যুবক
হবিগঞ্জে পূর্ব বিরোধের জেরে যুবককে কুপিয়ে ‘হত্যা’
হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে জায়দুল মিয়া (২৭) নামে এক যুবককে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার মন্দরি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত জায়দুল ওই গ্রামের লোকমান মিয়ার পুত্র।
পুলিশ জানায়, জায়দুল মিয়ার পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন যাবৎ বিরোধ চলে আসছিল একই গ্রামের আব্দুল মজিদের পরিবারের। আজ (শুক্রবার) সকালে জায়দুল তাদের গ্রামের বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাকে একা পেয়ে গতিরোধ করে কিছু লোক। এক পর্যায়ে কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই তাকে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করে।
পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাজমুল হক বলেন, বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তাদের মধ্যে গ্রাম্য আধিপত্য নিয়ে পূর্ব বিরোধ ছিল। পুলিশ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত করছে। দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের এ কর্মকর্তা।
১ দিন আগে
মৃত্যুর ১৭ দিন পর দেশে ফিরল যশোরের প্রবাসী যুবকের মরদেহ
মালয়েশিয়া প্রবাসী উজ্জ্বল হোসেন নামের যশোরের শার্শা উপজেলার এক যুবকের মরদেহ মৃত্যুর ১৭ দিন পর দেশে ফিরেছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে মালয়েশিয়া থেকে একটি ফ্লাইটে তার কফিনবন্দি মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছালে পরিবারের সদস্যরা তা গ্রহণ করেন।
আজ (শুক্রবার) সকাল ৮টার দিকে কফিনে করে তার মরদেহ উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে পৌঁছায়।
উজ্জ্বল হোসেন ওই গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পরিবারের অভাব-অনটন দূর করতে এবং একটু সুখের আশায় ২০১৫ সালে জীবিকার সন্ধানে মালয়েশিয়া পাড়ি জমান উজ্জ্বল। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথ শেষ হলো নিথর দেহে কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফিরে।
এর আগে, দীর্ঘ আট বছর প্রবাসজীবন কাটিয়ে ২০২৩ সালে দেশে আসেন তিনি। এরপর বিয়ে করেন। নতুন সংসারের স্বপ্নে তখন রঙিন হয়ে ওঠে জীবন। কিন্তু সেই সুখ বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। বিয়ের মাত্র তিন মাস পরই স্ত্রীকে রেখে আবারও মালয়েশিয়ায় ফিরে যেতে হয় উজ্জ্বলকে।
মালয়েশিয়ায় যাওয়ার প্রায় তিন বছর পর গত ১৫ দিন আগে হঠাৎ জ্বরে আক্রান্ত হন উজ্জ্বল। সহকর্মীরা তাকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় মালয়েশিয়ার সুলতানা আমিনা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১ সেপ্টেম্বর মারা যান তিনি। তার মৃত্যুর পর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগে।
স্বজনেরা বলেন, দূতাবাসের সহায়তায় আমরা তার মরদেহ দেশে আনতে পেরেছি। আজ সকাল ১১টায় স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্বজন, প্রতিবেশীসহ স্থানীয় লোকজন অংশ নেন। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়।
নিহতের স্বজন আরিফুল ইসলাম জানান, তার মৃত্যুতে পরিবার অনেকটা ভেঙে পড়েছে। এই শোক কীভাবে কাটাব তা বুঝতে পারছি না।
বেনাপোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন জানান, উজ্জ্বলের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আসার খবর পেয়ে আমরা সেখানে পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছি। তার মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
১ দিন আগে
খুলনা থেকে ‘অপহৃত’ কলেজছাত্রী সিলেটে উদ্ধার, যুবক গ্রেপ্তার
সিলেট নগরীর আম্বরখানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে খুলনা থেকে অপহরণের দাবি করা এক কলেজছাত্রীকে উদ্ধার করেছে র্যাব-৯। এ ঘটনায় খুলনায় হওয়া একটি অপহরণ মামলার প্রধান আসামি ইমরান মোল্ল্যাকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে সিলেট কোতোয়ালী থানাধীন আম্বরখানা এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালানো হয়।
র্যাব-৯-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার ইমরান মোল্ল্যা খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার নাসিরপুর গ্রামের বাসিন্দা।
