যুবক
খুলনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবক নিহত
খুলনা নগরীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে ইসমাইল (৩২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাতে সোয়া ১২টার দিকে নগরীর দক্ষিণ টুটপাড়া বড় খালপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইসমাইল ওই এলাকার শাজাহানের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল রাতে ইসমাইল এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় একদল দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তিনি মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা ইসমাইলের মাথায় গুলি করেছে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে তার মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়েও আঘাত করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নিহত ইসমাইলের বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুমেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
৩ দিন আগে
শিশুকে উত্ত্যক্ত করে টিকটকে ভিডিও, যুবক আটক
ফেনীতে টিকটক ভিডিও বানানোর সময় ছয় বছরের এক মেয়ে শিশুকে উত্যক্ত, হাত ধরে টানাটানি এবং সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে মোজাম্মেল হোসেন প্রকাশকে (২০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যায় তাকে আটক করা হয়েছে। এই ঘটনায় তিন যুবকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
আটক মোজাম্মেল হোসেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মৈশাইল এলাকার মনির হোসেনের ছেলে। তিনি পরিবারের সঙ্গে ফেনী সদর উপজেলার উত্তর সিলোনিয়া মাদানিয়া মাদরাসা-সংলগ্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন পশ্চিম সিলোনিয়া এলাকার মৃত জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে সালমান (২০) এবং যাত্রাসিদ্ধি এলাকার মনির আহাম্মদের ছেলে মাহফুজ (১৯)।
পুলিশ জানায়, গত ২৮ জুলাই দুপুর ১২টার দিকে ফেনী সদর উপজেলার গোবিন্দপুরে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে উত্ত্যক্ত করে ওই তিন যুবক। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হলে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে। পরে সন্ধ্যায় শহরতলীর লালপোল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শিশুটি স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে কয়েকজন যুবক তার পথরোধ করেন। তাদের মধ্যে দুজন শিশুটির হাত ধরে টানাটানি ও অশালীন আচরণ করেন। তারা শিশুটিকে শ্লীলতাহানি ও উত্ত্যক্ত করে। অপর একজন পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে পরে টিকটকে পোস্ট করেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার পরদিন শিশুটি তার বাবাকে পুরো ঘটনা জানায়। পরে ৩০ জুলাই সকালে স্বজনদের মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে, ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি দেখে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় অভিযুক্তদের পরিচয় শনাক্ত করে শিশুটির বাবা ফেনী মডেল থানায় মামলা করেন। ঘটনার পর থেকে শিশুটি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে এবং প্রায়ই কান্নাকাটি করছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
এ ব্যাপারে ফেনী মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) সজল কান্তি দাশ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে এক শিশুকে উত্ত্যক্তের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে পুলিশের নজরে আসে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত মোজাম্মেল হোসেনকে আটক করেছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে থানায় একটি এজাহার দিয়েছেন।
ওই মামলায় আটক যুবককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এছাড়া অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
৪ দিন আগে
খুলনায় দিনে-দুপুরে যুবককে গুলি
খুলনা নগরীতে আরিফ শিকদার (২৪) নামে এক যুবককে গুলি করে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। বর্তমানে তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে খুলনার লবণচরা এলাকার রূপসা রিভারভিউ ইকোপার্ক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত আরিফ শিকদার লবণচরা থানার মাথাভাঙ্গা এলাকার আবুল কালাম শিকদারের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, দুপুরের দিকে আরিফসহ আরও দুই যুবক ইকোপার্কের পাশে বসে গল্প করছিলেন। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলে এসে ছয়জন দুর্বৃত্ত আরিফকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ সময় একটি গুলি তার বুকের ডান পাশে বিদ্ধ হয়। এরপর হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার দুই পায়ে একাধিক আঘাত করে।
