ফেনীতে ভুল চিকিৎসায় নাঈমা আক্তার লিজা নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগে তিন চিকিৎসকসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ফেনী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
মামলায় আসামিরা হলেন— ওয়ান স্টোপস মেটারনিটি ক্লিনিকের মালিক ডা. নাজমুল হক ভূঁইয়া, তার স্ত্রী ডা. নাসরিন আক্তার মুক্তা, ফেনী প্রাইভেট হাসপাতালের মালিক ডা. আবদুল কাইয়ুম, মোটবী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা গীতা রানী এবং ওয়ান স্টোপস মেটারনিটি ক্লিনিকের ম্যানেজার আতিকুর রহমান।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ফেনী সদর উপজেলার শিবপুর এলাকার বাসিন্দা লিজার প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ ছিল ১২ এপ্রিল। তবে ১০ এপ্রিল প্রসব ব্যথা শুরু হলে তাকে প্রথমে স্থানীয় মোটবী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখান থেকে এক স্বাস্থ্য সহকারীর পরামর্শে তাকে ফেনী শহরের ওয়ান স্টোপস মেটারনিটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। ক্লিনিকে নেওয়ার পর কোনো প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই জরুরি ভিত্তিতে লিজার সিজার অপারেশন করা হয়। অপারেশনের পর থেকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এ সময় তাকে দুই ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়। পরবর্তীতে অবস্থার আরও অবনতি হলে আবারও কোনো পরীক্ষা ছাড়াই তাকে ফেনী প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে দ্বিতীয়বার অপারেশন করা হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, বিকেলে রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়লে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে লিজার মৃত্যু হয়েছে।
এরপর গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে নিহতের বাবা মোহাম্মদ নুর করিম বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় এ মামলা করেন।
ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ রুবাইয়াত বিন করিম বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির কাজ শেষ পর্যায়ে। আশা করছি, খুব শিগগিরই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পাওয়া যাবে।
ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।