র্যাব জানিয়েছে, খুলনার পাইকগাছা উপজেলার একাদশ শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে পরিচয়ের সূত্র ধরে ইমরান তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবে সাড়া না পেয়ে বিভিন্ন সময় তাকে অপহরণের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত ১৮ আগস্ট সকালে ওই শিক্ষার্থী বাড়ি থেকে কলেজের উদ্দেশ্যে বের হয়ে আর ফিরে না এলে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরদিন তারা জানতে পারেন, কলেজের সামনে থেকে তাকে একটি গাড়িতে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে পাইকগাছা থানায় মামলা করেন।
র্যাব জানায়, মামলার পর তারা ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে। এর ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল (রবিবার) রাতে সিলেট কোতোয়ালী থানাধীন আম্বরখানা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় মামলার প্রধান পলাতক আসামি ইমরান মোল্ল্যাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং অপহৃত শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়।
র্যাব আরও জানায়, পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেপ্তার আসামি ও উদ্ধারকৃত শিক্ষার্থীকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
৫ দিন আগে
শাবিপ্রবিতে নারী শিক্ষার্থীকে ‘উত্ত্যক্ত’, বহিরাগত যুবক আটক
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে এক নারী শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে আনারুল মিয়া (২৭) নামে এক বহিরাগত যুবককে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মীরা।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিচার্স কোয়ার্টারের সামনে থেকে তাকে আটক করে প্রক্টর কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিযোগ, টিউশন শেষে হেঁটে হলে ফেরার সময় আনারুল একটি মোটরসাইকেল নিয়ে তাকে অনুসরণ করছিলেন। একপর্যায়ে তিনি মোটরসাইকেল থামিয়ে তার মোবাইল ফোন নম্বর চান এবং বন্ধুত্বের প্রস্তাব দেন। এ সময় তাকে বিভিন্ন অশালীন কথাও বলা হয়।
পরে ওই শিক্ষার্থী বিষয়টি তার বন্ধুদের ফোন করে জানালে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মীরা ওই যুবককে আটক করে প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মী শোয়াইবুর রহমান বলেন, ‘আমরা টিচার্স কোয়ার্টারের সামনে তাকে আটক করি। পরে সেখানে আরও অনেক শিক্ষার্থী আসেন। এরপর তাকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘আমরা অভিযুক্তকে পুলিশের কাছে দিয়েছি। দেশের আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’
৫ দিন আগে
বাড্ডায় বাসায় ঢুকে যুবককে গুলি
রাজধানীর বাড্ডায় একটি বাসায় ঢুকে মো. রানা (৩৫) নামে এক যুবককে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বাড্ডা থানাধীন হোসেন মার্কেটের পেছনে ময়নারবাগ বউ বাজার এলাকার ৩৭৩ নম্বর বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
রানা নোয়াখালী জেলার মাইজদী এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম মৃত আব্দুর রব। তিনি বর্তমানে ভাটারা থানার নতুন বাজার কাজীবাড়ি এলাকায় থাকেন। পেশায় তিনি একজন গাড়িচালক।
গুলিবিদ্ধ রানা বলেন, ‘আমি গতকাল (শনিবার) দুপুর ৩টার দিকে উত্তর বাড্ডায় এক ভাই জয়ের বাসায় দাওয়াত খেয়ে একটি রুমে ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম। সঙ্গে আমার এক ছোট ভাই ছিল। সেই সঙ্গে জয় ভাইও ছিলেন ।
তিনি বলেন, ‘রাত ১০টার দিকে বাসার দরজায় নক করা হয়। এ সময় ভেতর থেকে জিজ্ঞেস করা হয়—কে? কিন্তু বাইরে থেকে কোনো সাড়াশব্দ আসেনি। আমি বিছানায় শুয়েই ছিলাম। এরপর জয় ভাই দরজা খুলে কাউকে দেখতে না পেয়ে বাসার মেইন দরজার কাছে চলে যান। এমন সময় হঠাৎ বাসার ভেতরের দরজা দিয়ে তিনজন প্রবেশ করে। তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে করতে আমার ডান পায়ে গুলি করে। গুলিটি আমার ডান পায়ের হাঁটুর ওপর লাগে। গুলি করেই তারা দ্রুত পালিয়ে যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘একই এলাকার বাসিন্দা তামিম নামের এক ব্যক্তি আমাকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। এতে আমার ডান পায়ে হাঁটুর উপরে গুলি লাগে।’
