কেটের পেছনে ময়নারবাগ বউ বাজার এলাকার ৩৭৩ নম্বর বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
রানা নোয়াখালী জেলার মাইজদী এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম মৃত আব্দুর রব। তিনি বর্তমানে ভাটারা থানার নতুন বাজার কাজীবাড়ি এলাকায় থাকেন। পেশায় তিনি একজন গাড়িচালক।
গুলিবিদ্ধ রানা বলেন, ‘আমি গতকাল (শনিবার) দুপুর ৩টার দিকে উত্তর বাড্ডায় এক ভাই জয়ের বাসায় দাওয়াত খেয়ে একটি রুমে ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম। সঙ্গে আমার এক ছোট ভাই ছিল। সেই সঙ্গে জয় ভাইও ছিলেন ।
তিনি বলেন, ‘রাত ১০টার দিকে বাসার দরজায় নক করা হয়। এ সময় ভেতর থেকে জিজ্ঞেস করা হয়—কে? কিন্তু বাইরে থেকে কোনো সাড়াশব্দ আসেনি। আমি বিছানায় শুয়েই ছিলাম। এরপর জয় ভাই দরজা খুলে কাউকে দেখতে না পেয়ে বাসার মেইন দরজার কাছে চলে যান। এমন সময় হঠাৎ বাসার ভেতরের দরজা দিয়ে তিনজন প্রবেশ করে। তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে করতে আমার ডান পায়ে গুলি করে। গুলিটি আমার ডান পায়ের হাঁটুর ওপর লাগে। গুলি করেই তারা দ্রুত পালিয়ে যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘একই এলাকার বাসিন্দা তামিম নামের এক ব্যক্তি আমাকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। এতে আমার ডান পায়ে হাঁটুর উপরে গুলি লাগে।’
পরবর্তীতে স্বজনরা তাকে দিবাগত রাত ২টার দিকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। বর্তমানে সেখানে তিনি চিকিৎসা নিচ্ছেন।
আহত রানার স্বজনরা বলেন, তার বড় ভাইয়ের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে তামিম নিয়মিত চাঁদা চাইতেন। একপর্যায়ে রানা তামিমকে বলে দেন, কোনো চাঁদা দেওয়া হবে না। সেই চাঁদা না দেওয়ায় এই গুলির ঘটনা ঘটতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন। তামিমের নামে বাড্ডায় একটি খুনের মামলা রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, রাতে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বাড্ডা থেকে রানা নামে একজনকে নিয়ে আসা হয়। এরপর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবগত করা হয়েছে।