দুর্বৃত্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর স্থানীয়রা আরিফকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য খুমেক হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে কারা এবং কী কারণে তার ওপর হামলা এ চালিয়েছে, তা কেউ বলতে পারেননি।
লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশারেফ হোসেন বলেন, বর্তমানে আরিফ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কে বা কারা তার ওপর হামলা চালিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
৭ দিন আগে
প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তরুণীকে অপহরণ, যুবক গ্রেপ্তার
সিলেটে এক তরুণীকে অপহরণ মামলার প্রধান আসামি জয় দাসকে (২৩) নেত্রকোনা জেলা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৯ ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি)। এ সময় যৌথ অভিযান চালিয়ে অপহৃত তরুণীকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) র্যাব-৯ এর এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তার জয় দাস নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরী থানার শিবপুর গ্রামের হরিধন দাসের ছেলে।
বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব জানায়, ভুক্তভোগী তরুণীকে সিলেট মহানগরীর জালালাবাদ থানাধীন করেরপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় করেরপাড়া সিটি মডেল স্কুল থেকে সদ্য এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথে জয় প্রায়ই তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করতেন। বিষয়টি ভুক্তভোগী তরুণী তার পরিবারকে জানালে, তার বাবা অভিযুক্তের বোন জামাই রিংকু দাসের কাছে এ নিয়ে অভিযোগ করেন। তখন রিংকু দাস ওই তরুণীকে আর বিরক্ত করা হবে না বলে আশ্বাস দেন।
গত ১৬ জুলাই দুপুর ৩টার দিকে ভুক্তভোগী হাওলাদারপাড়ায় তার খালার বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি সেখানে না পৌঁছালে তার পরিবার খোঁজাখুঁজি শুরু করে। একপর্যায়ে তারা প্রতিবেশীদের মাধ্যমে জানতে পারেন, করেরপাড়া পয়েন্ট এলাকা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় জয় ও অজ্ঞাতনামা ২ থেকে ৩ জন মিলে জোরপূর্বক ওই তরুণীকে অপহরণ করে নিয়ে গেছেন।
র্যাব জানায়, এই ঘটনায় তরুণীর বাবা বাদী হয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) জালালাবাদ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। মামলার পর আসামিদের গ্রেপ্তারে ছায়া তদন্ত শুরু করে র্যাব-৯।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার র্যাব-৯ (সদর কোম্পানি) ও এসএমপি পুলিশের একটি যৌথ দল নেত্রকোনার খালিয়াজুরী থানার মুরাদপুর এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি জয়কে গ্রেপ্তার করা হয় এবং অপহৃত শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়।
আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে উদ্ধার হওয়া তরুণী ও গ্রেপ্তার আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
১২ দিন আগে
হাজারীবাগে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত
রাজধানীর হাজারীবাগে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে সাগর হোসেন বুলেট (২৮) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
বুধবার (২২ জুলাই) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। গতকাল (মঙ্গলবার) দিবাগত রাত ২টার দিকে হাজারীবাগ পার্কের পাশের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতকে হাসপাতালে নিয়ে আসা অটোরিকশাচালক ইব্রাহিম জানান, প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে আমার অটোরিকশাটি গ্যারেজে রাখার জন্য যাচ্ছিলাম। এ সময় হাজারীবাগ পার্কের পাশের সড়কে মন্দিরের গলিতে ওই যুবককে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। তখন তার মাথার বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল।
তিনি বলেন, পরবর্তীতে স্থানীয় আরেকজনের সহযোগিতায় ৯৯৯ এ কল করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে এবং আমাকে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলে। পরে আমি তাকে নিয়ে রাত আড়াইটার দিকে ঢামেক হাসপাতালের নিয়ে যাই। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ওই যুবককে ১০৩ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। আজ ভোরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতের ভাই শাওন বলেন, পুলিশ ও স্থানীয়দের মাধ্যমে আমরা এ ঘটনার ব্যাপারে জানতে পারি। কে বা কারা আমার ভাইকে মেরে ফেলে গেছে, এ ব্যাপারে আমরা কিছুই বলতে পারব না। আমার ভাই নির্দিষ্ট কোনো কাজ করত না। একেক সময় একেক কাজ করত। বেশ কিছুদিন যাবত সে একটি গাড়ির হেলপার ছিল।