পরবর্তীতে স্বজনরা তাকে দিবাগত রাত ২টার দিকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। বর্তমানে সেখানে তিনি চিকিৎসা নিচ্ছেন।
আহত রানার স্বজনরা বলেন, তার বড় ভাইয়ের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে তামিম নিয়মিত চাঁদা চাইতেন। একপর্যায়ে রানা তামিমকে বলে দেন, কোনো চাঁদা দেওয়া হবে না। সেই চাঁদা না দেওয়ায় এই গুলির ঘটনা ঘটতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন। তামিমের নামে বাড্ডায় একটি খুনের মামলা রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, রাতে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বাড্ডা থেকে রানা নামে একজনকে নিয়ে আসা হয়। এরপর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবগত করা হয়েছে।
৬ দিন আগে
ভোলায় মেঘনার পাড় ধসে বিজিবি সদস্যসহ নিখোঁজ ২
ভোলায় মেঘনা নদীর পাড় ধসে নদীতে পড়ে বিজিবি সদস্যসহ দুই যুবক নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের উদ্ধারে অভিযান চলছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ভোলারখাল মাছঘাট-সংলগ্ন বালুরমাঠ এলাকায় বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিখোঁজদের উদ্ধারে রাতেই অভিযান শুরু হয়, যা আজ (বৃহস্পতিবার) এখনও চলছে।
নিখোঁজরা হলেন ভোলা শহরের ভদ্রপাড়া এলাকার মো. ইব্রাহিমের ছেলে ও বিজিবি সদস্য মো. আমজাদ (২৬) এবং শিবপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মো. বাবুলের ছেলে মো. রাকিব (১৮)।
স্থানীয়রা জানায়, রাত ৯টার দিকে পাঁচ বন্ধু মেঘনা নদীর তীরে বালুভর্তি জিওব্যাগের ওপর বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ জিওব্যাগসহ নদীর পাড়ের একটি অংশ ধসে পড়লে পাঁচজনই পানিতে পড়ে যান। পরে তিনজন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও আমজাদ ও রাকিব নিখোঁজ হন।
আমজাদের স্বজনরা জানান, দুই মাস আগে আমজাদ ছুটিতে বাড়িতে আসেন। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর কর্মস্থলে যাওয়ার কথা ছিল তার। বুধবার বিকেলে তিনি বন্ধুদের সঙ্গে নদীর পাড়ে ঘুরতে যান। সন্ধ্যার পর তারা আমজাদ নদীতে ডুবে নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। কিন্তু এখনও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে কোস্ট গার্ডের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। রাতে তল্লাশি চালানোর পর বৃহস্পতিবার সকালে বরিশাল থেকেও ডুবুরি এসে উদ্ধার কার্যক্রমে যোগ দেন।
ভোলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার খন্দকার মিরাজুল ইসলাম জানান, বরিশাল থেকে আসা অভিজ্ঞ একটি ডুবুরি দল নিখোঁজ দুই যুবককে উদ্ধারে কাজ করছে।
ভোলা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, নিখোঁজদের উদ্ধারে পুলিশও ঘটনাস্থলে রয়েছে। তবে এখনও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। উদ্ধার অভিযান চলছে।
৯ দিন আগে
খুলনায় যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা
খুলনা নগরীর নিরালা এলাকায় মুত্তাকীন (২৩) নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে তালুকদার কমিউনিটির সামনে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, মুত্তাকীন তালুকদার কমিউনিটির সামনে দাঁড়িয়ে মোবাইলে কথা বলছিলেন। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলে করে চারজন দুর্বৃত্ত এসে তাকে ছুরিকাঘাত করে। গুরুতর আহত হয়ে তিনি রাস্তায় পড়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন ও পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে রাত ১১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে কী কারণে এবং কারা মুত্তাকীনকে ছুরিকাঘাত করেছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
খুলনা সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।
৯ দিন আগে
মনপুরায় মেঘনা পাড়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় যুবক উদ্ধার
ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় মেঘনা নদীর পাড় থেকে রশি দিয়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় মো. শান্ত (২৫) নামে এক যুবককে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের চৌধুরী বাজারের পূর্ব পাশে মেঘনা নদীর পাড় থেকে স্থানীয় জেলেরা তাকে উদ্ধার করেন।
উদ্ধারের পর প্রথমে তাকে মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে আজ বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী নেওয়া হয়।
শান্ত হাজিরহাট ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শাহাবুদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল রাতে লিটন মাঝি কয়েকজন জেলেকে নিয়ে মেঘনায় মাছ শিকার শেষে নদীর তীরে নৌকা নোঙর করেন। এ সময় তারা মানুষের গোঙানির শব্দ শুনতে পান। পরে টর্চের আলো জ্বালিয়ে খুঁজতে গিয়ে নদীর পাড়ে একটি খুঁটির সঙ্গে রশি দিয়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় কাদামাখা এক যুবককে দেখতে পান।
লিটন মাঝিসহ অন্যরা শান্তকে শনাক্ত করেন এবং রশি কেটে তাকে উদ্ধার করেন। এরপর স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
উদ্ধারকারী লিটন মাঝি বলেন, ‘নদীর পাড়ে গোঙানির শব্দ শুনে টর্চের আলো ফেলি। দেখি, রশি দিয়ে মুখ, হাত ও পা বাঁধা অবস্থায় কাদামাখা একজন পড়ে আছে। পরে রশি কেটে দেখি, সে আমাদের পরিচিত—শান্ত। তখন সবার সহযোগিতায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই।’
শান্তর মামা মিরাজ অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় নদীর পাড়ে এভাবে বাঁধা অবস্থায় থাকলে জোয়ারের পানিতে ডুবে শান্ত মারা যেতে পারতেন। পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে নদীর পাড়ে রশি দিয়ে হাত-পা ও মুখ বেঁধে রেখে যাওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে কারা এবং কী কারণে শান্তকে সেখানে বেঁধে রেখেছিল, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাতে পারেননি।
মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজাহারুল ইসলাম বলেন, উদ্ধার হওয়া যুবককে উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী নেওয়া হয়েছে। কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। তবে এ ঘটনায় এখনও কোনো মামলা হয়নি।
৯ দিন আগে
লিবিয়ায় যাওয়ার পথে তিন বছর ধরে নিখোঁজ যশোরের ৫ যুবক
উন্নত জীবনের আশায় দালালের মাধ্যমে লিবিয়া যাওয়ার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার পর তিন বছর ধরে নিখোঁজ রয়েছেন যশোরের শার্শার পাঁচ যুবক। তারা প্রত্যেকে স্থানীয় দালালদের ৯ থেকে ১২ লাখ টাকা করে দিয়েছিলেন। তবে লিবিয়ায় পৌঁছানোর আগেই তাদের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
নিখোঁজ যুবকেরা হলেন শার্শা উপজেলার ধান্যখোলা গ্রামের ইয়াসিন আরাফাত, আনোয়ার হোসেন, রানা হোসেন, শাহিন আলম ও মেহেদী হাসান।
স্বজনদের অভিযোগ, লিবিয়ার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার তিন বছর পার হলেও তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি। উল্টো জমি-জমা বিক্রি ও ধার-দেনা করে দালালদের দেওয়া টাকা শোধ করতে গিয়ে পরিবারগুলো চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে। এমনকি নিখোঁজদের জীবন নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন স্বজনরা। পুলিশ ও প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরে অবশেষে তারা যৌথভাবে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ধান্যখোলা গ্রামের সোহাগ নামের এক দালাল লিবিয়ায় আকর্ষণীয় বেতনের কাজের প্রলোভন দেখিয়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৯ থেকে ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। এই টাকার একটি বড় অংশ সোহাগের বাবা, মা ও বোনের হাতেও তুলে দেওয়া হয়েছিল।
নিখোঁজ যুবকরা লিবিয়ায় পৌঁছানোর আগেই স্বজনদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। প্রথমে সোহাগ কথা বলিয়ে দেওয়া, টাকা ফেরত দেওয়া ও যুবকদের দেশে ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার কিছুই হয়। একপর্যায়ে তিনি সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।
এদিকে নিখোঁজ শাহিন আলমের মা আমেনা বেগম ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি সালিশের নামে সুবিধা নিয়েও কোনো সমাধান দিতে পারেননি।
অভিযোগ অস্বীকার করে সোহাগের বাবা মফিজুর রহমান জানান, তার ছেলে তিন বছর ধরে লিবিয়ায় রয়েছেন। তিনি বিদেশে লোক পাঠালেও বর্তমানে তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। তিনি নিজে কোনো টাকা নেওয়ার কথাও অস্বীকার করেন এবং ছেলের কোনো অপরাধের দায় নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
মানবাধিকার কর্মী নাজমুল ইসলাম জানান, কেবল শার্শার এই পাঁচ যুবকই নন, একই সময়ে লিবিয়া যাওয়ার পথে নড়াইল, বাগেরহাট ও ফরিদপুরের আরও অন্তত ৩৫ জন যুবক নিখোঁজ রয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের সক্রিয়তার মারাত্মক ইঙ্গিত দেয়। সরকারি উদ্যোগে দ্রুত পদক্ষেপ নিলে তাদের উদ্ধারের আশা দেখছেন তিনি।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনার সত্যতা ও জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১২ দিন আগে
নিখোঁজের ২৫ দিন পর যুবকের কঙ্কাল উদ্ধার
ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায় নিখোঁজের ২৫ দিন পর এক যুবকের কঙ্কাল, প্যান্ট ও গেঞ্জি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার চন্দ্রপুর গ্রামের পরিত্যক্ত গারোর ভিটা এলাকা থেকে এসব উদ্ধার করা হয়।
নিহত রাশেদুল ইসলাম (২০) ফুলপুর উপজেলার কৃষ্ণ মহেশপট্টি গ্রামের শাহজাহানের ছেলে। খবর পেয়ে শাহজাহান ঘটনাস্থলে গিয়ে কঙ্কালের সঙ্গে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পোশাক দেখে মরদেহটি তার ছেলের বলে শনাক্ত করেন।
এদিকে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন জসিম উদ্দিন (২৪), রফিক (২৮) ও মোজাম্মেল হোসেন (২৭)।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা রাশেদুলকে শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ ও রাশেদুলের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১২ আগস্ট রাত ৯টার দিকে মুঠোফোনে রাশেদুলকে বাড়ি থেকে ডেকে নেন জসিম উদ্দিন। তার পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরদিন সকালে রাশেদুলের মোবাইল ফোন থেকে তার বাবার কাছে কল করা হয়। এ সময় এক নারীর কণ্ঠে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। দুই ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়ে কয়েক দফা ফোন ও খুদেবার্তা পাঠানো হয়। ওই দিনই ফুলপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন শাহজাহান।
অন্যদিকে ঘটনার পরই এলাকা ছেড়ে চলে যান জসিম। পরে ২৫ আগস্ট ফুলপুর থানায় একটি অপহরণ মামলা করে নিহতের পরিবার। এতে জসিমকে প্রধান করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৩ থেকে ৪ জনকে আসামি করা হয়।
এ মামলার তদন্তের একপর্যায়ে গতকাল (রবিবার) দুপুরে নেত্রকোনার শ্যামগঞ্জ রেলস্টেশন এলাকা থেকে জসিমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই গ্রামের রফিক ও মোজাম্মেলকে তাদের নিজ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, জসিমের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল রাতে চন্দ্রপুর গ্রামের গারোর ভিটা এলাকার জঙ্গলে অভিযান চালানো হয়। সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন হাড়, মাথার খুলি এবং প্যান্ট ও গেঞ্জি উদ্ধার করে পুলিশ।
শাহজাহান জানান, মাস খানেক আগে রাশেদুল, রফিক ও মোজাম্মেল একসঙ্গে শসার ক্ষেতে কাজ করেছিলেন। কাজের পারিশ্রমিক থেকে রফিক ৫০০ টাকা পেলেও রাশেদুলকে ১০০ টাকা দেওয়া হয়। তার অভিযোগ, বাকি টাকা দিয়ে রফিক ইয়াবা কিনে সেবন করেন। পরে রাশেদুল পাওনা টাকা চাইতে গেলে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এ বিরোধের জেরে তিনজন মিলে রাশেদুলের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ফুলপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জিকরুল ইসলাম বলেন, আসামিরা একেক সময় একেক ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন। হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, উদ্ধার করা হাড়ের অংশগুলো ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আজ (সোমবার) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হবে। আর গ্রেপ্তার তিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
১২ দিন আগে