তিনি আরও বলেন, আমরা ঢাকার হাজারীবাগের ভাগলপুর লেন ১৫ নং এর স্থায়ী বাসিন্দা। আমাদের বাবার নাম শাহাদাত হোসেন।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে জানান, নিহতের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।
১৩ দিন আগে
সিরাজগঞ্জে ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে বাবা-ছেলের ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় প্রীতি ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে ইলিয়াস হোসেন (২৭) নামে এক যুবককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তি ও তার ছেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (১৯ জুলাই) গভীর রাতে রায়গঞ্জ উপজেলার কালিঞ্জা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ইলিয়াস ওই গ্রামের মৃত আ. সাত্তারের ছেলে। রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসানুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গতকাল (রবিবার) কালিঞ্জা গ্রামের খেলার মাঠে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। খেলা নিয়ে ইলিয়াসের সঙ্গে রাসেলের কথা-কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে ওই দিন গভীর রাতে রাসেল ও তার ছেলে সিয়াম আহমেদ ইলিয়াসের ওপর হামলা করে। একপর্যায়ে তারা তাকে ছুরিকাঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় ইলিয়াসকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ হত্যাকাণ্ডের পর ওই ব্যক্তি ও তার ছেলে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। আজ (সোমবার) সকালে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও জানান, এর আগে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই গ্রামের রাসেল শেখ (৪২) ও সোহেল খানকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ৭ জনকে আসামি করে রায়গঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। এ মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
১৪ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে পূজার সময় কালী মন্দিরে হামলা-ভাঙচুর, যুবক আটক
নারায়ণগঞ্জে মন্দিরে পূজার সময় হামলা ও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে ইয়ামিন নাবিল নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন মন্দিরের লোকজন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে শহরের নয়ামাটি এলাকার শ্রী শ্রী দরিদ্র ভান্ডার কালী মন্দিরের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ইয়ামিন নাবিল বন্দরের শাহী মসজিদ এলাকার বাসিন্দা।
মন্দিরের পুরোহিত কমল চক্রবর্তী বলেন, দুর্গাপূজার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দুপুরে কাঠাম পূজার আয়োজন করা হয়েছিল। এ সময় ওই যুবক মন্দিরে ঢুকে ‘আল্লাহ পূজা নিষেধ করেছেন’ বলে পূজার সামগ্রীতে লাথি মেরে ফেলে দেন। এ সময় মন্দিরের লোকজনকেও লাথি মারতে থাকেন তিনি। পরে উপস্থিত লোকজন তাকে আটক করে সদর মডেল থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নারায়ণগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু-মুসলিম একসঙ্গে বসবাস করছি, কখনও এমন ঘটনা ঘটেনি। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
ইয়ামিন নাবিলের বড় ভাই অমিত হাসান দাবি করেন, তার ভাই দীর্ঘদিন ধরে সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত। তবে এ বিষয়ে এর বেশি কিছু বলতে তিনি রাজি হননি।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) তারেক আল মেহেদী বলেন, দুপুরে এক যুবক মন্দিরের ভেতরে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালিয়েছে। তার পরিবার দাবি করেছে, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন। তবে তারা যদি এ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারে, তাহলে তাকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হবে। অন্যথায়, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৮ দিন আগে
রাজধানীতে চাকরির ইন্টারভিউ দিতে বের হয়ে ট্রেনের ধাক্কায় যুবক নিহত
রাজধানীর কুড়িলে চাকরির ইন্টারভিউ দেওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়ে রেললাইন এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় রাকিব (২৮) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
রবিবার (১২ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে কুড়িল বিশ্বরোডের রেলগেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রাকিবের বাড়ি ভোলার দৌলতখান উপজেলার চর খলিফা গ্রামে। তার বাবার নাম মফিজুল ইসলাম। বর্তমানে তিনি রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় থাকতেন।
তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা পথচারী আবু রায়হান বলেন, আজ (রবিবার) সকাল ৭টার দিকে কুড়িল বিশ্বরোডের রেলগেট পার হচ্ছিলেন ওই যুবক। এ সময় কমলাপুর থেকে ছেড়ে আসা বিমানবন্দরগামী একটি ট্রেনের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়ে রাস্তায় পড়ে থাকেন তিনি। পরে বিষয়টি দেখতে পেয়ে আমি তাকে প্রথমে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে আসি। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পথচারী আবু রায়হান আরও জানান, এরই মধ্যে যুবকটির মোবাইল ফোনে কল আসলে তার বাবার সঙ্গে আমার কথা হয়। ফোনের মাধ্যমে যুবকের নাম ও তাদের দেশের বাড়ি ঠিকানা আমি জানতে পারি। পরে তার বাবাকে দ্রুত ঢামেক হাসপাতালে আসতে বলি। তার বাবার কাছ থেকে জানতে পারি, তিনি একটি চাকরির ইন্টারভিউ দেওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হয়েছিলেন।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি রেলওয়ে থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
২৩ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে ‘ছিনতাইকারী’ আখ্যা দিয়ে যুবককে পিটিয়ে হত্যা
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ‘ছিনতাইকারী’ আখ্যা দিয়ে ২২ বছর বয়সী এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (৪ জুলাই) রাত ১০টার দিকে পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত জিসান ওই এলাকার ইউনুছ ওরফে ইনু মিয়ার ছেলে ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ‘আল ফালাহ’ নামে স্থানীয় একটা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সংগঠক ও স্থানীয় মসজিদের ইমাম কাওছার আহমেদের নেতৃত্বে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি জিসানকে মারধর করে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের অভিযোগ তুলে একদল স্থানীয় লোক তাকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর তার হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে অচেতন হয়ে পড়লে তাকে পরিবারের কাছে রেখে যাওয়া হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খানপুর ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর নিহতের পরিবারের সদস্য ও বন্ধুরা লাঠিসোঁটা হাতে এলাকায় ভাঙচুর চালায় বলেও জানান স্থানীয়রা।
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কাওছার আহমেদ বলেন, ‘জিসানের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, মাদক বিক্রি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ ছিল। গতকাল (শনিবার) নতুন করে ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠলে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে মারধর করে।’
এদিকে, ঘটনার পর একটি ভিডিওতে কাওছার আহমেদকে বলতে শোনা যায়, ‘যার কাছে যা আছে তা নিয়ে নেমে যেতে হবে। ঐক্য থাকলে বাংলাদেশের প্রশাসন কি, কোনো কুত্তায়ও আমাদের কিছু করতে পারবে না। পাবলিক যদি কোনো কুত্তারে মেরে ফেলে, তাহলে কি অন্যায় হবে? ইনশাল্লাহ কোনো মামলা-হামলা কিচ্ছু হবে না। এভাবে সবাই এক থাকবেন।’
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল পাঠানো হয়েছে। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং ঘটনা তদন্তাধীন।
তিনি বলেন, ‘কেউ অপরাধ করলে অন্য কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
২৯ দিন আগে
ময়মনসিংহে যুবককে জবাই করে হত্যার অভিযোগ, আটক ২
ময়মনসিংহ নগরীর রামকৃষ্ণ মিশন রোডের ছত্রিশ বাড়ী কলোনি এলাকায় রুবেল (৩৫) নামে এক যুবককে পিটিয়ে ও জবাই করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন দুজনকে আটক করা হয়েছে।
রবিবার (৫ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রামকৃষ্ণ মিশন রোডের ছত্রিশ বাড়ী কলোনি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে পুলিশ সুপারসহ পুলিশের বিভিন্ন সংস্থা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
নিহত যুবকের নাম মিজানুর রহমান রুবেল ওরফে কাইল্যা রুবেল। তিনি ওই এলাকায় মাদকসেবী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, আজ (রবিবার) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রুবেল নগরীর রামকৃষ্ণ মিশন রোডের ছত্রিশ বাড়ী কলোনির একটি ভাড়া বাসায় তার নিজ ঘরে অবস্থান করছিলেন। এ সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার ঘরে ঢুকে প্রথমে বাঁশ দিয়ে তাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। একপর্যায়ে তারা তাকে জবাই করে ঘরের ভেতর ফেলে রেখে পালিয়ে যান।
পরে স্থানীয়রা রুবেলকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বশত্রুতার জের ধরে এই ঘটনাটি ঘটতে পারে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন দুজনকে আটক করা হয়েছে। প্রকৃত হত্যাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যহত আছে।
২৯ দিন আগে